
| ক্রম | নিজের কাজ নিজে করার সুবিধা | নিজের কাজ নিজে না করার অসুবিধা |
| ১ | আত্মবিশ্বাস, আগ্রহ ও উদ্দীপনা বাড়ে | আত্মবিশ্বাস কমে যায় |
| ২ | ||
| ৩ | ||
| ৪ | ||
| ৫ | ||
| ৬ | ||
| ৭ |
তোমরা সবাই মনোযোগসহ নিচের ছোট্ট গল্পটি পড়ো
প্রায় পাঁচশত বছর আগের কথা। একদিন অন্য রাজ্যের এক দূত বিশেষ কাজে বাদশাহর সাথে দেখা করার জন্য এক রাজ-দরবারে এলেন। রাজ-দরবারে বাদশাহকে দেখতে না পেয়ে তিনি বাদশার এক সভাসদকে বাদশাহর কথা জিজ্ঞেস করলেন। সভাসদ জানালেন, বাদশাহ একটু পরে রাজ্য পরিদর্শনে যাবেন, তাই তিনি তাঁর কাজগুলো সেরে নিচ্ছেন। রাজদূত ভাবলেন, সভাসদ হয়তো তাঁর সাথে রসিকতা করছেন। বাদশাহ কেন কাজ করবেন। এও আবার হয় নাকি? তাঁর অনেক চাকর-বাকর সেবক থাকতে তিনি কেন কাজ করতে যাবেন। তিনি আর কিছু না বলে বাদশাহর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন।
কিন্তু দূতের হাতে সময় কম ছিল। তাই তিনি বাদশাহর সাক্ষাৎ লাভের জন্য পীড়াপীড়ি করতে লাগলেন। পরে দরবারের এক প্রহরী তাকে বাদশাহর খাস কামরায় নিয়ে গেলেন। বাদশাহর খাস কামরায় গিয়ে রাজদূত যা দেখলেন তাতে তিনি তাঁর নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারলেন না।
তিনি দেখলেন বাদশাহ নিজেই তাঁর জামা সেলাই করছেন। রাজদূতের চোখে অপার বিস্ময়। তিনি বাদশাহকে অভিবাদন জানালেন। কুশলাদি বিনিময় শেষে বাদশাহ তাঁর নিজের কাজের পাশাপাশি রাজদূতের সাথে প্রয়োজনীয় আলাপ করে নিলেন। রাজদূত অবাক দৃষ্টিতে দেখলেন, বাদশাহ তাঁর জামা সেলাই করে জুতা সেলাই করলেন ও পরিষ্কার করলেন। তারপর তিনি পরিপাটি হয়ে আস্তাবল থেকে ঘোড়া নিয়ে রাজ্য পরিদর্শনের জন্য বের হয়ে গেলেন।
বাদশাহর সাথে কাজ শেষে রাজদূত প্রাসাদ থেকে বের হয়ে গেলেন। রাজদূতের চোখেমুখে রাজ্যের বিস্ময়। তাঁর বিস্ময়ের ঘোর যেন কাটছিলই না। তিনি বুঝতেই পারলেন না বিশাল সাম্রাজ্যের অধিপতি প্রবল ক্ষমতাধর বাদশাহ কেন এই কাজগুলো নিজে করছেন। তোমরা কি জানো তিনি কে ছিলেন? কী তাঁর পরিচয়?
তিনি সম্রাট আওরঙ্গজেব। একজন মহৎপ্রাণ শাসক। তোমরা হয়ত তাঁর নাম শুনে থাকবে। তিনি ছিলেন মোগল সাম্রাজ্যের অধিপতি। উদার মানসিকতা, প্রজার প্রতি অনুরাগ ও ন্যায়বিচারের জন্য তিনি বিখ্যাত ছিলেন। তাঁর সময়ে প্রজারা সুখে-শান্তিতে দিন যাপন করত। রাজপরিবারের অনেক চাকর-বাকর সেবক থাকা সত্ত্বেও তিনি সব সময় নিজের কাজ নিজেই করতেন।
হযরত ওমর রাষ্ট্রীয় কাজে দূরবর্তী স্থানে ভ্রমণে যাবার সময় কিছুটা পথ তিনি উটের পিঠে চড়েছেন এবং তাঁর সহযাত্রী চাকর উটের রশি ধরে হেঁটে গিয়েছেন। কিছু সময় পরে তিনি নিজে রশি ধরে হাঁটলেন এবং চাকর উটের পিঠে বসল। পর্যায়ক্রমে একবার তিনি ও একবার চাকর এই ভাবে তারা গন্তব্যে পৌঁছালেন। এটি দেখে সকলে খুব অবাক হলো। ওমর বিশ্বাস করতেন যে, পরিশ্রমের কাজ এককভাবে তাঁর চাকরের উপর চাপিয়ে দিলে তা হতো তার প্রতি অত্যাচার। তাঁই তিনি কাজ ভাগাভাগি করে নিজে অর্ধেক করলেন চাকরকে অর্ধেক করতে দিলেন। এইভাবে কাজ করলে চাকর ও মুনিবের মাঝে একটি আন্তরিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় এবং এককভাবে কারো উপর কাজের অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় না ।
Read more