বিভিন্ন কারণে পরিবেশের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের যেকোনো নেতিবাচক পরিবর্তনই হলো দূষণ।
সিডর হচ্ছে একটি ঘূর্ণিঝড়। 'সিডর' শব্দটি সিংহলি শব্দ। এর অর্থ হলো চোখ।
প্রশান্ত মহাসাগরে নিম্নচাপের ফলে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে উন্ত বাতাসের গতিবেগ আরও বৃদ্ধি পেয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে যে ঘূর্ণিঝড়টি উৎপন্ন হয় সেটি দেখতে অনেকটা চোখের মতো ছিল এবং শ্রীলঙ্কার নিকট দিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় ভাষায় একে সিডর বা চোখ বলা হয়।
চিত্রে 'ক' হচ্ছে একটি শিল্পকারখানা; যেখান থেকে চিমনি নিঃসৃত ধোঁয়া ও অন্যান্য দূষক বের হচ্ছে। এসব ধোঁয়া ও দূষক পদার্থ পরিবেশের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে 'খ', 'গ' ও 'খ' হচ্ছে যথাক্রমে পুকুর, গাছপালা ও প্রাণিকুল যা পরিবেশের উপাদান। এসব উপাদানের ওপর শিল্পকারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া ক্ষতিকর প্রভাববিস্তার করে থাকে।
বর্তমানে সারাবিশ্বব্যাপী শিল্পায়ন হচ্ছে। অর্থাৎ পৃথিবীব্যাপী শিল্পকারখানা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ শিল্পকারখানা থেকে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর গ্যাস যেমন- কার্বন-ডাইঅক্সাইড সালফার ডাইঅক্সাইড, কার্বন-মনোক্সাইড , নাইট্রাস অক্সাইড প্রভৃতি নির্গত হয়। এসব গ্যাস বায়ুমণ্ডলে মিশে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে অনাবৃষ্টি, দুর্যোগ প্রভৃতি ঘন ঘন দেখা দেয়। এর ফলে ফসলের উৎপাদন হ্রাস, পুকুরের বাস্তুসংস্থান বিনষ্ট হয়। তাছাড়া কোথাও কোথাও এসিড বৃষ্টি হয়। এর ফলে প্রাণিকুল ও উদ্ভিদকুলের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এছাড়াও CO গ্যাস বায়ুমণ্ডলের ওজোনস্তর ক্ষয় করে। ফলশ্রুতিতে ওজোনস্তর ভেদ করে সূর্যের ক্ষতিকর অতি বেগুনি রশ্মি পৃথিবীতে চলে আসে। এতে ফসলের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি হয়, উৎপাদন কমে যায়, প্রাণিকুলের বিভিন্ন রোেগ যেমন- ত্বক ক্যান্সারসহ আরও অন্যান্য রোগ হয়।
সর্বোপরি বলা যায়, চিত্রের 'ক'-এর দ্বারা পৃথিবীব্যাপী পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে কমবেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে
চিত্রে উল্লিখিত 'ক', 'খ', 'গ' ও 'ঘ' হচ্ছে যথাক্রমে শিল্পকারখানা, পুকুর, গাছপালা, প্রাণিকুল প্রভৃতি। উক্ত উপাদানগুলোর মধ্যে পরিবেশিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা অপরিহার্য।
বর্তমান বিশ্বসভ্যতায় উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড ক্রমেই বেড়ে চলছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে। কৃষি, শিল্প, যোগাযোগ ব্যবস্থা, অবকাঠামোগত প্রভৃতি প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে। তবে এ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড ঘটার ফলে বিশ্বব্যাপী পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব প্রতিফলিত হচ্ছে।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় যেসব ভূমিকা নেওয়া যেতে পারে তা হলো- যেসব শিল্পকারখানা বা গাড়ি থেকে ক্ষতিকারক ধোঁয়া বা গ্যাস বের হয় তার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পাশাপাশি বিকল্প শক্তি হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস, সৌরশক্তি প্রভৃতি নির্ভর যন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। শিল্পকারখানা থেকে যেসব বর্জ্য পদার্থ পানিতে ফেলা হয় তা বন্ধ করে শিল্প এলাকায় কৃত্রিমভাবে জলাশয় সৃষ্টি করে সেখানে বর্জ্য ও রাসায়নিক পদার্থ ফেলতে হবে। অথবা শিল্প-কারখানা লোকালয় থেকে দূরে স্থানান্তর করতে হবে। শিল্পকারখানার আশপাশে প্রচুর বৃক্ষরোপণ করতে হবে। শিল্পকারখানার' বর্জ্য যাতে মাটির গুণাগুণ নষ্ট না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
উপরিউক্ত বিষয়গুলোর আলোকে বলা যায় যে, পরিবেশিক ভারসাম্য রক্ষায় উক্ত পরিকল্পনাগুলো যথাযথভাবে কার্যকর করতে পারলে উদ্দীপকের 'ক', 'খ', 'গ' ও 'ঘ' উপাদানগুলোর মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমি মনে করি।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allবায়ুদূষণের একটি অন্যতম উৎস হলো শিল্পকারখানার ধোঁয়া।
দরিদ্রতা অর্থনৈতিক দূষণের ফল।
অর্থনৈতিক দূষণের প্রত্যক্ষ ফল হলো দরিদ্রতা। যেকোনো দেশের সার্বিক উন্নয়নের চাবিকাঠি হলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। বিভিন্ন কারণে যখন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হয় অর্থাৎ দূষণের সম্মুখীন হয় তখন উন্নয়ন থমকে দাঁড়ায় আর উন্নয়ন থমকে দাঁড়ালে একটি দেশে দরিদ্রতা নেমে আসে। কারণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের ফলে সামগ্রিক উন্নয়ন সাধিত হয় এবং দারিদ্র্যতা দূরীকরণ হয়। তাই বলা যায়, দরিদ্রতা অর্থনৈতিক দূষণের ফল।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত খনিজটি হলো প্রাকৃতিক গ্যাস যার ভৌগোলিক অবস্থান নিচে দেখানো হলো।
বাংলাদেশের আবিষ্কৃত প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রসমূহ দেশের উত্তর-পূর্বাংশ, পূর্ব বাংলা এবং দক্ষিণ-পূর্বাংশের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে অবস্থিত।
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রসমূহের মধ্যে সিলেট, ছাতক, রশিদপুর, তিতাস, কৈলাসটিলা, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, সেমুতাং, বেগমগঞ্জ, কুতুবদিয়া, বিয়ানীবাজার, ফেনী, কামতা, ফেঞ্চুগঞ্জ, জালালাবাদ, বেলাবো, মেঘনা, শাহবাজপুর, সাঙ্গু, বিবিয়ানা, সুন্দলপুর, শ্রীকাইল ও বাঙ্গুরা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
এদের মধ্যে সিলেটের হরিপুর গ্যাসক্ষেত্রটি বাংলাদেশের প্রথম আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র, যা ১৯৫৫ সালে আবিষ্কৃত হয়।
উদ্দীপকের শেষ বাক্যটির সারমর্ম হলো প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন বনজসম্পদ রক্ষা পায় অন্যদিকে তেমনি কালো ধোঁয়ার হাত থেকে বায়ুদূষণ রোধ হয়।বাংলাদেশে ব্যাপক হারে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়। শিল্প ক্ষেত্রে এবং জ্বালানি ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার লক্ষ করা যায়। ফলে জ্বালানির কাজে ব্যবহৃত কাঠের বিকল্প হিসেবে গ্যাস অধিক গ্রহণযোগ্য। এর ফলে কাঠের ব্যবহার হ্রাস পায় যার ফলে বনজসম্পদ রক্ষা পায়। জ্বালানি হিসেবে কাঠ, কয়লার ব্যবহার অধিক হারে বায়ুদূষণ করে। কিন্তু প্রাকৃতিক গ্যাসের কোনো কালো ধোঁয়া নেই। ফলে প্রাকৃতিক গ্যাসের অধিক ব্যবহারের ফলে যেহেতু কাঠের ব্যবহার কম হয় তাই একদিকে যেমন বনজসম্পদ রক্ষা পায় অন্যদিকে কালো ধোঁয়া না থাকায় বায়ুদূষণ রোধ হয়।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শেষ বাক্যটি সঠিক।
দুর্যোগ হলো এখন কোনো ঘটনা বা অবস্থা যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করে এবং জানমালের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে।
যেকোনো ধরনের পরিকল্পনা যদি পরিবেশ দূষণের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তবে তা বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না। কারণ পৃথিবীর সবকিছুই পরিবেশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে এমন পরিকল্পনা টিকে থাকে না। তাই উন্নয়নকে চিরস্থায়ী করতে অর্থাৎ টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
