ণ-ত্ব বিধি অনুসারে কোন বানানটি শুদ্ধ?

Updated: 2 weeks ago
  • পুরোণো
  • পরগনা
  • ধরণ
  • প্রণয়ন
1.4k
ব্যাখ্যাঃ

ণ-ত্ব বিধি বাংলা ব্যাকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম, যা মূলত তৎসম (সংস্কৃত থেকে আগত) শব্দে দন্ত্য 'ন' (ন) এর পরিবর্তে মূর্ধন্য 'ণ' (ণ) ব্যবহারের নিয়মাবলী ব্যাখ্যা করে। এই বিধি ঋ, র, ষ বর্ণের পরে দন্ত্য 'ন' এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে।

        
  • ণ-ত্ব বিধির মূল নিয়মাবলী:
  •     
  • তৎসম শব্দে ঋ, র, ষ বর্ণের পরে দন্ত্য 'ন' সর্বদা মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, কারণ, মরণ, বর্ণনা, হরিণ, ভাষণ, দূষণ।
  •     
  • ঋ, র, ষ-এর পরে যদি স্বরবর্ণ, ক-বর্গ (ক, খ, গ, ঘ, ঙ), প-বর্গ (প, ফ, ব, ভ, ম), য, য়, হ বা অনুস্বার (ং) থাকে, তাহলেও দন্ত্য 'ন' মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন: কৃপণ, অর্পণ, গ্রহণ, রামায়ণ, ব্রাহ্মণ।
  •     
  • ব্যতিক্রম/সীমাবদ্ধতা: তদ্ভব (বাংলা), দেশি ও বিদেশি শব্দে ণ-ত্ব বিধি প্রযোজ্য নয়। এসব শব্দে সর্বদা দন্ত্য 'ন' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ধরন, পুরনো, পরগনা, ইরান, গভর্নর, কুরআন, গ্রিক, জার্মান, জাপানি।

প্রদত্ত অপশনগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:

        
  • ১. পুরোণো: এটি একটি তদ্ভব শব্দ। তদ্ভব শব্দে ণ-ত্ব বিধি প্রযোজ্য নয়, তাই এখানে 'ণ' এর ব্যবহার ভুল। সঠিক বানান হলো 'পুরোনো' (দন্ত্য 'ন' দিয়ে)।
  •     
  • ২. পরগনা: এটি একটি ফারসি (বিদেশি) শব্দ। বিদেশি শব্দে ণ-ত্ব বিধি প্রযোজ্য নয়। তাই এখানে দন্ত্য 'ন' এর ব্যবহার সঠিক। এই বানানটি শুদ্ধ হলেও, এটি সরাসরি ণ-ত্ব বিধির প্রয়োগের উদাহরণ নয়, বরং বিধিটি যেখানে প্রযোজ্য নয় তার উদাহরণ।
  •     
  • ৩. ধরণ: এটি একটি তদ্ভব শব্দ। তদ্ভব শব্দে ণ-ত্ব বিধি প্রযোজ্য নয়, তাই এখানে 'ণ' এর ব্যবহার ভুল। সঠিক বানান হলো 'ধরন' (দন্ত্য 'ন' দিয়ে)।
  •     
  • ৪. প্রণয়ন: এটি একটি তৎসম শব্দ। এই শব্দে 'প্র' (প + র-ফলা) থাকায় 'র' ধ্বনি বিদ্যমান। ণ-ত্ব বিধি অনুসারে, 'র' এর পরে দন্ত্য 'ন' (নয়ন) পরিবর্তিত হয়ে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। অতএব, 'প্রণয়ন' বানানটি ণ-ত্ব বিধির সঠিক প্রয়োগ নির্দেশ করে এবং এটি বিধির একটি প্রত্যক্ষ উদাহরণ।

উপরিউক্ত বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট যে, 'প্রণয়ন' বানানটি ণ-ত্ব বিধির সক্রিয় প্রয়োগ অনুসারে শুদ্ধ। যদিও 'পরগনা' বানানটিও শুদ্ধ, কিন্তু এটি ণ-ত্ব বিধির প্রযোজ্যতার সীমাবদ্ধতার উদাহরণ। প্রশ্নের মূল উদ্দেশ্য ণ-ত্ব বিধির প্রয়োগ দেখিয়ে শুদ্ধ বানান চিহ্নিত করা, তাই 'প্রণয়ন' এক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযুক্ত উত্তর।

Sumaiya Mim
Sumaiya Mim
1 month ago

১. ণত্ব বিধান
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই। সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য- ন-এর ব্যবহার আছে। তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়। তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণত্ব বিধান।
ণ ব্যবহারের নিয়ম
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়। যেমন – ঘণ্টা, লণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ – এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন – ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি। ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য য় ব হ ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন – কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, v.
অর্পণ (র্ + প্ + অ+ণ), লক্ষণ (ক্ + ষ্ + অ + ণ)। এরূপ – রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি ৷
-
৪. কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ণ হয়

চাণক্য মাণিক্য গণ
বাণিজ্য লবণ মণ
বেণু বীণা কঙ্কণ কণিকা ।
কল্যাণ শোণিত মণি
স্থাণু গুণ পুণ্য বেণী
ফণী অণু বিপণি গণিকা ।
আপণ লাবণ্য বাণী
নিপুণ ভণিতা পাণি
গৌণ কোণ ভাণ পণ শাণ ৷
চিক্কণ নিক্কণ তূণ
কফণি (কনুই) বণিক গুণ
গণনা পিণাক পণ্য বাণ ৷


সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ন হয়। যেমন – ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক। ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো ণ হয় না, ন হয়। যেমন – অন্ত,গ্রন্থ, ক্রন্দন।

২. ষ-ত্ব বিধান
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। যে-সব তৎসম শব্দে ‘ষ’ রয়েছে তা বাংলায় অবিকৃত আছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য ‘ষ’–এর ব্যবহারের নিয়মকে ষত্ব বিধান বলে।
ষ ব্যবহারের নিয়ম
১. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স ষ হয়। যেমন— ভবিষ্যৎ (ত্ + অ + ব্ + ই + ) এখানে ব-এর পরে ই-এর ব্যবধান), মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
২. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয়। যেমন – অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান অনুষ্ঠান, বিসম > বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি। প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান >
৩.‘ঋ’ এবং ঋ কারের পর ‘ষ’ হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
৪. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন- বর্ষা, ঘর্ষণ, বৰ্ষণ
৫. র- ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'ষ' হয়। যথা : পরিষ্কার। কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে স হয়। যথা পুরস্কার।
৬. ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়। যথা : কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
কতগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ষ’ হয়। যেমন-ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি ।
জ্ঞাতব্য
ক. আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। এ সম্বন্ধে সতর্ক হতে হবে। যেমন— জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
খ. সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ষ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

Related Question

View All
  • দেশি
  • তৎসম
  • বিদেশি
  • তদ্ভব
31
Updated: 3 weeks ago
  • মুমূর্ষু
  • ভাষা
  • প্রতিষ্ঠান
  • কষ্ট
39
Updated: 1 month ago
  • শ্রাবণ
  • হরিণ
  • নিপুণ
  • ঘন্টা
57
Updated: 3 months ago
  • অনুষঙ্গ
  • অনষাঙ্গ
  • অনুসঙ্গ
  • অনুসাঙ্গ
92
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই