উত্তরঃ

'সোনার তরী' কবিতায় মাঝি মহাকাল বা সময়ের প্রতীক।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

'বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে'—পঙক্তিটিতে পরাধীন জাতির গভীর আকুলতা ও মুক্তির জন্য ব্যাকুল প্রার্থনা প্রকাশ পেয়েছে। এটি একটি অস্থির ও সংকটময় সময়ে কান্ডারী বা নেতাকে উদ্দেশ করে জাতির চরম অসহায়ত্ব ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছে।

এই পঙক্তির মাধ্যমে জাতি তাদের জীবনে বয়ে চলা দুর্দশা ও সংকটের অবসান ঘটিয়ে একটি নিরাপদ ও শান্তিময় আশ্রয়স্থলে পৌঁছানোর তীব্র বাসনা প্রকাশ করেছে। এখানে 'তরী' বলতে জাতিকে এবং 'কূল' বলতে স্বাধীনতা ও মুক্তিকে বোঝানো হয়েছে। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পেতে এবং সংকটময় পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে জনগণের আকুল আবেদনই এ পঙক্তিতে ফুটে উঠেছে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানীর দেহগতভাবে বেঁচে না থাকা সত্ত্বেও তাঁর কর্মের মাধ্যমে অমর হয়ে থাকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কবিতার সেই বিশেষ দিকটিকে ইঙ্গিত করে যেখানে ব্যক্তি নশ্বর হলেও তার সৃষ্টিকর্ম বা অবদান অমর হয়ে থাকে।

'সোনার তরী' কবিতায় দেখা যায়, কৃষক তার উৎপাদিত সোনার ফসল নৌকার মাঝিকে তুলে দেয়, কিন্তু কৃষককে নৌকায় জায়গা দেওয়া হয় না। এখানে সোনার ফসল মানবজাতির জন্য কৃষকের মহৎ কর্মের প্রতীক এবং মাঝি হচ্ছে কাল বা সময়ের প্রতীক। এর মাধ্যমে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, ব্যক্তি মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু তার সৃষ্ট মহৎ কর্ম বা অবদান কালের মহাযাত্রায় বিলীন না হয়ে চিরকাল টিকে থাকে।

নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী তাঁর ওয়াকফনামা দলিলে মানবদেহের ক্ষণভঙ্গুরতা উপলব্ধি করে নিজের অবশিষ্ট জীবন ঈশ্বরের উপাসনা ও সম্পত্তির উপস্বত্ব ধর্ম ও সৎকার্যে ব্যয়ের সংকল্প ব্যক্ত করেছিলেন। তাঁর নারী শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনহিতকর কাজগুলোই হলো তাঁর 'সোনার ফসল'। উদ্দীপকে বর্ণিত তাঁর 'দেহগতভাবে' বেঁচে না থাকা সত্ত্বেও কর্মের মধ্য দিয়ে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকার বিষয়টি 'সোনার তরী' কবিতার এই বার্তাই বহন করে যে, ব্যক্তি মানুষ মরণশীল হলেও তার মহৎ কর্ম তাকে অমরত্ব দান করে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপক ও 'সোনার তরী' কবিতার মূলভাব অভিন্ন'- মন্তব্যটি যথার্থ। মানবজীবন ক্ষণস্থায়ী হলেও কর্মের মধ্য দিয়ে মানুষ অমরত্ব লাভ করতে পারে – এই চিরায়ত সত্যটি উদ্দীপক এবং 'সোনার তরী' উভয়ক্ষেত্রেই প্রতিধ্বনিত হয়েছে।

উদ্দীপকে আমরা নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানীর মহৎ জীবন ও কর্মের পরিচয় পাই। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে মানবদেহ ক্ষণভঙ্গুর এবং এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই তিনি তার অবশিষ্ট জীবন ঈশ্বর উপাসনা এবং তার সম্পত্তির উপস্বত্ব জনহিতকর ও ধর্মীয় কাজে ব্যয় করার সংকল্প করেন। নারী শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কাজে তার অবদান তাকে ইতিহাসে স্মরণীয় করে রেখেছে। তিনি দেহগতভাবে না থাকলেও তার কর্মের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে চিরঞ্জীবী হয়ে আছেন।

অন্যদিকে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কবিতায় একজন কৃষকের ফসল তোলার চিত্রকল্পের মধ্য দিয়ে জীবনের গভীর সত্য উন্মোচিত হয়েছে। কৃষক তার উৎপাদিত ফসলকে (কর্মফল) অত্যন্ত মূল্যবান মনে করে এবং নদী পার হয়ে যাওয়া সোনার তরীর মাঝিকে অনুরোধ করে তার ফসল নিয়ে যেতে। কৃষক নিজে তরীতে স্থান না পেলেও তার ফসল অর্থাৎ তার শ্রম ও সৃষ্টি তরীতে ঠাঁই পায়, যা প্রতীকী অর্থে বোঝায় যে মানুষ ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু তার সৃষ্টিকর্ম ও সৎকর্ম অমর। মানুষের অস্তিত্ব নদীর স্রোতে বিলীন হলেও তার কর্ম মানুষের মাঝে বেঁচে থাকে।

সুতরাং, উদ্দীপকে নওয়াব ফয়জুন্নেসার মানবহিতৈষী কর্মের মাধ্যমে অমর হয়ে থাকার বাসনা এবং 'সোনার তরী' কবিতায় কৃষকের ফসল (কর্ম) সংরক্ষণ ও নিজ জীবনের ক্ষণস্থায়ীত্বের বেদনা – উভয়ক্ষেত্রেই মানবজীবন ও তার সৃষ্টির অমরত্বের বার্তা ফুটে উঠেছে। পরিস্থিতির ভিন্নতা থাকলেও উভয় ক্ষেত্রেই এই মৌলিক সত্যটি প্রকাশিত হয়েছে যে, ব্যক্তি মরণশীল হলেও তার মহৎ কর্ম তাকে অমরত্ব দান করে। তাই বলা যায়, মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ গ্রহণ করে/বরণ করে/নির্বাচন করে

'বরিয়া' শব্দটি বাংলা ভাষার একটি প্রাচীন বা কাব্যিক রূপ। এর আভিধানিক অর্থ হলো বরণ করে, গ্রহণ করে, নির্বাচন করে অথবা পছন্দ করে। এটি 'বরণ করা' ক্রিয়ার অসমাপিকা ক্রিয়া, যা ক্রিয়ার বিশেষ্যবাচক রূপ বোঝায়। আধুনিক বাংলায় এর ব্যবহার অপেক্ষাকৃত কম, তবে সাহিত্য ও কাব্যে এর প্রয়োগ দেখা যায়।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

'দক্ষিণ দুয়ার গেছে খুলি?'—কবির এই জিজ্ঞাসার কারণ হলো তার নিজের কাব্য সাধনার সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'ঐকতান' কবিতায় নিজের সৃষ্টিকর্মে সাধারণ মানুষের জীবনের বহুমাত্রিক দিকগুলোকে সম্পূর্ণরূপে ধারণ করতে না পারার আক্ষেপ থেকেই এমন প্রশ্ন করেছেন।

এখানে 'দক্ষিণ দুয়ার' বলতে সাধারণ মানুষের জীবন, তাদের আনন্দ-বেদনা, আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং বৃহত্তর জনজীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতার দুয়ারকে বোঝানো হয়েছে। কবি এই প্রশ্নটির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কবিদের প্রতি এমন এক প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন, যাঁরা এই বৃহত্তর জনজীবনের দুয়ার খুলে তাদের সুখ-দুঃখের কথা কাব্যে তুলে ধরবেন এবং তাঁর নিজের সীমাবদ্ধতা পূরণ করে কবিতার জগৎকে আরও বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জীবনঘনিষ্ঠ করে তুলবেন।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের তামিম সাহেবের সাথে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির (সুফিয়া কামাল) সাদৃশ্য রয়েছে। উভয়েই প্রিয়জনের আকস্মিক বিয়োগব্যথায় শোকাচ্ছন্ন হয়ে প্রকৃতির স্বাভাবিক সৌন্দর্যে বা আনন্দ উৎসবে সাড়া দিতে পারছেন না।

'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবি সুফিয়া কামাল বসন্তের আগমনকে উপেক্ষা করে চলেছেন। শীতের রিক্ততা পার হয়ে প্রকৃতির বুকে যখন বসন্তের অফুরন্ত সৌন্দর্য ডানা মেলে ধরেছে, তখন বসন্তের দূত বারবার কবিকে বসন্ত বন্দনা করতে অনুরোধ করলেও কবি তাতে সাড়া দেননি। কারণ তার স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে কবির মন শোকে মুহ্যমান। প্রিয়জনের অভাব তাকে এতটাই ব্যথিত করেছে যে প্রকৃতির কোনো আনন্দই তাকে স্পর্শ করতে পারছে না।

উদ্দীপকে তামিম সাহেবও ছিলেন প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণবিলাসী একজন ব্যক্তি। কিন্তু তার একমাত্র মেয়ে মাহজাবীনের অকাল মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে শোকাহত। প্রিয় কন্যার মৃত্যুতে তার হৃদয় এতটাই ভারাক্রান্ত যে তিনি প্রকৃতির নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে আর মুগ্ধ হতে পারছেন না, সবকিছুই তার কাছে বিষাদময় মনে হচ্ছে। 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির মতো তামিম সাহেবও প্রিয়জন হারানোর গভীর বেদনায় বিহ্বল হয়ে প্রকৃতির স্বাভাবিক সৌন্দর্যে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন, যা তাদের মধ্যে গভীর সাদৃশ্য নির্দেশ করে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত তামিম সাহেবের মানসিক অবস্থা 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূলভাবকে অত্যন্ত নিপুণভাবে তুলে ধরেছে। উভয় ক্ষেত্রেই প্রিয়জন হারানোর গভীর শোক প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের আনন্দকে ম্লান করে দেয়।

উদ্দীপকে তামিম সাহেবকে একজন ভ্রমণবিলাসী ও প্রকৃতিপ্রেমিক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যিনি পরিবারের সাথে দেশ-বিদেশের দর্শনীয় স্থানে বেড়াতে পছন্দ করতেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া একমাত্র মেয়ে মাহজাবীনের আকস্মিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু তার জীবনে এক গভীর শোকের ছায়া নিয়ে আসে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর তামিম সাহেব সবকিছুতেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন; প্রকৃতির নয়নাভিরাম সৌন্দর্যও তার মনকে আর আকর্ষণ করে না, সবকিছুই তার কাছে বিষাদময় মনে হয়।

'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূলভাব হলো প্রিয়জন হারানোর বেদনায় কবির মন এতটাই আচ্ছন্ন যে বসন্তের আগমনী সুর বা প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্য তাকে স্পর্শ করতে পারে না। বসন্তের আনন্দময় পরিবেশেও কবি তার মৃত স্বামীর স্মৃতিতে ডুবে থাকেন এবং প্রকৃতির উচ্ছ্বাসকে গ্রহণ করতে পারেন না। একইভাবে, উদ্দীপকের তামিম সাহেব তার একমাত্র মেয়ের মৃত্যুতে এতটাই শোকাচ্ছন্ন যে পূর্বেকার প্রকৃতিপ্রেমী সত্তা হারিয়ে গেছে; এখন প্রকৃতির কোনো সৌন্দর্যই তার মনে আনন্দ দিতে পারছে না। প্রকৃতির বাইরের আনন্দ আর ভেতরের শোকের এই দ্বান্দ্বিকতাই কবিতার মূল সুর, যা তামিম সাহেবের জীবনের বাস্তবতায় প্রতিধ্বনিত হয়েছে।

সুতরাং, উদ্দীপকটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার সেই শাশ্বত মূলভাবকেই ধারণ করেছে যেখানে মানবজীবনের গভীর ব্যক্তিগত দুঃখ প্রকৃতির বাহ্যিক সৌন্দর্য ও আনন্দকে অর্থহীন করে তোলে। প্রিয়জন হারানোর বেদনা যে জীবনের সকল আনন্দকে ম্লান করে দিতে পারে, উদ্দীপক ও কবিতা উভয়েই তার মর্মস্পর্শী চিত্রায়ণ ঘটিয়েছে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

'তাজা তাজা প্রাণে অলহ্য যন্ত্রণা' বলতে বোঝায় তরুণ, সতেজ ও প্রাণবন্ত জীবনে তীব্র কষ্ট, বেদনা বা দুর্ভোগ, যা সহজে সহ্য করা যায় না। এটি তারুণ্যের অদম্য স্পৃহা ও সম্ভাবনার বিপরীতে বিদ্যমান প্রতিকূলতা, অত্যাচার, বঞ্চনা বা আত্মত্যাগের কারণে সৃষ্ট গভীর মনোকষ্টকে নির্দেশ করে।

এই যন্ত্রণা সাধারণত সেইসব তরুণদের জীবনকে নির্দেশ করে যারা দেশ, সমাজ বা মানুষের কল্যাণে নিজেদের উৎসর্গ করে, কিন্তু তার বিনিময়ে পায় শুধু অবহেলা, নির্যাতন বা অকালমৃত্যু। এটি তারুণ্যের শক্তি ও উদ্দীপনার মধ্যেও যে অদৃশ্য বেদনা লুকিয়ে থাকতে পারে, সেই দিকটিকে তুলে ধরে, যা তাদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে ব্যাহত করে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপক এবং 'আঠারো বছর বয়স' কবিতা উভয়ক্ষেত্রেই তারুণ্যের অমিত শক্তি, অপ্রতিরোধ্য গতি ও অফুরন্ত সম্ভাবনার দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণভাবে ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকে তরুণদের যে জয়ী বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে, তা সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতায় বর্ণিত আঠারো বছর বয়সের দুরন্ত, দুঃসাহসী ও প্রাণোচ্ছল তারুণ্যেরই প্রতিচ্ছবি, যা সমাজ ও জীবনে নতুন কিছু করার স্বপ্ন দেখে।

'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য আঠারো বছরকে এক দুঃসাহসিক ও গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে চিত্রিত করেছেন। এই বয়সে তরুণরা একদিকে যেমন অদম্য সাহস ও উদ্যম নিয়ে নতুন কিছু সৃষ্টির স্বপ্ন দেখে, তেমনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতেও দ্বিধা করে না। এটি এমন এক বয়স যখন জীবনকে সম্পূর্ণভাবে উপলব্ধি করা যায় এবং ভবিষ্যৎ গড়ার বীজ রোপণ করা হয়, যা অসংখ্য বাধা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও অবিচল থাকে।

উদ্দীপকেও তারুণ্যের এই অমিত সম্ভাবনাময় দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকের তরুণ, যার শক্তি অপরিমাণ, গতিবেগ ঝঞ্ঝার ন্যায়, তেজ নির্মেঘ আষাঢ় মধ্যাহ্নের মার্তণ্ডপ্রায় এবং অটল সাধনা রয়েছে, সে যেন 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার সেই তারুণ্য, যারা নতুন দিনের স্বপ্ন দেখে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং অসীম সাহসিকতার সাথে সমস্ত বাধা অতিক্রম করতে চায়। উভয়ক্ষেত্রেই তারুণ্যকে মানবজাতির অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা জয় ও সাফল্যের প্রতীক।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে তারুণ্যের কিছু মহৎ ও ইতিবাচক দিক প্রকাশিত হলেও সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় বর্ণিত তারুণ্যের সমগ্র বৈশিষ্ট্য এতে অনুপস্থিত। আঠারো বছর বয়স কেবল অফুরন্ত প্রাণশক্তি ও সাহসের প্রতীক নয়, বরং এটি জীবনের এক জটিল পর্যায় যেখানে বিপদ ও সম্ভাবনার সহাবস্থান ঘটে।

প্রদত্ত উদ্দীপকে তারুণ্যের যে দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে, তা মূলত ইতিবাচক ও শক্তিশালী। এখানে বলা হয়েছে, তরুণ তারাই যাদের শক্তি অপরিমাণ, গতিবেগ ঝঞ্ঝার ন্যায়, তেজ নির্মেঘ আষাঢ় মধ্যাহ্নের সূর্যের মতো, বিপুল আশা, ক্লান্তিহীন উৎসাহ, বিরাট ঔদার্য, অফুরন্ত প্রাণ, অটল সাধনা এবং যারা মৃত্যুকে হাতের মুঠোয় রাখে। এটি 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার সেই তারুণ্যের প্রতিচ্ছবি যেখানে তরুণরা অসাধ্য সাধনে ব্রতী হয়, জীবনের ঝুঁকি নেয় এবং প্রবল উদ্দীপনায় এগিয়ে চলে।

তবে, 'আঠারো বছর বয়স' কবিতা কেবল তারুণ্যের এই উজ্জ্বল দিকটিকেই তুলে ধরে না, বরং এর ভয়ঙ্কর, বিপজ্জনক ও চ্যালেঞ্জিং দিকগুলোও বর্ণনা করে। কবিতায় বলা হয়েছে, আঠারো বছর বয়স দুঃসাহসের সাধনা, এ বয়স পথ চলতে গিয়ে 'ক্ষতবিক্ষত হয়', 'রক্তের অক্ষর' লিখে, 'যন্ত্রণা' সয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করে। এ সময় তরুণরা ভুল পথে গিয়ে সমাজ ও নিজের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। উদ্দীপকে তারুণ্যের এই সংকটময়, দ্বিধাপূর্ণ এবং কদাচিৎ ধ্বংসাত্মক দিকটির কোনো উল্লেখ নেই। এটি কেবলমাত্র তারুণ্যের জয়ী ও আত্মবিশ্বাসী রূপটিই ফুটিয়ে তুলেছে, যেখানে কবিতার সামগ্রিক চিত্রটি অনুপস্থিত।

সুতরাং, উদ্দীপকের বর্ণনা তারুণ্যের একপেশে চিত্র তুলে ধরেছে যা 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার গভীর ও বাস্তবসম্মত প্রেক্ষাপট থেকে অনেকটাই ভিন্ন। কবিতার তারুণ্য একদিকে যেমন সৃষ্টি ও ধ্বংসের ক্ষমতা রাখে, তেমনি অন্যদিকে এর মধ্যে থাকে ভুল করার সম্ভাবনা এবং সেই ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার মধ্য দিয়ে পরিণতি লাভের প্রক্রিয়া। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় বর্ণিত তারুণ্যের সকল বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয়নি – মন্তব্যটি যথার্থ।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
216


গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা। 
কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা। 
রাশি রাশি ভারা ভারা
 ধান কাটা হলো সারা,
 ভরা নদী ক্ষুরধারা 
খরপরশা-
কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা ৷৷ 
একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা- 
চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা ॥ 
পরপারে দেখি আঁকা 
তরুছায়ামসী-মাখা 
গ্রামখানি মেঘে ঢাকা
প্রভাতবেলা- 
এপারেতে ছোটো খেত, আমি একেলা ৷৷ 
গান গেয়ে তরী বেয়ে কে আসে পারে! 
দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে । 
ভরা পালে চলে যায়,
কোনো দিকে নাহি চায়,
ঢেউগুলি নিরুপায়
ভাঙে দু ধারে-
দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে ৷।
ওগো, তুমি কোথা যাও কোন বিদেশে? 
বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে।
যারে খুশি তারে দাও -
যেয়ো যেথা যেতে চাও,
শুধু তুমি নিয়ে যাও
ক্ষণিক হেসে
আমার সোনার ধান কূলেতে এসে ॥
যত চাও তত লও তরণী-পরে ।
আর আছে— আর নাই, দিয়েছি ভরে ॥
এতকাল নদীকূলে
যাহা লয়ে ছিনু ভুলে
সকলি দিলাম তুলে
থরে বিথরে- 
এখন আমারে লহো করুণা করে ৷৷
ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই— ছোটো সে তরী 
আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।
শ্রাবণগগন ঘিরে
ঘন মেঘ ঘুরে ফিরে,
শূন্য নদীর তীরে
রহিনু পড়ি-
যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী ।।

Related Question

View All
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews