উদ্দীপকে ইকবালের অনুমান বা মানসিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জ্ঞাত থেকে অজ্ঞাত তত্ত্বে উপনীত হওয়ার উপায়' সম্পর্কে জানা যায়। যা পাঠ্য বইয়ে উল্লিখিত যুক্তিবিদ্যার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশকে নির্দেশ করে। আমরা জানি, মানুষ যুক্তিপ্রবণ প্রাণী। প্রাচীনকাল থেকেই নিজ কর্মের অনুকূলে মানুষ যুক্তি দিয়ে আসছে। কিন্তু এই যুক্তি ভুল না সঠিক তা মানুষ সাধারণত নিজেও বোঝে না। কেউ যদি কোনো মানদণ্ড দিয়ে যাচাই করে তার যুক্তিটি সঠিক কী সঠিক নয় তাহলে মানুষের আচরণ মানবিক ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে। যুক্তিবিদ্যার উৎপত্তি মাত্র আড়াই হাজার বছর আগে। দার্শনিক এরিস্টটলকে 'পাশ্চাত্য যুক্তিবিদ্যার জনক' বলা হয়। তিনি প্রথম উপলব্ধি করেন যে, বিচারমূলক চিন্তাপদ্ধতি নিয়ে একটি বিশিষ্ট বিজ্ঞানের বিষয়বস্তু গড়ে উঠতে পারে। নির্ভরযোগ্য জ্ঞান আহরণের বিভিন্ন পদ্ধতির আলোচনার মধ্যে দিয়েই যুক্তিবিদ্যার পরিমণ্ডল গঠিত।
যুক্তিবিদ্যার ক্রমবিকাশের চারটি পর্যায় রয়েছে। যথা:
১. প্রাচীন যুগ (৫৭২ খ্রিঃ-৮৭০ খ্রি:) : এ যুগের যুক্তিবিদ হলেন পিথাগোরাস, সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল প্রমুখ।
২. মধ্যযুগ (৮৭০-১৬৪৬ খ্রি:) : মধ্যযুগীয় যুক্তিবিদ্যা স্কলাস্টিক যুক্তি তত্ত্বকে নির্দেশ করে। এ যুগের যুক্তিবিদ হলেন- আল- ফারাবি, ইমাম গাজজালী, ইবনে সিনা, ইবনে রুশদ, সেন্ট অগাস্টিন প্রমুখ।
৩. আধুনিক যুগ (১৬৪৬-১৮৩১ খ্রি:): এ যুগের যুক্তিবিদ হলেন- স্পিনোজা, লাইবনিজ, হেগেল প্রমুখ।
৪. সাম্প্রতিক যুগ (১৮৩১ খ্রি:-বর্তমান) : এ যুগের যুক্তিবিদ হলেন- জেমস মিল, জর্জ বুল, ডিমরগ্যান, জে এস মিল, জেভন্স, সি এস পার্স, বাট্রান্ড রাসেল প্রমুখ।
Related Question
View Allভাষায় প্রকাশিত চিন্তা সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে যুক্তিবিদ্যা বলে।
অনুমান হলো জানা বিষয় থেকে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অজানা বিষয়কে জানা। সুশৃঙ্খল চিন্তার মাধ্যমে অজানাকে জানা যায়। আর যুক্তিবিদ্যা হলো ভাষায় প্রকাশিত চিন্তার বিজ্ঞান। সুতরাং যুক্তিবিদ্যা অনুমাননির্ভর।
উদ্দীপকের ১ নং দৃশ্যকল্পে যুক্তিবিদ্যা একটি বিজ্ঞান এই কথাটি ফুটে উঠেছে। অর্থাৎ যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞানের দিকটি এখানে লক্ষণীয়। বস্তুগত বা আকারগতভাবে গবেষণাযোগ্য কোনো সুনির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে সুশৃঙ্খল ও সুসংবদ্ধ জ্ঞানার্জন হলো বিজ্ঞান। আর ভাষায় প্রকাশিত চিন্তার বিজ্ঞান হলো যুক্তিবিদ্যা। বিজ্ঞান যেমন সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করে তেমনি যুক্তিবিদ্যা নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। বিজ্ঞানের মতো বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা করতে না পারলেও যুক্তিবিদ্যা আকারগতভাবে বিষয়বস্তুর আলোচনা যথার্থভাবে করে থাকে। সুশৃঙ্খল ও সুসংবদ্ধভাবে আলোচনা করে নিয়মনীতি পণয়নের চেষ্টা করে যা বিজ্ঞানের সূত্র প্রবর্তনের মতো। সুতরাং বলা যায় যে আফতাব উন্নতজাতের ধান উৎপাদনের জন্য বিদেশে যান এবং এসম্পর্কীয় পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত হন। তেমনি যুক্তিবিদ্যা অবৈধ যুক্তি থেকে বৈধ যুক্তি লাভের জন্য বিভিন্ন নীতি প্রণয়নের চেষ্টা করে যা বিজ্ঞানের মতোই সুশৃঙ্খল ও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প ১ ও ২ এর সমন্বয়ে যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ নির্ণয় করতে পারি। দৃশ্যকল্প-১ অনুযায়ী যুক্তিবিদ্যাকে একটি বিজ্ঞান বলা যায়। কারণ চিন্তা সম্পর্কিত কতকগুলো নীতি ও নিয়মের নির্দেশ প্রদান করাই হলো যুক্তিবিদ্যার কাজ। এটাকে তাত্ত্বিক বিজ্ঞান বলা যায়। অর্থাৎ বিজ্ঞানের মতো যুক্তিবিদ্যা নিজস্ব বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করার জন্য কিছু নিয়ম-কানুন প্রণয়ন করে। এই নিয়মনীতি অনুসরণ করে যুক্তিবিদ্যা বিজ্ঞানসম্মত জ্ঞানদান করে। উদ্দীপকে আফতাব উচ্চফলনশীল ধান উৎপাদনের পদ্ধতি জানার জন্যে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তেমনি যুক্তিবিদগণ অবৈধ যুক্তি থেকে বৈধ যুক্তি পৃথক করার বিভিন্ন নিয়ম প্রণয়ন করেন। আবার দৃশ্যকল্প-২ অনুযায়ী বলতে পারি যে, যুক্তিবিদ্যা কলার সাথে সম্পর্কযুক্ত। কলাবিদ্যা বিভিন্ন পদ্ধতি ও নিয়মকে বাস্তবে প্রয়োগ করার কথা বলে। আক্কাস যেমন তার চিকিৎসা শিক্ষাকে বাস্তবে প্রয়োগ করে সফলভাবে অস্ত্রোপচার করেন, তেমনি যুক্তিবিদ্যা বাস্তবক্ষেত্রে তার নিয়মাবলিকে প্রয়োগ করে সত্যকে অর্জন করে। সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, দৃশ্যকল্প-১ ও ২ অনুযায়ী যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ নির্ণয় করা যায়।
চিন্তার ভাষায় প্রকাশিত রূপকে যুক্তি বলে।
আদিকাল থেকেই যুক্তির ধারণাটি বিদ্যমান। ভাষায় প্রকাশিত চিন্তাই হলো যুক্তি। মানুষ সামাজিক জীব হিসাবে আদিকাল থেকেই নিজের মতের পক্ষে যুক্তি দেখায়। যেমন-
সকল মানুষ মরণশীল
সক্রেটিস একজন মানুষ
সুতরাং সক্রেটিস মরণশীল।
এটি একটি যুক্তি। এই যুক্তিটি বৈধ কিনা তা নির্ধারণ করাই মূলত যুক্তিবিদ্যার কাজ। যুক্তি হলো ভাষায় প্রকাশিত চিন্তা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!