ইন্টারনেট
(প্রবন্ধ রচনা)ভূমিকা: আধুনিক বিশ্ব ইন্টারনেটের বিশ্ব। ইন্টারনেট বিশ্বকে দিয়েছে যোগাযোগ ভাবনার নতুন পথ। ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে খুব সহজেই তথ্য আদানপ্রদানের কাজটি করা যায়। ইন্টারনেট কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং সিস্টেমের মাধ্যমে কাজ করে। নেটওয়ার্কিং সিস্টেম হলো একের সঙ্গে বহুর মিলন; অর্থাৎ এক কম্পিউটার থেকে হাজারো কম্পিউটারে একই সময়ে একইসঙ্গে তথ্য আদানপ্রদানের প্রক্রিয়া।
ইন্টারনেট কী: ইন্টারনেট হলো পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে থাকা সমস্ত কম্পিউটারের মধ্যকার এক জাল। এর মূল কাজ এক নেটওয়ার্কের আওতায় থাকা কম্পিউটারগুলোকে অন্য সমস্ত নেটওয়ার্কভুক্ত কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত করা। এভাবে সমস্ত নেটওয়ার্ক একত্র হয়ে যে সমন্বিত নেটওয়ার্ক সিস্টেম তৈরি হয়েছে, তারই নাম ইন্টারনেট।
কীভাবে এলো ইন্টারনেট: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৬৯ সালে তার সামরিক প্রয়োজনে প্রথম ইন্টারনেট ব্যবহার করে। এই সিস্টেমটিকে কারিগরি সহায়তা দিয়েছিল ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের কারণে তা ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ১৯৮৪ সালে নেম্ফেনেট নাম নিয়ে সর্বসাধারণের জন্য ইন্টারনেট অবমুক্ত করা হয়। এতে শৃঙ্খলা আনার জন্য একটি স্থায়ী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন প্রযুক্তিবিদরা। এই সিস্টেমটিই ইন্টারনেট নাম নিয়ে সমস্ত বিশ্বে প্রযুক্তির মশালকে বহন করে চলেছে।
ইন্টারনেট ও বর্তমান সময়: বর্তমান বিশ্বসভ্যতার মূল চালিকাশক্তি ইন্টারনেট। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রই এর দ্বারা প্রভাবিত। সকালবেলা চায়ের সঙ্গে অনলাইন নিউজের আপডেটটি আমাদের প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায়। তথ্যই সম্পদ; আর তথ্য সংগ্রহে ইন্টারনেট অদ্বিতীয়। সে কারণে ইন্টারনেট আজ দৈনন্দিন যাপিত জীবনের অগ্রাধিকারের তালিকায় উপরের দিকে থাকে। সব বয়সের মানুষ আজ ইন্টারনেটের সঙ্গে তাদের জীবনের ছন্দ মিলিয়ে চলে। সামাজিক যোগাযোগ এখন অনেকাংশে ইন্টারনেটনির্ভর। তাতে মানুষকে খানিকটা যান্ত্রিক মনে হলেও মানসিক বিনোদন সেখানে অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশে ইন্টারনেট: ১৯৯৩ সালের ১১ নভেম্বর অফলাইন প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে অফলাইন ইন্টারনেটের ব্যবহার শুরু হয়। তখন বিষয়টি শুধু ই-মেইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। বিটিআরসির ল্যান্ডলাইনের মাধ্যমে ডায়ালআপ কানেকশন থেকে তখন ইন্টারনেট ব্যবহার করা হতো। ১৯৯৬ সালের ৪ জুন বাংলাদেশে ভিএসএটি চালুর মাধ্যমে প্রথম অনলাইন ইন্টারনেট চালু করে আইএসএন। এরপর সাইবার নেট, ইউ অনলাইন, ব্রাক বিডিমেইল, প্রডেস্টানেট, অগ্নি সিস্টেমসহ বর্তমানে আরও অনেক প্রতিষ্ঠান ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে কাজ করছে।
ইন্টারনেটের বর্তমান উৎকর্ষ: পাথরে পাথরে ঘষা লাগিয়ে মানুষ যেদিন প্রথম আগুন আবিষ্কার করেছিল, সেদিন থেকেই সভ্যতার প্রাচুর্যের সূত্রপাত হয়েছিল। একইভাবে তথ্যের পৃথিবীতে ইন্টারনেট মানুষকে তথ্যপ্রাচুর্যে পরিপূর্ণ করেছে। বাংলাদেশে এই উৎকর্ষ সাধিত হয়েছে মোবাইলের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগপ্রাপ্তিতে। যেকোনো সময় যেকোনো স্থানে স্মার্টফোনের মাধ্যমে মানুষ এখন ইন্টারনেটে সংযুক্ত হয়। এই প্রযুক্তি দিনদিন এত বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে, মোবাইল ফোনে কথা বলা আর ইন্টারনেটের ব্যবহার এখন প্রায় সমান সমান হয়ে এসেছে। জিপিআরএস, জিপিএস প্রযুক্তি পেরিয়ে এখন মোবাইল ইন্টারনেট ফোরজি, অর্থাৎ চতুর্থ প্রজন্ম প্রযুক্তিতে পৌঁছেছে। ইতোমধ্যে মোবাইল হ্যান্ডসেটগুলোতেও যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে। মোবাইল ফোনে কথা বলা ছাড়াও ইন্টারনেটের যাবতীয় কর্মকান্ড করা সম্ভব হচ্ছে। গ্রাহকের চাহিদাকে বিবেচনায় রেখে বিশ্ববিখ্যাত সার্চ ইঞ্জিন প্রতিষ্ঠান গুগল অ্যানড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম প্রবর্তন করেছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর অধিকাংশই এখন এই অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে পরিচিত। এছাড়া আইফোনেরও রয়েছে নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম।
ইন্টারনেটের সার্বিক গুরুত্ব: ইন্টারনেটের ব্যবহারও যেমন বহুমুখী, তেমনি এর গুরুত্বও বহুমুখী। এখন ইন্টারনেটকে কেন্দ্র করেই মানুষ তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজায়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যাবসা, সামাজিকতাসহ প্রায় সবখানেই ইন্টারনেট অপরিহার্য। ই-এডুকেশন, ই-কমার্স ইন্টারনেটকে ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে। তথ্য সংগ্রহে পৃথিবীর তাবৎ কর্মযোগীরা ইন্টারনেটকে আশ্রয় করেছে। ঘরে বসে শিক্ষা বা কেনাকাটা এখন নিত্যদিনের ব্যাপার। দুরারোগ্য রোগ নিরাময়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা এখন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চমৎকার সব সমাধান দেন। তাতে মানুষের অর্থ ও সময় দুই-ই সাশ্রয় হয়। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী ছেলেমেয়েরা আজ ইন্টারনেটের মাধ্যমেই বিশ্বের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্কলারশিপগুলো আয়ত্ত করে।
পরবর্তী প্রজন্মের ইন্টারনেট: পরবর্তী প্রজন্মের মানুষ হবে আরও চৌকশ ও বুদ্ধিমান। তাদের কাছে ইন্টারনেট হয়তো আরও অনেক নতুন দিক খুলে দেবে। ইতোমধ্যে অপটিক্যাল ফাইবার লেন সংযুক্ত হয়েছে। এর আওতায় পুরো দেশ এলে ইন্টারনেটের গতি বাড়বে, খরচ কমবে। মানুষ তখন আরও প্রযুক্তিমুখী হবে। তবে প্রযুক্তিকে মানুষের সর্বময় কল্যাণে ব্যবহার করা একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
ইন্টারনেটের অসুবিধা: ইন্টারনেটের অসংখ্য ভালো দিকের পাশাপাশি এর কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। ইন্টারনেটের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার করে অনেকেই সময় নষ্ট করে। এছাড়া কুরুচিপূর্ণ গান, ভিডিও ইত্যাদির কারণে বিপথগামী হচ্ছে তরুণদের একাংশ। অসাধু ব্যক্তিরা ইন্টারনেট ব্যবহার করছে তাদের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের জন্য।
উপসংহার: বিজ্ঞানের এ যুগে মানুষ প্রযুক্তিমুখী হয়ে তার কর্মদক্ষতাকে প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি করছে। এক্ষেত্রে ইন্টারনেট অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। তবে প্রযুক্তির এ দৌড়ে মানুষকে মানবিক হয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার সারতে হবে। তবেই ইন্টারনেট নামক প্রযুক্তির বিপ্লব পরিপূর্ণতা পাবে। বাস্তব রূপ লাভ করবে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন।
বাংলা ব্যাকরণ শেখা কি কঠিন মনে হয়?
এসো, SATT Academy–তে শিখি ব্যাকরণ ও ভাষা নির্মাণ–কে সহজ ও আনন্দময় উপায়ে!
এখানে তুমি পাবে NCTB অনুমোদিত পাঠ্যক্রম অনুযায়ী সাজানো প্রতিটি অধ্যায়ের সহজ ব্যাখ্যা, প্রশ্ন–উত্তর, লাইভ টেস্ট, ভিডিও সহ শিক্ষা, এবং PDF ডাউনলোড সুবিধা – সবকিছু এক প্ল্যাটফর্মে।
🔗 বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি – সপ্তম শ্রেণি PDF ডাউনলোড
(সরকারি সাইট থেকে ডাউনলোড বা অনলাইনে পড়তে পারবেন)
SATT Academy–র সাথে ব্যাকরণ ও নির্মিতি শেখা হবে মজাদার, সহজ এবং পরীক্ষার জন্য একদম উপযোগী।
শুরু করুন বাক্য গঠন থেকে ভাষা নির্মাণ–এর রোমাঞ্চকর পথচলা আজ থেকেই।
🎓 SATT Academy – ভাষা শেখার স্মার্ট সঙ্গী।
স্বদেশপ্রেম
(প্রবন্ধ রচনা)আমার জীবনের লক্ষ্য
(প্রবন্ধ রচনা)সময়ের মূল্য
(প্রবন্ধ রচনা)মা-বাবার প্রতি কর্তব্য
(প্রবন্ধ রচনা)ছাত্রজীবনের দায়িত্ব কর্তব্য
(প্রবন্ধ রচনা)রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(প্রবন্ধ রচনা)১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?