সাফল্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যবসায়। সাফল্য এমনিতে আসে না। সততার সাথে মেধা আর পরিশ্রমের সমন্বয় ঘটাতে পারলেই কেবল সাফল্য অর্জন করা যায়। আজ আমরা এমনি একজন মানুষের গল্প শুনব, যিনি তার জীবনে সততা আর কায়িক শ্রমের যথাযথ সমন্বয় ঘটিয়েছেন।
কঠোর পরিশ্রম করে অনাথ রতন এখন অল্প-স্বল্প সহায় সম্পত্তির অধিকারী। পত্রিকা বিলির মধ্য দিয়ে তার দিন শুরু হলেও রাতে ঘুমাতে যেতে হয় খামারের গরু দেখাশোনা করে। এভাবেই কঠোর পরিশ্রম করে ধাপে ধাপে উপরে উঠে এসেছেন রতন। হকার রতন পরিশ্রম করে আরও বড় হতে চান। ছয় বছর বয়সে বাবা অনাথ চন্দ্র সরকার মারা গেলে মা সন্ধ্যারানী রতনকে নিয়ে আশ্রয় নেন জোনাইডাঙ্গা গ্রামের রুপু মজুমদারের বাড়িতে। এর পর সন্ধ্যারানী ছেলেমেয়েকে বাঁচাতে মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ নেন। তাতেও যখন চলে না, তখন রতনকে স্থানীয় পত্রিকার দোকানে খাওয়া-দাওয়া চুক্তিতে কাজ নিয়ে দেন।
১৯৮৯ সালে অন্যের দোকানে পত্রিকা বিলি করতে করতে রতনের ইচ্ছা হয়, তিনি নিজেই পত্রিকা বিক্রি করবেন। ১৯৯২ সালে রতন চাকরি ছেড়ে দিয়ে দৈনিক চাঁদনীবাজার পত্রিকা এনে উলিপুর বাজারে বিক্রি করা শুরু করেন। এখান থেকে তার পথচলা শুরু, পরিচয় হয় সাংবাদিকসহ নানা পেশার মানুষের সঙ্গে। ১৯৯৫- ৯৬ সালে তিনি প্রথমে একটি পত্রিকার এজেন্সি পান। এরপর একে একে বেশ কয়েকটি পত্রিকার এজেন্সি পান।
বিনয়ী ও সদালাপী রতন সরকার হয়ে ওঠেন উলিপুরে সবার প্রিয় 'আমাদের রতন'। পত্রিকা দ্রুত এলাকায় পৌঁছানোর জন্য কিনেছেন একটি মোটরসাইকেল। তাতে করে প্রতিদিন ভোরে গিয়ে কুড়িগ্রাম থেকে পত্রিকা এনে ৮ হকারকে পত্রিকা দিয়ে নিজে সাইকেলে পত্রিকা নিয়ে ছুটে চলেন পাঠকের বাড়ি বাড়ি। দুপুর থেকে মুরগির খামারে কাজ করে বিকেলে আবার পত্রিকার টাকা তুলে হিসাব করে রাত ১০টায় বাড়ি ফেরার পর মুরগি ও গরুর খামার দেখাশোনা। এভাবে কর্মের মধ্য দিয়ে তার দিন কাটে।
প্রতিদিন তিনি গড়ে ১৫-১৬ ঘণ্টা কাজ করেন। এভাবেই দুঃখভরা জীবনকে সুখের নীড় করে তুলেছেন বলে জানান রতন। রতন জানান, নিজে তেমন একটা লেখাপড়া করতে পারেননি বলে তার ভীষণ কষ্ট। আর এ কষ্টকে জয় করবেন বলে স্ত্রী সুমিত্রা রানী সরকারকে এইচএসসি পর্যন্ত লেখাপড়া করান। ৫ ও ৩ বছরের মেয়ে রাত্রী ও রীতি সরকারকে অনেক লেখাপড়া করানোর ইচ্ছা রয়েছে বলে জানান।
তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আরও ভালো ও বড়ো কিছু করার। আর সেই লক্ষ্য নিয়ে গরুর খামার করেছেন। এ খামারে কোনো কর্মচারী না রেখে তারা নিজেরাই রুটিন মাফিক সব কাজ করেন। খামারে ৩টি গাভি থেকে প্রতিদিন ৩০-৩৫ লিটার দুধ আসে। আর্থিক সংকট তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রধান অন্তরায় বলে জানান। তবে এ অন্তরায়কেও তিনি জয় করবেন বলে দৃঢ়তা প্রকাশ করেন। (সূত্র: ইন্টারনেট)
এসো আজ আমরা সবাই মিলে কায়িক শ্রমের অনুশীলন করব। আজ আমরা আমাদের শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার করব এবং সুন্দর করে সাজাব।
দলগত কাজ কাজ ১: শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার দল-১ বেঞ্চ, চেয়ার ও টেবিল পরিষ্কার করবে
কাজ ২: শ্রেণিকক্ষ সজ্জা সবাই মিলে শ্রেণিকক্ষ নতুন করে সাজাতে হবে
|
Read more