শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি বা বিকাশকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
শিক্ষণের জন্য বিকাশগত দিক থেকে প্রস্তুত না হলে শিশু কোনো শিক্ষণই গ্রহণ করতে পারে না।
কোনো নতুন আচরণ বা দক্ষতা অর্জন করতে হলে শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে প্রস্তুতি থাকতে হবে। অর্থাৎ শিশু শারীরিকভাবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় এবং কার্যক্ষেত্রে বিভিন্ন দক্ষতাও অর্জন করতে থাকে।
ছকের'?' চিহ্নিত স্থানে 'বর্ধনের ধাপ' শব্দটি বসবে। জন্ম মুহূর্ত হতে পরিণতি লাভ পর্যন্ত সময়কে বয়স ও বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে কতগুলো ধাপে বিভক্ত করা হয়েছে। মনোবিজ্ঞানীগণ বিকাশমূলক পরিবর্তনের ধারা অনুযায়ী জন্মমুহূর্ত থেকে বয়ঃসন্ধিক্ষণ পর্যন্ত বয়সকে প্রধান পাঁচটি ধাপে বিভক্ত করেছেন। এগুলো হলো- গর্ভাবস্থা, আঁতুড়কাল, প্রাক শৈশবকাল, শৈশবকাল ও বয়ঃসন্ধিকাল।
ছকে আমরা কতগুলো ধাপগুলো দেখতে পাই। প্রত্যেক ধাপেই যেমন নিজস্ব বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে তেমনি বিভিন্ন ধাপের বিকাশমূলক কাজও একেক রকম। শিশু মনোবিজ্ঞানীদের মতে পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতি ও সুস্থ বিকাশের জন্য প্রত্যেক ধাপের সুষ্ঠু বিকাশ ও পরিপক্কতা অপরিহার্য। যেমন- অতি শৈশবকালে শিশু যদি ঠিকমতো দাঁড়াতে, হাঁটতে না পারে তাহলে পরবর্তী ধাপের দক্ষতা যেমন-দৌড়ানো, নিজে খেতে শেখা, কাপড় পরতে শেখা ইত্যাদি অঙ্গসঞ্চালনমূলক বিকাশে যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হবে।
বিকাশের প্রতিটি পর্যায়ে শিশুদের নিকট তাদের আচরণ ও দক্ষতা সর্ম্পকে সমাজের কিছু প্রত্যাশা থাকে।
নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট দক্ষতা অর্জনের সময়সূচি অনুযায়ী প্রত্যাশা, আচরণ ও দক্ষতাকে বিকাশমূলক কাজ বলা হয়। এ বিকাশমূলক কাজের প্রত্যাশা মানব বিকাশে প্রভাব বিস্তার করে।
কোন ধরনের আচরণ ও দক্ষতার জন্য সমাজ কী বলবে বা কী ভাববে বা তাদের কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করবে এ নিয়ে সবাই সচেতন থাকে। বিকাশের পর্যায়ে শিক্ষণ ধারায় সকলেই তাদের আচরণের অনুমোদন যোগ্যতা সম্পর্কে উপলব্ধি করতে শিখে। এটি তাদের শিক্ষণ ধারাকে প্রভাবিত করে।
প্রখ্যাত মনোবিজ্ঞানী Having hurst বিভিন্ন বয়সে শিশুর দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জনকে ঐ বয়সের বিকাশমূলক কার্যক্রম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জন্ম থেকে ছয় বছরের শিশুদের বিকাশমূলক কাজ বলতে হাঁটতে শেখা, শক্ত খাদ্য গ্রহণ, কথা বলা শেখা, লিঙ্গ পার্থক্য নির্ণয়, শারীরিক স্থায়িত্ব অর্জন, মাতা-পিতা, ভাই-বোন ও অন্যদের সাথে সম্পর্ক সৃষ্টিকে বুঝিয়েছেন। ৬ থেকে ১২ বছরের বিকাশমূলক কাজ বলতে তিনি খেলাধুলা, সমবয়সীদের সাথে মেলামেশা, নারী-পুরুষ পার্থক্য উপলব্ধি, লেখাপড়া এবং গণনার মৌলিক দক্ষতা অর্জন, আত্মসচেতনতা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শিক্ষা এবং ব্যক্তি স্বাধীনতাকে বুঝিয়েছেন। সুতরাং বর্ধনের প্রত্যেক পর্যায়ের সামাজিক প্রত্যাশাসমূহ শিশুর বিকাশকে প্রভাবিত করে।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allবর্ধন হচ্ছে দৈহিক কাঠামোগত পরিবর্তন, যা দৃশ্যমান এবং পরিমাপ করা যায়।
শিক্ষণ হচ্ছে আচরণের পরিবর্তন। পরিপক্বতা বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে এলেও এর সুষ্ঠু বিকাশের জন্য দরকার শিক্ষণ। তিনটি পদ্ধতির মাধ্যমে শিশুরা শিক্ষণ গ্রহণ করে। যথা- অনুকরণ, সনাক্তকরণ ও প্রশিক্ষণ।
বর্ধন বলতে দৈহিক আকার-আয়তনের পরিবর্তনকে বোঝায়। বিকাশ হলো দৈহিক আকার-আয়তনসহ পরিবর্তনশীল আচরণ, দক্ষতা, কার্যক্ষমতার পরিবর্তন। পরিমাণগত পরিবর্তন হলো বর্ধন আর গুণগত পরিবর্তন হলো বিকাশ। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বর্ধন চলে, আর বিকাশ জন্ম হতে মৃত্যু পর্যন্ত চলমান।
বর্ধনের পর্যায় ঊর্ধ্বমুখী। বিকাশ জীবনের এক এক পর্যায়ে এক এক রকমের হয়ে থাকে। বর্ধনের সীমারেখা থাকলেও বিকাশের নির্দিষ্ট সীমারেখা নেই। এ সকল আলোচনা হতে ছাত্ররা বুঝতে পারে যে বিকাশ ও বর্ধন একই ধরনের পরিবর্তন নয়। ক্লাসের শিক্ষকের আলোচনার পূর্বে ছাত্রদের ধারণা ছিল বর্ধন ও বিকাশ দুটি একই বিষয়। কিন্তু শিক্ষকের আলোচনা থেকে তারা বুঝতে পেরেছে দুটি ভিন্ন ধরনের পরিবর্তন।
বিকাশ একটি চলমান প্রক্রিয়া যা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত চলমান। নবজাতকের বয়স বাড়ার সাথে সাথে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এটি হলো তার গুণগত পরিবর্তন। বিকাশ একটি জটিল প্রক্রিয়া। পরিপক্বতা ও অভিজ্ঞতার ফলে বিকাশজনিত পরিবর্তন হয়।
বর্ধন ও বিকাশ পরস্পর সম্পর্কিত। জন্মের পর শিশু হাত-পা নিয়ে খেলে। পাঁচ বছরে সেই হাত দিয়ে ছবি আঁকে। দশ বছরে দক্ষতার সাথে হাত দিয়ে ক্রিকেট খেলে। এ গুণগত পরিবর্তন শিশুর বয়সের সাথে সাথে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পায়।
জীবনের প্রতিটি স্তরে বিকাশের ধারা নির্দিষ্ট হয়ে থাকে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট বয়সে কিছু নির্দিষ্ট বিকাশমূলক কার্যক্রম থাকে। যা কোনো মানুষের আচরণের স্বাভাবিকতা নির্দেশ করে। জীবনের শুরুতে বর্ধনের পাশাপাশি শারীরিক বিকাশ, বুদ্ধিবৃত্তীয় বিকাশ, সামাজিক ও সঞ্চালনমূলক বিকাশ, নৈতিক ও আবেগীয় বিকাশ চলতে থাকে। এই বিকাশগুলো জন্ম হতে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের মধ্যে চলমান। যার কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখা থাকে না। তাই শিক্ষকের উক্তিটি আমি যথার্থ বলে মনে করি।
শিশুদের মধ্যে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের কারণ বংশগতি ও পরিবেশ।
ব্যাবলিং বলতে অর্থহীন শব্দের পুনরাবৃত্তিকে বোঝায়। ২/৩ মাস বয়সে ব্যাবলিং জাতীয় শব্দের উৎপত্তি হয়। ৭/৮ মাস বয়সে শিশু কলকূজন, উদ্দেশ্যহীনভাবে শব্দ উচ্চারণ করে ও তা পুনরাবৃত্তি করে। যেমন- বা-বা, না-না ইত্যাদি শব্দ উচ্চারণ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!