উদ্দীপকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার আংশিক ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে বলে আমি মনে করি।
কবিমন স্বভাবতই বসন্ত-প্রকৃতির প্রতি আকৃষ্ট হয়। কিন্তু 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় আমরা এর ব্যতিক্রম চিত্র দেখতে পাই। বসন্তের আগমনে প্রকৃতি আপন রূপে সাজলেও সেদিকে কবির খেয়াল নেই। কেননা, প্রিয়জনের আকস্মিক মৃত্যুতে কবিমন আচ্ছন্ন হয়ে আছে রিক্ততার হাহাকারে। উদ্দীপকের নাদিরা তার পুত্র রোহানের শোকে কাতর। তাই নববর্ষ উৎসবও তার কাছে নিরানন্দ মনে হয়। চিরতরে চলে যাওয়া ছেলের স্মৃতি নাদিরা কিছুতেই ভুলতে পারে না। অন্য বছর রোহানই মাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ত নববর্ষ উৎসবে যোগ দিতে। আজ রোহান না থাকায় নববর্ষ উৎসবে কোনো আগ্রহই খুঁজে পায় না সে। পুত্রের আকস্মিক মৃত্যু যেন তার জীবনের সকল আনন্দ মুছে দিয়েছে। আলোচ্য কবিতার কবি সুফিয়া কামালের মাঝেও একই রকম শোকানুভূতির প্রতিফলন ঘটেছে।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবি এবং উদ্দীপকের নাদিরা উভয়েই প্রিয়জন হারানোর বেদনায় মুহ্যমান। এ কারণেই তারা আনন্দঘন পরিবেশকে স্বাগত জানাতে পারেনি। এদিক থেকে উদ্দীপকের সাথে আলোচ্য কবিতার মিল রয়েছে। তবে এ কবিতায় বিচ্ছেদ বেদনা ছাড়াও ঋতুরাজ বসন্তের রূপ-সৌন্দর্যের কথা বর্ণিত হয়েছে; চিত্রিত হয়েছে কবিভক্তের ব্যাকুলতার দিকটিও। এছাড়াও প্রকৃতির সঙ্গে মানবমনের সম্পর্ক কবিতাটির এক উল্লেখযোগ্য দিক। এসব বিষয় উদ্দীপকে উঠে আসেনি। সেখানে কেবল আলোচ্য কবিতার কবির শোকানুভূতির বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে, উল্লিখিত অন্যান্য বিষয় নয়। সেদিক বিবেচনায়, উদ্দীপকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে, পূর্ণভাব নয়।
Related Question
View Allকবি শীতকে মাঘের সন্ন্যাসীরূপে কল্পনা করেছেন
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!