নববর্ষ বাঙালির প্রাণের উৎসব। তাই প্রতি বছরের মতো এবারের পহেলা বৈশাখকে বরণের অপেক্ষায় সবাই যখন ব্যস্ত ঠিক তখন নাদিরার মনে শোকের ছায়া। তার ছেলে রোহান চলে গেছে অজানার দেশে। অন্যান্যবার এ দিনটিতে রোহানই মাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ত নববর্ষের উৎসবে যোগ দিতে। একমাত্র ছেলের অবর্তমানে জীবনের সব আনন্দ নিঃশেষ হয়ে গেছে তার। আজ তার কাছে সবকিছুই অতীত স্মৃতি।

Updated: 4 months ago
উত্তরঃ

তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
উত্তরঃ

প্রিয়জনের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত কবি তাকে কিছুতেই ভুলতে পারছেন না।
চিরায়ত নিয়মে মহাসমারোহে প্রকৃতিতে বসন্তের আগমন ঘটেছে। কবির চারপাশ বাহারি ফুলে সুশোভিত হয়েছে। কিন্তু শোকাহত কবি বসন্তের আহ্বানে সাড়া দিতে পারছেন না। কারণ তিনি অতীতের স্মৃতিচারণায় কাতর। স্বামীর অকাল মৃত্যুই তাঁকে বসন্তের প্রতি বিমুখ করে তুলেছে। চলে যাওয়া প্রিয়জনের কথাই তাঁর বারবার মনে পড়ছে। এজন্যই কবি তাকে ভুলে থাকতে পারেন না।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির প্রিয়জন হারানোর বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় প্রকৃতির অনবদ্য রূপকল্পের সঙ্গে কবির ব্যক্তিজীবনের দুঃখময় ঘটনার ছায়াপাত ঘটেছে। তাঁর সাহিত্য সাধনার প্রধান সহায়ক ও উৎসাহদাতা স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে কবির জীবনে নেমে আসে প্রচণ্ড শূন্যতা। কবি যেন কিছুতেই সে শোক কাটিয়ে উঠতে পারছেন না।
উদ্দীপকের নাদিরা প্রিয়জন হারানোর বেদনায় মুহ্যমান হয়ে পড়েছে। প্রিয়জনের স্মৃতিচারণা করে তার হৃদয় বেদনার্ত হয়ে উঠেছে। সবাই নববর্ষ উৎসবে গেলেও নাদিরা প্রাণপ্রিয় সন্তান হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারে না। তাই আনন্দঘন বৈশাখী মেলায় যেতে তার মন সায় দেয় না। অন্য বছর প্রিয় সন্তান রোহানই তাকে নববর্ষের উৎসবে নিয়ে যেত। কিন্তু ছেলে রোহানের আকস্মিক মৃত্যু তার জীবনকে শোকের কালো ছায়ায় ঢেকে দিয়েছে। তাই সন্তানহীন নববর্ষ উৎসব তার কাছে নিরানন্দময় হয়ে ওঠে। একইভাবে, প্রকৃতিতে বসন্ত এলেও 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবিমন প্রিয়জন হারানোর বেদনায় মুহ্যমান থেকেছে। এ কারণে বসন্ত-বন্দনার কোনো আগ্রহই কবিমনে জাগে' না। এদিক বিবেচনায় উদ্দীপকের রোহান কবির প্রিয়জন হারানোর বিষয়টিকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার আংশিক ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে বলে আমি মনে করি।
কবিমন স্বভাবতই বসন্ত-প্রকৃতির প্রতি আকৃষ্ট হয়। কিন্তু 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় আমরা এর ব্যতিক্রম চিত্র দেখতে পাই। বসন্তের আগমনে প্রকৃতি আপন রূপে সাজলেও সেদিকে কবির খেয়াল নেই। কেননা, প্রিয়জনের আকস্মিক মৃত্যুতে কবিমন আচ্ছন্ন হয়ে আছে রিক্ততার হাহাকারে। উদ্দীপকের নাদিরা তার পুত্র রোহানের শোকে কাতর। তাই নববর্ষ উৎসবও তার কাছে নিরানন্দ মনে হয়। চিরতরে চলে যাওয়া ছেলের স্মৃতি নাদিরা কিছুতেই ভুলতে পারে না। অন্য বছর রোহানই মাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ত নববর্ষ উৎসবে যোগ দিতে। আজ রোহান না থাকায় নববর্ষ উৎসবে কোনো আগ্রহই খুঁজে পায় না সে। পুত্রের আকস্মিক মৃত্যু যেন তার জীবনের সকল আনন্দ মুছে দিয়েছে। আলোচ্য কবিতার কবি সুফিয়া কামালের মাঝেও একই রকম শোকানুভূতির প্রতিফলন ঘটেছে।

'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবি এবং উদ্দীপকের নাদিরা উভয়েই প্রিয়জন হারানোর বেদনায় মুহ্যমান। এ কারণেই তারা আনন্দঘন পরিবেশকে স্বাগত জানাতে পারেনি। এদিক থেকে উদ্দীপকের সাথে আলোচ্য কবিতার মিল রয়েছে। তবে এ কবিতায় বিচ্ছেদ বেদনা ছাড়াও ঋতুরাজ বসন্তের রূপ-সৌন্দর্যের কথা বর্ণিত হয়েছে; চিত্রিত হয়েছে কবিভক্তের ব্যাকুলতার দিকটিও। এছাড়াও প্রকৃতির সঙ্গে মানবমনের সম্পর্ক কবিতাটির এক উল্লেখযোগ্য দিক। এসব বিষয় উদ্দীপকে উঠে আসেনি। সেখানে কেবল আলোচ্য কবিতার কবির শোকানুভূতির বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে, উল্লিখিত অন্যান্য বিষয় নয়। সেদিক বিবেচনায়, উদ্দীপকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে, পূর্ণভাব নয়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
18

“হে কবি, নীরব কেন ফাগুন যে এসেছে ধরায়, বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?”

কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি-

“দক্ষিণ দুয়ার গেছে খুলি?

বাতাবি নেবুর ফুল ফুটেছে কি? ফুটেছে কি আমের মুকুল?

দখিনা সমীর তার গন্ধে গন্ধে হয়েছে কি অধীর আকুল?”

“এখনো দেখনি তুমি?” কহিলাম, “কেন কবি আজ

এমন উন্মনা তুমি? কোথা তব নব পুষ্পসাজ?”

কহিল সে সুদূরে চাহিয়া-

“অলখের পাথার বাহিয়া

তরী তার এসেছে কি? বেজেছে কি আগমনী গান? ডেকেছে কি সে আমারে? শুনি নাই, রাখি নি সন্ধান।”

কহিলাম, “ওগো কবি! রচিয়া লহ না আজও গীতি, বসন্ত-বন্দনা তব কণ্ঠে শুনি- এ মোর মিনতি ।”

কহিল সে মৃদু মধু-স্বরে-

“নাই হলো, না হোক এবারে-

আমারে গাহিতে গান, বসন্তেরে আনিতে বরিয়া-

রহেনি, সে ভুলেনি তো, এসেছে তা ফাগুনে স্মরিয়া।”

কহিলাম : “ওগো কবি, অভিমান করেছ কি তাই? যদিও এসেছে তবু তুমি তারে করিলে বৃথাই।” 

কহিল সে পরম হেলায়- 

"বৃথা কেন? ফাগুন বেলায় 

ফুল কি ফোটেনি শাখে? পুষ্পারতি লভেনি কি ঋতুর রাজন?

মাধবী কুঁড়ির বুকে গন্ধ নাহি? করে নাই অর্ঘ্য বিরচন?” 

“হোক, তবু বসন্তের প্রতি কেন এই তব তীব্র বিমুখতা?” 

কহিলাম, “উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা?”

কহিল সে কাছে সরে আসি -

“কুহেলি উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী-

গিয়াছে চলিয়া ধীরে পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে

রিক্ত হস্তে! তাহারেই পড়ে মনে, ভুলিতে পারি না কোনো মতে ।”

Related Question

View All
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews