ব্রজবুলি ভাষার ব্যবহার কোথায় দেখা যায়?
ব্রজবুলি ভাষার ব্যবহার কোথায় দেখা যায়?
-
ক
পদ্মাবতী
-
খ
ভানুসিংহের পদাবলী
-
গ
রামায়ণ
-
ঘ
ইউসুফ-জোলেখা
'ব্রজবুলি' একটি কৃত্রিম ভাষা। এ ভাষায় কেউ কোনোদিন কথা বলেনি। মৈথিলি ভাষার সাথে বাংলা ভাষার বিশেষ রূপের সংমিশ্রণে এই কৃত্রিম ভাষার উৎপত্তি হয়েছে। এই ভাষা চতুর্দশ শতাব্দীর মৈথিলি কবি বিদ্যাপতির কল্যাণে বাংলায় ব্যাপক প্রচার ও প্রসার লাভকরে।
সঠিক উত্তরটি হলো: ভানুসিংহের পদাবলী
ব্রজবুলি ভাষার ব্যবহার ভানুসিংহের পদাবলী গ্রন্থে দেখা যায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর "ভানুসিংহ" ছদ্মনামে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলী রচনা করে এই গ্রন্থটি লিখেছিলেন।
ব্রজবুলি ভাষা: এটি একটি কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা যা মৈথিলী কবি বিদ্যাপতি জনপ্রিয় করেছিলেন।
ভানুসিংহের পদাবলী: এটি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর (Rabindranath Tagore) কৈশোর ও প্রথম যৌবনের লেখা একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রজবুলি ভাষায় রাধা-কৃষ্ণ লীলা সম্পর্কিত পদ রচনা করেন। তিনি 'ভানুসিংহ' ছদ্মনামে এই পদগুলি লেখেন। অতএব, ব্রজবুলি ভাষার ব্যবহারের একটি প্রধান উদাহরণ হলো 'ভানুসিংহের পদাবলী'।
পদ্মাবতী: এটি হলো কবি আলাওল-এর (Alaol) বিখ্যাত কাব্য, যা তিনি ব্রজবুলি ভাষায় লেখেননি। এটি আলাওলের একটি প্রেমোপাখ্যান কাব্য, যা বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রামায়ণ: এটি হলো আদি কবি বাল্মীকি-র (Valmiki) মহাকাব্য, যা মূলত সংস্কৃত (Sanskrit) ভাষায় রচিত। বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় এর অনুবাদ আছে, কিন্তু এটি ব্রজবুলি ভাষার ব্যবহারের উদাহরণ নয়।
ইউসুফ-জোলেখা: এটি হলো মধ্যযুগের কবি শাহ মুহম্মদ সগীর-এর (Shah Muhammad Sagir) বিখ্যাত রোমান্টিক কাব্য, যা বাংলা ভাষায় রচিত। এটিও ব্রজবুলি ভাষার ব্যবহারের উদাহরণ নয়।
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম গৌরব বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্য। রাধা- কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে এই অমর কবিতাবলির সৃষ্টি এবং বাংলাদেশে শ্রীচৈতন্যদের প্রচারিত বৈষ্ণব মতবাদের সম্প্রসারণে এর ব্যাপক বিকাশ। জয়দেব-বিদ্যাপতি-চণ্ডীদাস থেকে সাম্প্রতিককাল পর্যন্ত বৈষ্ণব গীতিকবিতার ধারা প্রবাহিত হলেও প্রকৃতপক্ষে ষোল-সতের শতকে এই সৃষ্টিসম্ভার প্রাচুর্য ও উৎকর্ষপূর্ণ ছিল। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল বৈষ্ণব পদাবলি ।
পদাবলি সাহিত্য বৈষ্ণবতত্ত্বের রসভাষ্য। বৈষ্ণব পদাবলি বৈষ্ণবসমাজে মহাজন পদাবলি এবং বৈষ্ণব পদকর্তাগণ মহাজন নামে পরিচিত। বৈষ্ণবমতে স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক বিদ্যমান। এই প্রেম সম্পর্ককে বৈষ্ণব মতাবলম্বীগণ রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলার রূপকের মাধ্যমে উপলব্ধি করেছেন। রাধা ও শ্রীকৃষ্ণের রূপাশ্রয়ে ভক্ত ও ভগবানের নিত্যবিরহ ও নিত্যমিলনের অপরূপ আধ্যাত্মিক লীলা কীর্তিত হয়েছে। বৈষ্ণবদের উপাস্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। তাঁর আনন্দময় তথা প্রেমময় প্রকাশ ঘটেছে রাধার মাধ্যমে । রাধা মানবী নয়, শ্রীকৃষ্ণরূপ পূর্ণ ভগবৎ-তত্ত্বের অংশ। ভগবানের লীলা চলে। তাঁর স্বরূপভূতা শক্তি রাধার সঙ্গে। বৈষ্ণবেরা ভগবান ও ভক্তের সম্পর্কের স্বরূপ নির্ণয়ের উদ্দেশ্যে কৃষ্ণকে পরামাত্মা বা ভগবান এবং রাধাকে জীবাত্মা বা সৃষ্টির রূপক মনে করে তাঁদের বিচিত্র প্রেমলীলার মধ্যেই ধর্মীয় তাৎপর্য উপলব্ধি করেছেন। ফলে “এক প্রাচীন গোপজাতির লোকগাথার নায়ক প্রেমিক কৃষ্ণ এবং মহাভারতের নায়ক অবতার কৃষ্ণ কালে লোকস্মৃতিতে অভিন্ন হয়ে উঠেন। গোপী-প্রধানা রাধার সঙ্গে তাঁর প্রণয়ই জীবাত্মা-পরমাত্মার প্রণয়লীলার রূপক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়ে ধর্ম-দর্শনের ও সাধন-ভজনের অবলম্বন হয়েছে।' নীলরতন সেন মন্তব্য করেছেন, 'পদাবলির কাহিনি, তথ্য উপকরণ এবং ভক্তি-ভাবাশ্রিত সৌন্দর্য চিত্রায়ণে বৈষ্ণব কবিরা উপনিষদ, হালের গাথাসপ্তশতী, আভীর ও অন্যান্য জাতির মৌলিক প্রেমগাথা, ভাগবতসহ বিবিধ পুরাণ, বাৎসায়নের কামসূত্র, অমরুশতক, আনন্দবর্ধনের ধ্বন্যালোক, কবীন্দ্রবচনসমুচ্চয়, সদুক্তিকর্ণামৃত, সুভাষিতাবলী, সূক্তিমুক্তাবলী প্রভৃতি প্রাচীন শাস্ত্র, পুরাণ, লোকধর্ম ও
প্রেমগীতিকে আশ্রয় করে ভারতের পূর্বাচার্যদের অনুসৃত পথেই অগ্রসর হয়েছেন। চৈতন্যদেবের (১৪৮৬-১৫৩৩) যুগান্তকারী আবির্ভাবের পূর্বেই রাধাকৃষ্ণ প্রেম- লীলার মাধুর্য পদাবলিগানের উপজীব্য হয়েছিল। কিন্তু চৈতন্যদেবের প্রভাবে যে নব্য মানবীয় প্রেমভক্তিধারার বিকাশ ঘটে তা অবলম্বনেই বিপুল ঐশ্বর্যময় পদাবলি। সাহিত্যের সার্থকতর রূপায়ণ সম্ভবপর হয়। চৈতন্যদেবের আবির্ভাবের পূর্বে কৃষ্ণলীলা। বিষয়ক গানে ভক্তিরসের রং লাগলেও তা থেকে আদিরসের ক্লেদ দূর হয়ে রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা ভক্তহৃদয়ের প্রতিফলন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
Related Question
View All-
ক
ব্রজধামে কথিত ভাষা
-
খ
একরকম কৃত্রিম কবিভাষা
-
গ
বাংলা ও হিন্দির যোগফল
-
ঘ
মৈথিলী ভাষার উপভাষা
-
ক
রামপ্রসাদ সেন
-
খ
রামনিধি গুপ্ত
-
গ
দাশরথি রায়
-
ঘ
এন্টনি ফিরিঙ্গি
-
ক
গোবিন্দ দাস
-
খ
বিদ্যাপতি
-
গ
চন্ডিদাস
-
ঘ
লুইপা
-
ক
গোবিন্দ দাস
-
খ
বিদ্যাপতি
-
গ
চন্ডিদাস
-
ঘ
লুইপা
-
ক
গোবিন্দ দাস
-
খ
জ্ঞান দাস
-
গ
চন্ডী দাস
-
ঘ
বিদ্যাপতি
-
ক
মিথিলার স্থানীয় ভাষা
-
খ
কৃত্রিম ভাষা
-
গ
কৃত্রিম কাব্যভাষা
-
ঘ
ব্রজভাষা
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
Related Question
Question Analytics
মোট উত্তরদাতা
জন