সোনার তরী' কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মধ্য দিয়ে কৃষকরূপী কবির কর্মফল সোনার ধান দিয়ে মহাকালের তরী পরিপূর্ণ হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
'সোনার তরী' একটি রূপক কবিতা। এ কবিতায় কৃষকরূপী শিল্পদ্রষ্টা কবি তাঁর সৃষ্টিকর্ম সোনার ধান নিয়ে মহাকালরূপী তরীর প্রতীক্ষায় ছিলেন। তরী আসার পর ধানরূপী তাঁর সমস্ত কর্ম সেখানে তুলে দেন। এ সময় তিনি উপলব্ধি করেন তাঁরই কর্মের ভারে পূর্ণ তরীতে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার মতো স্থান অবশিষ্ট নেই। অর্থাৎ তরীরূপী মহাকাল শুধু মানুষের কর্মকেই গ্রহণ করবে, ব্যক্তিমানুষকে নয়। প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মধ্য দিয়ে এ বিষয়টিই তাৎপর্যময় হয়ে উঠেছে।
উদ্দীপকের গান 'সোনার তরী' কবিতার 'সোনার ধান'কে ইঙ্গিত করে।
সোনার তরী' একটি রূপক কবিতা। কবিতায় কৃষক, ধান, সোনার তরী রূপকের অন্তরালে মানবজীবনের চিরকালীন বাস্তবতা প্রকাশিত হয়েছে। কৃষকের ফলানো সোনার ধান সোনার তরীরূপী পৃথিবীতে স্থান পেলেও কৃষকের স্থান হয় না। অর্থাৎ মানুষের কর্মই থেকে যায়, মানুষটি নয়।
' উদ্দীপকের কবিতাংশে গায়করূপী কবি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁকে নয় বরং তাঁর গানকে যেন সকলে ভালোবাসে। কেননা, তিনি দেখেছেন বনের পাখিকে কেউ মনে রাখে না, গানই মানুষকে আকৃষ্ট করে। উদ্দীপকের গান তাই 'সোনার তরী' কবিতার ধানকে নির্দেশ করে। কেননা, উভয় স্থানেই ব্যক্তি নয়, ব্যক্তির কৃতিত্বকে মূল্যায়ন করার কথা বর্ণিত হয়েছে।
গায়ক নয় বরং গান মনে রাখার আকুতি বিবেচনায় আলোচ্য মন্তব্যটি যৌক্তিক বলা যায়।
'সোনার তরী' কবিতায় কৃষকের উৎপাদিত ধান সোনার তরীতে স্থান পেলেও কৃষকের স্থান হয় না। তাঁকে হারিয়ে যেতে হয় মহাকালের অতল গর্ভে। তেমনি মানবজীবনের চিরকালীন বাস্তবতা এই যে, ব্যক্তিমানুষটি নম্বর পৃথিবীতে ঠাঁই না পেলেও-তার কৃতিত্ব তার হয়ে কথা বলবে।..
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি তাঁর গানকে মূল্যায়ন করার আহ্বান জানিয়েছেন। কেননা, তিনি দেখেছেন, বনের পাখির গান শেষ হয়ে গেলে, তাকে আর কেউ মনে রাখে না। তেমনি চাঁদ নয়, জোছনা মানুষকে আকৃষ্ট করে এবং গীত শেষ হলে বীণারও প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়।
উদ্দীপক ও 'সোনার তরী' কবিতার প্রকৃত উদ্দেশ্য মানুষের কর্মের যথাযথ মূল্যায়ন, মহাকালের নিয়মও এরূপ। মানুষ পৃথিবীতে ক্ষণস্থায়ী; তবে কর্ম তাকে মহাকালের বুকে স্থান দিতে পারে। তাই বলা যায় যে, "উদ্দীপকটিতে 'সোনার তরী' কবিতার মূলভাব ফুটে উঠেছে"- মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allচিকনাই শব্দের অর্থ কী
ব্যান্জনার্থে
উত্তর চাই
একজন কৃষক দ্বীপসদৃশ ধানখেতে তার সােনার ফসল নিয়ে অপেক্ষা করছে। ঘন বর্ষা আর তীব্র সােতের কারণে তীরে যাওয়ারও কোনাে ভরসা নেই— এ কথা বােঝাতেই উক্তিটি করা হয়েছে। ‘সােনার তরী’ কবিতায় কবির জীবনদর্শন চিত্রায়িত হয়েছে।
কবিতায় একজন কৃষক তার ধান নিয়ে ক্ষুরের মতাে ধারালাে বর্ষার স্রোতে ঘেরা দ্বীপসদৃশ ধানখেতে নানা আশঙ্কা নিয়ে অপেক্ষা করছে। সে সেখানে নিঃসঙ্গ, কারও কোনাে দেখা নেই। আকাশে ঘন ঘন মেঘ গর্জন করছে। এমন বৈরী পরিবেশে কৃষকরূপী কবি নিজের নিঃসঙ্গতা ও ভরসাহীনতাকে বােঝাতে গিয়ে কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা’ কথাটি বলেছেন। সারকথা : প্রশ্নোক্ত লাইনের মধ্য দিয়ে বৈরী পরিবেশে নিঃসঙ্গ এক কৃষকের ভরসাহীন অবস্থার কথা প্রকাশ পেয়েছে।
'কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা'—কবির এমন অনুভূতির কারণ কী?
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!