ভ্রমণবিলাসী ও প্রকৃতিপ্রেমিক তামিম সাহেব সুযোগ পেলেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেশ-বিদেশের দর্শনীয় স্থানে বেড়াতে যেতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মেয়ে মাহজাবীন বাসায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। একমাত্র মেয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। মেয়েকে হারিয়ে তামিম সাহেব আজ নির্বাক, নিখর। প্রকৃতির নয়নাভিরাম সৌন্দর্য তার মনকে এখন আর আকর্ষণ করে না। সবকিছুই যেন আজ বিষাদময়।

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ গ্রহণ করে/বরণ করে/নির্বাচন করে

'বরিয়া' শব্দটি বাংলা ভাষার একটি প্রাচীন বা কাব্যিক রূপ। এর আভিধানিক অর্থ হলো বরণ করে, গ্রহণ করে, নির্বাচন করে অথবা পছন্দ করে। এটি 'বরণ করা' ক্রিয়ার অসমাপিকা ক্রিয়া, যা ক্রিয়ার বিশেষ্যবাচক রূপ বোঝায়। আধুনিক বাংলায় এর ব্যবহার অপেক্ষাকৃত কম, তবে সাহিত্য ও কাব্যে এর প্রয়োগ দেখা যায়।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

'দক্ষিণ দুয়ার গেছে খুলি?'—কবির এই জিজ্ঞাসার কারণ হলো তার নিজের কাব্য সাধনার সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'ঐকতান' কবিতায় নিজের সৃষ্টিকর্মে সাধারণ মানুষের জীবনের বহুমাত্রিক দিকগুলোকে সম্পূর্ণরূপে ধারণ করতে না পারার আক্ষেপ থেকেই এমন প্রশ্ন করেছেন।

এখানে 'দক্ষিণ দুয়ার' বলতে সাধারণ মানুষের জীবন, তাদের আনন্দ-বেদনা, আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং বৃহত্তর জনজীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতার দুয়ারকে বোঝানো হয়েছে। কবি এই প্রশ্নটির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কবিদের প্রতি এমন এক প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন, যাঁরা এই বৃহত্তর জনজীবনের দুয়ার খুলে তাদের সুখ-দুঃখের কথা কাব্যে তুলে ধরবেন এবং তাঁর নিজের সীমাবদ্ধতা পূরণ করে কবিতার জগৎকে আরও বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জীবনঘনিষ্ঠ করে তুলবেন।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের তামিম সাহেবের সাথে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির (সুফিয়া কামাল) সাদৃশ্য রয়েছে। উভয়েই প্রিয়জনের আকস্মিক বিয়োগব্যথায় শোকাচ্ছন্ন হয়ে প্রকৃতির স্বাভাবিক সৌন্দর্যে বা আনন্দ উৎসবে সাড়া দিতে পারছেন না।

'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবি সুফিয়া কামাল বসন্তের আগমনকে উপেক্ষা করে চলেছেন। শীতের রিক্ততা পার হয়ে প্রকৃতির বুকে যখন বসন্তের অফুরন্ত সৌন্দর্য ডানা মেলে ধরেছে, তখন বসন্তের দূত বারবার কবিকে বসন্ত বন্দনা করতে অনুরোধ করলেও কবি তাতে সাড়া দেননি। কারণ তার স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে কবির মন শোকে মুহ্যমান। প্রিয়জনের অভাব তাকে এতটাই ব্যথিত করেছে যে প্রকৃতির কোনো আনন্দই তাকে স্পর্শ করতে পারছে না।

উদ্দীপকে তামিম সাহেবও ছিলেন প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণবিলাসী একজন ব্যক্তি। কিন্তু তার একমাত্র মেয়ে মাহজাবীনের অকাল মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে শোকাহত। প্রিয় কন্যার মৃত্যুতে তার হৃদয় এতটাই ভারাক্রান্ত যে তিনি প্রকৃতির নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে আর মুগ্ধ হতে পারছেন না, সবকিছুই তার কাছে বিষাদময় মনে হচ্ছে। 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির মতো তামিম সাহেবও প্রিয়জন হারানোর গভীর বেদনায় বিহ্বল হয়ে প্রকৃতির স্বাভাবিক সৌন্দর্যে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন, যা তাদের মধ্যে গভীর সাদৃশ্য নির্দেশ করে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত তামিম সাহেবের মানসিক অবস্থা 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূলভাবকে অত্যন্ত নিপুণভাবে তুলে ধরেছে। উভয় ক্ষেত্রেই প্রিয়জন হারানোর গভীর শোক প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের আনন্দকে ম্লান করে দেয়।

উদ্দীপকে তামিম সাহেবকে একজন ভ্রমণবিলাসী ও প্রকৃতিপ্রেমিক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যিনি পরিবারের সাথে দেশ-বিদেশের দর্শনীয় স্থানে বেড়াতে পছন্দ করতেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া একমাত্র মেয়ে মাহজাবীনের আকস্মিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু তার জীবনে এক গভীর শোকের ছায়া নিয়ে আসে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর তামিম সাহেব সবকিছুতেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন; প্রকৃতির নয়নাভিরাম সৌন্দর্যও তার মনকে আর আকর্ষণ করে না, সবকিছুই তার কাছে বিষাদময় মনে হয়।

'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূলভাব হলো প্রিয়জন হারানোর বেদনায় কবির মন এতটাই আচ্ছন্ন যে বসন্তের আগমনী সুর বা প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্য তাকে স্পর্শ করতে পারে না। বসন্তের আনন্দময় পরিবেশেও কবি তার মৃত স্বামীর স্মৃতিতে ডুবে থাকেন এবং প্রকৃতির উচ্ছ্বাসকে গ্রহণ করতে পারেন না। একইভাবে, উদ্দীপকের তামিম সাহেব তার একমাত্র মেয়ের মৃত্যুতে এতটাই শোকাচ্ছন্ন যে পূর্বেকার প্রকৃতিপ্রেমী সত্তা হারিয়ে গেছে; এখন প্রকৃতির কোনো সৌন্দর্যই তার মনে আনন্দ দিতে পারছে না। প্রকৃতির বাইরের আনন্দ আর ভেতরের শোকের এই দ্বান্দ্বিকতাই কবিতার মূল সুর, যা তামিম সাহেবের জীবনের বাস্তবতায় প্রতিধ্বনিত হয়েছে।

সুতরাং, উদ্দীপকটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার সেই শাশ্বত মূলভাবকেই ধারণ করেছে যেখানে মানবজীবনের গভীর ব্যক্তিগত দুঃখ প্রকৃতির বাহ্যিক সৌন্দর্য ও আনন্দকে অর্থহীন করে তোলে। প্রিয়জন হারানোর বেদনা যে জীবনের সকল আনন্দকে ম্লান করে দিতে পারে, উদ্দীপক ও কবিতা উভয়েই তার মর্মস্পর্শী চিত্রায়ণ ঘটিয়েছে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
52

“হে কবি, নীরব কেন ফাগুন যে এসেছে ধরায়, বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?”

কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি-

“দক্ষিণ দুয়ার গেছে খুলি?

বাতাবি নেবুর ফুল ফুটেছে কি? ফুটেছে কি আমের মুকুল?

দখিনা সমীর তার গন্ধে গন্ধে হয়েছে কি অধীর আকুল?”

“এখনো দেখনি তুমি?” কহিলাম, “কেন কবি আজ

এমন উন্মনা তুমি? কোথা তব নব পুষ্পসাজ?”

কহিল সে সুদূরে চাহিয়া-

“অলখের পাথার বাহিয়া

তরী তার এসেছে কি? বেজেছে কি আগমনী গান? ডেকেছে কি সে আমারে? শুনি নাই, রাখি নি সন্ধান।”

কহিলাম, “ওগো কবি! রচিয়া লহ না আজও গীতি, বসন্ত-বন্দনা তব কণ্ঠে শুনি- এ মোর মিনতি ।”

কহিল সে মৃদু মধু-স্বরে-

“নাই হলো, না হোক এবারে-

আমারে গাহিতে গান, বসন্তেরে আনিতে বরিয়া-

রহেনি, সে ভুলেনি তো, এসেছে তা ফাগুনে স্মরিয়া।”

কহিলাম : “ওগো কবি, অভিমান করেছ কি তাই? যদিও এসেছে তবু তুমি তারে করিলে বৃথাই।” 

কহিল সে পরম হেলায়- 

"বৃথা কেন? ফাগুন বেলায় 

ফুল কি ফোটেনি শাখে? পুষ্পারতি লভেনি কি ঋতুর রাজন?

মাধবী কুঁড়ির বুকে গন্ধ নাহি? করে নাই অর্ঘ্য বিরচন?” 

“হোক, তবু বসন্তের প্রতি কেন এই তব তীব্র বিমুখতা?” 

কহিলাম, “উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা?”

কহিল সে কাছে সরে আসি -

“কুহেলি উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী-

গিয়াছে চলিয়া ধীরে পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে

রিক্ত হস্তে! তাহারেই পড়ে মনে, ভুলিতে পারি না কোনো মতে ।”

Related Question

View All
উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘একরাত্রি’ গল্পের সুরবালার কথা বলা হয়েছে।
Satt AI
Satt AI
6 days ago
1.7k
উত্তরঃ

‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটিতে কবির অনুরাগী বা কল্পিত বসন্ত-দূত এবং স্বয়ং কবির মধ্যে কথোপকথনের মধ্য দিয়ে কাব্যিক অনুভব প্রকাশিত হয়েছে। এই সংলাপধর্মী উপস্থাপনা কবিতাটিকে একটি নাটকীয় গুণসম্পন্ন করে তুলেছে।

বসন্তের আগমন ও তার রূপ-রস-গন্ধের প্রতি কবির উদাসীনতা এবং বসন্ত-দূতের তা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা—এই পরস্পরবিরোধী আবেগ ও তাদের বাচনিক আদান-প্রদান কবিতাটিতে এক ধরনের নাট্যিক আবহ সৃষ্টি করেছে। একজন দর্শক যেমন মঞ্চে দুই চরিত্রের কথোপকথন প্রত্যক্ষ করে, তেমনি পাঠক এখানে কবির ভেতরের দ্বন্দ্বকে সংলাপের মাধ্যমে অনুভব করে, যা একে নাটকীয় করে তোলে।

Satt AI
Satt AI
5 days ago
812
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বসন্তের রূপে মুগ্ধতা প্রকাশ পেলেও তার গভীরে একটি অব্যক্ত বিষাদের সুর ধ্বনিত হয়েছে, যা 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূল সুরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বসন্তের আগমনে প্রকৃতিতে যে আনন্দ আর উৎসবের আবহ তৈরি হয়, তা উদ্দীপকের বক্তার মনে অনাবিল আনন্দ জাগাতে পারেনি; বরং তার মনে এক অজানা বিষণ্ণতা বা উদাসীনতা খেলা করে, যা তাকে বসন্তের কোলাহল থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখে।

উদ্দীপকের প্রথম স্তবকে বসন্তের চিরন্তন রূপ বর্ণনা করা হয়েছে—কোকিলের ডাক, বকুল ফুলের ঝরে পড়া, সুগন্ধে মন বিলীন হওয়া। দ্বিতীয় স্তবকে আম্রবীথির পুলকিত রূপ এবং মধুকরের গুঞ্জরণের কথা বলা হলেও, শেষ চরণে প্রশ্ন করা হয়েছে, "কেন আলি অকারণে সারা বেলা আনমনে পরানে বাজায় বীণা কে গো উদাসীন।" এই পঙক্তিটি বসন্তের আনন্দময় পরিবেশের মধ্যে বক্তার আত্মগত বিষাদ বা উদাসীনতাকে স্পষ্ট করে তোলে। বাহ্যিক প্রকৃতির উৎসবমুখরতার মাঝেও বক্তার অন্তর এক নিভৃত দুঃখবোধে আচ্ছন্ন, যা তাকে প্রকৃতির আনন্দের সঙ্গে একাত্ম হতে বাধা দিচ্ছে।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবি সুফিয়া কামাল একইভাবে বসন্তের প্রকৃতির আনন্দ উৎসবে নিজেকে সমর্পিত করতে পারেননি। কবির এক ভক্ত যখন বসন্ত বন্দনা করার অনুরোধ করেন, তখন কবি জানান যে, তার মন প্রিয়জনের শোকে আচ্ছন্ন থাকায় তিনি বসন্তের রূপ, রস, গন্ধ উপলব্ধি করতে পারছেন না। বসন্তের আগমন তার মনে কোনো চাঞ্চল্য তৈরি করতে পারেনি, কারণ তার মন প্রিয়জনের স্মৃতির গভীরে নিমজ্জিত। উদ্দীপকের বক্তার মনেও বসন্তের আনন্দ বাহ্যিক রূপে ধরা দিলেও, তার হৃদয়ের গহীনে কোনো এক বিষাদ বা উদাসীনতা তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে, যা 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূল ভাবনারই প্রতিফলন।

সুতরাং, উদ্দীপকের মূলসুর হলো বসন্তের কোলাহলময় সৌন্দর্যের মাঝেও এক অন্তরীণ বিষাদ বা উদাসীনতার অনুভব, যা 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির ব্যক্তিজীবনের শোকের কারণে বসন্তকে বরণ করতে না পারার অভিব্যক্তির সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ। উভয় ক্ষেত্রেই বাহ্যিক বসন্তের আবাহন সত্ত্বেও মনের গভীরে প্রোথিত দুঃখ বা স্মৃতির ভার আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছে।

Satt AI
Satt AI
5 days ago
390
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews