স্বাস্থ্যবিজ্ঞান সম্পর্কিত ধারণা ও প্রয়োজনীয়তা (পাঠ-১)

ষষ্ঠ শ্রেণি (মাধ্যমিক) - শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য - স্বাস্থ্যবিজ্ঞান পরিচিতি ও স্বাস্থ্যসেবা | NCTB BOOK
350

স্বাস্থ্যের মতো মূল্যবান সম্পদ লাভ করতে হলে আমাদেরকে স্বাস্থ্যবিজ্ঞান সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করতে হবে। আমরা সমাজবদ্ধ হয়ে বাস করি। কাজেই আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর পারিপার্শ্বিক ও সামাজিক অবস্থার প্রভাব থাকবেই। এই প্রভাব কী তা আমাদের বুঝতে হবে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ কীভাবে স্বাস্থ্যহানি ঘটায়, একজনের দেহ থেকে সংক্রামক ব্যাধি কীভাবে অন্যের দেহে সংক্রমণ ঘটায় এবং তা প্রতিকারের ব্যবস্থা প্রভৃতি বিষয় স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের আওতাভুক্ত। স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত গৃহ, সুষম খাদ্য, মলমূত্র ও আবর্জনা দূরীকরণ ব্যবস্থাও প্রয়োজন। স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের পাঠের উদ্দেশ্য হলো স্বাস্থ্যনীতি সম্বন্ধে জ্ঞানলাভ করা ও রোগ প্রতিরোধ করা।
দেহ নীরোগ ও সুস্থ থাকলে তাকেই সুস্বাস্থ্য বলে। স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের জন্য শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যরক্ষাই যথেষ্ট নয়। এ জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু স্বাস্থ্যব্যবস্থা। একটি সুন্দর ও আনন্দময় জীবনযাপনের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত শরীর সুস্থ রাখা। শৈশব থেকে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যরক্ষার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে মানুষ সুখে, শান্তিতে ও আনন্দে জীবনযাপন করতে পারে। আর সুস্বাস্থ্যই মানুষকে করতে পারে সুখী। শরীর যদি সুস্থ না থাকে তাহলে মন ভালো থাকবে না। আর মন ভালো না থাকলে পড়াশোনায় মন বসবে না। অতএব, প্রত্যেকের প্রয়োজন নিজেকে সুস্থ রাখা।

ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যরক্ষার কয়েকটি উপায় দেওয়া হলো-

১। নিয়মিত গোসল করা।
২। সময়মতো চুল ছাঁটা।
৩। সপ্তাহে একবার হাত ও পায়ের নখ কাটা।
৪। যেকোনো কাজ করার পর ভালোভাবে হাত ধোয়া।
৫। যেকোনো কিছু খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া।
৬। পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ পানি পান করা।
৭। নিয়মিত সুষম খাদ্য গ্রহণ করা।
৮। যেখানে-সেখানে থুথু ও আবর্জনা না ফেলা।
৯। মলমুত্র ত্যাগের স্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।
১০। দাঁত দিয়ে নখ না কাটা।
১১। পায়খানা করার পর সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়া।
১২। দাঁত পরিষ্কার করা।

তাছাড়া সব সময় সোজা হয়ে বসা, সোজা হয়ে দাঁড়ানো, শরীর সোজা রেখে হাঁটা ও শোয়া ইত্যাদি অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

স্বাস্থ্যশিক্ষার কর্মসূচি

১। শ্রেণিকক্ষে স্বাস্থ্য সম্পর্কে পাঠদান।
২। স্বাস্থ্য সম্পর্কে বক্তৃতাদান ও আলোচনা।
৩। স্বাস্থ্য প্রদর্শনীর ব্যবস্থা।
৪। স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ।
৫। গ্রন্থাগারে স্বাস্থ্যসম্পর্কিত চিত্র, পুস্তক, চার্ট ইত্যাদি সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পঠন-পাঠনের ব্যবস্থা।
৬। গণমাধ্যমে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কর্মসূচি প্রচারের ব্যবস্থা।

১। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যরক্ষার কয়েকটি উপায় দিয়ে নিচের ছকটি পূরণ কর।

১।
২।
৩।
৪।
৫।

২। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় পর্যন্ত স্বাস্থ্যরক্ষায় তুমি কী কী কাজ করো অভিনয় করে দেখাও।

Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...