আমার প্রিয় খেলা
(প্রবন্ধ রচনা লিখুন)ভূমিকা: বর্তমান বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। ফুটবল খেলায় খেলোয়াড় ও দর্শক উভয়েই অপরিমেয় আনন্দ উপভোগ করে। এটি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ খেলা। তাই এ খেলা আমারও অত্যন্ত প্রিয়। আমি শুধু ফুটবল খেলা দেখিই না, খেলতেও খুব পছন্দ করি।
ফুটবল খেলার ইতিহাস: রোমানরাই সর্বপ্রথম ফুটবল খেলার সূচনা করে এবং এর প্রসার ঘটায়। মধ্যযুগে ইউরোপে, বিশেষত ইতালিতে রোমানদের খেলা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ১৮৫০ সালের মধ্যভাগে প্রথম ফুটবল ক্লাব গড়ে ওঠে ইংল্যান্ডের শেফিন্ডে। এরপর ডেনমার্ক, ব্রাজিল ও সোভিয়েত ইউনিয়নে এ খেলা বিপুলভাবে বিস্তৃতি ও জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১৯০৪ সালের ২১ মে ফিফা প্রতিষ্ঠিত হয়। ফিফা কর্তৃক প্রবর্তিত আইনই বর্তমান আধুনিক ফুটবলের জন্ম দেয়। ইংরেজরা সর্বপ্রথম আমাদের দেশে ফুটবল খেলা শুরু করে। বর্তমানে এ খেলা আমাদের দেশে খুবই জনপ্রিয়।
খেলার বর্ণনা: একজন রেফারি খেলাটি পরিচালনা করেন। তিনি একটি বাঁশির সাহায্যে সংকেত ধ্বনি দেন। খেলোয়াড়রা দুই দলে বিভক্ত হয়ে মাঠে নামে এবং প্রতিটি দলে ১১ জন করে খেলোয়াড় থাকে। মাঠের দুই প্রান্তে দুটো গোলপোস্ট থাকে। প্রতিটি গোলপোস্ট মাটি থেকে আট ফুট উঁচু হয়। খেলার জন্য একটা চামড়া নির্মিত বল এবং একটা সমতল মাঠের দরকার, যার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ হবে যথাক্রমে ১২০ গজ ও ৮০ গজ। খেলার শুরুতে মাঠে দুটি দলই সামনাসামনি হয়ে দাঁড়ায়। প্রতি দলের ১১ জন খেলোয়াড়ের পাঁচজন মাঠের মধ্যে সকলের পুরোভাগে এসে দাঁড়ায়। তাদের বলা হয় ফরোয়ার্ড। তাদের পেছনে অবস্থান নেয় তিনজন হাফব্যাক এবং হাফব্যাকের পেছনে দুজন ফুলব্যাক। সবার পেছনে গোলপোস্টের সামনে থাকে একজন গোলরক্ষক। পাঁচজন ফরোয়ার্ডের কাজ হলো প্রতিপক্ষ দলকে আক্রমণ করা এবং গোলপোস্টের মধ্যে বল প্রবেশ করানো। অন্যদিকে ফুলব্যাক প্রতিপক্ষ দলের আক্রমণ প্রতিরোধ করে ও গোলরক্ষককে প্রয়োজনীয় সাহায্য করে। গোলরক্ষক এক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের বলটি যাতে গোলপোস্টের ভেতরে ঢুকতে না পারে সেদিকে সদা সতর্ক দৃষ্টি রাখে। গোলরক্ষক হাতে, পায়ে ও শরীরে বল আটকিয়ে গোল রক্ষা করতে পারে। খেলা পরিচালনাকারী রেফারিকে সাহায্যের জন্য দুজন লাইন্সম্যান থাকে।
ফুটবল খেলা সাধারণত ৯০ মিনিট হয়ে থাকে। মাঝামাঝি সময়ে ১০ মিনিট বিরতি দেওয়া হয়। খেলার শুরুতে প্রথমে বলটি মাঠের ঠিক মাঝখানে রাখা হয়। তারপর রেফারি দুপক্ষের দলনেতাকে ডেকে 'টস' করে ঠিক করে দেন কোন দল আগে বলে লাথি দেবে। নির্দিষ্ট সময়ে রেফারির বাঁশির শব্দের সঙ্গে সঙ্গে খেলা শুরু হয়। একমাত্র গোলরক্ষক ছাড়া অন্য কারো হাতে বল লাগলে 'হ্যান্ডবল' হয়। কেউ প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়কে বিনা কারণে আঘাত করলে ফাউল হয়। গোলপোস্টের সামনে 'ডি বক্সের' মধ্যে ফাউল করলে পেনাল্টি কিক দেওয়া হয়। তখন গোলরক্ষক ছাড়া অন্যকোনো খেলোয়াড়কে আক্রমণ প্রতিহত করতে দেওয়া হয় না। বলটি কোনো পক্ষের গোলপোস্টের মধ্য দিয়ে ঢুকে গেলে গোল হওয়া বলে। যে পক্ষ বেশিসংখ্যক গোল করতে পারে তারাই জয়ী হয়। গোলসংখ্যা সমান অথবা গোলশূন্য শেষ হলে খেলা ড্র হয়।
ফুটবল খেলার উপকারিতা: ফুটবল খেলা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এতে শরীরের সব অংশ বার বার পরিচালিত হয় বা শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সবল ও সুদৃঢ় হয়। এ খেলার মাধ্যমে খেলোয়াড়দের মধ্যে নিয়মানুবর্তিতা ও কর্মতৎপরতার জন্ম নেয়। সংঘবদ্ধ হয়ে সুষ্ঠুভাবে কাজ করার মানসিকতা তৈরি হয়। সর্বোপরি এ খেলাটি নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলি অর্জনে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
ফুটবল খেলার অপকারিতা: যেকোনো খেলার মতোই ফুটবল খেলারও অপকারিতা আছে। দীর্ঘক্ষণ খেললে স্বাস্থ্যের উপকার না হয়ে বরং ক্ষতি হয়ে থাকে। এ খেলায় অনেক সময় হাত-পা ভেঙে যায়। এ ছাড়া দর্শকদের উত্তেজনার কারণে অনেক দুর্ঘটনাও ঘটে থাকে।
উপসংহার: নির্মল আনন্দদায়ক ও উত্তেজনাপূর্ণ খেলা হিসেবে ফুটবল খেলার জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রতি বছরই আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল খেলার আসর বসে। আন্তর্জাতিক খেলার মধ্যে 'বিশ্বকাপ ফুটবল' ও 'বিশ্ব অলিম্পিক ফুটবল' খুবই জনপ্রিয়।
প্রবন্ধ হলো প্রকৃষ্টরূপে বন্ধনযুক্ত রচনা। অর্থাৎ অন্যান্য রচনা, যেমন- কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদির সঙ্গে প্রবন্ধ লেখার রীতি ও কৌশলের পার্থক্য রয়েছে। কবির একান্ত অনুভূতিই কবিতায় প্রকাশ পায়। গল্প হলো মানবজীবনের নির্বাচিত ঘটনার আখ্যান বা কাহিনি। উপন্যাসের পরিসর বড়। সেখানে লেখক গল্পকারের তুলনায় বেশি স্বাধীন। উপন্যাসে সমগ্র জীবন ফুটে ওঠে। নাটকে কেবলই থাকে সংলাপ। বিবরণ বা বর্ণনার সেখানে তেমন স্থান নেই। কিন্তু প্রবন্ধকে হতে হয় যুক্তি ও তথ্যনির্ভর। কাদের জন্য প্রবন্ধ লেখা হচ্ছে সেটা মনে রাখতে হয়। কোন বিষয়ে প্রবন্ধ লেখা হচ্ছে তাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রবন্ধ-রচয়িতার মেধা, জ্ঞান, প্রকাশক্ষমতা প্রবন্ধের গুণগত মান বাড়িয়ে দেয়। প্রবন্ধের ভাষা স্থির করা হয় প্রবন্ধের বিষয় অনুসারে। বিজ্ঞানের কোনো বিষয়ে প্রবন্ধ লিখতে গেলে তাতে বিজ্ঞানের পরিভাষা ব্যবহার করতে হবে। সকল বয়সের পাঠকের জন্য একই ভাষায় প্রবন্ধ লেখা যায় না। শিশুরা যে-ভাষা বুঝবে, তাদের জন্য প্রবন্ধ সেভাবে লিখতে হবে। বিষয় অনুসারে প্রবন্ধের শ্রেণিবিভাগ করা হয়। বিজ্ঞানের বিষয়কে আশ্রয় করে রচিত প্রবন্ধকে আমরা বলি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ। সমাজের সমস্যা, সংকট, অবস্থা যেসব প্রবন্ধের মূল বিষয়, সেগুলোকে বলা হয় সামাজিক প্রবন্ধ। সাহিত্যকর্মের গুণাগুণ বিশ্লেষণ করে যেসব প্রবন্ধ রচিত হয়, সেগুলোকে বলে সমালোচনামূলক প্রবন্ধ। লেখকের অনুভূতিই যখন প্রবন্ধের আকারে তুলে ধরা হয়, তখন তাকে বলে অনুভূতিনির্ভর প্রবন্ধ। এ ছাড়াও প্রবন্ধের আরও শ্রেণি নির্দেশ করা যায়।
প্রবন্ধ-রচনার কৌশল
প্রবন্ধের প্রধানত তিনটি অংশ থাকে- (ক) ভূমিকা (খ) মূল অংশ (গ) উপসংহার।
ক) ভূমিকা: যে-বিষয়ে প্রবন্ধ লেখা হয় সে-বিষয়ে শুরুতেই সংক্ষেপে প্রথম অনুচ্ছেদে একটি ধারণা দেওয়া হয়। এটিই হলো ভূমিকা। এ-অংশ হতে হবে বিষয় অনুযায়ী, আকর্ষণীয় ও সংক্ষিপ্ত।
খ) মূল অংশ: প্রবন্ধের মধ্যভাগ হলো মূল অংশ। এখানে প্রবন্ধের মূল বক্তব্য পরিবেশিত হয়। বিষয় অনুসারে এ অংশ বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বিভক্ত হতে পারে। প্রতিটি অনুচ্ছেদ যেন মূল প্রবন্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। এ-অংশে কোনো উদ্ধৃতি ব্যবহার করা হলে তা যাতে কোনোভাবেই বিকৃত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে অর্থাৎ মূল রচনায়, যেভাবে আছে সেভাবেই তা ব্যবহার করতে হবে।
গ) উপসংহার: অল্প কথায় সমাপ্তিসূচক ভাব প্রকাশ করাই উপসংহার। ব্যক্তিগত মত, সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশা এ-অংশে প্রকাশ করা যেতে পারে।
প্রবন্ধ-রচনায় দক্ষতা অর্জনের উপায়
প্রবন্ধ-রচনায় দক্ষতা অর্জন একদিনে হয় না। কিন্তু তা সাধ্যের অতীত কোনো বিষয় নয়। এজন্য করণীয় হলো-
১. প্রবন্ধের বিষয়বস্তু সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা লাভ করা।
২.দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রবন্ধ পড়া। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধ, সংবাদ, প্রতিবেদন, ভাষণ ইত্যাদি নিয়মিত পাঠ করলে নানা প্রসঙ্গে বিষয়গত ধারণা লাভ করা যায়।
৩. প্রবন্ধের বক্তব্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তুলে ধরতে হবে।
৪. প্রবন্ধ-রচনার ভাষা হবে সহজ ও সরল।
৫. প্রবন্ধে কোনো অপ্রয়োজনীয় বিষয় থাকবে না এবং একই কথার পুনরাবৃত্তি ঘটানো যাবে না।
৬. প্রবন্ধে উদ্ধৃতি, উক্তি বা প্রবাদ-প্রবচন ব্যবহার করা যাবে, কিন্তু এসবের ব্যবহার যেন অতিরিক্ত পর্যায়ে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
৭.প্রবন্ধ যাতে অতিরিক্ত দীর্ঘ না হয় তা লক্ষ করতে হবে।
আমাদের বিদ্যালয়
(প্রবন্ধ রচনা লিখুন)বর্ষাকাল
(প্রবন্ধ রচনা লিখুন)আমার দেখা নদী
(প্রবন্ধ রচনা লিখুন)সত্যবাদিতা
(প্রবন্ধ রচনা লিখুন)আমাদের গ্রাম
(প্রবন্ধ রচনা লিখুন)আমার পড়া একটি বইয়ের গল্প
(প্রবন্ধ রচনা লিখুন)১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?