ঘরে বিথরে' শব্দগুচ্ছের অর্থ স্তরে স্তরে।
প্রশ্নোক্ত চরণটিতে কৃষকের সমগ্র অর্জন হিসেবে সোনার ধান মহাকালের তরীতে সমর্পণ এবং সেখানে তাঁর স্থান না পাওয়ার বেদনাবোধ, প্রকাশিত হয়েছে।
আলোচ্য কবিতায় কবি তাঁর উপলব্ধিজাত এক গভীর জীবনদর্শনকে তুলে ধরেছেন। মহাকাল মানুষের কর্মফলকে ধারণ করে, ব্যক্তিমানুষ সেখানে স্থান পায় না। আর তাই মহাকালরূপ মাঝি কৃষকের উৎপাদিত সমস্ত ফসল নিয়ে যায়; কিন্তু কৃষককে গ্রহণ করে না। ফলে অপূর্ণতার বেদনা নিয়ে কৃষককে অপেক্ষা করতে হয় মহাকালের স্রোতে বিলীন হওয়ার জন্য। প্রশ্নোক্ত চরণটির মধ্য দিয়ে কৃষকের কর্মফলরূপী সোনার ধান মহাকালের তরীতে সমর্পণ এবং অপূর্ণতার বেদনাবোধের দিকটি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের সাহিত্যকর্মের টিকে যাওয়ার দিকটির সঙ্গে 'সোনার তরী' কবিতার অন্তর্ভাবনার মিল রয়েছে।
'সোনার তরী' কবিতায় নিঃসঙ্গ কৃষকের জীবনের পরিণতির মধ্য দিয়ে ব্যক্তিমানুষের অনিবার্য পরিণতিকে নির্দেশ করেছেন কবি। কবিতার ছোটো খেতের মতোই মানুষের কর্মক্ষেত্র এই পৃথিবী। এখানে সারা জীবন মানুষকে কাজের পিছনে ছুটতে হয় এবং এ কাজই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে; ব্যক্তিমানুষ নয়। আলোচ্য কবিতায় সোনার তরী বহমান সময়ের প্রতীক, যেখানে শুধু মানুষের কর্মফলস্বরূপ সোনার ধানই টিকে থাকে, ব্যক্তিমানুষ নয়।
উদ্দীপকে নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের কথা বলা হয়েছে। সমাজ সংস্কারের উদ্দেশ্যে কলম ধরেছিলেন তিনি। বাঙালি মুসলিম নারীদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে তাঁর লেখা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশ্লেষণধর্মী এই লেখাই তাঁকে সমাজসচেতন সাহিত্যিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। রোকেয়া আজ বেঁচে নেই, কিন্তু আমরা তাঁর সাহিত্যকর্মের জন্য আজও তাঁকে স্মরণ করি। এ কৃতকর্মকেই আলোচ্য কবিতায় সোনার ধান বলে অভিহিত করা হয়েছে এবং এটিই কালের প্রবাহে টিকে থাকে। উদ্দীপকের রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের কৃতকর্ম হিসেবে তাঁর সাহিত্যকর্ম টিকে যাওয়ার এই প্রসঙ্গটিই আলোচ্য কবিতার সঙ্গে এর মিল নির্দেশ করে।
ব্যক্তিমানুষের কৃতকর্মই যে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে তা 'সোনার তরী' কবিতা ও উদ্দীপকটিতে ফুটে উঠেছে।
'সোনার তরী' কবিতায় কবি একজন কৃষকের রূপকল্পে ব্যক্তিমানুষের কর্মপরিণতির দিকটি ফুটিয়ে তুলেছেন। সেখানে দ্বীপের মতো একটি ধানখেতে রাশি রাশি সোনার ধান নিয়ে অপেক্ষমাণ একজন নিঃসঙ্গ ও বিপন্ন কৃষক। এমন সময় তরী বেয়ে এক মাঝি চলে যেতে থাকলে কৃষক তাকে ডেকে তরী কূলে ভেড়াতে বলেন এবং তাঁর উৎপাদিত সোনার ধান নৌকায় তুলে নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। মাঝি কৃষকের ফসল তরীতে তুলে নিলেও ব্যক্তিকৃষককে সে গ্রহণ করে না।
উদ্দীপকে মহীয়সী নারী রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের কথা বর্ণিত হয়েছে। বাংলার মুসলিম নারীদের শিক্ষিত করে তোলার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শুধু তা-ই নয়, নিজ লেখনীর মাধ্যমে তিনি মানুষকে সচেতন করে তোলেন এবং সমাজ সংস্কারেও ভূমিকা রাখেন। এমন জনকল্যাণমুখী কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি আজও স্মরণীয়। কর্মই তাঁকে মানুষের মনে বাঁচিয়ে রেখেছে। বস্তুত, মহাকাল মানুষের কীর্তিকে গ্রহণ করে, কিন্তু শরীরী মানুষ বিলীন হয়ে যায় কালের গর্ভে।
'সোনার তরী' একটি রূপকধর্মী কবিতা। এখানে একটি গ্রামীণ চিত্রপটে বিপন্ন এক কৃষকের বাস্তবতাকে উপজীব্য করে কবিতার ভাবসত্যকে উন্মোচন করা হয়েছে। আর তা হলো কালের প্রবাহে মানুষের মহৎ কর্মই কেবল টিকে থাকে; ব্যক্তিমানুষ নয়। তাকে অনিবার্যভাবে মহাকালের কালস্রোতে হারিয়ে যেতে হয়। উদ্দীপকের রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ক্ষেত্রেও এমনটি পরিলক্ষিত হয়। নারীদের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ থেকে আলোর পথে আসার প্রথম উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। তাঁর লেখা আজও দিকনির্দেশনা দিচ্ছে অবহেলিত ও বঞ্চিত নারীসমাজকে। আর তাই রোকেয়া বেঁচে না থাকলেও আজও আমরা তাঁকে স্মরণ করি তাঁর কৃতকর্মের জন্য। সে বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।
Related Question
View Allচিকনাই শব্দের অর্থ কী
ব্যান্জনার্থে
উত্তর চাই
একজন কৃষক দ্বীপসদৃশ ধানখেতে তার সােনার ফসল নিয়ে অপেক্ষা করছে। ঘন বর্ষা আর তীব্র সােতের কারণে তীরে যাওয়ারও কোনাে ভরসা নেই— এ কথা বােঝাতেই উক্তিটি করা হয়েছে। ‘সােনার তরী’ কবিতায় কবির জীবনদর্শন চিত্রায়িত হয়েছে।
কবিতায় একজন কৃষক তার ধান নিয়ে ক্ষুরের মতাে ধারালাে বর্ষার স্রোতে ঘেরা দ্বীপসদৃশ ধানখেতে নানা আশঙ্কা নিয়ে অপেক্ষা করছে। সে সেখানে নিঃসঙ্গ, কারও কোনাে দেখা নেই। আকাশে ঘন ঘন মেঘ গর্জন করছে। এমন বৈরী পরিবেশে কৃষকরূপী কবি নিজের নিঃসঙ্গতা ও ভরসাহীনতাকে বােঝাতে গিয়ে কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা’ কথাটি বলেছেন। সারকথা : প্রশ্নোক্ত লাইনের মধ্য দিয়ে বৈরী পরিবেশে নিঃসঙ্গ এক কৃষকের ভরসাহীন অবস্থার কথা প্রকাশ পেয়েছে।
'কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা'—কবির এমন অনুভূতির কারণ কী?
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!