প্রাত্যহিক জীবনের সব কাজই কি পরিবারের সদস্যরা করেন? (পাঠ ৩৯-৪২)

আমাদের প্রয়োজনীয় কাজ - কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

330

আমাদের জীবনধারণের জন্য যা যা প্রয়োজন, তার মধ্যে এমন অনেক কাজ আছে যেগুলো পরিবারের সদস্যদের পক্ষে করা সম্ভব হয় না। সে কাজগুলো পরিবারের বাইরে অন্য লোকেরা করে থাকেন।যেমন: আমরা বলতে পারি বাসায় রং করা, বাসার বৈদ্যুতিক পাখা-ফ্রিজ-টেলিভিশন ইত্যাদি নষ্ট হয়ে গেলে মেরামত করা, মাঠে ফসল বোনা, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি বেশি হলে তাদের জন্য খাবার সংগ্রহ ও লালন-পালন ইত্যাদি। এসব কাজ করার জন্য আমরা পরিবারের বাইরের লোকের সহায়তা নিয়ে থাকি। নিচের ছকে প্রাত্যহিক জীবনে যেসব কাজ পরিবারের বাইরে অন্যদের সহায়তায় করা হয় তা উল্লেখ কর:

ক্রমপ্রাত্যহিক জীবনে যেসব কাজ পরিবারের বাইরে অন্যদের সহায়তায় করা হয়
গবাদি পশু বেশি হলে তাদের জন্য খাবার সংগ্রহ ও লালন-পালন
বাসার বৈদ্যুতিক পাখা-ফ্রিজ-টেলিভিশন ইত্যাদি নষ্ট হয়ে গেলে মেরামত করা

পারিবারিক আয়ের উৎস

তোমাদের বাবা-মা বাজার করেন, বিভিন্ন জিনিসপত্র কেনেন। বাবা-মা বাইরে থেকে প্রায়ই তোমাদের জন্য কিছু না কিছু নিয়ে আসেন। তোমরা কি জানো কীভাবে তারা এগুলো আনেন? এগুলো আনতে হলে যে টাকার দরকার হয় এবং সেই টাকা আয় করতে হয় তা হয়তো তোমরা জানো।
তোমরা কি জানো, তোমাদের পরিবারে কে কে আয় করেন? কীভাবে আয় করেন? নিচের ছকে এগুলো লিখ।

ক্রমসদস্য
বাবাকি করে আয় করেন
মা

সবার পরিবারের আয়ের উৎস একরকম নয়। আয় করার জন্য কেউ অফিসে কাজ করেন, কেউ ব্যবসা করেন, কেউ মাঠে কাজ করেন কিংবা কেউ শিক্ষকতা করেন। আবার পরিবারের সবাই যে আয় করেন তাও কিন্তু নয়। পরিবারে যারা বৃদ্ধ হয়ে গেছেন, বয়সে ছোটো এবং প্রতিবন্ধী তারা আয় করতে পারেন না। অনেক মায়েরা সরাসরি চাকরি বা ব্যবসা না করে ঘরে ও বাইরে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকেন, যাতে পরিবারের অনেক উপকার হয়। যেমন: সন্তান লালন-পালন, রান্না করা, বাজার করা, হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশু পালন, ফসল তোলা ও সংরক্ষণ, বীজ সংরক্ষণসহ অন্যান্য কৃষিকাজে সহায়তা করা। মায়েদের এসব কাজের মাধ্যমেও পরিবারের অনেক উপকার হয় আবার কিছু কিছু কাজ থেকে আয়ও হয়।

দলগত কাজ

তোমরা কয়েকজন মিলে একটি পরিবার গঠন কর, যেখানে একজন মা হবে, একজন বাবা হবে, একজন ভাই/বোন এবং একজন চাচা হবে। এবার প্রত্যেক পরিবারে কে কী কাজ করে আয় করেন তার একটি তালিকা তৈরি কর। প্রত্যেক পরিবারের একজন দাঁড়িয়ে নিজেদের তৈরি করা কাজের তালিকাটি সবার সামনে পড়ে শোনাও।
*এ কাজে একটি শ্রেণি কার্যক্রম বরাদ্দ করতে হবে।

তুমিও তোমার পরিবারের আয়ে ভূমিকা রাখতে পারো। লেখাপড়ার পাশাপাশি অবসর সময়ে তুমি তোমার পরিবারের বড়োদেরকে তাদের হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশু পালন, বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি উৎপাদন, মাঠে চাষাবাদ ও ব্যবসায় সহযোগিতা করতে পার। এসবের মাধ্যমে পরিবারের যে আয় হবে তাতে তোমারও অবদান থাকবে।

বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কাজ

তোমরা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে নানা ধরনের কায়িক কাজ করে থাক। বিদ্যালয়েও অনেকে বিভিন্ন ধরনের কায়িক কাজ করে থাকেন। যেমন পিয়ন, দারোয়ান, মালি, ঝাড়ুদার, দপ্তরি ইত্যাদি। তোমরা কি কখনো মনোযোগের সাথে লক্ষ করেছ তারা কী কী কাজ করেন? মনোযোগ দিয়ে লক্ষ করলে বুঝতে পারবে বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য তাদের এসব কায়িক শ্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কায়িক শ্রমে কারা যুক্ত তা উল্লেখ করে তারা কী কী কায়িক শ্রম করেন নিচের ছকে তা উল্লেখ কর:

ক্রমকারা কায়িক কাজ করেনকী কী কায়িক কাজ করেন
দপ্তরিনির্দিষ্ট সময় অন্তর ঘণ্টা বাজান (বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হলে, ক্লাস শুরু ও শেষ হলে, বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সমাপ্ত হলে)
ঝাড়ুদারবিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, মাঠ ও অন্যান্য স্থান ঝাড়ু দেন

বিদ্যালয়ে কিছু কায়িক কাজ আছে, যেগুলোতে তোমরাও অংশগ্রহণ করতে পার। যেমন: শ্রেণিকক্ষ সাজিয়ে গুছিয়ে রাখা, বিদ্যালয়ের মাঠ পরিষ্কার করা, বিদ্যালয়ে বাগান করা ইত্যাদি। বিদ্যালয়ে এসব কায়িক কাজে তোমরা অংশগ্রহণ করলে বিদ্যালয়ের পরিবেশ ভালো হবে। ভালো পরিবেশে আমাদের শরীর ও মন ভালো থাকবে এবং লেখাপড়ার মানও ভালো হবে।

কাজ
বিদ্যালয়ে কী কী কায়িক কাজে তোমরা অংশগ্রহণ করতে পার তার একটি তালিকা তৈরি করো।
*এ কাজে একটি শ্রেণি কার্যক্রম বরাদ্দ করতে হবে।
Content added || updated By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...