তোমাদের বয়সী রাশেদ চিঠি লিখেছে তার বন্ধু জুবায়েরকে।
এসো দেখি সে চিঠিতে কী লিখেছে।
প্রিয় জুবায়ের
কেমন আছিস বন্ধু? খালাম্মা ও খালুজানকে আমার সালাম দিস। তুই জেনে নিশ্চয়ই খুশি হবি যে আমি এবার বার্ষিক পরীক্ষায় দ্বিতীয় হয়েছি। আগের তুলনায় এত ভালো ফলাফল কী

করে করলাম তাই ভাবছিস? পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা কিন্তু মোটেই কঠিন কিছু না। তবে হ্যাঁ, আমি আমার কিছু অভ্যাস বদলে নিয়েছি। এবারে আমি একটি ক্লাসেও অনুপস্থিত ছিলাম না। ক্লাসে যে শুধু নিয়মিত ছিলাম তাই নয়, মনোযোগীও ছিলাম। ক্লাসে শিক্ষকের কথা আমি মন দিয়ে শুনতাম। শ্রেণির কাজ মনোযোগ দিয়ে করতাম। প্রতিদিনের পড়া বাসায় গিয়েই পড়ে ফেলতাম, শেষ করতাম বাড়ির কাজ। আর হ্যাঁ, কোনো বিষয় না বুঝলে এখন আর আমি চুপ করে বসে থাকি না, শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করি। শিক্ষকগণও তাতে অনেক খুশি হন। ক্লাসে শিক্ষক কিছু জিজ্ঞাসা করলে আমার মতো করেই উত্তর দেয়ার চেষ্টা করি। আমি এখন অনেক আত্মত্মবিশ্বাসী। আর ক্লাসের শেষে অথবা ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে বন্ধুদের সাথে আমি অন্যান্য বিষয় ছাড়াও পাঠ্য বিষয় নিয়েও আলোচনা করি। কোনো পড়া না বুঝলে এখন কিন্তু আমি হুট করেই হাল ছেড়ে দিই না। ধৈর্য নিয়ে, সময় নিয়ে তা সমাধানের চেষ্টা করি। যেসব বিষয়বস্তু আমার কাছে জটিল মনে হয় তা আমি বারবার অনুশীলন করি। এখন আমি আর শুধু অন্যের লেখা নোট আর গাইড বই না পড়ে নিজেই নোট তৈরি করি।
আরেকটা কথাতো বলাই হলো না। এবারের বিজ্ঞান মেলায় আমি আর আমার ক্লাসের কয়েকজন মিলে একটি প্রজেক্ট তৈরি করছি। একেবারে নতুন এই প্রজেক্টটি সবাইকে চমকে দেবে আশা করছি। তাই বলে ভাবিস না আমি বিকেলে হাডুডু আর ফুটবল খেলা ছেড়ে দিয়েছি। আগামী মাসে আমাদের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি পুরোদমে চলছে খেলার প্রশিক্ষণ।
ভালো থাকিস বন্ধু। দেখা হবে নিশ্চয়ই।
তোর বন্ধু রাশেদ
| দলগত কাজ উপরের চিঠিটি পড়েছ তো? এবারে ক্লাসের সবাই দলে (৩/৪ জনের) ভাগ হয়ে নিচের প্রশ্নটির উত্তর বের করার চেষ্টা কর। প্রশ্ন-১: রাশেদের কী কী গুণের কারণে তার ভালো ফলাফল করা সম্ভব হলো? *এ কাজে একটি শ্রেণি কার্যক্রম বরাদ্দ করতে হবে। |
দলগত কাজ
| এসো শিক্ষকের সাহায্য নিয়ে উপরের শ্রেণির (৭ম/৮ম/৯ম/১০ম) ১০ জন সফল শিক্ষার্থীর তালিকা তৈরি করি। এবারে শ্রেণির সকল বন্ধু ছোটো ছোটো দলে বিভক্ত হয়ে প্রতিটি সফল শিক্ষার্থীর সাক্ষাৎকার নিই। জেনে নিই- কোন কোন গুণাবলি তাকে ভালো শিক্ষার্থী হতে সাহায্য করেছে? এ জন্য আমরা নিচের প্রশ্নমালাটি ব্যবহার করতে পারি। ১. গত এক বছরে আপনি কত দিন স্কুলে আসতে পারেননি? ২. কোনো ক্লাসে আসতে না পারলে তা কীভাবে পুষিয়ে নেন? ৩. ক্লাসে কিছু না বুঝলে আপনি কী করেন? ৪. শিক্ষক যখন ক্লাস নেন, তখন পাঠ ভালো মতো বোঝার জন্য আপনি কী করেন? ৫. আপনি সাধারণত কোন কোন সময় পড়ালেখা করেন? ৬. আপনি সাধারণত কখন বাড়ির কাজ করে থাকেন? ৭. আপনি পড়ার জন্য মূলত কোনটি/ কোনগুলি ব্যবহার করেন? (পাঠ্যবই, গাইড বই, বন্ধুর তৈরি নোট, নিজে তৈরি করা নোট ইত্যাদি) ৮. পড়ার জন্য আপনাকে বাসায় বা বাসার বাইরে কেউ সাহায্য করে কি? করে থাকলে কে কে করেন এবং কীভাবে? ৯. কোনো পড়া খুব কঠিন লাগলে বা একবারে না বুঝলে আপনি কী করেন? ১০. আপনি কীভাবে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেন? চলো প্রতিটি দল সাক্ষাৎকার থেকে প্রাপ্ত সফল শিক্ষার্থীর গুণাবলি তালিকাবদ্ধ করি এবং পোস্টারে লিখে উপস্থাপন করি। এবারে সবাই মিলে তালিকাগুলো থেকে একটি মূল তালিকা প্রস্তুত করি, যেখানে সকল দলের গুণাবলি থাকবে। কিন্তু একই গুণাবলি দুইবার উল্লেখ থাকবে না। আগের ক্লাসে লেখা রাশেদের কিছু গুণাবলি এখানে বাদ পড়লে তাও যোগ করে নাও তোমাদের চূড়ান্ত তালিকায়। চলো এবার এটি শ্রেণিকক্ষের দেয়ালে টাঙিয়ে দিই। দেখতো তাতে নিচে দেয়া গুণাবলি আছে কি না? *এ জন্য একটি শ্রেণি কার্যক্রম বরাদ্দ করতে হবে। |

Read more