রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন গ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন

Updated: 3 months ago
  • সোনার তরী
  • গীতাঞ্জলি
  • চিত্রা
  • ক্ষনিকা
17.7k
উত্তরঃ

গীতাঞ্জলি হল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি কাব্যগ্রন্থ। এই বইয়ে মোট ১৫৭টি গীতিকবিতা সংকলিত হয়েছে। কবিতাগুলি ব্রাহ্ম - ভাবাপন্ন ভক্তিমূলক রচনা। এর বেশিরভাগ কবিতাতেই রবীন্দ্রনাথ নিজে সুরারোপ করেছিলেন। ১৯০৮ - ০৯ সালে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এই কবিতাগুলি প্রকাশিত হয়। এরপর ১৯১০ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

১৯১২ সালে রবীন্দ্রনাথের সং অফারিংস (ইংরেজি: Song Offerings) কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। এতে গীতাঞ্জলি ও সমসাময়িক আরও কয়েকটি কাব্যগ্রন্থের কবিতা রবীন্দ্রনাথ নিজে অনুবাদ করে প্রকাশ করেন। ১৯১৩ সালে ইংরেজি কাব্যগ্রন্থটির জন্য রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন।

২০১০ সালে গীতাঞ্জলি প্রকাশের শতবর্ষ - পুর্তি উপলক্ষে কলকাতা মেট্রোর নাকতলা স্টেশনটির নামকরণ করা হয় "গীতাঞ্জলি মেট্রো স্টেশন"।

রচনা

১৯০৮ সালের পূজার ছুটিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিলাইদহে গিয়েছিলেন। ছুটির পর ফিরে শান্তিনিকেতনে একটানা পাঁচ মাস ছিলেন। এই সময় তিনি তার বিখ্যাত শান্তিনিকেতন প্রবন্ধ গ্রন্থটি রচনা করেন। পরের বছর বর্ষা ও শরৎ কালে তিনি কিছুদিন শিলাইদহে গিয়েছিলেন। ফিরে কিছুদিন কলকাতায় জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে কাটান। গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের কবিতা ও গানগুলি শিলাইদহ, শান্তিনিকেতন ও কলকাতায় রচিত হয়। জানা যায়, রবীন্দ্রনাথ এই সময় কঠোর নিরামিশাষী ছিলেন। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের আশ্রম পরিচালনার আদেশগুলি এই সময় তিনি কঠোরভাবে মেনে চলতেন। এমনকি অসুস্থতার সময় ডাক্তার আমিষ খাওয়ার পরামর্শ দিলেও, তিনি তা শোনেননি।

গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থ রচনার প্রসঙ্গে রবীন্দ্র - গবেষক সুকুমার সেন লিখেছেন:

উৎসর্গ' আর 'খেয়া'র সময়ে গান লেখা চলিয়াছিল প্রচুর। ইতিমধ্যে (১৩১৪ সালের মাঝামাঝি) কনিষ্ঠ পুত্রের [শমীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৯৬ - ১৯০৭)] আকস্মিক মৃত্যুতে কবিধর্ম কিছুদিনের মতো যেন বিচলিত হইল। তখন শোকবেদনার উৎসাহ হইল এক অভিনব ভক্তিরসে। তাহার মুখ্য প্রকাশ 'গীতাঞ্জলি'তে (১৩১৭)।

রবীন্দ্র - জীবনীকার প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের মতে:

প্রায়শ্চিত্ত' [১৯০৯] নাটক লিখতে লিখতে অনেকগুলি গান লিখলেন [রবীন্দ্রনাথ] - তার কয়েকটির মধ্যে 'গীতাঞ্জলি' পর্বের পদধ্বনি শোনা গেল। জীবন গভীর একটা রসের স্তরে প্রবেশ করছে, গানগুলি তারই আগমনী।

ইংরেজি অনুবাদ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই গীতাঞ্জলি - র কবিতা ও গানগুলি ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করার কাজ শুরু করেছিলেন। মূল বাংলা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ৫৩টি গান সং অফারিংস সংকলনে প্রকাশিত হয়। তবে রবীন্দ্রনাথ নিজে সব কটি কবিতা ও গানের অনুবাদ করেননি। কয়েকটি অনুবাদ করেছিলেন ব্রাদার জেমস। ব্রিটিশ কবি ও অনুবাদক জো উইন্টার বাংলাভাষা শিখে মূল বাংলা গীতাঞ্জলি সর্বাংশে ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করেছেন। নিচে গীতাঞ্জলি কাব্যের ১২৫ সংখ্যক গানটি উদ্ধৃত করা হল:

আমার এ গান ছেড়েছে তার সকল অলংকার
তোমার কাছে রাখেনি আর সাজের অহংকার।
অলংকার যে মাঝে প’ড়ে
মিলনেতে আড়াল করে,
তোমার কথা ঢাকে যে তার মুখর ঝংকার।

তোমার কাছে খাটে না মোর কবির গরব করা–
মহাকবি, তোমার পায়ে দিতে চাই যে ধরা।
জীবন লয়ে যতন করি
যদি সরল বাঁশি গড়ি,
আপন সুরে দিবে ভরি সকল ছিদ্র তার।

রবীন্দ্রনাথের করা ইংরেজি অনুবাদে এটি হয়েছে (Gitanjali, verse VII)

"My song has put off her adornments.
She has no pride of dress and decoration.
Ornaments would mar our union;
they would come between thee and me;
their jingling would drown thy whispers."

"My poet's vanity dies in shame before thy sight.
O master poet, I have sat down at thy feet.
Only let me make my life simple and straight,
like a flute of reed for thee to fill with music."

গীতাঞ্জলি: সং অফারিংস‎

Close - up of yellowed title page in an old book:

গীতাঞ্জলি: সং অফারিংস‎ - এর প্রথম ম্যাকমিলান সংস্করণের প্রচ্ছদ, ১৯১৩

গীতাঞ্জলি: সং অফারিংস‎ (ইংরেজি: Gitanjali - Song Offerings) ইংরেজি ভাষায় অনূদিত রবীন্দ্রনাথের প্রথম সংকলনগ্রন্থ। এর কবিতাগুলি পাশ্চাত্যে খুবই সমাদৃত হয়। কিন্তু গ্রন্থদুটির নাম অভিন্ন হলেও ইংরেজি গীতাঞ্জলিতে বাংলা গীতাঞ্জলি'র একচ্ছত্র আধিপত্য নেই। রবীন্দ্রনাথ বাংলা গীতাঞ্জলি'র ১৫৭টি গান/কবিতা থেকে ইংরেজি গীতাঞ্জলিতে (Song Offerings) মাত্র ৫৩টি স্থান দিয়েছেন। বাকি ৫০টি বেছে নিয়েছেন গীতিমাল্য, নৈবেদ্য, খেয়া, শিশু, কল্পনা, চৈতালি, উৎসর্গ, স্মরণঅচলায়তন থেকে। গীতিমাল্য থেকে ১৬টি, নৈবেদ্য থেকে ১৫টি, খেয়া থেকে ১১টি, শিশু থেকে ৩টি, কল্পনা থেকে ১টি, চৈতালি থেকে ১টি, উৎসর্গ থেকে ১টি, স্মরণ থেকে ১টি এবং অচলায়তন থেকে ১টি কবিতা/গান নিয়ে তিনি ইংরেজি গীতাঞ্জলির বিন্যাস করেছেন। অর্থাৎ ইংরেজি গীতাঞ্জলিতে তিনি মোট ৯টি গ্রন্থের কবিতা বা গানের সন্নিবেশ ঘটিয়েছেন।

অনুবাদের ইতিহাস

১৯১২ খ্রিষ্টাব্দের শুরুর দিকে রবীন্দ্রনাথের জাহাজযোগে লন্ডন যাওয়ার কথা ছিল। যাত্রার পূর্বে তিনি অর্শ রোগের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পদ্মা নদীতে নৌকায় বিশ্রাম নিতে শুরু করেন। এ সময় তিনি তার গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থ থেকে সহজ ইংরেজিতে অনুবাদ শুরু করেন। পরবর্তীকালে গীতাঞ্জলি ৫৩টি এবং গীতিমাল্য, নৈবেদ্য, খেয়া প্রভৃতি আরো নয়টি কাব্যগন্থ থেকে ৫০টি - সর্বমোট ১০৩টি কবিতার অনুবাদ নিয়ে একটি পাণ্ডুলিপি তৈরি করেন। এই পাণ্ডুলিপি সঙ্গে করে রবীন্দ্রনাথ ২৭ মে ১৯১২ বোম্বাই বন্দর থেকে বিলেত যাত্রা করেন। যাত্রকালে আরো কিছু কবিতা অনুবাদ করে সংযোজন করেন। তিনি লন্ডনে পৌঁছান ১৬ জুন। এ সময় উইলিয়াম রোটেনস্টাইনের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় এবং পাণ্ডুলিপিটি তাকে দেয়া হয়। তিনি টাইপ করিয়ে পাণ্ডুলিপিটি কবি ইয়েটস সহ আরো কয়েকজন কাব্যবোদ্ধাকে প্রদান করেন। ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দের শেষের দিকে লন্ডনে ইন্ডিয়া সোসাইটি কর্তৃক গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। সঙ্গ অফরিংস - এর ভূমিকা লিখেছিলেন স্বয়ং কবি ইয়েটস্‌। এ ভূমিকাটি ছিল একই সঙ্গে আন্তরিক ও যথেষ্ট প্রশস্তিতমূলক।

নিজ অনুবাদে রবীন্দ্রনাথ বেশ স্বাধীনতা নিয়েছিলেন। আক্ষরিক তো নয়ই বরং ভাবানুবাদেরও বেশি ; কখনো কবিতাংশ সংক্ষেপিত করা হয়েছে কখনো বা স্রেফ ভাবার্থ করা হয়েছে ; কেবল কবিতার ভাবসম্পদ অক্ষত রাখা হয়েছে। পুস্তকাকারে প্রকাশ কালে কবি ইয়েটস কিছু সম্পাদনার কাজ করেছিলেন। ইংরেজিভাষী সমালোচকরা সানন্দে তার অনুবাদের উৎকর্ষ স্বীকার করেছেন। তবে এ উৎকর্ষর ক্রমাবনতি হয়েছিল বলে মনে করা হয়। রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায় ইংরেজ পাঠক ও সমালোচক এবং রবি - জীবনীকার এডওয়ার্ড টম্পসন মন্তব্য করেছেন, "প্রথম দিকের অনুবাদ ছিল নিখুঁত ও মনোরম ; শেষের দিকে অযত্নে ও নৈমিত্তিকভাবে অনুবাদের কাজ সারা হয়েছে"। তবে স্বকৃত অনুবাদ নিয়ে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের মনেই দ্বিধা - দ্বন্দ্ব্ব ছিল। ইয়োরোপে যাওয়ার আগে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ে শিলাইদহে নীত হন, তখন সময় কাটানোর ছলেই তিনি গীতাঞ্জলি’র অনুবাদে হাত দেন। কিন্তু প্রিয় কবিতাগুলোর অনুবাদ তাঁর কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি, মনে হয়েছিল ‘school - boy exercise'।

প্রকাশনা ইতিহাস

১৯১২ খ্রিস্টাব্দে লন্ডনের ইন্ডিয়া সোসাইটি কর্তৃক গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। এই সংস্করণের মুদ্রণ সংখ্যা ছিল ৭৫০। মূল্য সাড়ে চার শিলিং। এবং আমেরিকায় সোয়া এক ডলার। এতে কবি ইয়েটস - এর ভূমিকা এবং রটেনস্টেইন অঙ্কিত কবির একটি পেন্সিল স্কেচ প্রতিকৃতি সংযোজন করা হয়। পরে ম্যাকমিলান কোম্পানী এই গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণ একযোগে লন্ডন ও নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশ করে। মূল্য কমিয়ে রাখা হয় ইংল্যান্ডে সাড়ে চার শিলিং এবং আমেরিকায় সোয়া এক ডলার। উল্লেখ্য যে ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে ম্যাকমিলান কোম্পানী কর্তৃক প্রকাশিত সংস্করণটিকে প্রামাণ্য ধরা হয়। ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত দি রেমিনিসেন্স অনুবাদ গ্রন্থটির শেষে প্রদত্ত বিজ্ঞাপন থেকে দেখা যায় যে ততোদিনে "স্যার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর" - এর গীতাঞ্জলি - র সাঁইত্রিশ সহস্রতম মুদ্রণ বাজারে ছাড়া হয়েছে।

ইয়েটস - এর ভূমিকা

এই সংকলন গ্রন্থটির ভূমিকা লিখেছিলেন ইংরেজ কবি ডব্লু বি ইয়েটস।

পাশ্চাত্যে সমালোচনা

গীতাঞ্জলি: দ্য সং অফারিংস‎ প্রকাশনার পর লন্ডনের পত্র - পত্রিকায় আলোচনা - সমালোচনা মুদ্রিত হয়। লন্ডনে রথেনস্টাইনের বাসগৃহে কবি ইয়েটস্ যেদিন বন্ধু - বান্ধবকে গীতাঞ্জলি থেকে পাঠ করে শুনিয়েছিলেন সেদিন ঐ আসরে কবি মে সিনক্লেয়ার উপস্থিত ছিলেন। রবীন্দ্রনাথের কবিতায় অভিভূত হয়ে তিনি নিঃসংকোচে লিখেছিলেন : “রবীন্দ্রনাথের কবিতায় মানুষের সাধারণ আবেগমথিত নিবেদনের মিলন হয়েছে এমন এক সঙ্গীত ও ছন্দে যা সুইনবার্নসুইনবার্নের চেয়েও পরিশীলীত। এমন এক সঙ্গীত ও ছন্দ যা পশ্চিমী শ্রোতার কাছে অচিন্তনীয়, যাতে আছে শেলীর অপার্থিব চেতনা, অদ্ভুত সূক্ষ্মতা ও তীব্রতা.... এবং তা এমন সহজিয়া রীতিতে যাতে এই যাদুকরী - আবেশকেও মনে হয় পৃথিবীর সবচে’ স্বাভাবিক রূপবন্ধ। মিল্টনও না, সে মানুষের হৃদয়ের তুলনায় বড় বেশি জাঁকালো ; ওয়ার্ডসওয়ার্থও নয়, সে বড় সূক্ষ্ম আর অন্তর্লীন .... এমনকি দান্তেও নয় যদিও তিনি বাংলার এই মরমিয়া কবির খুব কাছাকাছি।”

দি টাইমস্ - এর সুবিখ্যাত সাহিত্য - সাময়িকী যা টাইমস লিটারেরী সাপ্লিমেন্ট (টিএলএস) নামে খ্যাত তার ৭ নভেম্বর ১৯১২ সংখ্যায় (পৃ. ৪৯২) প্রকাশিত আলোচনাটিই প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থালোচনা। তখনো রবীন্ত্রনাথ নোবেল পুরস্কার লাভ করেনি নি। আলোচনাটির শুরুতে বলা হয়েছে, "যে - কোনো শিল্পের অধোগতির কারণ হলো বিষয় - বস্তুর দীনতা, আর ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার আদি স্তর থেকে সার্বজনীনতার পর্যায়ে উত্তরণের প্রয়োজনীয় মননশক্তি যদি না থাকে তাহলে কবিতা সবসময়ই এই দীনতায় আক্রান্ত হবে। যে - সমাজে ভাববাদিতা বিপুলভাবে বর্তমান, সে - সমাজে প্রাণময় শিল্প হিসেবে বেঁচে থাকতে হ’লে কবিতাকে উৎক্রান্তি সাধন করতেই হবে। তা’ না হ’লে, শিল্পের খাতিরে, কবি - শক্তি পর্যবসিত হবে অচল মননশীলতায়, ব্যর্থ হবে নিছক বিদগ্ধ ব্যতিরেকে অন্য কারো মনে সাড়া জাগাতে। ভাবকে জয় করতে না - পারলে ভাবের কাছে পর্যদুস্ত কাব্য পরিণত হ’বে গদ্যে। অতীতে কবিতা যেমন ঘটনা - আলোড়িত আবেগের বাহন হয়েছে, তেমনি (এখন) কবিতাকে লিখতে হবে কী ক’রে ফুটিয়ে তোলা যায় ভাবোৎসারিত আবেগ ; আর তা’ করতে যেয়ে কবিতাকে সেই কবিতাই থাকতে হ’বে যার রয়েছে প্রৌঢ় সাংগীতিকতা, উপমা - অলংকার আর নিষ্কম্প্র মূল্যবোধ। আর এই সমস্যাতেই এ যুগের কবিতা আক্রান্ত্র, এর অস্তিত্ব বিপন্ন ; এবং অবাক হওয়ার কিছু নেই যে ইয়েটস সাহেব সেই ভারতীয় কবির রচনাকে সানন্দে সম্ভাষণ জানাবেন যিনি অনায়াসে ঐ সমস্যাটির সমাধান করেছেন বলে মনে হয়, যেভাবে হাজার বছর আগে চীনা চিত্রকলা রাহুমুক্ত হয়েছিল।"

এথেমিয়াম পত্রিকায় লেখা হয়েছিল, "তাঁর (রবীন্দ্রনাথের) কবিতামালায় এমন এক স্নিগ্ধ প্রশান্তি রয়েছে যার শিক্ষা পশ্চিমের অশান্ত - চিত্ত মানুষের বড় দরকার।"

টি. ডব্লু. রলেস্টন ১১০০ শব্দের দীর্ঘ প্রবন্ধে লিখেছিলেন, "জীবনের মৌল বিষয়ের সঙ্গে এই কবিতাগুলি এতো ঘনিষ্ঠভাবে সংশ্লিষ্ট যে এর চেতনা, এবং এমনকি, এর বাকপ্রতিমার একটি বিশ্বজনীন তাৎপর্য রয়েছে।

দি নেশান পত্রিকায় লেখা হয়েছিল, "ভুলে যাও ইয়েটস্ - এর তদ্বির, ভুলে যাও যে ‘এটি সাহিত্য - বিশ্বের একটি শীর্ষ - ঘটনা’, এবং (তবু) গীতাঞ্জলি’তে পাবে প্রণয়াকুল হেমন্তের নিখাদ পুষ্পকোরক যাতে রয়েছে (মানুষের) সনাতন বিশ্বাসের ইঙ্গিত।

নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি

১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে এই গ্রন্থের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। ইংরেজ লেখক এবং রয়্যাল সোসাইটির সদস্য স্টার্জ মুর নোবেল পুরস্কারের জন্য রবীন্দ্রনাথকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। এই মনোনয়ন সুইডিশ একাডেমীকে বিস্মিত করেছিল। তবে একাডেমীর সদস্য পার হলস্টর্ম রবীন্দ্রনাথের ব্যাপারে উৎসাহী ছিলেন। রবীন্দ্রনাথের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ফরাসি লেখক এমিল ফগ। তবে আরেকজন একাডেমী সদস্য ভার্নার লন হেইডেনস্টাম রবীন্দ্রনাথের পক্ষে প্রশস্তিপূর্ণ এমন জোরালো ও লিখিত বক্তব্য দেন যাতে সকল সংশয়ের অবসান হয় এবং রবীন্দ্রনাথকে নোবেল পুরস্কার দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দের ১০ নভেম্বর বুধবার সাহিত্যে নোবেল ঘোষণা করা হয়। পর দিন খবরটি ইংল্যান্ডের বিভিন্ন পত্র - পত্রিকায় মুদ্রিত হয় ; কিন্তু তা বিলম্বে কলকাতায় পৌঁছে। ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় তারবার্তার মাধ্যমে খবর আসে যে রবীন্দ্রনাথকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। গীতাঞ্জলি (১৯১২) সহ সেই সময় সামান্য যে কিছু রবীন্দ্ররচনার অনুবাদ পাশ্চাত্য পাঠক মহলে পরিচিতি লাভ করেছিল, পুরস্কারের ঘোষণাপত্রে সেসবের ভূয়সী প্রশংসা করে সুইডিশ আকাদেমি।

সূত্র উইকিপিডিয়া

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাদাকালো আবক্ষ আলোকচিত্র

বিবিসির জরিপে (২০০৪) সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালির তালিকায় ২য় স্থান প্রাপ্ত নোবেল জয়ী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভা, সব্যসাচী লেখক, কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, সঙ্গীত রচয়িতা, সুরস্রষ্টা, গায়ক, চিত্রশিল্পী, অভিনেতা, সমাজসেবী, শিক্ষাবিদ, গ্রামীণ ক্ষুদ্রঋণ ও গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্পের পথিকৃৎ। ১৯৩০ সালে জার্মানিতে আইনস্টাইনের সাথে সাক্ষাৎ হয়। সাক্ষাতে তিনি দর্শন, মানুষ ও বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করেন।

রবীন্দ্রনাথের পরিবারটি পিরালি ব্রাহ্মণ [বিধর্মীদের সংস্পর্শে এসে জাত হারানো ব্রাহ্মণরা হলেন পিরালি ব্রাহ্মণ]। (পারিবারিক উপাধি কুশারি)। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পূর্বপুরুষ জগন্নাথ কুশারি পিরালি ব্রাহ্মণ মেয়ে বিয়ে করলে হিন্দু ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয় এবং সমাজচ্যুত করা হয়। তার ছেলে পঞ্চানন কুশারি ১৮ শতকের শুরুতে খুলনার দক্ষিণড়িতি থেকে কলকাতার গোবিন্দপুরে এসে জেলে পাড়ার পুরোহিতের কাজ করা শুরু করেন। ফলে অনেকে ঠাকুর বলে ডাকেন। এছাড়াও ইংরেজদের বাণিজ্য তরীতে দ্রব্য উঠা-নামার কাজ করলে ইংরেজরাও তাকে ঠাকুর বলে ডাকতেন। তারই উত্তর প্রজন্ম দ্বারকানাথ ঠাকুর ইংরেজনে কাছ থেকে অর্থের পাশাপাশি 'প্রিন্স' উপাধি লাভ করেন ক্রমান্বয়ে শত বছরের ব্যবধানে জেলে সম্প্রদায়ের পুরোহিত থেকে কলকাতার প্রভাবশালী পরিবারে পরিণত হয়।

ঠাকুর পরিবারে জমিদারি ছিল বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার শিলাইদহ, সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর ও নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার কালিগ্রাম নামক তিনটি জমিদারি ছিল জোড়াসাঁকোর ঠাকুন পরিবারের। এর মধ্যে উত্তরাধিকার সূত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কালিগ্রাম জমিদারির দায়িত্ব পান। ১৩ জুন, ১৮৯১ সালে তিনি জমিদারি দেখাশোনার জন্য কালিগ্রামে প্রথম আসেন ২৭ জুলাই, ১৯৩৭ সালে তিনি শেষবার কালিগ্রামে আসেন এবং কালিগ্রাম ইউনিয়নের পতিসরে অবস্থিত তার পুত্রের নামে 'কালিগ্রাম রথীন্দ্রনাথ ইনস্টিটিউশন' নামক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি নোবেল পুরস্কারের অর্থ দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেন।

  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ৭ মে, ১৮৬১ সালে (২৫ বৈশাখ, ১২৬৮ বঙ্গাব্দ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মশতবার্ষিকী পালিত হয় ১৯৬১ সালে।
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহ: প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর; পিতামহি: দিগম্বরী দেবী; পিতা: দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর; মাতা: সারদা দেবী। তিনি পিতা-মাতার ১৫জন সন্তানের মধ্যে ১৪তম সন্তান এবং ৮ম পুত্র। রবীন্দ্রনাথের বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ফারসি কবি হাফিজ ও শেখ সাদীর অনুরাগী ছিলেন।
  • তিনি ৯ ডিসেম্বর, ১৮৮৩ সালে ঠাকুরবাড়ীর অধস্তন কর্মচারী বেণীমাধব রায় চৌধুরীর কন্যা ভবতারিণী দেবীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর রবীন্দ্রনাথ নাম রাখেন মৃণালিনী দেবী। স্ত্রী ভবতারিণী দেবী খুলনার দক্ষিণডিহি গ্রামের মেয়ে।
  • তিনি 'সাধনা' (১৮৯৪), 'ভারতী' (১৮৯৮), 'বঙ্গদর্শন' (১৯০১), 'তত্ত্ববোধিনী' (১৯১১) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
  • সাহিত্যিক জীবনের শুরুতে তিনি বিহারীলাল চক্রবর্তীর অনুসারী ছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর সাহিত্যে মধ্যযুগীয় বৈষ্ণব পদাবলি, উপনিষদ, দোঁহাবলি, লালনের বাউল গান ও রামপ্রসাদ সেনের শাক্ত পদাবলির প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
  • তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য সংকলনের নাম 'সঞ্চয়িতা'।
  • হিন্দু-মুসলমান মিলনের লক্ষ্যে রবীন্দ্রনাথ 'রাখিবন্ধন' উৎসবের সূচনা করেন।
  • ব্রিটিশ সরকার ৩ জুন, ১৯১৫ সালে রবীন্দ্রনাথকে 'নাইটহুড' বা 'স্যার' উপাধি প্রদান করেন। পরবর্তীতে ১৩ এপ্রিল, ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তা বর্জন করেন।
  • তিনি ৭ আগস্ট, ১৯৪১ সালে (২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম:

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৯টি ছদ্মনাম পাওয়া যায়। যথাঃ ভানুসিংহ ঠাকুর, অকপট চন্দ্র ভাস্কর, আন্নাকালী পাকড়াশী, ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা, বানীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ, শ্রীমতি কনিষ্ঠা, শ্রীমতি মধ্যমা, দিকশূন্য ভট্টাচার্য, নবীন কিশোর শর্মন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পদক:

ডি. লিট- ১৯১৩ (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়), ডি. লিট- ১৯৩৫ (কাশী বিশ্ববিদ্যালয়), ডি. লিট- ১৯৩৬ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), ডি. লিট- ১৯৪০ (অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপাধি:

গুরুদেব- মহাত্মা গান্ধী, কবিগুরু- ক্ষিতিমোহন সেন, বিশ্বকবি- ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়।

ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০১ সালে শান্তিনিকেতন (বোলপুরে)। পরবর্তীতে এটি ১৯২১ সালে 'বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়' এ রূপান্তরিত হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত রচনাবলি:

প্রথম প্রকাশিত কবিতা

'হিন্দু মেলার উপহার' (২৫/০২/১৮৭৪): তাঁর মাত্র ১৩ বছর বয়সে কবিতাটি অমৃতবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত হয় [সূত্র: বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান।]

'অভিলাষ' (১৮৭৪): এটি প্রকাশিত হয় 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকায় (সূত্র: বাংলাপিডিয়া)। তিনি মাত্র ৮ বছর বয়সে কবিতা লেখা শুরু করেছিলেন।

প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ'কবি-কাহিনী' (১৮৭৮), এটি তাঁর ১৭ বছর বয়সে প্রকাশিত হয়। এ কাব্যের কবিতাগুলি 'ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
প্রথম অপ্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ'পৃথ্বীরাজের পরাজয়'। ১২৭৯ বঙ্গাব্দের ফাল্গুন মাসে রবীন্দ্রনাথ তাঁর বাবার সাথে বোলপুর-শান্তিনিকেতনে যান এবং সেখানেই বীররসাত্মক এ কাব্য রচনা করেন। এ কাব্যটি সম্পর্কে তাঁর 'জীবনস্মৃতি'তে বিস্তারিত পাওয়া যায়।
প্রথম প্রকাশিত কবিতার লাইনমীনগণ দীন হয়ে ছিল সরোবরে / এখন তাহারা সুখে জলে ক্রীড়া করে।
প্রথম প্রকাশিত নাটক'বাল্মীকি প্রতিভা' (১৮৮১), এটি তাঁর গীতিনাট্য। অধিকাংশের মতে, রবীন্দ্রনাথের প্রথম প্রকাশিত নাটক 'রূদ্রচণ্ড' (১৮৮১)। কিন্তু 'রূদ্রচণ্ড' নাটক নয়, নাটিকা। রবীন্দ্রনাথ নিজেই বাল্মীকির ভূমিকায় অভিনয় করেন।
প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস'বৌ-ঠাকুরাণীর হাট' (১৮৮৩), এটি ঐতিহাসিক উপন্যাস। উৎসর্গ করেন সৌদামিনী দেবীকে।
প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প'ভিখারিণী' (১৮৭৭)
প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ'বিবিধপ্রসঙ্গ' (১৮৮৩)
প্রথম প্রকাশিত রচনা সংকলন'চয়নিকা' (১৯০৯)
প্রথম সম্পাদিত পত্রিকা'সাধনা' (১৮৯৪)
সর্বশেষ প্রকাশিত ছোটগল্প'ল্যাবরেটরী' (১৯৪০)
সর্বশেষ রচিত গল্প'মুসলমানীর গল্প'

বনফুল:

'বনফুল' (১৮৮০): এটি রবীন্দ্রনাথ রচিত প্রথম সম্পূর্ণ কাব্য। কিন্তু প্রকাশের দিক দিয়ে দ্বিতীয়। গ্রন্থাগারে প্রকাশিত হওয়ার ৪ বছর পূর্বে অর্থাৎ ১৫ বছর বয়সে রচনা করেন। এ কাব্যের কবিতাগুলি ১৮৭৬ সালেই 'জ্ঞানাঙ্কুর' ও 'প্রতিবিম্ব' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। কিন্তু গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৮৮০ সালে। তাই 'বনফুল'কে প্রথম কাব্যগ্রন্থ বলা যায় না। যদিও অনেকে এটিকে প্রথম কাব্যগ্রন্থ বলে থাকেন কিন্তু তা সঠিক নয়। ৮টি সর্গে বিভক্ত এ কাব্যের কবিতায় বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

  • 'গীতাঞ্জলি' কাব্য ১৯১০ সালে প্রকাশিত হয় ।
  • গীতাঞ্জলির অনুবাদ Song Offerings নামে ১৯১২ সালে ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশিত হয়।
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার পাননি। তিনি ১৯১৩ সালের নভেম্বর মাসে নোবেল পুরস্কার পান 'গীতাঞ্জলি'র ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings এর জন্য। নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির সময় তাঁর বয়স ছিল ৫২ বছর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রথম ভারতীয় এবং সাহিত্যে একমাত্র নোবেলজয়ী বাঙালি।
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল চুরি হয়ে যায় শান্তি নিকেতন থেকে ২৪ মার্চ, ২০০৪ সালে।
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট কাব্যগ্রন্থ ৫৬টি।
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট নাটক ২৯টি, কাব্যনাট্য ১৯টি।
  • বাংলা ছোটগল্পের জনক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
  • রবীন্দ্রনাথের মোট ছোটগল্প ১১৯টি।
  • রবীন্দ্রনাথের প্রবন্ধ গ্রন্থঃ
    'কালান্তর' (১৯৩৭): এটি ভারতবর্ষীয় রাজনৈতিক সমস্যা বিষয়ক বিভিন্ন প্রবন্ধের সংকলন।
    'পঞ্চভূত' (১৮৯৭): এ প্রবন্ধগুলি 'সাধনা' পত্রিকায় 'পঞ্চভূতের ডায়রি' নামে প্রকাশিত হতো। পত্রিকায় প্রকাশের সময় লেখকের নাম ছাপা হতো 'লেখক ভূতনাথ বাবু'।
    'বিচিত্রপ্রবন্ধ' (১৯০৭): এ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত প্রবন্ধ 'লাইব্রেরি'। 'বিবিধ প্রসঙ্গ' (১৮৮৩), 'সাহিত্য' (১৯০৭), 'শিক্ষা' (১৯০৮), 'মানুষের ধর্ম
  • রবীন্দ্রনাথের ভ্রমণকাহিনিঃ
    'য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র (১৮৮১): এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত ভ্রমণকাহিনি। এটি চলিত ভাষায় লিখিত।
    'য়ুরোপ প্রবাসীর ডায়রি' (১৮৯১), 'জাভা যাত্রীর পর (১৯২৯), 'জাপান যাত্রী' (১৯১৯), 'রাশিয়ার চিটিং (১৯৩১), 'পারস্যে' (১৯৩৬)।
  • রবীন্দ্রনাথের ধ্বনিবিজ্ঞানের উপর লেখা গ্রন্থের নাম 'শব্দতত্ত্ব' (১৯০৯)।
  • রবীন্দ্রনাথের বিজ্ঞানবিষয়ক গ্রন্থের নাম 'বিশ্বপরিচয়' (১৯৩৭)। এটি সত্যেন্দ্রনাথ বসুকে উৎসর্গ করেন।
  • রবীন্দ্রনাথের পত্র সংকলনগুলোঃ
    'ছিন্নপত্র' (১৯১২): এতে মোট ১৫১টি পত্র আছে। এর প্রথম ৮টি পত্র শ্রীশচন্দ্র মজুমদারকে এবং ১৪৩টি স ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লেখা।
    'ভানুসিংহের পত্রাবলী': এটি রানু অধিকারীকে লেখেন।
    'পথে ও পথের প্রান্তে': নির্মলকুমারী মহলানবিশকে লেখা ।
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিত্রকলাঃ
    ৭০ বছর বয়সের পর তিনি ছবি আঁকা শুরু করেন। তার অঙ্কিত ছবি ও স্কেচের সংখ্যা প্রায় ২০০০টি। নিজের আর ছবিগুলোকে তিনি 'শেষ বয়সের প্রিয়া' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
  • রবীন্দ্রনাথের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থের নামঃ 'জীবনস্মৃতি' (১৯১২): এতে রবীন্দ্রনাথের বাল্যকাল থেকে পঁচিশ বছর বয়স পর্যন্ত সময়ের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। 'চরিত্রপূজা' (১৯০৭), 'ছেলেবেলা' (১৯৪০)।
  • রবীন্দ্রনাথের সনেট জাতীয় রচনা বাংলার মাটি বাংলার জল।
  • বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

Related Question

View All
  • হৈমন্তী
  • চারুলতা
  • রায়
  • আশালতা
11
  • হাছন রাজা
  • লালন শাহ
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  • কাজী নজরুল ইসলাম
19
Updated: 1 week ago
  • সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  • প্রমথ চৌধুরী
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  • টেকচাঁদ ঠাকুর
11
Updated: 1 month ago
  • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  • দীনবন্ধু মিত্র
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  • প্যারীচাঁদ মিত্র
35
  • বঙ্গসুন্দরী
  • সেঁজুতি
  • প্রেম ও ফুল
  • শেষের কবিতা
39
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই