সন্ন্যাসীর পরামর্শে প্রাণেশবাবু সিদ্ধাসন অনুশীলনের মাধ্যমে সাধনায় অবশ্যই সিদ্ধিলাভ করতে পারবে।
সিদ্ধাসনে প্রাণেশবাবুর শরীরের বিশ্রাম হবে। এ আসনে বসে থাকার ফলে শরীরের যেমন বিশ্রাম হবে, তেমনি দু পা আড়াআড়ি আর পিঠ সোজা থাকার ফলে মন স্থির ও তৎপর থাকবে। হাঁটু আর গোড়ালির গাঁট শক্ত হয়ে গেলে এ আসনে উপকার পাবে। প্রাণেশবাবুর কটিদেশে আর উদরাঞ্চলে রক্তসঞ্চালন হবে এবং এর ফলে মেরুদণ্ডের নিম্নভাগ আর পেটের ভিতরকার প্রত্যঙ্গগুলো সতেজ ও সবল হবে। কোমর ও হাঁটুর সন্ধিস্থল সবল হবে। তারপর এ আসন অভ্যাসের ফলে উদরাময়, হৃদরোগ, যক্ষ্মা, ডায়াবেটিস, হাঁপানি প্রভৃতি রোগ দূর হবে। অর্শ রোগ যদি থাকে সেটিও ভালো হয়ে যাবে। এ আসনে বসে জপ, প্রাণায়াম, ধ্যান-ধারণাদি অভ্যাস করার ফলে প্রাণেশবাবুর সহজে ও অল্প সময়ের মধ্যে সাধনায় সিদ্ধিলাভ ঘটবে।
Related Question
View Allযোগ শব্দটি 'যজ্' ধাতু থেকে এসেছে।
স্থির বা সুখাবহ অবস্থিতির নামই হচ্ছে আসন। যোগ অভ্যাস করার জন্য যেভাবে শরীরকে রাখলে শরীর স্থির থাকে অথচ কোনো কষ্টের কারণ ঘটে না, তাকে যোগাসন বলে।
জয়িতা শবাসন অনুশীলনের মাধ্যমে পড়ালেখায় মনোযোগী হয়েছে।
শবাসন অনুশীলন পদ্ধতিতে প্রথমে মাটিতে চিৎ হয়ে শুয়ে পা দুটি লম্বা করে দিতে হবে। পা দুটোর মধ্যে প্রায় এক ফুটের মতো ফাঁকা থাকবে। এবং হাত দুটোকে লম্বালম্বিভাবে শরীরের দু পাশে উরু থেকে একটু দূরে রাখতে হবে। হাতের পাতা উপরের দিকে খোলা থাকবে। চোখ বন্ধ, ঘাড় সোজা, গোটা শরীর শিথিল অবস্থায় থাকবে। এবার ধীরে ধীরে চার পাঁচ বার লম্বা শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করতে হবে। দৈনিক যোগাভ্যাসে কঠিন আসন করার পর বিশ্রামের জন্য এ আসন ৫ থেকে ১০ মিনিট পর্যন্ত করা উচিত। এছাড়া আলাদাভাবে অন্তত ১৫ মিনিট শবাসন করা প্রয়োজন।
আমি মনে করি, উদ্দীপকের জয়িতা শবাসন অনুশীলনের মাধ্যমে বেশি উপকৃত হবে। কারণ শরীর শিথিলকরণ বা বিশ্রামের জন্য শবাসন যোগসাধনার একটি উপযুক্ত আসন। এতে জয়িতার সম্পূর্ণ শরীর সুস্থবোধ হবে, স্নায়ুমণ্ডলী ও শিরা উপশিরাগুলো সম্পূর্ণ বিশ্রাম পাবে, শরীর ও মনের সমস্ত ক্লান্তি দূর হবে। ফলে শরীর, মন-মস্তিষ্ক। এবং আত্মা পূর্ণ বিশ্রাম, শক্তি, উৎসাহ ও আনন্দ লাভ হবে।
মানসিক টেনশন, বেশি বা কম রক্ত চাপ, হৃদরোগ, পেটে গ্যাস, ডায়াবেটিস প্রভৃতি রোগ উপশম হবে। আধুনিক যন্ত্রসভ্যতার পীড়নে জয়িতার যদি স্নায়ুর উপর চাপ পড়ে থাকে তাহলে উক্ত আসন প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করবে। আর রাত জেগে পড়াশুনা মানে অনিদ্রার ক্ষেত্রে উক্ত আসন মন্ত্রের ন্যায় কাজ করবে। তাতে জয়িতার অনিদ্রা দূর হবে এবং পড়াশুনায় মনোযোগ আসবে।
যোগাসন হচ্ছে দেহ ও মনকে সুস্থ রাখার একটি উৎকৃষ্ট প্রক্রিয়া।
প্রাচীনকালের ঋষিগণ উপলব্ধি করেছিলেন সাধনায় সিদ্ধি লাভকরতে হলে দেহ ও মনকে অবশ্যই সুস্থ রাখতে হবে। তাই তাঁরা দেহ ও মনকে সুস্থ রাখার প্রক্রিয়া হিসেবে যোগাসন অনুশীলন করতেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
