Academy
Created: 7 months ago | Updated: 5 months ago
Updated: 5 months ago
Ans :

বর্ষাকাল

ভূমিকা: ষড়ঋতুর বাংলাদেশে প্রত্যেকটি ঋতুই তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নিয়ে আগমন করে। কিন্তু বর্ষার রূপ বাংলাদেশে যেমন স্পষ্টভাবে আবির্ভূত হয় অন্যকোনো ঋতু তেমনভাবে আবির্ভূত হয় না। বর্ষা ঋতুর ভেতর দিয়ে বাংলাদেশের ঋতুবৈচিত্র্যের আসল রূপ ফুটে ওঠে। বর্ষা তাই আমাদের কাছে অতি পরিচিত ঋতু।

ব্যাপ্তিকাল: আষাঢ়-শ্রাবণ এ দু'মাস বর্ষাকাল। কিন্তু আমাদের দেশে বর্ষার আগমন অনেক আগেই ঘটে থাকে। কোনো কোনো সময় বর্ষা জ্যৈষ্ঠ মাসে আরম্ভ হয়ে আশ্বিন মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

বর্ষার আগমন: গ্রীষ্মের প্রচণ্ড উত্তাপ শেষে আসে বর্ষা। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড উত্তাপে যখন প্রকৃতি দগ্ধ হয়ে ওঠে এবং গাছপালা, জীবজন্তু, মানুষ, পশু-পাখি অসহ্য গরমে ছটফট করতে থাকে তখনই নেমে আসে বর্ষার অবিরল বৃষ্টিধারা।

বর্ষা-প্রকৃতি: বর্ষায় বাংলার প্রকৃতি অপরূপ রূপ ধারণ করে। বর্ষাকালে আকাশজুড়ে শুরু হয় কালো মেঘের ঘনঘটা। দিনভর অবিরাম বৃষ্টির ধারা ঝরতে থাকে। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে বিজলি চমকায়। কখনো দিনের পর দিন চলতে থাকে একটানা বৃষ্টি। বর্ষার পানিতে নদীনালা, খাল-বিল, পুকুর একাকার হয়ে যায়। চারদিক শুধু পানিতে থৈ থৈ করে। জেলেরা নৌকা ভাসিয়ে মাছ ধরে। মাঝিরা ভাটিয়ালি সুরে গান গায়। কোথাও কোথাও বাড়িগুলো পানিতে ডুবে ছোট ছোট দ্বীপের মতো দেখায়। বর্ষার পানিতে গাছপালা হয়ে ওঠে সবুজ ও সতেজ। কবির ভাষায়-

'বাদলের ধারা ঝরে ঝর ঝর;

আউশের ক্ষেত জলে ভর ভর।'

বর্ষায় জনজীবন: বর্ষাকালে অনেক জায়গায় রাস্তাঘাট ডুবে যায়। কোথাও হেঁটে যাওয়া যায় না। তখন নৌকাই হয় যাতায়াতের মাধ্যম। নৌকায় চড়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াতে আমরা অপরিসীম আনন্দ উপভোগ করি। কেউ কেউ কলাগাছের ভেলা ভাসিয়ে যাতায়াত করে। কৃষকরা আউশ ধান ও পাট নিয়ে ব্যস্ত থাকে।

বর্ষার উপকারিতা: বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা বহুলাংশে বর্ষার ওপর নির্ভরশীল। বর্ষার আগমনে মাঠের নির্জীব শস্য সজীব হয়। তা ছাড়া বর্ষা আমাদের চারপাশের ধুলোবালি ও অন্যান্য ময়লা পরিষ্কার করে দেয়। অতি সহজে নৌকা দিয়ে যাতায়াত করতে পারি। এসময় তরুলতা, গাছপালা প্রভৃতি খুব সতেজ হয়ে ওঠে। জমিতে পলি মাটি পড়ে জমি উর্বর হয়। বর্ষায় বাংলার পল্লিতে প্রচুর শাকসবজি জন্মে। আতা ও পেয়ারা দ্বারা বাগান পরিপূর্ণ থাকে। বর্ষায় জুঁই, মালতি, কদম, গন্ধরাজ প্রভৃতি ফুল ফুটে উদ্যান সুশোভিত করে।

বর্ষার অপকারিতা: বর্ষার উপকারিতার পাশাপাশি রয়েছে নানা অপকারিতা। বর্ষার আগমনে পথঘাট ডুবে যায়। রাস্তাঘাট কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। হেঁটে চলা এসময় কঠিন হয়ে পড়ে। কাজের অভাবে দরিদ্র লোক চরম সংকটে পতিত হয়। বর্ষাকালে ঝড়ে অনেক ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়। অনেক সময় অতিবৃষ্টি বন্যা ডেকে আনে। ফলে ফসলের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি, শস্যহানি এমনকি প্রাণহানি, ঘটে। বর্ষাকালে বন্যার সময় দূষিত পানি পান করে অনেকে আমাশয়, কলেরা, ডায়রিয়া প্রভৃতি পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়। এসময় মশা, মাছি, সাপ, কীটপতঙ্গের উৎপাত বেড়ে যায়।

উপসংহার: কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে বর্ষাঋতুর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বর্ষা না হলে আমাদের দেশ মরুভূমিতে পরিণত হতো। বর্ষার কারণেই আমাদের এদেশ সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা হয়েছে। তাই বর্ষা আমাদের নিকট অতি আনন্দপূর্ণ ও প্রিয় ঋতু।

7 months ago

প্রবন্ধ রচনা

প্রবন্ধ হলো প্রকৃষ্টরূপে বন্ধনযুক্ত রচনা। অর্থাৎ অন্যান্য রচনা, যেমন- কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদির সঙ্গে প্রবন্ধ লেখার রীতি ও কৌশলের পার্থক্য রয়েছে। কবির একান্ত অনুভূতিই কবিতায় প্রকাশ পায়। গল্প হলো মানবজীবনের নির্বাচিত ঘটনার আখ্যান বা কাহিনি। উপন্যাসের পরিসর বড়। সেখানে লেখক গল্পকারের তুলনায় বেশি স্বাধীন। উপন্যাসে সমগ্র জীবন ফুটে ওঠে। নাটকে কেবলই থাকে সংলাপ। বিবরণ বা বর্ণনার সেখানে তেমন স্থান নেই। কিন্তু প্রবন্ধকে হতে হয় যুক্তি ও তথ্যনির্ভর। কাদের জন্য প্রবন্ধ লেখা হচ্ছে সেটা মনে রাখতে হয়। কোন বিষয়ে প্রবন্ধ লেখা হচ্ছে তাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রবন্ধ-রচয়িতার মেধা, জ্ঞান, প্রকাশক্ষমতা প্রবন্ধের গুণগত মান বাড়িয়ে দেয়। প্রবন্ধের ভাষা স্থির করা হয় প্রবন্ধের বিষয় অনুসারে। বিজ্ঞানের কোনো বিষয়ে প্রবন্ধ লিখতে গেলে তাতে বিজ্ঞানের পরিভাষা ব্যবহার করতে হবে। সকল বয়সের পাঠকের জন্য একই ভাষায় প্রবন্ধ লেখা যায় না। শিশুরা যে-ভাষা বুঝবে, তাদের জন্য প্রবন্ধ সেভাবে লিখতে হবে। বিষয় অনুসারে প্রবন্ধের শ্রেণিবিভাগ করা হয়। বিজ্ঞানের বিষয়কে আশ্রয় করে রচিত প্রবন্ধকে আমরা বলি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ। সমাজের সমস্যা, সংকট, অবস্থা যেসব প্রবন্ধের মূল বিষয়, সেগুলোকে বলা হয় সামাজিক প্রবন্ধ। সাহিত্যকর্মের গুণাগুণ বিশ্লেষণ করে যেসব প্রবন্ধ রচিত হয়, সেগুলোকে বলে সমালোচনামূলক প্রবন্ধ। লেখকের অনুভূতিই যখন প্রবন্ধের আকারে তুলে ধরা হয়, তখন তাকে বলে অনুভূতিনির্ভর প্রবন্ধ। এ ছাড়াও প্রবন্ধের আরও শ্রেণি নির্দেশ করা যায়।

প্রবন্ধ-রচনার কৌশল

প্রবন্ধের প্রধানত তিনটি অংশ থাকে- (ক) ভূমিকা (খ) মূল অংশ (গ) উপসংহার।
ক) ভূমিকা: যে-বিষয়ে প্রবন্ধ লেখা হয় সে-বিষয়ে শুরুতেই সংক্ষেপে প্রথম অনুচ্ছেদে একটি ধারণা দেওয়া হয়। এটিই হলো ভূমিকা। এ-অংশ হতে হবে বিষয় অনুযায়ী, আকর্ষণীয় ও সংক্ষিপ্ত।
খ) মূল অংশ: প্রবন্ধের মধ্যভাগ হলো মূল অংশ। এখানে প্রবন্ধের মূল বক্তব্য পরিবেশিত হয়। বিষয় অনুসারে এ অংশ বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বিভক্ত হতে পারে। প্রতিটি অনুচ্ছেদ যেন মূল প্রবন্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। এ-অংশে কোনো উদ্ধৃতি ব্যবহার করা হলে তা যাতে কোনোভাবেই বিকৃত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে অর্থাৎ মূল রচনায়, যেভাবে আছে সেভাবেই তা ব্যবহার করতে হবে।
গ) উপসংহার: অল্প কথায় সমাপ্তিসূচক ভাব প্রকাশ করাই উপসংহার। ব্যক্তিগত মত, সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশা এ-অংশে প্রকাশ করা যেতে পারে।

প্রবন্ধ-রচনায় দক্ষতা অর্জনের উপায়

প্রবন্ধ-রচনায় দক্ষতা অর্জন একদিনে হয় না। কিন্তু তা সাধ্যের অতীত কোনো বিষয় নয়। এজন্য করণীয় হলো-

১. প্রবন্ধের বিষয়বস্তু সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা লাভ করা।

২.দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রবন্ধ পড়া। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধ, সংবাদ, প্রতিবেদন, ভাষণ ইত্যাদি নিয়মিত পাঠ করলে নানা প্রসঙ্গে বিষয়গত ধারণা লাভ করা যায়।

৩. প্রবন্ধের বক্তব্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তুলে ধরতে হবে।

৪. প্রবন্ধ-রচনার ভাষা হবে সহজ ও সরল।

৫. প্রবন্ধে কোনো অপ্রয়োজনীয় বিষয় থাকবে না এবং একই কথার পুনরাবৃত্তি ঘটানো যাবে না।

৬. প্রবন্ধে উদ্ধৃতি, উক্তি বা প্রবাদ-প্রবচন ব্যবহার করা যাবে, কিন্তু এসবের ব্যবহার যেন অতিরিক্ত পর্যায়ে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৭.প্রবন্ধ যাতে অতিরিক্ত দীর্ঘ না হয় তা লক্ষ করতে হবে।

Content added By

Related Question

View More

1

আমাদের বিদ্যালয়

(প্রবন্ধ রচনা লিখুন)

Created: 7 months ago | Updated: 5 months ago
Updated: 5 months ago

আমাদের বিদ্যালয়

সূচনা: শিক্ষার মাধ্যমেই মানুষ জীবন ও জগৎকে চিনতে পারে এবং নিজেকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারে। একটি সফল, সুন্দর ও পূর্ণাঙ্গ জীবনের পথ প্রদর্শন করে বিদ্যালয়। আমি এরূপ একটি বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করি।
বিদ্যালয়ের পরিচয়: আমাদের বিদ্যালয়ের নাম বীণাপাণি সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি গোপালগঞ্জ জেলা সদরে অবস্থিত। ১৯৩০ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়েছে। প্রাচীন ও আদর্শ বিদ্যাপীঠ হিসেবে বিদ্যালয়টির যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। বিদ্যালয়টি আমাদের অঞ্চলের মধ্যে একটি আদর্শ ও নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

অবস্থান: আমাদের বিদ্যালয়টি শহরের ভেতরেই মনোরম পরিবেশে অবস্থিত। বিদ্যালয়টি শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত। বিদ্যালয়টির দক্ষিণ পাশ দিয়ে বয়ে গেছে মধুমতী নদী।

বিদ্যালয়গৃহের বর্ণনা: আমাদের বিদ্যালয়টি তিনতলা ভবন। এ ভবনে মোট ২০টি কক্ষ রয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সর্বমোট ১৫টি শ্রেণিকক্ষে ক্লাস হয়। অন্য কক্ষগুলোর মধ্যে একটি প্রধান শিক্ষকের কক্ষ, দুটি সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কক্ষ, একটি অফিসঘর ও একটি পাঠাগার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ছাত্রী ও শিক্ষক: আমাদের বিদ্যালয়ে ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় এক হাজার এবং শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা ১৯ জন। আমাদের বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা একে অপরের সাথে বোনের মতো আচরণ করে। আমরা সবাই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শ্রদ্ধা করি।

লেখাপড়ার পদ্ধতি: আমাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা খুব আন্তরিকভাবে ছাত্রীদের পাঠদান করে থাকেন। প্রতি বছর প্রথম সাময়িক, দ্বিতীয় সাময়িক ও বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রতি সপ্তাহে ও মাসে দু-একটি শ্রেণিপরীক্ষা নেওয়া হয়। বছরান্তে তিনটি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের গড় হিসাবে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

খেলাধুলা ও অনুষ্ঠানাদি: আমাদের বিদ্যালয়ে একটি বড় খেলার মাঠ আছে। বিদ্যালয় ছুটির পর নিয়মিতভাবে মৌসুম অনুযায়ী ফুটবল, ক্রিকেট ও অন্যান্য খেলাধুলা হয়। বিদ্যালয়টিতে বিভিন্ন রকম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। তাছাড়া বছরান্তে পরীক্ষার পর আমরা ও শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ মিলে বনভোজনে আনন্দ করি। জাতীয় দিবসগুলোও আমরা যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করি।

পরীক্ষার ফলাফল: আমাদের বিদ্যালয়ের ফল সবসময় ভালো। লেখাপড়া ও ফলাফলের দিক দিয়ে বিদ্যালয়টির নাম আমাদের জেলার মধ্যে উল্লেখযোগ্য। কলেজে গিয়েও আমাদের বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা খুবই ভালো ফল করে।

বিশেষত্ব: আমাদের বিদ্যালয়ের উন্মুক্ত খেলার মাঠ, সুন্দর স্কুলঘর, লাইব্রেরি, অফিসকক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষিকামন্ডলী এবং মনোরম পরিবেশ অন্যান্য বিদ্যালয় থেকে পৃথক বৈশিষ্ট্যের দাবিদার। পরীক্ষার ফলাফল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দিক থেকেও প্রতিষ্ঠানটির যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। তাছাড়া প্রতিটি শ্রেণির মেধাবী ছাত্রীদের পুরস্কার বিতরণী সভায় পুরস্কৃত করা হয়।

উপসংহার: আমাদের বিদ্যালয়টি একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আমরা এজন্য গর্ব অনুভব করি। এ বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সুযোগ পেয়েছি বলে আমি নিজেকে ধন্য মনে করি।

2

আমার প্রিয় খেলা

(প্রবন্ধ রচনা লিখুন)

Created: 7 months ago | Updated: 5 months ago
Updated: 5 months ago

আমার প্রিয় খেলা

ভূমিকা: বর্তমান বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। ফুটবল খেলায় খেলোয়াড় ও দর্শক উভয়েই অপরিমেয় আনন্দ উপভোগ করে। এটি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ খেলা। তাই এ খেলা আমারও অত্যন্ত প্রিয়। আমি শুধু ফুটবল খেলা দেখিই না, খেলতেও খুব পছন্দ করি।

ফুটবল খেলার ইতিহাস: রোমানরাই সর্বপ্রথম ফুটবল খেলার সূচনা করে এবং এর প্রসার ঘটায়। মধ্যযুগে ইউরোপে, বিশেষত ইতালিতে রোমানদের খেলা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ১৮৫০ সালের মধ্যভাগে প্রথম ফুটবল ক্লাব গড়ে ওঠে ইংল্যান্ডের শেফিন্ডে। এরপর ডেনমার্ক, ব্রাজিল ও সোভিয়েত ইউনিয়নে এ খেলা বিপুলভাবে বিস্তৃতি ও জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১৯০৪ সালের ২১ মে ফিফা প্রতিষ্ঠিত হয়। ফিফা কর্তৃক প্রবর্তিত আইনই বর্তমান আধুনিক ফুটবলের জন্ম দেয়। ইংরেজরা সর্বপ্রথম আমাদের দেশে ফুটবল খেলা শুরু করে। বর্তমানে এ খেলা আমাদের দেশে খুবই জনপ্রিয়।

খেলার বর্ণনা: একজন রেফারি খেলাটি পরিচালনা করেন। তিনি একটি বাঁশির সাহায্যে সংকেত ধ্বনি দেন। খেলোয়াড়রা দুই দলে বিভক্ত হয়ে মাঠে নামে এবং প্রতিটি দলে ১১ জন করে খেলোয়াড় থাকে। মাঠের দুই প্রান্তে দুটো গোলপোস্ট থাকে। প্রতিটি গোলপোস্ট মাটি থেকে আট ফুট উঁচু হয়। খেলার জন্য একটা চামড়া নির্মিত বল এবং একটা সমতল মাঠের দরকার, যার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ হবে যথাক্রমে ১২০ গজ ও ৮০ গজ। খেলার শুরুতে মাঠে দুটি দলই সামনাসামনি হয়ে দাঁড়ায়। প্রতি দলের ১১ জন খেলোয়াড়ের পাঁচজন মাঠের মধ্যে সকলের পুরোভাগে এসে দাঁড়ায়। তাদের বলা হয় ফরোয়ার্ড। তাদের পেছনে অবস্থান নেয় তিনজন হাফব্যাক এবং হাফব্যাকের পেছনে দুজন ফুলব্যাক। সবার পেছনে গোলপোস্টের সামনে থাকে একজন গোলরক্ষক। পাঁচজন ফরোয়ার্ডের কাজ হলো প্রতিপক্ষ দলকে আক্রমণ করা এবং গোলপোস্টের মধ্যে বল প্রবেশ করানো। অন্যদিকে ফুলব্যাক প্রতিপক্ষ দলের আক্রমণ প্রতিরোধ করে ও গোলরক্ষককে প্রয়োজনীয় সাহায্য করে। গোলরক্ষক এক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের বলটি যাতে গোলপোস্টের ভেতরে ঢুকতে না পারে সেদিকে সদা সতর্ক দৃষ্টি রাখে। গোলরক্ষক হাতে, পায়ে ও শরীরে বল আটকিয়ে গোল রক্ষা করতে পারে। খেলা পরিচালনাকারী রেফারিকে সাহায্যের জন্য দুজন লাইন্সম্যান থাকে।

ফুটবল খেলা সাধারণত ৯০ মিনিট হয়ে থাকে। মাঝামাঝি সময়ে ১০ মিনিট বিরতি দেওয়া হয়। খেলার শুরুতে প্রথমে বলটি মাঠের ঠিক মাঝখানে রাখা হয়। তারপর রেফারি দুপক্ষের দলনেতাকে ডেকে 'টস' করে ঠিক করে দেন কোন দল আগে বলে লাথি দেবে। নির্দিষ্ট সময়ে রেফারির বাঁশির শব্দের সঙ্গে সঙ্গে খেলা শুরু হয়। একমাত্র গোলরক্ষক ছাড়া অন্য কারো হাতে বল লাগলে 'হ্যান্ডবল' হয়। কেউ প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়কে বিনা কারণে আঘাত করলে ফাউল হয়। গোলপোস্টের সামনে 'ডি বক্সের' মধ্যে ফাউল করলে পেনাল্টি কিক দেওয়া হয়। তখন গোলরক্ষক ছাড়া অন্যকোনো খেলোয়াড়কে আক্রমণ প্রতিহত করতে দেওয়া হয় না। বলটি কোনো পক্ষের গোলপোস্টের মধ্য দিয়ে ঢুকে গেলে গোল হওয়া বলে। যে পক্ষ বেশিসংখ্যক গোল করতে পারে তারাই জয়ী হয়। গোলসংখ্যা সমান অথবা গোলশূন্য শেষ হলে খেলা ড্র হয়।

ফুটবল খেলার উপকারিতা: ফুটবল খেলা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এতে শরীরের সব অংশ বার বার পরিচালিত হয় বা শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সবল ও সুদৃঢ় হয়। এ খেলার মাধ্যমে খেলোয়াড়দের মধ্যে নিয়মানুবর্তিতা ও কর্মতৎপরতার জন্ম নেয়। সংঘবদ্ধ হয়ে সুষ্ঠুভাবে কাজ করার মানসিকতা তৈরি হয়। সর্বোপরি এ খেলাটি নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলি অর্জনে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

ফুটবল খেলার অপকারিতা: যেকোনো খেলার মতোই ফুটবল খেলারও অপকারিতা আছে। দীর্ঘক্ষণ খেললে স্বাস্থ্যের উপকার না হয়ে বরং ক্ষতি হয়ে থাকে। এ খেলায় অনেক সময় হাত-পা ভেঙে যায়। এ ছাড়া দর্শকদের উত্তেজনার কারণে অনেক দুর্ঘটনাও ঘটে থাকে।

উপসংহার: নির্মল আনন্দদায়ক ও উত্তেজনাপূর্ণ খেলা হিসেবে ফুটবল খেলার জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রতি বছরই আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল খেলার আসর বসে। আন্তর্জাতিক খেলার মধ্যে 'বিশ্বকাপ ফুটবল' ও 'বিশ্ব অলিম্পিক ফুটবল' খুবই জনপ্রিয়।

3

আমার দেখা নদী

(প্রবন্ধ রচনা লিখুন)

Created: 7 months ago | Updated: 5 months ago
Updated: 5 months ago

আমার দেখা নদী

ভূমিকা: বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এদেশ জুড়ে জালের মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য নদ-নদী। বাংলাদেশে এমন কোনো মানুষ পাওয়া যাবে না যে নদী দেখেনি। আমিও নদী দেখেছি। শুধু দেখিইনি, নদীতে সাঁতার কেটেছি, নৌকায় করে ঘুরে বেড়িয়েছি, মাছ ধরেছি। আমার দেখা প্রিয় নদীটি হলো শীতলক্ষ্যা।

শীতলক্ষ্যা নদীর পরিচয়: শীতলক্ষ্যা নদীটি নারায়ণগঞ্জের মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে। এ নদীর পাড়েই গড়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ শহর। আমাদের গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানায়। আমরা প্রতি বছরই দুই-তিনবার গ্রামের বাড়ি যাই। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত- একেক সময় নদীর রূপ একেক রকম।

গ্রীষ্মকালে শীতলক্ষ্যা নদী: গ্রীষ্মকালে শীতলক্ষ্যা নদীর পানি অনেক কমে যায়। কিন্তু এ নদী কখনো শুকায় না। নদীর দুই পাশে অনেকটা জুড়ে চর পড়ে। আমরা চর পেরিয়ে দুপুর বেলায় নদীতে গোসল করতে যাই। সারা দুপুর আমরা নদীতে সাঁতার কাটি, দাপাদাপি করি। ভেজা শরীর নিয়ে চরের তপ্ত বালিতে শুয়ে থাকি। কিছুক্ষণ পর আবার নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ি। মায়ের কাছে শুনেছি এ নদীতে নাকি আগে কুমির ছিল। কিন্তু এখন আর কুমির দেখা যায় না, শুধু মাঝে মাঝে শুশুক ভেসে উঠতে দেখা যায়। প্রায়ই গ্রামের সাহসী তরুণরা বাজি ধরে সাঁতরে নদী পার হয়। আমরা উৎসুক হয়ে তাদের সে প্রতিযোগিতা দেখি।

বর্ষাকালে শীতলক্ষ্যা নদী: বর্ষাকালে শীতলক্ষ্যা প্রমত্ত হয়ে ওঠে। উজান থেকে ভেসে আসা পানিতে নদী টইটম্বুর হয়ে যায়। তখন গ্রামের সীমা পর্যন্ত পানি উঠে যায়। এসময় নদীটাকে সাগরের মতো মনে হয়। নদীতে প্রচণ্ড ঢেউও থাকে। আমরা নদীতে নামতে সাহস পাই না। যখন আকাশ অন্ধকার করে ঝড় ওঠে তখন নদী উত্তাল হয়ে ওঠে। নদীর প্রচন্ড ঢেউ তীর ভেঙে রাস্তাঘাট বিনষ্ট করে দেয়। এর মধ্যেই দেখা যায় গ্রামের লোকেরা ডিঙি নৌকায় চড়ে নদী পার হচ্ছে। তাদের মনে যেন কোনো ভয়ডর নেই।

শরৎকালে শীতলক্ষ্যা নদী: শরৎকালে নদীর রূপ যেন ফুটে ওঠে। এসময় নদীর বুকে নীলাকাশের ছায়া পড়ে। তখন নদীটাকে নীল মনে হয়। নদীর দুই পাড়ের চরে কাশফুল ফোটে। কাশবনে বাসা বাঁধে ঘুঘু, ডাহুক, বালিহাঁস প্রভৃতি নানা জাতের পাখি। আমরা শরতের বিকেলে ছোট ছোট নৌকা নিয়ে নদীতে নেমে পড়ি। তখন নীল আকাশের নিচে নদীতে নৌকায় চড়ে ঘুরে বেড়াতে খুবই ভালো লাগে। সন্ধ্যা নামলে নদীর ওপর দিয়ে উড়ে যায় ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি। সে সময়কার অনুভূতি বর্ণনাতীত।

শীতকালে শীতলক্ষ্যা: শীতকালে নদীর দুই পাড়ের চরগুলোতে মিষ্টি আলু, কাঁচামরিচ, ডাল, সরিষা প্রভৃতি চাষ হয়। নদী এসময় একেবারে শান্ত হয়ে যায়। সকাল বেলা নদীটাকে কুয়াশার চাদর ঢেকে রাখে। দুপুর বেলা নদীর শীতল পানিতে গোসল করে আমরা চরে বসে রোদ পোহাই। এসময় নদী থেকে প্রচুর মাছ ধরা পড়ে।

উপসংহার: নদী একেক ঋতুতে একেক রূপ ধারণ করে। শীতলক্ষ্যা বাংলাদেশের অসংখ্য নদীর একটি। এ নদীও অন্যান্য নদীর মতো বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করেছে। আমি শীতলক্ষ্যা নদীকে খুবই ভালোবাসি। এ নদী আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে নীরবে মানুষের সেবা করে যেতে হয়।

4

সত্যবাদিতা

(প্রবন্ধ রচনা লিখুন)

Created: 7 months ago | Updated: 5 months ago
Updated: 5 months ago

সত্যবাদিতা

ভূমিকা: যেসব মহৎ গুণ মানুষকে মহামানবে পরিণত করে সত্যবাদিতা তার মধ্যে অন্যতম। সত্যকে কোনো রকম বিকৃত না করা এবং ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবনে সত্যচর্চার নামই সত্যবাদিতা। একজন সত্যবাদী মানুষ কখনো মিথ্যার আশ্রয় নেয় না। সেজন্য তিনি সবার কাছে সম্মান পেয়ে থাকেন।

সত্যবাদিতার মূল্যায়ন: সত্যের কোনো বিকল্প নেই। তাই গুণ হিসেবে সত্যবাদিতার স্থান সবার ওপরে। যার জীবনে সত্যবাদিতার অভাব আছে তাকে সব ক্ষেত্রে অপমানিত হতে হয়। আর সত্যকে ধারণ করে অনেক ব্যক্তি সকলের সম্মানের পাত্র হয়ে ওঠেন। কখনো কখনো অসত্যের জয় হলেও চূড়ান্ত বিচারে সত্যেরই জয় হয়। সত্যই মানুষকে দেখায় মুক্তি ও কল্যাণের পথ। তাই বলা যায়, জীবন ও জগৎকে সুন্দর করতে সত্যকে বেছে নেওয়া উচিত।

সত্য ও মিথ্যার প্রভেদ: যার মধ্যে সত্য আছে সকলে তাকে বিশ্বাস করে, ভালোবাসে এবং শ্রদ্ধা করে আর অসত্য মানুষকে মিথ্যার বেড়াজালে আবদ্ধ করে। একটি মিথ্যার আশ্রয় নিতে গিয়ে মানুষ অসংখ্য অসত্যকে প্রশ্রয় দিতে বাধ্য হয়। এভাবে অসত্য মানুষকে এমন এক জায়গায় নিয়ে যায় যেখান থেকে ফিরে আসা সহজ হয় না। ফলে অসত্য সমাজে অন্যায়, অবিশ্বাস, অনাস্থা ও অনাচারের জন্ম দেয়। যে সত্যে বিশ্বাসী সে শত প্রলোভনেও সত্যভ্রষ্ট হয় না। সে নৈতিক শক্তিতে বলীয়ান। নৈতিকতা অর্জন মানব জীবনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সত্য মানুষকে সেই শক্তি দেয় যার গুণে মানুষ সত্যিকার মানুষ হয়, যা না থাকলে তার সঙ্গে পশুর কোনো পার্থক্য থাকে না। যে সমাজে সত্য নেই সে সমাজ মানুষের নয়, পশুর। তাই কখনো মিথ্যা বা অসত্যের আশ্রয় নেওয়া উচিত নয়। এমনকি কৌতুক করেও মিথ্যা বলা উচিত নয়। অর্ধসত্য কথাও মিথ্যাতুল্য।

ব্যক্তিজীবনে সত্যবাদিতার গুরুত্ব: ব্যক্তিজীবনে সত্যবাদিতার গুরুত্ব অপরিসীম। সত্যবাদী ব্যক্তির প্রতিটি কাজকর্মে সততার লক্ষণ প্রকাশ পায়। সততা আছে এমন ব্যক্তির পক্ষে সৎ চিন্তা, সৎ কাজ, সদ্ব্যবহার বাদ দিয়ে সুন্দর জীবন কল্পনা করা সম্ভব নয়। সৎ ব্যক্তির সত্যবাদিতার প্রভাব পড়ে তার পারিবারিক জীবনে। সৎ ব্যক্তির সত্যের আদর্শের শিক্ষা পায় তার স্ত্রী-সন্তান ও পরিবারের অন্য সদস্যরা।

সমাজজীবনে সত্যবাদিতার প্রভাব: সমাজজীবনে সত্যবাদিতার আছে শক্তিশালী প্রভাব। সৎ ব্যক্তি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের পছন্দের ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত হয়। ফলে তার ওপরই সকলে ন্যস্ত করতে চায় নেতৃত্ব। সত্যবাদিতার গুণেই ব্যক্তি সমাজে উচ্চ অবস্থানে আসীন হয়। যুগে যুগে শিক্ষাহীন, ধর্মহীন মানুষকে দীক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়েছিল সমাজের সত্যবাদী ব্যক্তিদের মাধ্যমেই। তাই মহৎ ও বরণীয় মানুষমাত্রই মানবজীবনে সত্যের মূর্ত প্রতীক। সমাজজীবনে সত্য কথার অভাব হলে সমাজে অন্যায়-অবিচার বৃদ্ধি পায়। সমাজ হয়ে পড়ে অস্থিতিশীল। তাই একটি সুন্দর সমাজের জন্য সত্য কথা বলার চর্চা করা উচিত। কর্মজীবনেও সত্য কথা না থাকলে সহকর্মীদের শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতা লাভ করা যায় না।

সত্যবাদিতার দৃষ্টান্ত: পৃথিবীতে যে সকল মহামানবের আবির্ভাব ঘটেছে তাঁরা সবাই সত্যবাদী ছিলেন। হজরত মুহাম্মদ (স.) সদ্গুণের কারণে আল-আমিন উপাধি পেয়েছিলেন। হজরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) ডাকাতদের কবলে পড়লে তাদের নিকট তাঁর আস্তিনে লুকানো স্বর্ণমুদ্রার কথা অকপটে স্বীকার করেন। । তাঁর এ সত্যবাদিতায় মুগ্ধ হয়ে ডাকাত সর্দারসহ দলের সকলে ডাকাতি করা ছেড়ে দিয়ে ভালো হয়ে গিয়েছিল। সত্যের জন্য ক্রুশবিদ্ধ হন যিশুখ্রিষ্ট। দাশনিক সক্রেটিসকে সত্য সমুন্নত রাখতে হেমলক বিষ পান করে জীবন দিতে হয়েছে। তাই মানব ইতিহাসে এদের নাম লেখা হয়েছে স্বর্ণাক্ষরে আর মিথ্যাশ্রয়ীরা নিক্ষিপ্ত হয়েছে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে।

উপসংহার; ব্যক্তিজীবনে, সমাজজীবনে সত্যবাদিতার চেয়ে মূল্যবান গুণ খুব কম আছে। ব্যক্তি ও সমাজজীবনে সত্যবাদিতা প্রতিষ্ঠা করেই আমরা সমাজকে সুখী ও সুন্দর করে তুলতে পারি। সত্যের বিনাশ নেই বিধায় সদা সত্য কথা বলব, সৎপথে চলব, সত্যের সেবা করব- এই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা।

5

আমাদের গ্রাম

(প্রবন্ধ রচনা লিখুন)

Created: 7 months ago | Updated: 5 months ago
Updated: 5 months ago

আমাদের গ্রাম

সূচনা: শিশু যেমন তার মায়ের কোলকেই বেশি নিরাপদ ও সুখদায়ক মনে করে, আমাদের গ্রামটিও আমার কাছে তেমনই মনে হয়। আমি এখানে জন্মেছি। এর ছায়াঘেরা মায়াময় কোলে আমার চঞ্চল জীবন কাটাচ্ছি। এর নদীর পানি আমার তৃষ্ণা দূর করছে। এর খেতের ফসল আমার ক্ষুধা দূর করছে। নানা রঙের পাখি গান শুনিয়ে আমার ঘুম ভাঙাচ্ছে। এর বাতাসে আমি শ্বাস গ্রহণ করে বড় হয়ে উঠছি। এ গ্রামের মানুষের কাছে আমি পেয়েছি আদর, স্নেহ ও ভালোবাসা। তাই আমার গ্রামকে আমি মন-প্রাণ দিয়ে ভালোবাসি।

অবস্থান: ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার ২নং মির্জাপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত আমাদের গ্রামটির নাম শেরপুর। খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কের পশ্চিম পার্শ্বেই অবস্থিত আমাদের গ্রামটি। এটি শৈলকুপা উপজেলার উত্তরাংশের শেষ প্রান্তের একটি ক্ষুদ্র জনপদ। এটির পশ্চিমে যোগিপাড়া, পূর্বে মির্জাপুর এবং উত্তর দিকে পদমদী গ্রাম।

আয়তন ও অধিবাসী: আমাদের গ্রামের আয়তন দৈর্ঘ্যে প্রায় এক কিলোমিটার ও প্রস্থে আধা কিলোমিটার থেকে কিছু কম। আমাদের গ্রামের জনসংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার। এই গ্রামে হিন্দু ও মুসলমান একত্রে বসবাস করে। গ্রামের অনেক বাড়িতে উচ্চশিক্ষিত লোক আছেন। তাঁরা ঢাকা ও অন্যান্য শহরে ভালো চাকরি করেন। গ্রামে বয়স্ক লোকেরা সবাই কোনো না কোনো ব্যাবসা কিংবা কৃষিকাজ করে জীবিকানির্বাহ করেন। এখানে অন্যান্য পেশার লোকও আছেন। তাঁদের মধ্যে শিক্ষক, উকিল, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, জেলে, কামার, কুমার, সুতার উল্লেখযোগ্য। এ গ্রামের অধিকাংশ লোক শিক্ষিত।

ঘরবাড়ি: আমাদের গ্রামের অধিকাংশ বাড়িঘর প্রধানত টিনের তৈরি। তমব এ গ্রামে অনেকগুলো পাকা বাড়িও আছে। এখানে ছনের বা খড়ের ঘর নেই বললেই চলে।

উৎপন্ন দ্রব্য: আমাদের গ্রামের প্রধান উৎপন্ন দ্রব্যের মধ্যে ধান, পাট,গম, ডাল, সরিষা, তিল, তামাক, ইক্ষু এবং বিভিন্ন রকম শাকসবজি উল্লেখযোগ্য। পুকুর, নদী ও খালে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। হাঁস-মুরগি প্রচুর ডিম দেয়। গাভির দুধ পাওয়া যায়। বাগানে আম, জাম, কলা, নারিকেল, সুপারি, তাল, পেয়ারা, বেল প্রভৃতি ফল প্রচুর উৎপন্ন হয়। এককথায় আমাদের গ্রামের মানুষের খাবারের জন্য যা প্রয়োজন তার প্রায় সবই এখানে উৎপন্ন হয়।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান: আমাদের গ্রামে দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি উচ্চ বিদ্যালয় ও একটি মাদ্রাসা আছে। গাঁয়ের ছেলেমেয়েরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জীবনের প্রথম পাঠ শুরু করে এবং এখানে পড়া শেষ করে হাইস্কুলে ভর্তি হয়। সন্ধ্যার পর চৌধুরীবাড়ির বৈঠকখানায় বয়স্ক লোকদের লেখাপড়ার আসর বসে। নদীর পাড়ে নতুন বাজারে পোস্ট অফিস, টেলিগ্রাম, দাতব্য চিকিৎসালয় ও কৃষি অফিস আছে।

যোগাযোগব্যবস্থা: ইউনিয়ন পরিষদের আধাপাকা সড়কটি আমাদের গ্রামের মধ্য দিয়ে খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক ও শৈলকুপা উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত। এই আধাপাকা সড়কই সব ঋতুতেই আমাদের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম।

হাটবাজার: আমাদের গ্রামে একটি বড় বাজার আছে। বাজারটি সপ্তাহে দু'বার বসে। তা ছাড়া দৈনিক সকালে বাজার বসে। দৈনন্দিন প্রয়োজনের প্রায় সব জিনিস এখানে পাওয়া যায়। হাটের দিনে বহুদূর থেকে ক্রেতা-বিক্রেতা আসে। হাটের দিন এখানে ধান, চাল, হাঁস-মুরগিসহ সব রকমের জিনিস বেচাকেনা হয়। এই বাজারের দোকান সকাল থেকে অনেক রাত পর্যন্ত খোলা থাকে। মোটের ওপর আমাদের গ্রামের লোকেরা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অভাববোধ করে না।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য:

'অবারিত মাঠ গগনললাট, চুমে তব পদধূলি;

ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড়, ছোটো ছোটো গ্রামগুলি।'

সত্যিই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের গ্রামের সুন্দর বর্ণনা সার্থক হয়েছে আমাদের গ্রামটির ক্ষেত্রে। মনে হয় যেন প্রকৃতির আপন খেয়ালে এ গ্রামটি সাজানো। মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাবৈচিত্র্যে ভরপুর আমাদের গ্রামখানি। যেদিকে চোখ যায়, সেদিকে দেখা যায় আম, জাম, কাঁঠাল, বেল, কুল, পেয়ারা এবং আরও নানা রকমের গাছ। মাঠভরা ধান ও অন্যান্য শস্যখেতের ওপর দিয়ে যখন বাতাস বয়ে যায় তখন খুবই সুন্দর দেখায়।

উপসংহার: এমন একটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করে আমি ধন্য। সর্বদাই সাধ জাগে, যেকোনো মূল্যে গ্রামের ঐতিহ্য বজায় রাখব, এর উন্নয়নে তৎপর হবো এবং সর্বপ্রকার কুপ্রভাব থেকে গ্রামটিকে মুক্ত রাখব।

আমার পড়া একটি বইয়ের গল্প

ভূমিকা: বই পড়তে কে না ভালোবাসে! কোনো বই পড়ার পর বইটি ভালো লেগেছে, এ কথাটি বলা অত্যন্ত সহজ। কিন্তু বইটি ভালো লাগার কারণ নির্দেশ করা অনেকটা কঠিন। কারণ ভালো লাগা ব্যাপারটি একান্তভাবেই ব্যক্তিগত রুচির ওপর নির্ভর করে। কোনো একটি বই একজনের ভালো লাগলেও অন্য একজনের পুরোপুরি ভালো না-ও লাগতে পারে। তবে ভালো বইয়ের মধ্যে এমন কিছু গুণ থাকে যা সহজেই সহৃদয় পাঠকচিত্তের ওপর প্রভাব বিস্তার করে।

বইটির পরিচয়: আমি যে বইয়ের কথা বলছি সেটি একটি ক্ষুদ্র বই। এমন একটি বই আমার প্রিয় বললে অনেকে হয়তো আমাকে সমর্থন করবেন না। তবু আমি আমার প্রিয় বইটির নাম সগর্বে প্রকাশ করছি। বইটি হলো অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'রামের সুমতি'। সুযোগ পেলেই এ বইটির গল্প করতে আমার ভালো লাগে।

ভালো লাগার কারণ: পৃথিবীতে বহু বিখ্যাত বই থাকতে 'রামের সুমতি' আমার কেন ভালো লাগল তা ঠিকমতো বলতে পারব না। তবে আমার মনে হয় আমি বইটির প্রধান চরিত্র রামকে ভালোবেসেছি। কমবয়সি রামের দুষ্টুবুদ্ধির নানারকম চিত্র শরৎচন্দ্রের 'রামের সুমতি'র মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায়। রামের পিতা-মাতা ছিল না। বৌদি নারায়ণীর স্নেহ ও শাসনের ছায়াতলে সে বেড়ে উঠেছিল। রাম পৃথিবীর একজন মানুষকেই কেবল ভয় করত। সে মানুষটি এই নারায়ণী। সে নারায়ণীকে ভয় পেত ঠিকই কিন্তু তার চেয়েও বেশি ভালোবাসত। তাই গ্রামের নীলমণি ডাক্তার যখন নারায়ণীর অসুখের সময় আসতে চায় না তখন রাম তার দুষ্টুবুদ্ধি নিয়ে ডাক্তারের কাছে হাজির হয়। ডাক্তারের মুখে ঘুষি দিয়ে দাঁত ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেয় সে। কিংবা তার কথা না শুনলে ডাক্তারের আমবাগান উপড়িয়ে দেবে ইত্যাদি হুমকি দিয়ে রাম ডাক্তারকে আসতে বাধ্য করে। এ ঘটনা হতে রামকে গোঁয়ার বা ডানপিটে বলে মনে হয়। কিন্তু আসলে রাম তেমন নয়। রাম নিপীড়িতের সেবা এবং অত্যাচারীকে শায়েস্তা করা কর্তব্য বলে মনে করেছে। গ্রামের কিপটে, অত্যাচারী ও ফাঁকিবাজ ডাক্তার রামকে যমের মতো ভয় করত। রামের শুভচেতনার জন্যই আমি রামকে ভালোবেসেছি। রামের মতো সহজ বুদ্ধিতে কাজ করার ইচ্ছে আমার সবসময় হয়। আমি মনে মনে রাম হওয়ার ইচ্ছে পোষণ করি। কিন্তু বাস্তব জীবনে রামের মতো হতে পারিনি। এজন্যই রাম চরিত্রটি আমাকে প্রচণ্ড আকর্ষণ করে। আর সে কারণেই এ বইটি আমার কাছে এত প্রিয়।

উপসংহার: 'রামের সুমতি' পড়তে বসলে একেবারে শেষ না করে ওঠা যায় না। বইটি পড়ে আমি অপরিসীম আনন্দ পেয়েছি। তাই বার বার পড়া সত্ত্বেও এ বইটি আবার পড়তে ইচ্ছা করে।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...