কিছু কিছু পরমাণু সমযোজী বন্ধন গঠন করার পর যোজ্যতাস্তরের এক বা একাধিক জোড়া ইলেকট্রন বন্ধন গঠন না করে মুক্ত অবস্থায় থাকে। ঐ ইলেকট্রনগুলোকে মুক্তজোড় ইলেকট্রন বলে।
স্বল্প বাতাসে কাঠ পোড়ানো ক্ষতিকর। কেননা স্বল্প বায়ুর উপস্তিতিতে কাঠ পোড়ালে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কার্বন মনোঅক্সাইড (CO) উৎপন্ন হয়। এই CO মানুষের শ্বাসের সাথে শরীরে পৌছালে রক্তের হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে কার্বোক্সিহিমোগ্লোবিন নামক জটিল যৌগ সৃষ্টি করে, যা রক্তে অক্সিজেন শোষিত হওয়া বন্ধ করে। যে ব্যক্তি শ্বাসের সাথে CO গ্রহণ করে সে শীঘ্রই অসুস্থ হয়ে পড়ে। এমনকি মৃত্যু মুখেও পতিত হতে পারে।
উদ্দীপকের X ও Y মৌলগুলো যথাক্রমে বোরন (B) ও ফ্লোরিন (F) যারা একই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। B হতে F পর্যন্ত মোট B, C, N, O ও F এই পাঁচটি মোল ২য় পর্যায়ে অবস্থিত।
একই পর্যায়ে অবস্থিত এ মৌলগুলোর পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে পারমাণবিক আকার কমতে থাকবে ও আয়নিকরণ শক্তির মান বাড়তে থাকবে কারণ-
পর্যায় সারণিতে একই পর্যায়ে যতই বাম হতে ডানে যাওয়া যায় মৌলসমূহের পারমাণবিক সংখ্যা ততই বৃদ্ধি পায়। মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির অর্থ একই সাথে নিউক্লিয়াসে ধনাত্মক চার্জ এবং মৌলের বহিঃস্থ স্তরে ঋণাত্মক ইলেকট্রনের সংখ্যা বৃদ্ধি। কিন্তু একই পর্যায়ে পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে নতুন স্তর যুক্ত না হওয়ায় নিউক্লিয়াসের ধনাত্মক চার্জ কর্তৃক ঋণাত্মক ইলেকট্রনের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে থাকে এবং পরমাণুর আকার কমতে থাকে। ফলে পরমাণু থেকে ইলেকট্রন মুক্ত করতে প্রয়োজনীয় শক্তি অর্থাৎ আয়নিকরণ শক্তির মানও বেশি হতে পারে। অতএব উদ্দীপকের B হতে F মৌলগুলোর আকারের তারতম্য ঘটবে।
উপরিউক্ত আলোচনা হতে প্রতীয়মান হয় B হতে F মৌলগুলোর মধ্যে B এর আকার সবচেয়ে বড় এবং F এর আকার সবচেয়ে ছোট অর্থাৎ মৌলগুলোর আকারের ক্রম হলো-
B>C>N>O>F
এখানে উল্লেখ্য যে, N-এর 2p3 অর্ধপূর্ণ অরবিটালের অধিক স্থিতিশীলতার জন্য এর আয়নিকরণ শক্তি ০-অপেক্ষা কিছু বেশি হয়। ফলে মৌলগুলোর আয়নিকরণ শক্তির ক্রম হলো-
B
উদ্দীপকে Z মৌলটি হলো অ্যালুমিনিয়াম (Al), যা ক্লোরিন এর সাথে বিক্রিয়া করে AICI3 গঠন করে। Al ও CI এর ইলেকট্রন বিন্যাস নিম্নরূপ :
AlCl3 যৌগ গঠনকালে AI পরমাণু তার বহিঃস্থ স্তরের তিনটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে Al3+ গঠন করে এবং তিনটি CI পরমাণু এই তিনটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে CI গঠন করে। পরবর্তীতে Al3+ ও CI- একত্রিত হয়ে আয়নিক যৌগ AICI3 উৎপন্ন করে।
আবার, উদ্দীপকে X ও Y মৌল দুটি যথাক্রমে বোরন (B) ও ফ্লোরিন (F)। এদের ইলেকট্রন বিন্যাস নিম্নরূপ :
B ও F পরস্পরের সাথে বিক্রিয়াকালে তিনটি F পরমাণু একটি B পরমাণুর সাথে বহিঃস্থ স্তরেরর ইলেকট্রন শেয়ার করে সমযোজী যৌগ BF, গঠন করে।

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে দেখা যাচ্ছে যে, Z মৌল (AI) ও ক্লোরিন (CI) এর যৌগটি ইলেকট্রন আদান প্রদানের মাধ্যমে গঠিত হয় তথা আয়নিক। কিন্তু (X) মৌল (B) ও Y মৌল (F) এর যৌগটি ইলেকট্রন শেয়ারের মাধ্যমে গঠিত হয় তথা সমযোজী।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!