উদ্দীপক ও 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় ব্যক্তিজীবনের ঘটনার ছায়াপাত থাকলেও অনুষজ্ঞা আলাদা অর্থাৎ কবিতায় স্বামী হারানোর বেদনা আর উদ্দীপকের সন্তান হারানোর বেদনা প্রকাশ পেয়েছে।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির ব্যক্তিজীবনের দুঃখময় ছায়াপাত ঘটেছে। তাঁর সাহিত্যসাধনার প্রধান সহায়ক ও উৎসাহদাতা স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে কবির জীবনে প্রচণ্ড শূন্যতা নেমে আসে। তাঁর ব্যক্তিজীবন ও কাব্যসাধনার ক্ষেত্রে নেমে আসে এক দুঃসহ বিষণ্ণতা। কবিমন আচ্ছন্ন হয়ে যায় রিক্ততার হাহাকারে। তাই বসন্ত তাঁর মনে কোনো সাড়া জাগাতে পারছে না। বসন্তের সৌন্দর্য তার কাছে অর্থহীন, মনে কোনো আবেদন জানাতে পারছে না।
উদ্দীপকের কবিও সন্তান হারানোর বেদনায় কাতর। উদ্দীপকের কবিতায়ও ব্যক্তিজীবনের বেদনার ছায়াপাত ঘটেছে। কোনো এক গ্রীষ্মের দুপুরে কবির সন্তান গ্রামের পুকুরে পানিতে ডুবে মারা যায়। সন্তানের বিয়োগব্যথায় কবির মন দুঃখ ভারাক্রান্ত। এই জন্য বর্ষা, বসন্ত অন্য কোনো ঋতুই কবির নিকট আবেদনময়ী হচ্ছে না। কারণ কবির হৃদয়জুড়ে গ্রীষ্মের তাপদাহ বিরাজ করছে। সন্তান হারানোর বেদনা কিছুতেই হৃদয় থেকে মুছে যাচ্ছে না।
তাই উদ্দীপক ও কবিতার আলোকে বলা যায় কবিতায় ব্যক্তিজীবনের ছায়াপাত থাকলেও অনুষঙ্গ আলাদা। একজন লিখেছেন তাঁর সন্তানকে হারানোর বেদনা নিয়ে, আর কবি লিখেছেন তাঁর স্বামী হারানোর বেদনা নিয়ে। উদ্দীপকের কবি লিখেছেন গ্রীষ্মের দুপুরে গ্রাম্য পুকুরে সন্তান বিয়োগের কাহিনিকে কেন্দ্র করে, 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবি লিখেছেন শীতের সময়ে স্বামীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপক ও 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় ব্যক্তিজীবনের ঘটনার ছায়াপাত থাকলেও অনুষঙ্গ আলাদা।
Related Question
View Allকবি শীতকে মাঘের সন্ন্যাসীরূপে কল্পনা করেছেন
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!