মৃত ব্যক্তির মতো নিষ্পন্দভাবে শুয়ে যে আসন করা হয় তাই শবাসন।
প্রাণেশ বাবু যে আসনটি অনুশীলন করবেন তা হচ্ছে সিদ্ধাসন। সাধনায় সিদ্ধ যোগীদের দ্বারা বিশেষভাবে অনুসৃত হওয়ার ফলে এ আসনের নাম সিদ্ধাসন। এ আসনটি সিদ্ধ সাধকরা প্রায়ই করতেন বা করেন। এটি দেখতে সাধুদের ধ্যানের মতো। সেজন্য এ আসনকে সিদ্ধাসন বলা বলা হয়।
সন্ন্যাসী প্রাণেশ বাবুকে যে আসনটির কথা বলেছেন সে আসনটি হলো
সিদ্ধাসন। এ আসনটির অনুশীলন পদ্ধতি নিচে আলোচনা করা হলো-
প্রথমে সামনের দিকে পা ছড়িয়ে শিরদাঁড়া বা মেরুদন্ড সোজা করে বসতে হবে। এবার ডান পা হাটু থেকে গোড়ালি দু পায়ের সংযোগস্থলে স্পর্শ করে রাখতে হবে। তারপর বাঁ পা হাটু ভেঙে ডান পায়ের উপর রাখতে হবে। দু পায়ের গোড়ালি তলপেটের নিচে লেগে থাকবে। তারপর হাত দুটো সামনের দিকে ছড়িয়ে দিতে হবে। হাতের তালু উপর দিকে করে ডান হাতের কব্জি বা হাটুর উপর এবং বা হাতের কজি বা হাঁটুর উপর রাখতে হবে। দু হাতের বুড়ো আঙুল আর তর্জনী ছোঁয়াতে হবে। অন্য আঙুলগুলো সোজা থাকবে। তারপর পিঠ, ঘাড় আর মাথা সোজা রেখে চোখ বন্ধ করে দু ভুয়ের মাঝে মনকে একাগ্র করার চেষ্টা করতে হবে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে। পা বদল করে আসনটি পাঁচ মিনিট করতে হবে: শেষে শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে।
সন্ন্যাসীর পরামর্শে প্রাণেশবাবু সিদ্ধাসন অনুশীলনের মাধ্যমে সাধনায় অবশ্যই সিদ্ধিলাভ করতে পারবে।
সিদ্ধাসনে প্রাণেশবাবুর শরীরের বিশ্রাম হবে। এ আসনে বসে থাকার ফলে শরীরের যেমন বিশ্রাম হবে, তেমনি দু পা আড়াআড়ি আর পিঠ সোজা থাকার ফলে মন স্থির ও তৎপর থাকবে। হাঁটু আর গোড়ালির গাঁট শক্ত হয়ে গেলে এ আসনে উপকার পাবে। প্রাণেশবাবুর কটিদেশে আর উদরাঞ্চলে রক্তসঞ্চালন হবে এবং এর ফলে মেরুদণ্ডের নিম্নভাগ আর পেটের ভিতরকার প্রত্যঙ্গগুলো সতেজ ও সবল হবে। কোমর ও হাঁটুর সন্ধিস্থল সবল হবে। তারপর এ আসন অভ্যাসের ফলে উদরাময়, হৃদরোগ, যক্ষ্মা, ডায়াবেটিস, হাঁপানি প্রভৃতি রোগ দূর হবে। অর্শ রোগ যদি থাকে সেটিও ভালো হয়ে যাবে। এ আসনে বসে জপ, প্রাণায়াম, ধ্যান-ধারণাদি অভ্যাস করার ফলে প্রাণেশবাবুর সহজে ও অল্প সময়ের মধ্যে সাধনায় সিদ্ধিলাভ ঘটবে।
প্রতিদিনের কাজকেই বলা হয় নিত্যকর্ম। যেমন- প্রতিদিন প্রভাতে সূর্য প্রণাম একটি নিত্যকর্ম। নিত্যকর্ম মেনে চললে একদিকে নিয়মানুবর্তিতা শেখা যায় অপরদিকে ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করা যায়। ঈশ্বর আরাধনার একটি পদ্ধতি হচ্ছে যোগ। যোগ বলতে বোঝায় ভগবান ও তাঁর সত্যচেতনার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন। আসন হচ্ছে যোগের একটি অঙ্গ। স্থির ও সুখাবহ অবস্থিতির নামই আসন। যোগাসন অনুশীলনে কতগুলো সাধারণ নিয়ম মেনে চলতে হয়। তবেই এর সুফল পাওয়া যায়। নিয়মিত যোগাসন অনুশীলনে দেহকে বিভিন্ন রোগ থেকে দূরে রাখা যায়।

ফলে শরীর সম্পূর্ণ সুস্থ, সবল ও সুন্দর হয়ে ওঠে এবং মনও হয়ে ওঠে আনন্দ ও শান্তিময়। সুতরাং দেহ ও মনকে সুস্থ রাখতে আসনের গুরুত্ব অপরিসীম। এই অধ্যায়ে নিত্যকর্ম ও যোগাসন সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।
এ অধ্যায় শেষে আমরা-
- নিত্যকর্ম ধারণাটি ব্যাখ্যা করতে পারব;
- নিত্যকর্মের একটি মন্ত্র বা শ্লোক সরলার্থসহ বলতে এবং ব্যাখ্যা করতে পারব;
- জীবনাচরণে নিত্যকর্মের গুরুত্ব ও প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব;
- যোগাসনের ধারণা, সাধারণ নিয়ম ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব;
- শবাসন ও সিদ্ধাসনের ধারণা ব্যাখ্যা করতে এবং অনুশীলন পদ্ধতি বর্ণনা করতে পারব;
- শরীর-মন গঠনে শবাসন ও সিদ্ধাসনের গুরুত্ব ও প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব;
- নিত্যকর্ম ও শবাসন অনুশীলন করতে উদ্বুদ্ধ হব;
- নিত্যকর্ম ও শবাসন অনুশীলন করতে পারব।
Related Question
View Allযোগ শব্দটি 'যজ্' ধাতু থেকে এসেছে।
স্থির বা সুখাবহ অবস্থিতির নামই হচ্ছে আসন। যোগ অভ্যাস করার জন্য যেভাবে শরীরকে রাখলে শরীর স্থির থাকে অথচ কোনো কষ্টের কারণ ঘটে না, তাকে যোগাসন বলে।
জয়িতা শবাসন অনুশীলনের মাধ্যমে পড়ালেখায় মনোযোগী হয়েছে।
শবাসন অনুশীলন পদ্ধতিতে প্রথমে মাটিতে চিৎ হয়ে শুয়ে পা দুটি লম্বা করে দিতে হবে। পা দুটোর মধ্যে প্রায় এক ফুটের মতো ফাঁকা থাকবে। এবং হাত দুটোকে লম্বালম্বিভাবে শরীরের দু পাশে উরু থেকে একটু দূরে রাখতে হবে। হাতের পাতা উপরের দিকে খোলা থাকবে। চোখ বন্ধ, ঘাড় সোজা, গোটা শরীর শিথিল অবস্থায় থাকবে। এবার ধীরে ধীরে চার পাঁচ বার লম্বা শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করতে হবে। দৈনিক যোগাভ্যাসে কঠিন আসন করার পর বিশ্রামের জন্য এ আসন ৫ থেকে ১০ মিনিট পর্যন্ত করা উচিত। এছাড়া আলাদাভাবে অন্তত ১৫ মিনিট শবাসন করা প্রয়োজন।
আমি মনে করি, উদ্দীপকের জয়িতা শবাসন অনুশীলনের মাধ্যমে বেশি উপকৃত হবে। কারণ শরীর শিথিলকরণ বা বিশ্রামের জন্য শবাসন যোগসাধনার একটি উপযুক্ত আসন। এতে জয়িতার সম্পূর্ণ শরীর সুস্থবোধ হবে, স্নায়ুমণ্ডলী ও শিরা উপশিরাগুলো সম্পূর্ণ বিশ্রাম পাবে, শরীর ও মনের সমস্ত ক্লান্তি দূর হবে। ফলে শরীর, মন-মস্তিষ্ক। এবং আত্মা পূর্ণ বিশ্রাম, শক্তি, উৎসাহ ও আনন্দ লাভ হবে।
মানসিক টেনশন, বেশি বা কম রক্ত চাপ, হৃদরোগ, পেটে গ্যাস, ডায়াবেটিস প্রভৃতি রোগ উপশম হবে। আধুনিক যন্ত্রসভ্যতার পীড়নে জয়িতার যদি স্নায়ুর উপর চাপ পড়ে থাকে তাহলে উক্ত আসন প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করবে। আর রাত জেগে পড়াশুনা মানে অনিদ্রার ক্ষেত্রে উক্ত আসন মন্ত্রের ন্যায় কাজ করবে। তাতে জয়িতার অনিদ্রা দূর হবে এবং পড়াশুনায় মনোযোগ আসবে।
যোগাসন হচ্ছে দেহ ও মনকে সুস্থ রাখার একটি উৎকৃষ্ট প্রক্রিয়া।
প্রাচীনকালের ঋষিগণ উপলব্ধি করেছিলেন সাধনায় সিদ্ধি লাভকরতে হলে দেহ ও মনকে অবশ্যই সুস্থ রাখতে হবে। তাই তাঁরা দেহ ও মনকে সুস্থ রাখার প্রক্রিয়া হিসেবে যোগাসন অনুশীলন করতেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!