সংক্রামক রোগের কারণ ও ফলাফল (পাঠ-৪)

ষষ্ঠ শ্রেণি (মাধ্যমিক) - শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য - স্বাস্থ্যবিজ্ঞান পরিচিতি ও স্বাস্থ্যসেবা | NCTB BOOK
453

জীবাণুর সংক্রমণের কারণে অনেক রোগের সৃষ্টি হয়। আমাদের চারপাশে নানা রকমের জীবাণু ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিভিন্ন রোগের জীবাণু প্রতিনিয়ত মানুষের দেহে প্রবেশ করে। তবে রোগের জীবাণু দেহে প্রবেশ করলেই যে সে রোগে আক্রান্ত হবে এমন নয়। জীবাণুকে প্রতিরোধ করার জন্য আমাদের শরীরেই প্রতিরোধের ব্যবস্থা আছে। শরীরে এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা যথেষ্ট শক্তিশালী না হলে রোগজীবাণু জয়ী হয়। ফলে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। অপরদিকে যার শরীর সবল ও মজবুত, রোগজীবাণু তার শরীরে প্রবেশ করলেও তার প্রতিরোধ ব্যবস্থা জীবাণুকে ধ্বংস করে। জীবাণু এত ক্ষুদ্র যে খালি চোখে দেখা যায় না।

লক্ষ-কোটি বছর আগেও পৃথিবীতে জীবাণুর অস্তিত্ব ছিল। তবে সকল জীবাণুই যে শরীরের জন্য ক্ষতিকর তা নয়। কোনো কোনো জীবাণু মানবদেহের জন্য উপকারী।
সংক্রামক রোগকে আমরা অণুজীবঘটিত রোগও বলতে পারি। সংক্রামক নামকরণ এই জন্য হয়েছে যে এই রোগগুলো এক ব্যক্তির বা প্রাণীর দেহ থেকে বিভিন্ন উপায়ে অন্য ব্যক্তির দেহে সংক্রমিত হয়। বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ বিভিন্ন রকম। কতকগুলো রোগ আছে অল্প সময়ের মধ্যে মহামারি আকার ধারণ করে।
যেমন- কলেরা, বসন্ত, ডায়রিয়া, চোখের প্রদাহ ইত্যাদি।
সংক্রামক রোগের উৎস: সংক্রামক রোগ হওয়ার ক্ষেত্রে একটা চেইন বা শিকল আছে। এই শিকলের তিনটি অংশ-

i) রোগের উৎস।
ii) রোগ বিস্তারের মাধ্যম।
iii) রোগ সংক্রমিত হতে পারে এমন সম্ভাবনাময় ব্যক্তি।

সংক্রামক রোগ বিস্তারের কারণ : সংক্রামক রোগের বিস্তারকে নিম্নলিখিতভাবে শ্রেণিবিন্যাস করা যেতে পারে-
ক) প্রত্যক্ষ স্পর্শ
খ) পরোক্ষ স্পর্শ

ক) প্রত্যক্ষ স্পর্শ
i) সরাসরি স্পর্শ: রোগাক্রান্ত ব্যক্তির সাথে সরাসরি দৈহিক সম্পর্ক বা যৌন সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে এ রোগ অন্যের দেহে প্রবেশ করে। যেমন- এইডস (AIDS), বিভিন্ন চর্ম ও চোখের রোগ।
ii) ড্রপলেট ইনফেকশন: রোগাক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশির মাধ্যমে নাক-মুখ দিয়ে যেসব ক্ষুদ্র জলবিন্দু বেরিয়ে আসে সেগুলোকে বলা হয় ড্রপলেট। যেমন- সর্দি, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, যক্ষ্মা ইত্যাদি এভাবে ছড়ায়।
iii) সংক্রমিত মাটির মাধ্যমে মাটির সাথে দেহের কোনো ক্ষুদ্র স্থানের সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে কিছু রোগ বিস্তার লাভ করে। যেমন- টিটেনাস, হুক ওয়ার্ম ইত্যাদি।
iv) জীবজন্তুর কামড় জীবজন্তুর কামড়েও বিভিন্ন রোগ সংক্রমিত হয়। যেমন- পাগলা কুকুরের কামড় থেকে জলাতঙ্ক এবং ইঁদুরের কামড় থেকে প্লেগ।

খ) পরোক্ষ স্পর্শ বা বিস্তার
ⅰ) বাহনবাহিত: বাহনবাহিত বলতে এখানে খাদ্য, পানি, দুধ, রক্ত, বরফ ইত্যাদিকে বোঝায়। এই সব পদার্থকে আশ্রয় করে বিভিন্ন রোগ সংক্রমিত হয়। যেমন- পানি ও খাদ্যের মাধ্যমে ডায়রিয়া, রক্তের মাধ্যমে হেপাটাইটিস 'বি', ম্যালেরিয়া, সিফিলিস ইত্যাদি রোগ ছড়ায়।
ii) ভেক্টর বোর্ন (Vector Borne): ভেক্টর বলতে জীবন্ত প্রাণী যেমন- মাছি, মশা, আরশোলা ইত্যাদি দ্বারা বাহিত রোগকে বোঝায়।
iii) বায়ুবাহিত (Air Borne): বায়ুবাহিত রোগ যেমন যক্ষ্মা, ইনফ্লুয়েঞ্জা, জলবসন্ত, নিউমোনিয়া ইত্যাদি।
iv) অপরিষ্কার হাত: অপরিচ্ছন্ন হাত ও আঙুল সংক্রামক রোগ বিস্তারের একটি সহজ মাধ্যম। এর মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও প রাক্ষভাবে রোগ সংক্রমিত হয় যেমন- টাইফয়েড, আমাশয় ইত্যাদি।
v) ইনজেকশনের সূচ ও ব্লেড: ইনজেকশনের সূচ ও ব্লেডের মাধ্যমেও সংক্রামক রোগ বিস্তার লাভ করে।

কাজ-১: প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ রোগবিস্তারের একটি তালিকা তৈরি কর।
কাজ-২: সংক্রামক রোগের উৎসগুলো পোষ্টার পেপারে লিখ। (বাড়ির কাজ)
কাজ-৩: পোস্টার আকারে সংক্রামক রোগের নাম লিখে টাঙিয়ে দাও।
Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...