নিয়মগুলো মেনে চলা উচিত। কিন্তু তারপরও আমরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হই। রোগ বা অসুখ জীবনের একটি অংশ। সারাজীবন সম্পূর্ণ রোগমুক্ত থাকা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। তবে রোগকে এড়ানো ও প্রতিরোধ করা যায়। রোগের আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে জানা দরকার।
কোনো কোনো রোগ রোগীর কাছ থেকে অন্যদের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের রোগকে বলে সংক্রামক রোগ। যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা, হুপিং কাশি, ডিপথেরিয়া, উদরাময়, হেপাটাইটিস (জন্ডিস), চোখ ওঠা, সর্দি, কাশি, যক্ষ্মা, টাইফয়েড, হাম, বসন্ত, ম্যালেরিয়া, এইডস প্রভৃতি সংক্রামক রোগের উদাহরণ। মানুষের শরীর ছাড়াও কোনো বস্তুর মাধ্যমেও সংক্রামক রোগ ছড়াতে পারে।
সংক্রামক রোগকে অনেক সময় ছোঁয়াচে রোগ বলা হয়। তবে সব সংক্রামক রোগ ছোঁয়াচে নয়। যেমন- যক্ষ্মা, টাইফয়েড, হাম, ম্যালেরিয়া, এইডস প্রভৃতি সংক্রামক রোগ হলেও ছোঁয়াচে নয়। যেসব রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে সুস্থ ব্যক্তি আক্রান্ত হয় সেসব রোগকে ছোঁয়াচে রোগ বলে। যেমন- বসন্ত, ইনফ্লুয়েঞ্জা ইত্যাদি। যেসব রোগ এক ব্যক্তির কাছ থেকে অন্য ব্যক্তির শরীরে সঞ্চারিত হয় না, রোগগ্রস্ত ব্যক্তি একাই রোগ বহন করে, এসব রোগকে সংক্রামক রোগ বলে না। যেমন- ক্যান্সার, প্যারালাইসিস, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি। যেসব রোগজীবাণু পানির মাধ্যমে ছড়ায়, সেসব রোগকে পানিবাহিত রোগ বলে। যেমন- টাইফয়েড, জন্ডিস, কলেরা, আমাশয়, ডায়রিয়া ইত্যাদি। কিছু কিছু রোগজীবাণু বায়ুর মাধ্যমে প্রাণীর দেহে প্রবেশ করে এগুলোকে বায়ুবাহিত রোগ বলে। যেমন- যক্ষ্মা, জলবসন্ত, হাম, ইনফ্লুয়েঞ্জা ইত্যাদি। অনেক রোগজীবাণু কীটপতঙ্গের দংশনের ফলে দেহে প্রবেশ করে। যেমন- স্ত্রী এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু জ্বর এবং স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া হয়।
বসন্ত: বসন্ত দুই প্রকার। গুটিবসন্ত ও পানিবসন্ত বা জলবসন্ত। গুটিবসন্ত বর্তমানে দেখা যায় না। অনেক আগেই পৃথিবী থেকে নির্মূল হয়ে গেছে। তবে পানিবসন্ত এখনো বিদ্যমান।
পানিবসন্ত বা জলবসন্ত: পানিবসন্ত বা জলবসন্ত একটি বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগ। এ রোগ স্পর্শ দ্বারা, কাশির সময়, কফের দ্বারা, লালা দ্বারা, কাপড়-চোপড় ও বিছানাপত্রের সংস্পর্শ দ্বারা এবং বায়ু দ্বারা শরীরে সংক্রমিত হয়।
প্রতিকার
১. রোগীর সংস্পর্শে না আসা।
২. রোগীর ঘরে যাতে মাছির উপদ্রব না হয় সেদিকে লক্ষ রাখা।
৩. রোগীকে মশারির মধ্যে রাখা।
৪. রোগীর কাপড়-চোপড় ফুটন্ত গরম পানিতে ভালো করে ধুয়ে ডেটল পানিতে বিশোধন করা।
৫. থুতু, লালা, ফোস্কা পুড়িয়ে ফেলা।
৬. রোগীকে আলো-বাতাসপূর্ণ ঘরে রাখার ব্যবস্থা করা।
৭. রোগীর ঘরে ফিনাইল ছিটিয়ে মাছির উপদ্রব কমানো।
৮. রোগীর উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
৯. সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়ে রোগীর সেবা করা, যেমন- নাকে মাস্ক ব্যবহার, সাবান দিয়ে হাত-মুখ ভালোভাবে ধোয়া, সেবা শেষে নিজের জামাকাপড় বদলিয়ে ফেলা ইত্যাদি।
চর্মরোগ: শরীর ও কাপড়-চোপড় অপরিষ্কার রাখলে বিভিন্ন প্রকার চর্মরোগ দেখা দেয়। সর্বদা বাইরের ধুলাবালি ও ময়লা প্রভৃতি এসে শরীরের লোমকুপের মুখ বন্ধ করে দেয়, ফলে বিভিন্ন চর্মরোগ হয়। খেলাধুলা শেষে বা কোনো কাজ করার পর শরীর ঘেমে গেলে তা যদি পরিষ্কার করা না হয় তাহলেও চর্মরোগ হতে পারে। যেমন- খোস-পাঁচড়া, দাদ প্রভৃতি।
প্রতিকার-
১. সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা।
২. কাপড়-চোপড় পরিষ্কার রাখা।
৩. ব্যবহৃত পোশাক-পরিচ্ছদ প্রতিদিন সাবান/সোডা/ক্ষার মিশ্রিত গরম পানিতে সিদ্ধ করে ধুয়ে ফেলা।
৪. রোগীর ব্যবহৃত কাপড়-চোপড় ব্যবহার না করা।
৫. রোগীকে উপযুক্ত চিকিৎসা দেওয়া।
| কাজ-১: তোমাদের এলাকায় গত ছয় মাসে যেসব সংক্রামক রোগ ছড়িয়েছে সেসব রোগের নাম ও লক্ষণসমূহ নিচের ছকে লিখ। | ||||||||
কাজ-২: চর্মরোগের প্রতিকার ১০ লাইনে লিখ। (বাড়ির কাজ) |
Read more