. 'অবজ্ঞার তাপে শুষ্ক নিরানন্দ সেই মরুভূমি- চরণটি যে তাৎপর্য বহন করে i. সাহিত্যে প্রান্তিক মানুষের অনুপস্থিতি ii. সাহিত্যে উচ্চশ্রেণির মানুষের অনুপস্থিতি iii. মূক যারা দুঃখে সুখে নিচের কোনটি সঠিক?

Updated: 1 year ago
  • i
  • ii
  • i ও ii
  • ii ও iii
357
ব্যাখ্যাঃ

প্রদত্ত চরণটি কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কবিতার অংশ। এই চরণে কবি তৎকালীন বাংলা সাহিত্যের এক সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেছেন।

ব্যাখ্যা:

"অবজ্ঞার তাপে শুষ্ক নিরানন্দ সেই মরুভূমি-" চরণটিতে কবি সাহিত্যকে একটি শুষ্ক ও নিরানন্দ মরুভূমির সাথে তুলনা করেছেন। এই মরুভূমি হওয়ার কারণ হলো 'অবজ্ঞা' বা উপেক্ষার তাপ। কবি অনুভব করেছেন যে, সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রান্তিক মানুষ, যারা শ্রমজীবী, কৃষক বা সাধারণ জনতা, তাদের দুঃখ-সুখ, হাসি-কান্না, আশা-আকাঙ্ক্ষা সাহিত্যের মূল উপজীব্য বিষয় হিসেবে স্থান পায়নি। তাদের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের ফলে সাহিত্য যেন রসকষহীন ও প্রাণহীন হয়ে পড়েছে।

        
  • i. সাহিত্যে প্রান্তিক মানুষের অনুপস্থিতি: এই ব্যাখ্যাটি চরণটির মূল তাৎপর্যকে সঠিকভাবে তুলে ধরে। সাহিত্যে প্রান্তিক বা নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার চিত্রায়ণ না থাকায় সাহিত্য যেন এক বিশাল শূন্যতার মুখোমুখি হয়েছে, যা মরুভূমির মতো শুষ্ক ও নিরানন্দ। কবি চেয়েছিলেন, সাহিত্যের এই শূন্যস্থান পূরণ করে নতুন প্রাণ প্রতিষ্ঠা করতে, যেখানে শ্রমজীবী মানুষের জীবন নতুন করে চিত্রিত হবে।
  •     
  • ii. সাহিত্যে উচ্চশ্রেণির মানুষের অনুপস্থিতি: এটি ভুল ব্যাখ্যা। প্রকৃতপক্ষে, তৎকালীন বাংলা সাহিত্যে উচ্চশ্রেণির মানুষের জীবন ও ভাবনাই বেশি প্রতিফলিত হতো। কবি এর বিপরীতে প্রান্তিক মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছিলেন।
  •     
  • iii. মূক যারা দুঃখে সুখে: এই ব্যাখ্যাটি প্রান্তিক মানুষের একটি বিশেষ অবস্থাকে নির্দেশ করে। 'মূক' বলতে বোঝানো হয়েছে যাদের কথা বলার বা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করার কোনো মাধ্যম নেই, যাদের সুখ-দুঃখ সাহিত্যের পাতায় স্থান পায়নি। এটি মূলত 'প্রান্তিক মানুষের অনুপস্থিতি'র (i) একটি ফল বা বৈশিষ্ট্য। প্রান্তিক মানুষের অনুপস্থিতির কারণেই তারা সাহিত্যে মূক হয়ে থাকে।

উপরে উল্লিখিত আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, 'অবজ্ঞার তাপে শুষ্ক নিরানন্দ সেই মরুভূমি' বলতে মূলত সাহিত্যে প্রান্তিক মানুষের (যেমন শ্রমজীবী, কৃষক) অনুপস্থিতিকেই বোঝানো হয়েছে, যা সাহিত্যকে প্রাণহীন করে তুলেছে। প্রান্তিক মানুষের অনুপস্থিতির ফলেই তাদের জীবনকথা সাহিত্যে অনুল্লেখিত থেকে গেছে, এবং তারা 'মূক' হয়ে আছে। প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে, 'i. সাহিত্যে প্রান্তিক মানুষের অনুপস্থিতি' এই চরণের মূল তাৎপর্যকে সরাসরি নির্দেশ করে। যেহেতু অপশনে 'i ও iii' একসাথে নেই এবং অপশন 'ii' ভুল, তাই সবচেয়ে উপযুক্ত উত্তর হলো 'i' কে নির্দেশকারী অপশনটি।

Satt AI
Satt AI
2 months ago


“ঐকতান” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘জন্মদিনে’ কাব্যগ্রন্থের ১০ সংখ্যক কবিতা। কবির মৃত্যুর মাত্র চার মাস আগে ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের পহেলা বৈশাখ ‘জন্মদিনে' কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৩৪৭ বঙ্গাব্দের ফাল্গুন সংখ্যা ‘প্রবাসী’তে কবিতাটি 'ঐকতান'-নামে প্রথম প্রকাশিত হয়। “ঐকতান” অশীতিপর স্থিতপ্রজ্ঞ কবির আত্ম-সমালোচনা ; কবি হিসেবে নিজের অপূর্ণতার স্বতঃস্ফূর্ত স্বীকারোক্তি ।
দীর্ঘ জীবন-পরিক্রমণের শেষপ্রান্তে পৌঁছে স্থিতপ্রজ্ঞ রবীন্দ্রনাথ পেছন ফিরে তাকিয়ে সমগ্র জীবনের সাহিত্যসাধনার সাফল্য ও ব্যর্থতার হিসাব খুঁজেছেন “ঐকতান” কবিতায়। তিনি অকপটে নিজের সীমাবদ্ধতা ও অপূর্ণতার কথা ব্যক্ত করেছেন এখানে। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে কবি অনুভব করেছেন নিজের অকিঞ্চিৎকরতা ও ব্যর্থতার স্বরূপ। কবি বুঝতে পেরেছেন, এই পৃথিবীর অনেক কিছুই তাঁর অজানা ও অদেখা রয়ে গিয়েছে। বিশ্বের বিশাল আয়োজনে তাঁর মন জুড়ে ছিল কেবল ছোট একটি কোণ । জ্ঞানের দীনতার কারণেই নানা দেশের বিচিত্র অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন গ্রন্থের চিত্রময় বর্ণনার বাণী কবি ভিক্ষালব্ধ ধনের মতো সযত্নে আহরণ করে নিজের কাব্যভাণ্ডার পূর্ণ করেছেন। তবু বিপুলা এ পৃথিবীর সর্বত্র তিনি প্রবেশের দ্বার খুঁজে পাননি। চাষি ক্ষেতে হাল চষে, তাঁতি তাঁত বোনে, জেলে জাল ফেলে— এসব শ্রমজীবী মানুষের ওপর ভর করেই জীবনসংসার এগিয়ে চলে। কিন্তু কবি এসব হতদরিদ্র অপাঙ্ক্তেয় মানুষের কাছ থেকে অনেক দূরে সমাজের উচ্চ মঞ্চে আসন গ্রহণ করেছিলেন। সেখানকার সংকীর্ণ জানালা দিয়ে যে জীবন ও জগৎকে তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন, তা ছিল খণ্ডিত তথা অপূর্ণ। ক্ষুদ্র জীবনের সঙ্গে বৃহত্তর মানব-জীবনধারার ঐকতান সৃষ্টি না করতে পারলে শিল্পীর গানের পসরা তথা সৃষ্টিসম্ভার যে কৃত্রিমতায় পর্যবসিত হয়ে ব্যর্থ হয়ে যায়, কবিতায় এই আত্মোপলব্ধির প্রকাশ ঘটেছে। তিনি বলেছেন, তাঁর কবিতা বিচিত্র পথে অগ্রসর হলেও জীবনের সকল স্তরে পৌছাতে পারেনি। ফলে, জীবন-সায়াহ্নে কবি অনাগত ভবিষ্যতের সেই মৃত্তিকা-সংলগ্ন মহৎ কবিরই আবির্ভাব প্রত্যাশা করেছেন, যিনি শ্রমজীবী মানুষের অংশীদার হয়ে সত্য ও কর্মের মধ্যে সৃষ্টি করবেন আত্মীয়তার বন্ধন। “ঐকতান” কবিতায় যুগপৎ কবির নিজের এবং তাঁর সমকালীন বাংলা কবিতার বিষয়গত সীমাবদ্ধতার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
কবিতাটি সমিল প্রবহমান অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। কবিতাটিতে ৮+৬ এবং ৮+১০ মাত্রার পর্বই অধিক। তবে এতে কখনো-কখনো ৯ মাত্রার অসমপর্ব এবং ৩ ও ৪ মাত্রার অপূর্ণ পর্ব ব্যবহৃত হয়েছে।

Related Question

View All
  • সামাজিক অবস্থান
  • দীর্ঘ বিচ্ছেদ
  • দারিদ্র্য ও অশিক্ষা
  • অহংকার ও সংকীর্ণতা
345
  • নবীন কবির
  • অখ্যাতজনের কবির
  • জীবনবিমুখ কবির
  • বিখ্যাত কবির
338
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই