সোনার তরী' কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
'চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা'- চরণটির মধ্য দিয়ে বর্ষার জলস্রোতবেষ্টিত ছোটো জমিটুকুর বিলীন হওয়ার আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি ব্যক্ত হয়েছে।
'সোনার তরী' কবিতায় কবি নানা রূপক এবং দৃশ্যের অবতারণা ঘটিয়েছেন। উদ্ধৃত অংশের মধ্য দিয়ে তেমনই অসাধারণ একটি দৃশ্যকল্প তৈরি হয়েছে। কবিতায় ধানখেতটি ছোটো দ্বীপের মতো কল্পিত। তার চারপাশে ঘূর্ণায়মান স্রোতের উদ্দামতা। নদীর 'বাঁকা জলস্রোত' পরিবেষ্টিত ছোট্ট জমিটুকুর আশু বিলীন হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে এ অংশে। এখানে বাঁকা জল কালস্রোতের প্রতীক।
উদ্দীপকে 'সোনার তরী' কবিতায় উল্লিখিত ব্যক্তিমানুষের মৃত্যুর বিপরী কর্মের অমরতার ভাবটি প্রকাশিত হয়েছে।
'সোনার তরী' কবিতায় কবি মহাকালের কাছে ব্যক্তিমানুষের অনিবার্য পরাজয়ের বিষয়টি মূর্ত করে তুলেছেন। কবি মনে করেন, কালস্রোতে সবকিছু ভেসে গেলেও, বেঁচে থাকে কেবল তার সুকীর্তিময় কর্ম। আর তাই কালের তরীতে ব্যক্তির কর্মফলের জায়গা হলেও ব্যক্তিমানুষের জায়গা হয় না। ব্যক্তিমানুষকে অনিবার্যভাবে অপেক্ষা করতে হয় বিলীন হওয়ার জন্য।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ক্ষণস্থায়ী জীবনে আমরা ভালোমন্দ ভুলে বিভিন্ন কাজে জড়িয়ে পড়ি। আমরা সৃষ্টির উদ্দেশ্য ভুলে গিয়ে ক্ষণস্থায়ী জীবনের প্রতি বেশি মনোযোগী হই। অথচ কৃতকর্ম ছাড়া সবকিছুই একদিন ম্লান হয়ে যাবে। 'সোনার তরী' কবিতায়ও আমরা এই ভাবসত্যটি পাই। কৃষকের সোনার ধান নৌকাতে স্থান পেলেও ব্যক্তি কৃষকের স্থান সেখানে হয় না। ব্যক্তি শুধু তার কর্মের জন্যই স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাই বলা যায় যে, আলোচ্য কবিতার ব্যক্তিমানুষের মৃত্যুর বিপরীতে কর্মের অমরতার ভাবটি উদ্দীপকেও ফুটে উঠেছে।
পৃথিবীতে মানুষের কর্মের ঠাঁই হলেও ব্যক্তিমানুষের ঠাঁই হয় না- 'সোনার তরী' কবিতার এই ভাবসত্যটি উদ্দীপকটিতেও ফুটে উঠেছে।
'সোনার তরী' কবিতায় কবি মানুষের জীবনের অনিবার্য পরিণতির দিকটির প্রতি আলোকপাত করেছেন। কবিতায় দেখা যায় কৃষক তাঁর সোনার ধান নিয়ে অপেক্ষা করছেন। কিছুক্ষণ পর নৌকা এসে কৃষকের ধান তুলে নিলেও কৃষককে ফেলে যায় শূন্য নদীর তীরে। অর্থাৎ পৃথিবীতে মানুষের মহৎ কর্মের স্থান হলেও ব্যক্তিমানুষের স্থান সেখানে হয় না।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে ক্ষণস্থায়ী জীবনে সৃষ্টিকর্মের দিকে গুরুত্ব না দিয়ে মানুষ নানা কাজে ব্যস্ত। অথচ সৃষ্টিকর্ম ছাড়া কোনোকিছুই মানুষকে পৃথিবীতে স্মরণীয় করে রাখতে পারবে না। টাকাপয়সা, ঘরবাড়ি সবই পড়ে থাকবে শুধু কৃতকর্মই মানুষকে পৃথিবীতে চিরস্মরণীয় করে রাখতে পারবে।
'সোনার তরী' কবিতায় ধান কেটে অপেক্ষমাণ এক কৃষকের বাস্তবতার অন্তরালে কবিতার ভাবসত্য উন্মোচন করেছেন কবি। তিনি মনে করেন, মৃত্যুই মানুষের অনিবার্য পরিণতি। একে কেউ রোধ করতে পারে না। তবে ব্যক্তিমানুষের মৃত্যু হলেও মৃত্যু তার কর্মকে স্পর্শ করতে পারে না। বস্তুত, যেকোনো মানুষ কীর্তিমান কিংবা বরণীয় হয়ে ওঠে তার কর্মের উৎকর্ষে। উদ্দীপকে মৃত্যুর পরও সুকীর্তিময় কর্মের মাধ্যমে মানুষের মনে বেঁচে থাকার এই দিকটি আলোচ্য কবিতার মূলভাবের সমান্তরাল। তাই বলা যায় যে, 'সোনার তরী' কবিতার উক্ত চরণ ও উদ্দীপকের ভাবসত্য, অভিন্ন- মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allচিকনাই শব্দের অর্থ কী
ব্যান্জনার্থে
উত্তর চাই
একজন কৃষক দ্বীপসদৃশ ধানখেতে তার সােনার ফসল নিয়ে অপেক্ষা করছে। ঘন বর্ষা আর তীব্র সােতের কারণে তীরে যাওয়ারও কোনাে ভরসা নেই— এ কথা বােঝাতেই উক্তিটি করা হয়েছে। ‘সােনার তরী’ কবিতায় কবির জীবনদর্শন চিত্রায়িত হয়েছে।
কবিতায় একজন কৃষক তার ধান নিয়ে ক্ষুরের মতাে ধারালাে বর্ষার স্রোতে ঘেরা দ্বীপসদৃশ ধানখেতে নানা আশঙ্কা নিয়ে অপেক্ষা করছে। সে সেখানে নিঃসঙ্গ, কারও কোনাে দেখা নেই। আকাশে ঘন ঘন মেঘ গর্জন করছে। এমন বৈরী পরিবেশে কৃষকরূপী কবি নিজের নিঃসঙ্গতা ও ভরসাহীনতাকে বােঝাতে গিয়ে কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা’ কথাটি বলেছেন। সারকথা : প্রশ্নোক্ত লাইনের মধ্য দিয়ে বৈরী পরিবেশে নিঃসঙ্গ এক কৃষকের ভরসাহীন অবস্থার কথা প্রকাশ পেয়েছে।
'কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা'—কবির এমন অনুভূতির কারণ কী?
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!