পুষ্পারতি' হলো ফুলেল বন্দনা বা নিবেদন।
কবি-ভত্তের মনে হয় কবি যদি বসন্তকে বরণ না করেন তাহলে বসন্ত বৃথা। তাই তিনি কবির উদাসীনতা নিয়ে প্রশ্ন করেছেন।
প্রত্যেক বসন্তে কবি বসন্ত ঋতুকে বরণ করার জন্য নতুন সাজে সজ্জিত হন। তিনি বসন্তকে বরণ করেন বন্দনা সংগীত রচনার মাধ্যমে কিন্তু কবি এ বছর খুবই উদাসীন। তিনি এতটাই অন্যমনস্ক যে প্রকৃতিতে বসন্ত এসেছে কি না-তিনি তা জানেন না। দখিনা বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে কি না, বাতাবি নেবুর ফুল ফুটেছে কি না, আমের মুকুল, ধরেছে কি না তা তিনি খবর রাখেননি। কবির এই উদাসীনতা দেখে কবি-ভস্থ বিনম্রভাবে উক্ত প্রশ্ন করেছেন।
উদ্দীপকের গ্রীষ্ম ঋতুটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার শীত ঋতুকে মনে করিয়ে দেয়।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবি ব্যক্তিজীবনের বিয়োগ ব্যথা অত্যন্ত মর্মস্পর্শীভাবে তুলে ধরেছেন। শীত যেমন প্রকৃতিকে রিস্ত করে তেমনি কবির হৃদয়েও রিস্ত করে দিয়ে গেছে। এই জন্য প্রকৃতিতে বসন্ত এলেও কবির মনজুড়ে আছে শীতের রিস্ত ও বিষন্ন ছবি। কবির মন দুঃখ ভারাক্রান্ত। তাঁর কণ্ঠ নীরব। শীতের করুণ বিদায়কে তিনি কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। তাই বসন্ত তাঁর মনে কোনো সাড়া জাগাতে পারছে না।
উদ্দীপকে কবির ব্যক্তিজীবনের রিস্ততা ও বিষণ্ণতার ছবি এঁকেছেন। কোনো এক গ্রীষ্মে কবির ছোটো ছেলে জগতের মায়া ত্যাগ করে চলে যায়। তিন বছর আগের ঘটনা হলেও কবির হৃদয়জুড়ে সে ব্যথা উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে। তাই গ্রীষ্মের বেদনাবিধুর স্মৃতি অন্য কোনো ঋতুর। রূপবৈচিত্র্য মুছে দিতে পারছে না। পিতা-মাতা ও আত্মীয়-পরিজনকে ছেড়ে সন্তানের চলে যাওয়ার বেদনা কিছুতেই ভুলতে পারছেন না কবি। কবিতায় শীত ঋতু যেমন কবির হৃদয়ে রিক্ততা সৃষ্টি করেছে ঠিক তেমনি গ্রীষ্মের বিয়োগব্যথা কবিকে ব্যথাতুর করে তুলেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের গ্রীষ্ম ঋতুটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার শীত ঋতুকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
উদ্দীপক ও 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় ব্যক্তিজীবনের ঘটনার ছায়াপাত থাকলেও অনুষজ্ঞা আলাদা অর্থাৎ কবিতায় স্বামী হারানোর বেদনা আর উদ্দীপকের সন্তান হারানোর বেদনা প্রকাশ পেয়েছে।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির ব্যক্তিজীবনের দুঃখময় ছায়াপাত ঘটেছে। তাঁর সাহিত্যসাধনার প্রধান সহায়ক ও উৎসাহদাতা স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে কবির জীবনে প্রচণ্ড শূন্যতা নেমে আসে। তাঁর ব্যক্তিজীবন ও কাব্যসাধনার ক্ষেত্রে নেমে আসে এক দুঃসহ বিষণ্ণতা। কবিমন আচ্ছন্ন হয়ে যায় রিক্ততার হাহাকারে। তাই বসন্ত তাঁর মনে কোনো সাড়া জাগাতে পারছে না। বসন্তের সৌন্দর্য তার কাছে অর্থহীন, মনে কোনো আবেদন জানাতে পারছে না।
উদ্দীপকের কবিও সন্তান হারানোর বেদনায় কাতর। উদ্দীপকের কবিতায়ও ব্যক্তিজীবনের বেদনার ছায়াপাত ঘটেছে। কোনো এক গ্রীষ্মের দুপুরে কবির সন্তান গ্রামের পুকুরে পানিতে ডুবে মারা যায়। সন্তানের বিয়োগব্যথায় কবির মন দুঃখ ভারাক্রান্ত। এই জন্য বর্ষা, বসন্ত অন্য কোনো ঋতুই কবির নিকট আবেদনময়ী হচ্ছে না। কারণ কবির হৃদয়জুড়ে গ্রীষ্মের তাপদাহ বিরাজ করছে। সন্তান হারানোর বেদনা কিছুতেই হৃদয় থেকে মুছে যাচ্ছে না।
তাই উদ্দীপক ও কবিতার আলোকে বলা যায় কবিতায় ব্যক্তিজীবনের ছায়াপাত থাকলেও অনুষঙ্গ আলাদা। একজন লিখেছেন তাঁর সন্তানকে হারানোর বেদনা নিয়ে, আর কবি লিখেছেন তাঁর স্বামী হারানোর বেদনা নিয়ে। উদ্দীপকের কবি লিখেছেন গ্রীষ্মের দুপুরে গ্রাম্য পুকুরে সন্তান বিয়োগের কাহিনিকে কেন্দ্র করে, 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবি লিখেছেন শীতের সময়ে স্বামীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপক ও 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় ব্যক্তিজীবনের ঘটনার ছায়াপাত থাকলেও অনুষঙ্গ আলাদা।
Related Question
View Allকবি শীতকে মাঘের সন্ন্যাসীরূপে কল্পনা করেছেন
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!