উত্তরঃ

Globalization = বিশ্বায়ন

উত্তরঃ

Rank = পদমর্যাদা

উত্তরঃ

Note = মন্তব্য

উত্তরঃ

Pay-bill = বেতন-বিল

উত্তরঃ

Legend = কিংবদন্তি

উত্তরঃ

Brand = মার্কা/ছাপ

উত্তরঃ

Foreign-aid = বৈদেশিক সাহায্য

উত্তরঃ

Registration = নিবন্ধন

উত্তরঃ

Ballot = ভোট

উত্তরঃ

Public = জনসাধারণ

উত্তরঃ

Nationalism = জাতীয়তাবাদ

উত্তরঃ

Deed = দলিল/চুক্তি

উত্তরঃ

Myth = পৌরাণিক কাহিনি, অতিকথা

উত্তরঃ

Walk-out = সভাবর্জন

উত্তরঃ

Zoom = জুম

উত্তরঃ

মানব জীবন খুবই ক্ষীণ। কিন্তু বহু মানুষ আজকের কাজ কালকের জন্য ফেলে রাখে। কাল কি ঘটবে তা মানুষ জানে না। তাই, আমাদের একটি মূহুর্তও নষ্ট করা উচিত নয়। সময় নষ্ট করা মানে জীবনকে ছোট করে ফেলা। মনে রাখতে হবে, মানব জীবন কিছু মূহুর্তের সমষ্টি ছাড়া আর কিছুই নয়।

উত্তরঃ

ঢাকার জন্মেছি, বড় হচ্ছি এখানেই। কলেজে পড়ছি। একুশে ফেব্রুয়ারিতে স্কুলে কলেজের শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছি। অথচ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার কেমন তা আজও দেখা হয়নি। ব্যাপারটা সাংঘাতিক বেমানান ও লজ্জার। নিজেকে নিজের কাছে অপরাধী মনে হচ্ছে। আমার বাবা মাও কাছে থেকে দেখেননি শহীদ মিনার। সুতারাং স্থির হলো, এবারের ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনার যাবো আমরা। মধ্যরাতের আগেই রওয়ানা হলাম। যখন কাছাকাছি পৌঁছালাম, তখন শুনলাম মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভাষাশহীদদের উদ্দ্যেশে পুষ্পস্তবক অর্পণ করছেন। প্রভাতফেরির মিছিলের বাইরেও অনেক লোক দাঁড়িয়ে আছে। মনে হয় দলীয় ঊধর্বতন নেতৃবৃন্দ। সামনের রাস্তাগুলোতে সুদৃশ্য আলপনা আঁকা। এরপর রাজনৈতিক দল, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার নেতৃবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। মাইকে বাজছে-

'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি।'

আমরা উদীচীর ব্যানারে এসেছি। শহীদ মিনারের মূল স্তম্ভের পেছনে লাল বৃত্তে আলো পড়ে চমৎকার দেখাচ্ছে। নিচে বেশ কিছুটা প্রশস্ত জায়গা। এরপর রক্ত লাল সোপান ধাপে ধাপে উঠে গেছে মূল বেদি পর্যন্ত। মিনার অঙ্গনে বিশাল আলপনা। সোপানের নিচের ধাপগুলোতেই ফুল রাখা হচ্ছে। এবার আমাদের পালা। স্তবক বা ফুল বেদিতে শ্রদ্ধার সঙ্গে রেখে বাম দিক দিয়ে বেরিয়ে যেতে হচ্ছে। এখানেই ভিড়। মাঝে মাঝে সামান্য ঠেলাঠেলি হচ্ছে। কিন্তু পুলিশ আর সেচ্ছাসেবকরা খুব সতর্ক। মা বাবা আর আমি প্রায় একসঙ্গে পুষ্পার্ঘ্য দিয়ে একটু দাড়ালাম। তারপর ধীরে ধীরে বেরিয়ে এলাম। মাইকে বাজছে দেশাত্মবোধক গান, ফেব্রুয়ারির গান, ভাষার গান। ধারাবর্ণনার ফাঁকে ফাঁকে উপস্থাপক একুশে ফেব্রুয়ারির তাৎপর্য তুলে ধরছেন। তাতে একুশের ভাবগাম্ভীর্য সঞ্চারিত হচ্ছে প্রাণে প্রাণে। দেশি-বিদেশি বাংলা ভাষার অনুরাগী মানুষের স্রোত আসছে যাচ্ছে সুশৃঙ্খল পরিবেশ। খুব ভালো লাগল, নিজেকে ধন্য মনে হলো।

উত্তরঃ

১৮ই জানুয়ারি, ২০২১

বরাবর 

সচিব 

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় 

বাংলাদেশ সচিবালয় 

ঢাকা।

বিষয়: পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব সম্পর্কে প্রতিবেদন।

সূত্র: বা.স./৯৭/২০২১

জনাব,

পরিবেশগত বিপর্যয় রোধে বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তার ওপর নিম্নোক্ত প্রতিবেদনটি আপনার সদয় জ্ঞাতার্থে পেশ করছি।

বৃক্ষ মানুষের পরম বন্ধু। বিপুল মানুষের পদভারে কম্পিত এ সুজলা-সুফলা পৃথিবী প্রতিদিন বৃক্ষশূন্য হচ্ছে। অবাধ ও নির্বিচারে চলছে বৃক্ষ নিধন। ফলে প্রাণীর জীবনধারণের নিয়ামক অক্সিজেনের সরবরাহ হ্রাস পাচ্ছে প্রবলভাবে। জীবনের জন্যে, জীবিকার জন্যে বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। রবীন্দ্রনাথ বৃক্ষের গুরুত্ব উপলব্ধি করে বলেছেন, 'আমরা যেমন স্নান করি এবং শুভ্র বস্ত্র পরিধান করি, তেমনি বাড়ির চারপাশে যত্নপূর্বক একটি বাগান করে রাখা ভদ্রপ্রথার একটি অবশ্য কর্তব্য অঙ্গ হওয়া উচিত।'

বৃক্ষ মূলত পরিবেশ, আবহাওয়া ও জলবায়ুর ভারসাম্য বজায় রাখে। গাছপালা নিয়মিত বৃষ্টিপাতে সাহায্য করে, নদীর ভাঙন থেকে ভুভাগকে রক্ষা করে। মোটকথা, পৃথিবীকে মনুষ্যবাসের উপযোগী করতে বনাঞ্চল সৃষ্টি ও বন সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা অত্যধিক।

একটি দেশের মোট ভূভাগের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা উচিত। কিন্তু বাংলাদেশের বনভূমির পরিমাণ মোট ভূভাগের মাত্র ১৬ ভাগ। সুতরাং বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ নৈরাশ্যজনক। এ অবস্থার আশু পরিবর্তন আবশ্যক। তাই অধিক হারে বৃক্ষরোপণের জন্যে গণসচেতনতা সৃষ্টির বিকল্প নেই। জাতীয় গণমাধ্যমগুলো এ ব্যাপারে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখতে পারে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও এ মহতী উদ্যোগের অংশীদার করতে পারলে ভালো ফল পাওয়া যাবে বলে আমার বিশ্বাস।

পরিশেষে একথা বলা প্রাসঙ্গিক, বৃক্ষরোপণের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিবেচনায় এনে জাতীয়ভাবে কর্মসূচি গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

নিবেদক 

মো. ড. ইব্রাহীম খলিল 

গবেষণা সহকারী 

বন অধিদপ্তর, 

দিনাজপুর।

উত্তরঃ

to:abc@gmail.com 

bcc; 

cc; 

subject: পিতৃবিয়োগে সমবেদনা,

তোমার বাবার মৃত্যুর মর্মান্তিক সংবাদ বহন করে আসা চিঠিটি পেয়ে আমি স্বজন হারানোর বেদনা অনুভব করছি একইসঙ্গে তোমার বেদনাহত মুখখানিও আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। আমার মনের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে অনুভব করলাম পিতৃবিয়োগের ঘটনাটি তোমার জন্যে কতখানি দুঃখের এবং বেদনার। এত তাড়াতাড়ি তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন এটা যে আমি ভাবতেও পারি নি। কিন্তু মৃত্যু কাউকে বলে কয়ে আসে না বলে চিরন্তন এ সত্যে মেনে নিতেই হয়। তাছাড়া তুমি তো জান, 'সকল প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করিতে হইবে'- এটাও চিরন্তন সত্য তাই ধৈর্য ধারণ করা ছাড়া কী-ই বা করার আছে। বিপদের সময় ধৈর্য ধারণ করাই প্রতিটি মানুষের জন্যে মঙ্গলজনক পরম করুণাময়ের কাছে শুধু এটাই দোয়া করছি, তুমি যেন জীবনের এই বুক-ভাঙা ঘটনার শোক কাটিয়ে উঠতে পার। বন্ধু, এই চরম বিপদের দিনে তোমাকে ভেঙে পড়লে চলবে না। একদিন সবাইকেই এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করছে হয়। জীবনের এই চরম সত্যকে উপলব্ধি করে তোমার মনোবল বৃদ্ধি কর। তুমি পরিবারের বড় ছেলে, তাই তোমার ভেঙে পড়লে চলবে না, তোমার ছোট দু ভাই-বোনের দায়িত্ব এখন তোমাকেই নিতে হবে। তোমার আব্বু যে সম্পত্তি রেখে গেছেন তা যদি সুষ্ঠুভাবে কাজে লাগানো যায় তবে তোমাদের কোনো বিপদ হবে না বলেই আমার বিশ্বাস। তোমার ওপর এখন গুরুদায়িত্ব, এ-কথা স্মরণ রেখে চললে তুমি তোমার কর্তব্য নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে পারবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তোমার আম্মুর কাছ থেকে পরামর্শ নেবে এবং তাঁর বাধ্য হয়ে থাকবে। যদিও এসব কথার প্রয়োজন নেই, কারণ তোমার মতো সৎ এবং নিষ্ঠাবান ছেলের জন্যে বিপদ বেশিক্ষণ স্থায়ী হওয়ার কথা নয়। দোয়া করি, দ্রুত তুমি তোমার দুঃখ-বেদনাকে অতিক্রম করে পড়াশোনায় মন দিতে পারবে। আমি তোমার আব্বার রুহের মাগফেরাত কামনা করি। আব্বু-আম্মুও এ ঘটনা জেনে খুবই মর্মাহত হয়েছেন।

আমাকে নিয়ে আগামী শুক্রবারেই আব্বু তোমাদের দেখতে যাবেন বলে জানিয়েছেন। তুমি ভালো থেকো।

 ইতি 

ইনজামামুল

উত্তরঃ

তারিখঃ ০২/০৭/২০২৪ 

বরাবর 

অধ্যক্ষ 

রাজশাহী সরকারী কলেজ রাজশাহী।

বিষয়: ডেঙ্গু মশার প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা জানিয়ে নিয়মিত কলেজ ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আবেদন।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহাশয়,

আমি মোঃ হারুনুর রশীদ রাজশাহী সরকারী কলেজ এর বাংলা বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। সম্প্রতি, ডেঙ্গু মশার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির ফলে সারা দেশে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। আমাদের কলেজ ক্যাম্পাসেও ডেঙ্গু মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে জমা পানি, অযত্নপরিহিত পরিবেশ এবং আগাছা-ঝোপঝাড়ের কারণে ডেঙ্গু মশার প্রজনন বৃদ্ধি পেয়েছে।

ডেঙ্গু জ্বর একটি সংক্রামক রোগ যা মারাত্মক হতে পারে। তাই, ডেঙ্গু মশার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি।

অতএব, আমি আপনাকে অনুরোধ করছি যে:

  • ক্যাম্পাসের নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করা হোক।
  • জমা পানি অপসারণের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
  • ক্যাম্পাসে আগাছা-ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা হোক।
  • ডেঙ্গু মশার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো হোক।

আশা করি আপনি আমার এই আবেদনটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন এবং ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

ধন্যবাদ, 

মোঃ হারুনুর রশিদ 

দ্বাদশ শ্রেণী 

রোল নাম্বারঃ ১১৬৪৭ 

রাজশাহী সরকারী কলেজ, রাজশাহী

উত্তরঃ

মূলভাব: উত্তম আদর্শ অনুকরণীয় আর অধমের আদর্শ অবশ্যই পরিত্যাজ্য। অধমের অন্যায় আচরণের জবাবে অন্যায় আচরণ করা সমীচীন নয়। পরের সুকৃতিতে অনুপ্রাণিত হওয়া প্রশংসনীয় কিন্তু পরের স্বার্থপরতায় প্রভাবিত হওয়া অনাকাক্ষিত। অন্যের অন্যায়, অমানবিক ও অশুভ আচরণ কখনও মানুষের অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় আদর্শ হতে পারে না। আদর্শ জীবন গঠনে মানুষের সাধনা হওয়া উচিত সত্য, ন্যায় ও মানবিকতা।

সম্প্রসারিত ভাব: এ সংসারে কেবল ভালো বা মন্দ বলে কিছুই নেই। ভালো ও মন্দ নিয়েই গড়ে উঠেছে এ সংসার। চরিত্র বৈশিষ্ট্য ও মানসিকতার বিচার সংসারে সব মানুষ অভিন্ন চরিত্রের হয় না, মানুষের মধ্যে ভালো ও আছে মন্দও আছে। আমদের সংসারে ভালো লোকের তুলনায় মন্দ লোকের সংখ্যাই বেশি এবং এরা সর্বদাই অপরের ক্ষতিসাধনে ব্যস্ত। সমাজে, সংসারে এরাই ঘিরে আছে আমাদের চারপাশে। মনুষ্যত্ব ও মানবতাবোধ বিবজিত অধম মানুষদের অন্যায় কাজে লিপ্ত থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে এদের সাথে তাল মিলিয়ে আমাকেও মন্দ হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। ভালো হওয়া মানুষের ইচ্ছা বা অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করে। অন্যেরা মন্দ হতে পারে, কিন্তু আমার আছে ভালো হওয়ার। অধম হওয়ার পথ ভালো হওয়ার পথের চেয়ে সহজ। পক্ষান্তরে, উত্তম হওয়ার পথ কঠিন। নিজের সাধ্য ও সামর্থ্য মতো এরা অন্যের কল্যাণের চেষ্টার সচেষ্ট থাকেন। তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন। যারা উত্তম তারা শত বাধা-বিঘ্ন সত্ত্বেও মানুষের কল্যাণ কাজ করে যান। সংসারে যারা উত্তম মানুষ তারা শত লোভ-প্রলোভন উপেক্ষা করে আদর্শ ও নীতিতে অবিচল থাকেন । কখনো কখনো দেখা যায়, কেউ কেউ কোনো একটি অন্যায় কাজকে অন্য একটি অন্যায় দিয়ে রুখতে সচেষ্ট হয়। কিন্তু কোনো হীন বা নীচ ব্যক্তি সমাজবিরোধী ক্ষতিকর কাজ করলেও তার প্রতিবিধান হীন কাজ দিয়ে করা সমীচীন নয়। উত্তম ব্যবহার কিংবা ক্ষমার আদর্শ দিয়ে তার অন্যায়ের সুবাহা করা উচিত। ক্ষমার এই উত্তম আদর্শ যাদের রয়েছে তাদের পথ অনুসরণ করে আমাদেরও পরহিতে জীবন উৎসর্গ করা উচিত এবং এটিই হচ্ছে মানুষের মধ্যে উত্তম হবার একমাত্র পথ। কারণ, এ পৃথিবীতে যারা বা উত্তম তারাই প্রকৃত মানুষ নামের যোগ্য। অধমের কার্যকলাপের বিপরীতে উত্তম কার্যকলাপের আদর্শ স্থাপনই মনুষ্যত্বের লক্ষণ। সেই জন্যেই ছন্দের জাদুকর সত্যেন্দ্রনাথ লিখেছেন:

কুকুরের কাজ কুকুর করেছে কামড় দিয়েছে পায়, 

তা বলে কুকুরে কামড়ানো কিরে মানুষের শোভা পায়?

মন্তব্য: তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন এই সম্পর্ক সমাজে ভালো ও মন্দ এ উভয় শ্রেণির লোকই বাস করে। মন্দ পরিহার করে ভালো লোকের সাথেই জীবনযাপন করা উচিত। প্রকৃত মানুষ হতে হলে অন্যের কদর্য ব্যবহার প্রভাবিত হলে চলবে না।

উত্তরঃ

সারাংশ: চরিত্র মানবজীবনের মহৎ গুণ। চরিত্রগুণে মানুষ গৌরবের অধিকারী হয়। চরিত্র গুণেই মানুষের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সম্মান পাওয়া যায়। চরিত্রবান ব্যক্তি সত্যবাদী, বিনয়ী, জ্ঞানসাধক, পরোপকারী, ন্যায়বান ও স্বাধীনতাপ্রিয় হয়ে থাকেন।

উত্তরঃ

রহিম: আরে করিম, আজকের ম্যাচটা কেমন লাগলো? 

করিম: আহা, কী বলবো! একদিকে বাংলাদেশের জয়টা খুব ভালো লাগলো, কিন্তু অন্যদিকে শেষ ওভারে কিছুটা হতাশও হয়েছি। 

রহিম: হ্যাঁ, শেষ ওভারটা সত্যিই টেনশনপূর্ণ ছিল। তবে মোটামুটি ভালোই খেলেছে আমাদের ছেলেরা। গ্রুপ পর্ব থেকে উঠে এসেছে, এটাই তো কম কথা নয়! 

করিম: ঠিক বলেছো। তবে আমার মনে হয়, ব্যাটিং আরো ভালো হতে পারতো। বিশেষ করে শেষ ওভারে রান তোলার ক্ষেত্রে আমরা অনেকটাই ব্যর্থ হয়েছি।

রহিম: হ্যাঁ, সেটা ঠিক। তবে বোলিং তো আমাদের বেশ ভালো ছিল। বিশেষ করে তোমার প্রিয় ফাস্ট বোলার লালভাই আজ তো আগুন ছুঁড়েছিল! 

করিম: হাহা, হ্যাঁ! লালভাই আজ সত্যিই দারুন বোলিং করেছে। তার হাতে তো তিনটা উইকেটও এসেছে। 

রহিম: তবে আমার মনে হয়, আমাদের ফিল্ডিং আরো উন্নত করতে হবে। আজ অনেক ক্যাচ মিস করেছে আমাদের ফিল্ডাররা। 

করিম: হ্যাঁ, সেটাও ঠিক। তবে মোটামুটি ভালোই খেলেছে আমাদের ছেলেরা। আশা করি, পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আরো ভালো খেলবে। 

রহিম: হ্যাঁ, অবশ্যই। আমরা তো সবাই তাদের সমর্থনে আছি। বাংলাদেশ জয় হোক!

 করিম: বাংলাদেশ জয় হোক!

উত্তরঃ

'সবুজের ডাক'

সবুজ শ্যামল বাংলা মায়ের কোলে একসময় ছিল সোনালি ফসলের মাঠ। দূরদিগন্ত জুড়ে লালচে ধানের সমারোহ, মাঝে মাঝে বাতাসে দোল খাওয়া নারকেল গাছের সারি, আর তার পাশেই নদীর তীরে শ্যামল আম, জাম, বরই গাছের সমারোহ। 

কিন্তু আজ?

আজ সেই সবুজ শ্যামল মাঠ আর নেই। কংক্রিটের জঙ্গলে ঢাকা পড়েছে সব। একতলা, দোতলা, ত্রিতলা বাড়ি, আর তার উপরে আকাশচুম্বী ভবন। যেখানে একসময় ধানের শীষ দোলে মৃদু বাতাসে, আজ সেখানে গাড়ির হর্ণ, মানুষের চিৎকার, ধোঁয়া আর দূষণ।

এক গ্রামে ছিল রুহি নামের একটি মেয়ে। রুহি ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির প্রেমী ছিল। সে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ছুটে যেত মাঠে। ধানক্ষেতে খেলা করত, নারকেল গাছের ডালে দুলত, নদীর তীরে বসে গল্পের বই পড়ত।

কিন্তু ধীরে ধীরে রুহির গ্রাম থেকে সবুজ চলে যেতে লাগল। বাড়িঘরের সংখ্যা বাড়তে থাকল। মাঠ ভরাট করে তৈরি হতে লাগল নতুন নতুন ভবন। রুহির খেলার মাঠ, নারকেল গাছ, নদীর তীর সবকিছুই হারিয়ে গেল কংক্রিটের জঙ্গলে।

একদিন রুহি হতাশায় ভেঙে পড়ল। সে ভাবতে লাগল, এখন কি আর কখনো ফিরে আসবে না সেই সবুজ বাংলা?

হঠাৎ রুহির চোখে পড়ল গ্রামের বাইরে একটি ছোট্ট জমি। জমিটা পড়ে আছে অযত্ন আর অবহেলায়। রুহির মনে হল, সে এই জমিটাকেই সবুজ করে তুলবে।

রুহি গ্রামের মানুষদের সাথে কথা বলল। সবাই রুহির উদ্যোগে সাথী দিল। তারা সবাই মিলে জমিটা পরিষ্কার করল, গাছ লাগাল। কয়েক মাসের মধ্যেই সেই জমিটা সবুজে ভরে উঠল।

রুহি আর থামতে পারল না। সে আরেকটি জমি, তারপর আরেকটি জমি এভাবে সে গ্রামের সব জমিটাকেই সবুজ করে তুলল। কয়েক বছরের মধ্যেই গ্রামটা আবার হয়ে উঠল সবুজ শ্যামল।

রুহির উদ্যোগ দেখে অন্য গ্রামের মানুষও অনুপ্রাণিত হল। তারাও তাদের গ্রামগুলোকে সবুজ করার চেষ্টা শুরু করল।

ধীরে ধীরে সারা বাংলা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল সবুজের ডাক। মানুষ বুঝতে পারল, উন্নয়নের নামে প্রকৃতিকে ধ্বংস করা ঠিক নয়।

উত্তরঃ

যুদ্ধ নয় শান্তি

ভূমিকা:

"আর যুদ্ধ নয়, নয়। 

আর নয় মায়েদের শিশুদের কান্না 

রক্ত কি, ধ্বংস কি, যুদ্ধ আর না, আর না।"

না, বিশ্বের শান্তি প্রিয় মানুষ আর যুদ্ধ চায় না। তবু মানুষকে যুদ্ধের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়। বিগত সাড়ে পাঁচ হাজার বছরে মানুষ প্রতাক্ষ করেছে সড়ে চৌদ্দ হাজার যুদ্ধ। বিংশ শতাব্দীর দুটি ভয়াবহ বিশ্বযুদ্ধ বিশ্বের মানুষকে বুঝিয়ে দিয়েছে যুদ্ধ কী? যুদ্ধের ভয়াবহতা কত নির্মম। তাইজে শান্তিকামী মানুষরা প্রতিষ্ঠা করুন জাতিসংঘ নামক আন্তজার্তিক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু একাবিংশ শতাব্দীর মানুষ ইরাকের যুদ্ধের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত প্রত্যক্ষ করতেছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পৈশাচিক উল্লাস। শিশুর কান্নায়, নারীর আর্তনাদে, লাশের গন্ধে ইরাকের আকাশ ভারী হয়ে উঠলেও লোভী শৃগালের মতো মার্কিন প্রশাসনের দৃষ্টি এখন তেল সম্পদের দিকে।

প্রাচীন যুদ্ধ: প্রাচীনকালেও পৃথিবীতে যুদ্ধ ছিল। সে সময়কার মহাকাব্যেগুলোও যুদ্ধভিত্তিক। যুদ্ধের মাধ্যমেই এক একটি সভ্যতার জন্ম হয়েছে। আমর হোমারের মহাকাব্য 'ইলিয়াড' ও 'ভডিসির' মধ্যে প্রাচীনকালের যুদ্ধের ভয়াবহ বর্ণনা পাই। বর্তমানেও এরই ধারা অব্যাহত রেখে চলছে যুদ্ধ। সভ্যতার ইতিহাস শ্রেণিদ্বন্দ্ব ও শ্রেণিসংগ্রামের ইতিহাস। মানবসভয়তার সেই প্রত্যুষ মুহূর্ত থেকেই যুদ্ধ, সংঘর্ষ আর রক্তপাত। তারই মধ্য দিয়ে শক্তিশালীর ঘটেছে উত্তরণ। একের বিনাশে অপরের অস্তিত্ব হয়েছে সুরক্ষিত। আজও মানুষ ভুলতে পারে নি সেই রক্তাক্ত দিনের ভয়ংকর স্মৃতি। প্রাচীন বর্বর যুগের অসভ্য মানুষ আজকের সভ্য মানুষ হয়ে যুদ্ধের নির্মম অর্থ জেনে গেছে, যুদ্ধ নিয়ে আর নড় নয়, নয় প্রভুত্বের বিস্তারের বিলাসিতা। যুদ্ধ মানে আজ সপ্ততার বিনাশ, যুদ্ধ মানে এখন মানুষের অস্তিত্বের বিলোপ। তবে আজকের মতো পারমাণবিক যুদ্ধ কিংবা আধুনিক সব সমরাস্ত্র নিয়ে প্রাচীনকালে যুদ্ধ হতো না। মুখের ভেল পল্টানোর সাথে সাথে পাল্টে গেছে মানুষের যুদ্ধ করার উপকরন সমূহের।

যুদ্ধ কেন হয়?ঃ এক সময় মানুষ যুদ্ধ করতো নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জনা। হিংস্র জন্তু জানোয়ারের হাত থেকে বাঁচার জন্য মানুষ যুদ্ধ করত। আর এখন মানুষ যুদ্ধ করে নিজের ক্ষমতা আর অস্তিত্বের অস্তিত্ব এবং নিজের স্বার্থরক্ষার জন্য। পাশাপাশি অন্যকে করংস করার জন্য, অন্যের সম্পদ দখল করার জন্য ও অন্যের উপর আধিপত্য বিস্তারের জন্যে মানুষ যুদ্ধ করছে। এছাড়া সম্প্রসারণশীলতার জন্য ভয়ানক যুদ্ধের উদাহরণ বিশ শতকের দুটি বিশ্বযুদ্ধ। মানুষ হিংসা দ্বেষ, লোভ লালসার বশবর্তী হয়েও এখন যুদ্ধ করছে।

যুদ্ধের ফলাফল: যুদ্ধের ফলাফল কখনো ভালো হয় না। যুদ্ধের ফলে অগণিত মানুষ জনপদ ধধ্বংসের পাশাপাশি দীর্যস্থায়ী প্রভাব ফেলে। বিজ্ঞানের অগ্রগতি আজ যুদ্ধের ভয়াবহতা ও ধবংসলীলা বাড়িয়ে দিয়েছে আধুনিক সমরাস্ত্র নির্মাণ করে। এজন্য বর্তমানে যুদ্ধবিগ্রহের ক্ষয়ক্ষতি মারাত্মক ও সুদুরপ্রসারী। আর আমেরিকা ও রাশিয়া অনবরত মেতে আছে শক্তির মদমত্তায়। নিজের শক্তির প্রকাশ ও আধিপত্য বিস্তারের জন্য আমেরিকা প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করছে বিভিন্ন দেশের সাথে। নতুন নতুন মারণাস্ত্র আবিষ্কার ও এর বিস্তারেও নিয়োজিত আছে আমেরিকা। আফগানিস্তানে ও ইরাকে অসংখ্য লেককে মেরে ফেলেছে। জনপদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি স্থাপত্যশিল্প ধ্বংস করেছে আমেরিকা। এখানে মানবতার চরম অবমূল্যায়ন করেছে আমেরিকা। তেমনি ১৯৭১ সালেও পাকিস্তানীরা ৩০ লাখ মানুষকে হত্য করেছিল। যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞে আজ পুরো সভ্যতা বিপর্যস্ত। যুদ্ধের ধ্বংসলীলায় মানুষের যে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে তা বর্ণনাতীত।

বিশ্ব পরিস্থিতির পরিবর্তন:

"তাই আমি চেয়ে দেখি প্রতিজ্ঞা প্রস্তুত ধরে 

ধরে দানবের সাথে আজ সংগ্রামের তরে"

- সুকান্ত ভট্টাচার্য

কিন্তু মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী দানবকে রুখবে কে? বর্তমান এককেন্দ্রিক বিশ্ব ব্যবস্থায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্মে পৃথিবী এখন মানুষের হাতের নাগালে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে একসময় সূর্য অস্ত যেত না। কিন্তু আজ সেসবই ইতিহাসমাত্র। বলশেভিক বিপ্লবের দুনিয়া কাঁপানো আওয়াজ একদিন সারা বিশ্বের শোষিত ও নিপীড়িত মানুষকে জাগিয়ে ভুলেছিল মুক্তির আকাঙ্ক্ষায়। কিন্তু অমিত ক্ষমতার অধিকার সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙন সে স্বপ্নকে নির্বাসিত করেছে। Time you old Gypsyman-এর মতে, সময় এখন আমেরিকার, বিশ্বের একক ক্ষমতাধর শক্তি, দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, শাসিয়ে বেড়াচ্ছে সারা বিশ্বকে। এ মুহূর্তে বিশ্বের সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা এক বিশ্বকেন্দ্রিক। প্রযুক্তির উৎকর্ষে সামরিক ক্ষেত্রেই এসেছে বিরাট পরিবর্তন। তাই আমেরিকার বেড়লিতে সারাবিশ্ব ভয়ে চুপ, প্রতিবাদ করলেই সাদ্দামের মতো টুটি চেপে ধরবে। কিন্তু সভাতার রঙ্গমঞ্চে এ প্রেতনৃত্য করে বন্ধ হবে তা কী কেউ জানে?

বিগত যুদ্ধের অভিজ্ঞতা: সভ্যতার চলমানতায় মানুষ আপন ধীশক্তি দিয়ে খুঁজে নিল অজ্ঞাত শক্তির উৎস। ক্রমে সে হয়ে উঠল দানবীয় শক্তির অধিকারী। বিশ শতকে পরপর দুটি বিশ্বযুদ্ধের মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ করল সেই দানবীয় শক্তির তান্ডব। জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকির মানুষ আজে ভুলতে পারে না সেই দুঃস্বপ্নের দিনগুলোকে। চোখের পলকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় জনপদ, কলসে যায় মানবতা, শিহরিত হয় গোটা বিশ্ববিবেক। বেদনায় আর্তনাদ করে ওঠে পৃথিবীর শান্তিকামী মানুষ।

বিগত যুদ্ধের বিভীষিকা: বিশ শতকেই ঘটেছে দুই ভয়াবহ মহাযুদ্ধ প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৫-১৯৯৯ এবং ১৯৩৯-১৯৪০)। এ যুদ্ধ অভীতের সব যুদ্ধকে ছাপিয়ে গেছে। কারণ এর বিস্তৃতি ঘটে গোটা বিশ্বময়। পৃথিবীর বৃহৎ রাষ্ট্রগুলো ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এক মরণ-যজ্ঞে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল বোমারু বিমান ও আধুনিক সমরাস্ত্র সজ্জিত যুদ্ধ জাহাজ। নিহত হয়েছিল সামরিক ও অসামরিক স্তরের চার কোটি চৌদ্দো লক্ষ পঁয়ত্রিশ হাজার মানুষ। বিকলাঙ্গ হয়েছিল আরো দু কোটি মানুষ। সম্পদ ধ্বংস হয়েছিল তিরিশ বিলিয়ন ডলারের। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত মানুষের সংখ্যা সর্বকালের রেকর্ড অতিক্রম করেছে। এ যুদ্ধে পাঁচ কোটি চল্লিশ লক্ষ মানুষের প্রাণ সংহার করে। বিকলাঙ্গ করে নয় কোটি মানুষকে। সম্পদ নষ্ট হয় চারশ বিলিয়ন ডলারের।

এ যুদ্ধে মানবসভ্যতার ইতিহাসে ঘৃণ্যতম আণবিক বোমা ব্যবহৃত হয় ১৯৪৫ সালের ৬ই এবং ৯ই আগস্ট জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহরে। চোখের পলকে দাউ দাউ আগুনে জ্বলে যায় দুটি সম্পদ সমৃদ্ধ জনপদ। তেজস্ক্রিয় বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ে শহরে গ্রামে। ধ্বংসের প্রলয়ঙ্কর রূপ দেখে শিহরিত হয় বিশ্ববিবেক। আর্তনাদ করে ওঠে পৃথিবীর শান্তিকামী মানুষ।

অশান্ত বিশ্ব পরিস্থিতি: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী ভিয়েতনাম যুদ্ধের দুঃসহ স্মৃতি এখনো মার্কিনীদের মনে কাঁটার মতো বিদ্ধ হয়। পাক-ভারত যুদ্ধ (১৯৬০), ইরান-ইরাক (১৩ বছর ব্যাপী), আফগানিস্তানের ভয়াবহত। আমাদের শান্তিকামী করে তোলে। সোমালিয়ার ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় প্রচন্ডভাবে বিশ্ববিবেককে নাড়া দেয়। ফিলিস্তিনের প্রতিটি শিশুর অসহায় আর্তনাদ বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিলেও শ্যারনের পাষাণ হৃদয় এজিদের মতো রক্তের হোলিখেলায় নেচে ওঠে। সারাবিশ্বে চলছে ভয়াবহ এক অশান্ত পরিস্থিতি, মার্কিনি সাম্রাজ্যবাদী শক্তি গোট পৃথিবীকে গিলে খাবার মতলবে আছে। সম্প্রতি শেষ হলো ইরাক যুদ্ধ। আফগানিস্তানের মাটি ক্লাষ্টীর বোমার আঘাতে অঙ্গার হয়েছে। লাশের গল্পে শকুনের উল্লাস বেড়েছে। তেমনি ইরাকের জনগনের তথাকথিত মুক্তির স্লোগানে লুটপাট হয়েছে সাড়ে পাঁচ হাজার বছরের সভ্যতা ও সংস্কৃতির নিদর্শন, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে আধুনিক সভ্যতা। আধুনিক প্রযুক্তি মিসাইলের আঘাতে ছিন্ন ভিন্ন হয়েছে অসহায় শিশুর হাত, বুক ও দেহ। লাশের স্তূপে দাড়িয়ে মার্কিনি ট্যাংক মুক্তির পতাকা উড়িয়েছে। সে পতাকা ইরাকের নয়, মার্কিনের। ইরাক আর ইরাক নেই, নব্য আমেরিকা যেন। ইরাক এখন আমেরিকার নতুন উপনিবেশ।

আধুনিক সমরাস্ত্রের ভয়াবহতাঃ মানবসভ্যতা আজ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশংকায় কম্পমান। সারাবিশ্বে যুদ্ধবাজদের যুদ্ধ প্রস্তুতি সাধারন নিরীহ মানুষদের আতংকের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। পৃথিবীর শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর হাতে ভয়ানক সব মারণাস্ত্র সারা বিশ্বে মজুদ আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত বিস্ফোরণের চেয়ে দশ হাজার গুণ বেশি বিস্ফোরক। আণবিক বোমার চেয়ে চার প্রজারগুণ শক্তিশালী বোমার সংখ্যা এখন পঞ্চাশ থেকে ষাট হাজার। যুদ্ধ এখন জল ও স্থলের সীমানা ছাড়িয়ে আকাশে, গ্রহে ও উপগ্রহে। রাডারকে ফাঁকি দিয়ে মানুষ এখন উপগ্রহ, স্যাটেলাইটের মাধ্যমে গোয়েন্দাগিরি চালায়। দূরপাল্লার মিসাইল, আণবিক যুদ্ধজাহাজ, ভয়ংকর সব যুদ্ধ বিমান প্রস্তুত সভ্যতাকে ধবংসের জন্য। একটি মাত্র সুইচ টিপ দিলে কয়েক হাজার মাইল দূরের একটি সভ্যতা নিমিষেই ধুলিসাৎ হয়ে যেতে পারে।

পারমাণবিক বোমা: আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম ভয়ংকর আবিষ্কার পারমাণবিক অস্ত্র। আর যুদ্ধক্ষেত্রে এই পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার যে কতটা ভয়াবহ, তার প্রমাণ পাওয়া যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বিশ বছর পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। ১৯৪৫ সালের ৬৬৯ আগস্ট জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহরে পরমাণবিক বোমা বীভৎস আকার ধারণ করে। ভাগনিত মানুষের লাশ ও মানুষের অঙ্গহানি থেকে এটা বোঝা যায়, আজও মানুষ এর প্রভাব বহন করে চলেছে। এরপর থেকে শুরু হয় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির এক মহা প্রতিযোগীতা।

যুদ্ধ নয় শান্তি: যুদ্ধ কোনো সাধারণ মানুষ কামনা করে না। সাধারন মানুষ চায় যুদ্ধমুক্ত একটি সুন্দর ও শান্তির স্থান। শান্তি স্থাপনের জন্য তাই আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। অস্ত্র তৈরির প্রতিযোগীতা ও অস্ত্রের ব্যবসা প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। বিজ্ঞানকে যুদ্ধাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার না করে মানুষের কলয়নে নিয়োজিত করতে হবে। বর্ণবিদ্বেষ ও জাতিগত বিদ্বেষ দূর করে আমাদেরকে উদার মনের অধিকারী হতে হবে। পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এখন জাতিসংঘ কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের সভ্যতা, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কথা চিন্তা করে যুদ্ধ পরিহার করা উচিত।

যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান: জাতিসংঘের সহযোগিতায় শান্তিকামী মানুষেরা 'যুদ্ধ নয় শান্তি চাই' স্লোগানে একই পতাকাতলে সমবেত হয়েছে। তাদের সাথে যোগ দিয়ে যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বিশ্বখ্যাত কবি, সাহিত্যিক, শিল্পীর, বিজ্ঞানী ও দার্শনিক। বিশ্ব শান্তির জন্য প্রতিবছর বিশেষ বাড়িকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হচ্ছে। দেশে দেশে ইত্তকের বিরুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ জনতার যুদ্ধবিরোধী স্লোগান শান্তির কথা বলে। বিশ্বের শান্তিকামী মানুষ আবার একই ছায়াতলে, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার। বিজ্ঞানী আইনস্টাইন, বৌমারেটলা আরি ককসে, ম্যাক্সিমে গোর্কী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ সোচ্চার নারীঘাতী ও শিশুঘাতী কুৎসিত যুদ্ধের বিরুদ্ধে। শিল্পীর তুলিতে, কবির কবিতায়, গানের সুরে, জীবনের উদ্দামতায় আজ ধ্বনিত হচ্ছে শান্তির বীজমন্ত্র।

বিশ্বশান্তি ও বাংলাদেশ: বাংলাদেশ সবসময়ই মধ্যপন্থী একটি শাস্ত্রকামী দেশ। জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ সবসময়ই চেষ্ট করে ঐক্য ও শান্তি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার। যুদ্ধ নয় শান্তির এ আন্দোলনে বাংলাদেশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ নিজেকে জোট নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। বেড়েছে তার কণ্ঠস্বরের মর্যাদা। বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বিবদমান বিশ্বে শান্তি স্থাপনে ছিলেন উৎসাহী। রাষ্ট্রে রাষ্ট্র সহযোগিতা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, শান্তি, মৈত্রী ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা, অন্য রাষ্ট্রের বৈদেশিক বা অভ্যন্তরীণ নীতিতে হস্তক্ষেপ না করা ইত্যাদি হচ্ছে বর্তমানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি। তাই বিশ্বের কোথাও যুদ্ধের ক্ষীণতম সম্ভাবনা সৃষ্টি হলে বাংলাদেশ প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে।

১৯৮৬ সালকে বিশ্ব-শান্তিবর্ষ হিসেবে ঘোষণা: পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা আজ এক উদ্বেগজনক অবস্থায় এসে পৌঁছেছে। বিশ্ব সামরিক খাতে ব্যয়বরাদ্দ বাড়ছে। অস্ত্র নির্মাণে ঢালাওভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি। এ ছাড়া গোটা বিশ্বে নানারকম সংঘাত, যুদ্ধ, দারিদ্র্য, দুর্ভিক্ষ, অনাহার, রোগভোগ ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত মানুষ। তাই জাতিসংঘের মন্ত্রসচিব ১৯৮৬ সালকে ঘোষণা করেছিলেন। আন্তজাতিক শাস্তিবর্ষ'রূপে। এর ফলে রাষ্ট্রসংঘের সব সদস্যরাষ্ট্র ও বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনগুলো শান্তির সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পথ নির্দেশ করার সুযোগ পেয়েছে বিশ্ববাসীও জাতিসংঘের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। সম্প্রতি আমেরিকার দ্বিতীয় বারের মতো ইরাক আক্রমণে বিশ্ব শান্তি আবারও সংকটের মুখে। আফগানিস্তান আক্রমণের মধ্যে দিয়ে সাহাজ্যবাদী এ দেশটির ফ্যাসিবাদী কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অন্যান্য দেশগুলো প্রতিবাদ করছেই না বরং নানাভাবে ইন্ধন জোগাচ্ছে। সবচেয়ে শঙ্কার বিষয় খোদ মার্কিনর এ অন্যায় আক্রমণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও খোদ জাতিসংহ এবারও কাঠের পুতুলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। এসব প্রেক্ষাপটে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাসী এর বিরুদ্ধে জোর জনমত গড়ে তুলেছে। কেবল 'শান্তি বর্ষ' ঘোষণা দিয়ে প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এজন্য জাতিসংঘকে নিতে হবে সাহসী ভূমিকা। বিশ্বশান্তি রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত এ প্রতিষ্ঠানটির নিকট সবাই এমনটিই প্রত্যাশা করে।

উপসংহার: যুদ্ধ মানেই ধ্বংস। যুদ্ধ মানেই দুর্ভিক্ষ, উপবাস, মৃত্যু। যুদ্ধ মানেই রক্তের হোলিখেলা, লাশের স্তূপ ও সাভার বিনাশ। পৃথিবীবাসী দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের ফলে ধ্বংস, মুক্ত, মহামন্বন্তরের রক্তাক্ত আস্বাদ পেয়েছে। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হলে তা হবে আরও ভয়াবহ। মানুষ আজ প্রতিবাদমুখর যুদ্ধবাজ অস্ত্র ব্যবসায়ীদের ঘৃণ্য চক্রান্ত রুখতে। যুদ্ধের বিরুদ্ধে গোটা বিশ্ববাসী আজ প্রতিরোধী সৈনিক, শান্তির জাগ্রত প্রহরী। তাই যুদ্ধের বিরুদ্ধে বিশ্ব আজ সোচ্চার, শান্তির পক্ষে পালন করছে অগ্রণী ভূমিকা। বিশ্বজুড়ে মানুষের সম্মিলিত শুভবুদ্ধির প্রতিরোধমূলক তৎপরতায় যুদ্ধবাজ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আজ প্রতিহত, নিষ্ক্রিয় হতে চলেছে। শেষ বেলায় তাই কবি আহসান হাবিবের কন্ঠে বলতে চাই-

"আমাকে সেই অস্ত্র ফিরিয়ে দাও 

সভ্যতার সেই প্রতিশ্রতি 

সেই অমোঘ অনন্য 

অস্ত্র আমাকে ফিরিয়ে দাও।

উত্তরঃ

চিকিৎসাক্ষেত্রে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ভূমিকা: বর্তমান যুগ বিজ্ঞানের যুগ। বিজ্ঞানই বিশ্ব সভ্যতাকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে গেছে। বিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে আধুনিক সভ্যতা। সেই আদিম যুগ থেকে শুরু করে বর্তমান যুগ পর্যন্ত জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতির জন্য বিজ্ঞান অমূল্য অবদান রেখেছে। বর্তমান সভ্যতার অগ্রগতির মূলে বিজ্ঞানের দুটি আবিষ্কার সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো হলো: মুদ্রণযন্ত্রের আবিষ্কার ও বিদ্যুতের আবিষ্কার। বিজ্ঞানের এ সকল বিস্ময়কর অগ্রগতির পথ ধরেই চিকিৎসাক্ষেত্রে এসেছে এক অভাবনীয় পরিবর্তন। চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিজ্ঞান নতুন আশীর্বাদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। 'Health is wealth'- স্বাস্থ্যই সম্পদ'-কথাটির সাথে সারা বিশ্বের সকলেই পরিচিত। অঢেল ধন-সম্পদ আর প্রতিপত্তির অধিকারী হলেও যদি স্বাস্থ্য ভালো না থাকে তাহলে জীবনে সুখী। হওয়া যায় না। আর মানুষের মূল্যবান সম্পদ স্বাস্থ্য সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা। যত দিন যাচ্ছে আবিকৃত হচ্ছে নব নব চিকিৎসা পদ্ধতি। আর এসব চিকিৎসা পদ্ধতির আবির্ভাবে মানুষ জটিল ও দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে আরোগ্য লাভ করছে।

বিজ্ঞান শব্দের অর্থ: বিজ্ঞান শব্দের অর্থ হলো বিশেষ জ্ঞান। অনুসন্ধান প্রিয় মানুষের বস্তুগত বিষয় সম্পর্কে ধারণা এবং বিভিন্ন কৌশলে তার ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা থেকেই নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কৃত হয়েছে। এরূপ প্রতিটি আবিষ্কারের পেছনে রয়েছে কার্যকারণ সম্পর্ক। আর এ ধরনের যুক্তিযুক্ত আবিষ্কারকেই বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার বলা হয়। বিজ্ঞানের নানাবিধ আবিষ্কারের পেছনে কাজ করছে মানুষের প্রয়োজন, মানুষের কল্যাণ ও মানুষের বিকশিত হবার দুর্নিবার ইচ্ছা। বর্তমান সময়ে মানুষের জীবনে সাথে বিজ্ঞান এমনভাবে জড়িয়ে আছে যে, বিজ্ঞানই যেন মানবজীবনের গতি নিয়ন্ত্রণ করছে। মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর জন্য বিজ্ঞান প্রতিনিয়ত সৃষ্টিমুখর হয়ে উঠছে।

সভ্যতার উৎকর্ষে বিজ্ঞানের যাত্রা : সভ্যতার বিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলছে বিজ্ঞানের বিস্ময়কর বিকাশ। যেদিন মানুষ আগুন আবিষ্কার করল, ঠিক সেদিন থেকেই বিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল। বিজ্ঞান মানুষের সীমাবদ্ধতা দূর করে উন্নত জীবনযাপনের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। মূলত সহস্র বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে বর্তমানে বিজ্ঞান লাভ করেছে পূর্ণতর সমৃদ্ধি।

প্রাচীন চিকিৎসা ব্যবস্থা: প্রাচীনকালে মানুষ ছিল অসহায়। তখন রোগ নির্ণয়ের কোনো ব্যবস্থা ছিল না বলে সামান্য রোগেও মানুষের করুণ পরিণতি ঘটত। চিকিৎসার জন্য তাদের প্রকৃতির শরণাপন্ন হতে হতো। অসুস্থতার সময় তারা বিভিন্ন গাছ-গাছালি, তাবিজ, কবজ, দোয়া- কালাম, পানি পড়া এবং ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তখন মানুষের জীবনও ছিল খুবই সংকটাপন্ন। মানুষের মতো ইতর প্রাণীরাও ছিল অসহায়।

আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার সূচনা: আধুনিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন আবিষ্কারের ফলে চিকিৎসাক্ষেত্রে মানুষের ধ্যান-ধারণায় পরিবর্তন এসেছে। বিজ্ঞানের বদৌলতে প্রাচীন পদ্ধতির কবিরাজি চিকিৎসার স্থলে হোমিওপ্যাথি ও এলোপ্যাথিক চিকিৎসার উদ্ভাবন করা হয়। পেনিসিলিন, ক্লোরোমাইসিন, স্ট্রেপটোমাইসিন ইত্যাদি ঔষধ আবিষ্কারের ফলে মানুষ তথাকথিত শাস্ত্রীয় চিকিৎসা, তাবিজ-কবজ ও ঝাড়ফুকের মতো কুসংস্কারের ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমিয়ে দিয়ে আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে। এসব। চিকিৎসা ব্যবস্থা আধুনিক বিজ্ঞানেরই বিস্ময়কর অবদান।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিস্ময়কর অবদান: বিজ্ঞান মানুষের জীবনকে সহজ করেছে। অধ্যাপক রঞ্জনের আবিষ্কৃত রঞ্জন রশি', অধ্যাপক কুরি ও মাদাম কুরি আবিষ্কৃত 'রেডিয়াম' বিজ্ঞান জগতে যুগান্তর এনেছে। পেনিসিলিন, ক্লোরোমাইসিন ও স্ট্রেপটোমাইসিন ইত্যাদি মহৌষধ মানুষকে নানা প্রকার দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে রক্ষা করছে। বসন্তের জীবাণু ধ্বংস করার জন্য জেনর ভ্যাক্সিন আবিষ্কার করেন। এছাড়া আধুনিক কম্পিউটারের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় কৌশল চিকিৎসা বিজ্ঞানে অবিশ্বাস্য সাফল্য এনে দিয়েছে।

রোগ নির্ণয়ে বিজ্ঞান: প্রাচীনকালে মানুষের দেহে কোনো রোগব্যাধি হলে তা নির্ণয়ের ব্যবস্থা ছিল না। চিকিৎসকরা তখন নিজেদের মন গড়া অভিজ্ঞতার সাহায্যে ঔষধপত্র নির্ধারণ করতেন। ফলে অনেক সময় ঠিক চিকিৎসা সম্ভব হয়ে উঠত না। কিন্তু কালক্রমে রোগ নির্ণয়ের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আবিষ্কারের ফলে চিকিৎসা পদ্ধতি অনেকটা সহজতর হয়েছে। অধ্যাপক রঞ্জনের আবিস্কৃত রঞ্জন রশ্মি, এক্সরে, আলট্রাসনোগ্রাফি এবং অধ্যাপক কুরি ও মাদামকুরি আবিস্কৃত রেডিয়াম চিকিৎসাক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। রঞ্জন রশ্মির সাহায্যে শরীরের অদৃশ্য বস্তু দেখার ব্যবস্থা রয়েছে এবং রেডিয়ামের সাহায্যে ক্যানসারের মতো ভয়ংকর ক্ষতের স্থান নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছে। এক্স-রে মেশিন না হলে রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে অসুবিধার সৃষ্টি হতো এবং এর ফলে সুচিকিৎসা কোনোদিনই সম্ভব হতো না। তাছাড়া রোগীর রক্ত, মল-মূত্র ইত্যাদি উপাদান পরীক্ষার জন্য আধুনিক যেসব পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে, তাও বিজ্ঞানেরই অবদান। বর্তমানে কম্পিউটারের মাধ্যমেও রোগ নির্ণয়ের সুন্দর ব্যবস্থ। আবিস্কৃত হয়েছে। ফলে চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।

রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান: এমন কিছু রোগব্যাধি আছে, যা প্রতিরোধের জন্য বিজ্ঞান পূর্বেই ব্যবস্থা নির্দেশ করেছে। যেমনশিশুর জন্মের পর বিভিন্ন মেয়াদে ডিপিটি পোলিও, হাম, গুটি বসন্ত, যক্ষ্মা, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, ডিপথেরিয়া, হেপাটাইটিস ইত্যাদি টিকা দেওয়া হচ্ছে। ফলে অনেক রোগ দেহে সৃষ্টি হওয়ার আগেই প্রতিরোধক ব্যবহৃত হচ্ছে। নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে অগণিত শিশু রক্ষা পাচ্ছে।

রোগ নিরাময়ে বিজ্ঞান: রোগ নির্ণয় এবং রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থাই চিকিৎসাক্ষেত্রে বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড়ো অবদান। এক্ষেত্রে বিজ্ঞানের বড়ো সাফল্য হলো বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের জন্য নানা রকম ঔষধপত্রের আবিষ্কার। এক সময় দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থাই ছিল না। বিজ্ঞান সেসব রোগ নিরাময়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। যেমন- যক্ষ্মার ব্যাপারে একটি প্রবাদ বাক্য প্রচলিত ছিল যে, যার হয় যক্ষ্মা তার নেই রক্ষা'। এখন আর যক্ষ্মা কোনো দুরারোগ্য ব্যাধি নয়। তাছাড়া ভয়ংকর জলাতংক রোগ, কুষ্ঠরোগ ইত্যাদি নিরাময়ের জন্যও বিজ্ঞান কার্যকর ঔষধ ও ইনজেকশন আবিষ্কার করেছে। বর্তমান বিশ্বে যে দুটি রোগ সবচেয়ে দুরারোগ্য বলে গণ্য হচ্ছে তা হলো ক্যানসার ও এইডস। এই দুই রোগের চিকিৎসার কোনো সুব্যবস্থা করা আজ পর্যন্ত সম্ভব হয়ে। উঠেনি। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এর প্রতিরোধের উপায় নিরূপণের জন্য। এক কালের মহামারি বসন্ত রোগ থেকে মুক্তির জন্য আবিস্কৃত হয়েছে ভ্যাক্সিন। মানবদেহে অন্য মানুষের হৃৎপিণ্ড সংযোজনের মতো অলৌকিক ক্ষমতা বিজ্ঞানেরই এক বিস্ময়কর অবদান। এখন আবার কৃত্রিম হৃৎপিণ্ড তৈরি করা হচ্ছে এবং রোগীর দেহে সংযোজন করে তা দীর্ঘদিন। কর্মক্ষম রাখার কৃতিত্বপূর্ণ দৃষ্টান্তও বিজ্ঞানেরই সৃষ্টি। প্লাস্টিক সার্জারির সাহায্যে আজকাল অসুন্দর ও অমসৃণ চেহারাকে সুন্দর ও মসৃণ করা হয়। তারুণ্যকে কীভাবে স্থায়ী করা যায়, সে বিষয়েও বিজ্ঞান নিরন্তর গবেষণা অব্যাহত রেখেছে। আশা করা যায়, অদূর ভবিষ্যতে অন্যান্য রোগের মতো সমস্ত রোগব্যাধি নিরাময়ের ব্যবস্থাই বিজ্ঞান নিশ্চিত করতে পারবে।

বিজ্ঞান চিকিৎসা ক্ষেত্রের বড়ো আশীর্বাদ: বিজ্ঞান বিশ্বসভ্যতায় বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। বিজ্ঞান অনেক অসাধ্যকে বাস্তব রূপ দান করেছে। বিজ্ঞান অন্যান্য ক্ষেত্রে আশীর্বাদ ও অভিশাপ বয়ে আনলেও চিকিৎসাক্ষেত্রে এনেছে শুধু আশীর্বাদ। এ ব্যাপারে কিপলিং বলেন, বিজ্ঞানের আশীর্বাদে বিশ্বমানবতা কখনো উল্লসিত হয়, আবার কখনো তার বিভীষিকাময় রূপ বিশ্বসভ্যতাকে থামিয়ে দেয়, কিন্তু চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিজ্ঞান এনেছে শুধুই আশীর্বাদ।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের নতুন সংযোজন : সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন গবেষণা চালিয়ে চিকিৎসাক্ষেত্রে বিজ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করেছে যা বিশ্ব সভ্যতায় যুগান্তকারী প্রভাব ফেলেছে। জেনেটিক টেকনোলজির রহস্য উদঘাটনের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধি শনাক্ত করে চিকিৎসা আবিষ্কারের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। ইতোমধ্যে কৃত্রিম হৃৎপিণ্ড সৃষ্টির পথ বিজ্ঞান উন্মোচন করেছে। আবার কৃত্রিম রক্ত, প্রোটিন ইত্যাদি আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানীরা নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। টেস্টটিউব শিশুর জন্মদান পদ্ধতিও বর্তমানে বাংলাদেশে চালু হয়েছে। মূলত বিজ্ঞানে তথা চিকিৎসা বিজ্ঞানে অসম্ভব বলে কোনোকিছুই আর থাকছে না।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের ব্যর্থতা: চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিজ্ঞান যেমন উন্নতি সাধন করছে পাশাপাশি এর কিছু ব্যর্থতাও রয়েছে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিজ্ঞান যেমন মানবসমাজের জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনছে আবার বিজ্ঞান-সৃষ্ট নানা যন্ত্র সভ্যতার অবাধ বিকাশের কারণে অনেক জটিল রোগেরও জন্ম হচ্ছে, যা মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। বর্তমান সময়ে এইডস একটি মারাত্মক ব্যাধি। বিজ্ঞানীরা এখনও এ রোগের কোনো স্থায়ী চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার করতে পারেনি। এক্ষেত্রে বিজ্ঞান ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। সম্প্রতি সার্স, ইবোলা ভাইরাসও বিজ্ঞানকে ফাঁকি দিয়ে মানুষের জীবনের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপসংহার: বিজ্ঞান বিশ্বসভ্যতার জন্য একাধারে আশীর্বাদ ও অভিশাপ দুটোই। তবে চিকিৎসাক্ষেত্রে বিজ্ঞান কেবল আশীর্বাদই নিয়ে এসেছে। প্রবাদ আছে যে, 'সুস্থ শরীরে সুস্থ মন বিরাজ করে। মানুষের এ সুস্থ শরীরের নিশ্চয়তা বিধানের জন্য বিজ্ঞান নিঃসন্দেহে মুখ্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

উত্তরঃ

স্বদেশপ্রেম

ভূমিকা: স্বদেশ মানুষের কাছে পরম সাধনার ধন, পরম নিবাস। স্বদেশের মানুষ, স্বদেশের রূপ-প্রকৃতি, তার পশু-পাখি এমনকী তার প্রতিটি ধূলিকণাও মানুষের কাছে প্রিয় ও পবিত্র। যে দেশ আলো দিল, বাতাস দিল, অন্ন-পানি দিল, বস্ত্র দিল, তার প্রতি যদি সেই শ্যামল স্নেহে প্রতিপালিত সন্তানদের মমতামণ্ডিত আনুগত্যবোধ না থাকে, তবে তারা কেবল অকৃতজ্ঞই নয়, বিশ্বের সকল নিন্দনীয় বিশেষণে বিশেষিত।

স্বদেশপ্রেম: যে ভৌগোলিক ও সামাজিক পরিবেশের মধ্যে মানুষ জন্মগ্রহণ করে এবং বড়ো হয়ে ওঠে, সে পরিবেশের প্রতি, সেখানকার মানুষের প্রতি তার একটি স্বাভাবিক আকর্ষণ গড়ে ওঠে। দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি এ আজন্ম আকর্ষণই স্বদেশপ্রেম। স্বদেশপ্রেম সকলের অন্তরেই থাকে। কখনও এ প্রেম থাকে সুপ্ত অবস্থায়, কখনও থাকে তা সুপ্রকাশিতভাবে। সুখের দিনে স্বদেশপ্রেম থাকে সুপ্তিমগ্ন। কিন্তু দুঃখের দিনে আঘাতে আঘাতে জর্জরিত হয়ে স্বদেশপ্রেম উদ্দীপিত হয়ে ওঠে। পরাধীনতার দুঃখ-বেদনায়, বিদেশিদের অকথ্য নির্যাতনে অন্তরের সুপ্ত স্বদেশপ্রেমের ঘুম ভাঙে। কিংবা দেশ যখন শত্রুর আক্রমণে পর্যুদস্ত হয়, তখন সমগ্র জাতি স্বদেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বদেশের ও স্বজাতির মানমর্ষাদা রক্ষাকল্পে রণক্ষেত্রে প্রাণ বিসর্জন দেওয়ার জন্য দলে দলে ছুটে যায়। তখন মনে হয়- 'নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান ক্ষয় নাই, তার ক্ষয় নাই।'

স্বদেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ ও উন্মেষ: প্রকৃতপক্ষে স্বদেশপ্রেমের উদ্ভব আত্মসম্মানবোধ থেকে। যে জাতির আত্মসম্মানবোধ যত প্রখর, সে জাতির স্বদেশপ্রেম তত প্রবল। স্বদেশপ্রেম এক প্রকার পরিশুদ্ধ ভাবাবেগ। নিঃস্বার্থ, হিংসাবিহীন দেশপ্রেমই প্রকৃত স্বদেশপ্রেম। ব্যক্তিগত ক্ষুদ্র স্বার্থের গণ্ডি উপেক্ষা করে বৃহত্তর স্বার্থের দিকে মন যখন পরিচালিত হয়; যখন আত্মকল্যাণ অপেক্ষা বৃহত্তর কল্যাণবোধ সক্রিয় হয়ে ওঠে, তখন জ্বলে ওঠে স্বদেশের প্রতি ভালোবাসার নিষ্কলুষ প্রদীপ শিখা। দেশপ্রেমিকের দেশ সেবার পথে বাধা অনেক, অত্যাচার সীমাহীন। কিন্তু পথের ঝড়, ঝঞ্ঝা, বজ্রপাত তাদের দৃঢ় বলিষ্ঠ পদক্ষেপের নিকট মিথ্যে প্রমাণিত হয়। ইতিহাসের পানে তাকালে এর ভুরি ভুরি দৃষ্টান্ত মেলে। পরদেশি কিংবা স্বৈরশাসকের রক্তচক্ষু কিংবা উদ্যত অস্ত্র তাদের নিবৃত্ত করতে পারে না। আমাদের বাংলাদেশের ইতিহাসও স্বদেশপ্রেমের গর্বে গর্বিত। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং সর্বশেষে ১৯৯০ সালে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান আমাদের স্বদেশপ্রেমের প্রমাণ দেয়।

অন্ধ স্বদেশপ্রেমের পরিণতি: স্বদেশপ্রেম দেশ ও জাতির গৌরবের বস্তু হলেও অন্ধ স্বদেশপ্রেম বা উগ্র জাতীয়তাবাদ ধারণ করে ভয়ংকর রূপ। জাতিতে জাতিতে সংঘাত ও সংঘর্ষ অনিবার্য করে তোলে অন্ধ স্বদেশপ্রেম। আমরা স্বদেশের জয়গান গাইতে গিয়ে যদি অপরের স্বদেশপ্রেমকে আহত করি, তবে সেই স্বদেশপ্রেম বিভিন্ন দেশ ও জাতির মধ্যে ডেকে আনে ভয়াবহ রক্তাক্ত দ্বন্দ্ব-সংঘাত। হিটলারের তৎকালীন জার্মানি কিংবা মুসোলিনির ইতালি উগ্র-জাতীয়তাবাদের নগ্নরূপ। চলমান বিশ্বের শক্তিশালী রাষ্ট্র কর্তৃক দুর্বল রাষ্ট্রসমূহের প্রতি আগ্রাসী মনোভাব অন্ধ স্বদেশপ্রেমেরই বহিঃপ্রকাশ।

দেশপ্রেম ও রাজনীতি: বস্তুত রাজনীতিবিদের প্রথম ও প্রধান শর্তই হলো দেশপ্রেম। স্বদেশপ্রেমের পবিত্র বেদিমূলেই রাজনীতির পাঠ। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ রাজনীতিবিদ দেশের সদাজাগ্রত প্রহরী। পরাধীন বাংলাদেশের দিকে দিকে যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল গড়ে উঠেছিল, তাদের সকলেরই মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল পরাধীনতার বন্ধন থেকে দেশজননীর শৃঙ্খল-মোচন। তাদের অবদানেই আজ দেশ স্বাধীন। আজও দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বর্তমান। রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে এখনও কত নতুন দলের আবির্ভাব ও নিষ্ক্রমণ। কিন্তু আজ অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই মহত্তর, বৃহত্তর কল্যাণবোধ থেকে ভ্রষ্ট। রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন ব্যক্তিগত এবং দলীয় স্বার্থ চিন্তাই অনেক ক্ষেত্রে প্রবল। দেশের স্বার্থে, জাতির স্বার্থে, মানুষের প্রয়োজনে সর্বস্ব বিলিয়ে দেওয়ার সাধনা, দেশপ্রেমের অঙ্গীকার ও সার্থকতা এখন প্রায়ই অনুপস্থিত। সংকীর্ণ রাজনীতিসর্বস্ব দেশপ্রেম প্রকৃতপক্ষে ধ্বংস ও সর্বনাশের পথকেই করে প্রশস্ত।

স্বদেশপ্রেম ও বিশ্বভাবনা: যথার্থ দেশপ্রেমের সাথে বিশ্বপ্রেমের কোনো অমিল নেই, নেই কোনো বিরোধ, বরং স্বদেশপ্রেমের ভেতর দিয়ে বিশ্বপ্রেমের এক মহৎ উপলব্ধি, জাগরণ। স্বদেশ তো বিশ্বেরই অন্তর্ভুক্ত। জাতি-ধর্ম-বর্ণ- সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে মানুষ বিশ্বপ্রেমের এ বাণীকে জাতীয় জীবনে গ্রহণ করলেই সংকীর্ণ অন্ধ জাতীয়তাবোধ থেকে আমাদের মুক্তি। বিশ্বপ্রেমের উজ্জ্বল আলোকে আমাদের স্বদেশপ্রেম হবে উদ্ভাসিত। আমরা স্বদেশকে ভালোবেসে বিশ্বদেবতারই বন্দনা করি। আজ যখন বিশ্বের সর্বত্র গণতন্ত্রের প্রবল জোয়ার এসেছে তখন বিশ্ব নাগরিকত্বের চেতনা হবে তাকে যথার্থভাবে গ্রহণ করা। স্বদেশ-চেতনা তো বিশ্ববোধেরই প্রাথমিক শর্ত। দেশের জল-মাটি-অরণ্য- পশুপাখি-মানুষ-সংস্কৃতিকে ভালোবাসতে পারলে পৃথিবীর মানুষকেও ভালোবাসা যায়। তখনই তার মধ্যে জন্ম নেয় বিশ্বাত্মবোধ।

উপসংহার: দেশপ্রেম আমাদের মনের জ্বলন্ত অগ্নিশিখা। সেই অনলে অন্তরের যত কিছু পাপবোধ, যা কিছু ক্ষুদ্র, গ্লানিময় তার আহুতিদানেই আমাদের জীবন পরিশুদ্ধ হয়। এক মহৎ চেতনার বিভায় মানব-জন্ম হয় ভাস্বর। মানুষের জীবনে যদি দেশপ্রেমের চেতনা না থাকে, যদি বৃহত্তর কল্যাণবোধ থাকে অসুন্দরের ছদ্মবেশে আচ্ছন্ন, তাহলে হৃদয়ের কোন ঐশ্বর্য নিয়ে মানুষ মহৎ হবে? বৃহৎ হবে কোন সম্পদ নিয়ে? কোথায় তাহলে জীবনের মহিমা? কোথায় সেই উন্নত উত্তরাধিকার? দেশপ্রেম তো শুধু কতগুলো প্রাণহীন শব্দসমাহার নয়, নয় কোনো নিছক বিমূর্ত আদর্শ। স্বদেশপ্রীতির মধ্যেই মনুষ্যত্বের উদ্বোধন, মহৎ জীবনের সংকল্প, বিশ্বভ্রাতৃত্বের বন্ধন।

উত্তরঃ

পোশাক শিল্প: সমস্যা ও সম্ভাবনা

ভূমিকা: তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত। সম্ভাবনাময় এ খাতকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে কর্মসংস্থানের বিশাল একটি বাজার। এ পোশাক শিল্পই হয়ে উঠেছে দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি। অথচ এ পোশাক শিল্পে দীর্ঘদিন ধরেই অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা চলছে। কখনো শ্রমিকরা তাদের বেতন-ভাতার দাবিতে বিক্ষোভ করছে, আবার কখনো কারখানায় হামলা করছে, আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে এবং মূল্যবান জিনিসপত্র ভাঙচুর করছে। এভাবে তৈরি পোশাক শিল্পে একটা বিশৃঙ্খলা লেগেই আছে। এ অস্থিরতা এবং বিশৃঙ্খলা এদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান এ খাতকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে এসব বিশৃঙ্খলা এবং অস্থিরতা চিরতরে বন্ধ করতে হবে। এর পাশাপাশি মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সমস্যাসমূহ: বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পে নানাধিক সমস্যা বিদ্যমান। নিম্নে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের সমস্যাসমূহ আলোচনা করা হলো:

১. ভবন ধস: ভবন ধসে ব্যাপক সংখ্যক শ্রমিকের প্রাণহানি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক বা গার্মেন্টস শিল্পের আলোচিত ও ভয়াবহ সমস্যাগুলোর অন্যতম। ২৪ এপ্রিল ২০১৩ ঢাকার সাভারে 'রানা প্লাজা' নামে নয়তলা একটি ভবন ধসে পড়ে। এ ভবনটিতে পাঁচটি গার্মেন্টস ছিল। এ ভবন ধসের ঘটনায় ১,১২৭ জনের প্রাণহানি ঘটে, জীবিত উদ্ধার করা হয় ২,৪৩৮ জন। এছাড়া ২০০৫ সালে স্পেকট্রাম গার্মেন্টস ভবন ধসে ৬৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। ভবন ধসের এ ভয়াবহ ঘটনায় শ্রমিকরা ভয় ও শঙ্কায় আজ অনেকেই গার্মেন্টেসের বিকল্প পথের সন্ধান করছেন। এতে করে গার্মেন্টস শিল্প দিন দিন হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।

২. অগ্নিকাণ্ড: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প কারখানাগুলোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রায়শই ঘটে। এতে করে মুহূর্তেই অঙ্গারে পরিণত স্ব স্ব ক্ষেত্রে লালন করা শ্রমিক-মালিকের স্বপ্ন। ১৯৯০ সালে সারকা গার্মেন্টসে ৩০ জন, ২০০৬ সালে কেটিএস গার্মেন্টসে ৫৫ জন, ২০১২ সালে তাজরীন ফ্যাশনস-এ ১১২ জন এবং ২০১৩ সালে তুং হাই সোয়েটার কারখানায় মালিকসহ ৮ জন আগুনে পুড়ে মারা যায়। অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনায় বাংলাদেশের গার্মেন্টস মালিকরা একদিকে পুঁজিহীন হচ্ছেন, অন্যদিকে বিদেশী ক্রেতারাও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

৩. শ্রমিকদের নিম্ন মজুরি: বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের দ্রুত বিকাশের মূলে রয়েছে শ্রমিক সহজলভ্যতা। শ্রমিক সহজলভ্যতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পোশাক শিল্প মালিকরা শ্রমিকদেরকে তাদের ইচ্ছেমতো ব্যবহার করছে। আট ঘণ্টার কাজ বার বা ষোল ঘণ্টা করিয়েও ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত করছে। সরকার শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির দিক নির্দেশনা দিলেও শিল্প মালিকরা তা মানছে না বা মানতে টালবাহানার আশ্রয় নিচ্ছেন। ফলে পোশাক শিল্পে প্রায়ই অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে। শ্রমিকরা আন্দোলন করছে; জ্বালাও, পোড়াও নীতির আশ্রয় নিচ্ছে। যা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা বলে সাম্প্রতিক কালে বিবেচিত হচ্ছে।

৪. রফতানির সীমাবদ্ধতা: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১১৫ প্রকারের পোশাকের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশসমূহের চাহিদা রয়েছে ৮৫ রকমের পোশাকের। অথচ বাংলাদেশ মাত্র ৩৬ রকমের পোশাক উৎপাদন করতে সক্ষম। উৎপাদনের এ সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের অপর একটি বড় সমস্যা। অথচ হংকং ৬৫টি রকমের, চীন ৯০ রকমের, ভারত ৬০ রকমের পোশাক রপ্তানি করে থাকে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্প সবচেয়ে বেশি প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছে ভারত ও চীনের সাথে। উৎপাদনের এ সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন করে তুলেছে।

৫. অনুন্নত অবকাঠামো ও অব্যবস্থাপনা: বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের অপর একটি সমস্যা হলো অনুন্নত অবকাঠামো। বাংলাদেশের রাস্তাঘাট, কালভার্ট, হাসপাতাল প্রভৃতির অবস্থা যথেষ্ট নাজুক। তাছাড়া রয়েছে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য প্রয়োজনীয় বন্দরজনিত অব্যবস্থাপনা ও বন্দরের অভাব। পণ্য খালাস করতে বিদেশী জাহাজগুলোকে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়। কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করার পর বন্দর থেকে তা খালাস করতে এক শ্রেণীর কাস্টমস্ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানির শিকার হতে হয়। এক হিসেবে দেখা যায়, বাংলাদেশের কাস্টমস্ কর্মকর্তা-কর্মচারীর ৮০ ভাগই অনৈতিক কাজে জড়িত। এরূপ অব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করছে।

বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পে বিদ্যমান সমস্যা থেকে উত্তরণে আশু সুপারিশসমূহ: বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় শিল্প হচ্ছে তৈরি পোশাক শিল্প। তাই এ শিল্পকে উত্তরোত্তর উন্নতি ও বিকশিত করতে হলে এর সমস্যার সমাধান অতি জরুরি। এ সম্পর্কে কতিপয় সুপারিশ নিম্নে উপস্থাপন করা হলো:

১. অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধন করা: বাংলাদেশের অবকাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে হলে প্রথমে অবকাঠামোগত উন্নয়ন তথা শিল্পাঞ্চলগুলোর সাথে বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল, সড়ক, আকাশ পথে পরিবহন ব্যবস্থার আরো উন্নয়ন প্রয়োজন। অপরদিকে দ্রুততার সাথে গ্রাস, বিদ্যুৎ সংকট দূরীকরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

২. পশ্চাৎ সংযোগ শিল্পের প্রসার ঘটানো: বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পের সুতা, বোতাম, কাপড় বিদেশ থেকে ৮৫ ভাগ আমদানি করতে হয়। কেননা দেশে প্রস্তুতকৃত কাপড়ের পরিমাণ খুবই অপ্রতুল। কাজেই পোশাক শিল্পের সমস্যা সমাধানে পশ্চাৎ সংযোগ শিল্পের প্রসার ঘটাতে হবে।

৩. পোশাক শিল্পকে আয়কর মুক্ত করা : পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে আয়কর মুক্ত করতে হবে। অন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকার জন্য রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের আয় সম্পূর্ণভাবে করমুক্ত করে রপ্তানি বাণিজ্যকে উৎসাহিত করা প্রয়োজন।

৪. পোশাকের শ্রেণী বৃদ্ধি করা: বিশ্ববাজারের ১১৫ রকমের পোশাকের চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশ মাত্র ৩৬ রকমের পোশাক তৈরি করতে পারঙ্গম। কাজেই বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশের পোশাকের শ্রেণী বৃদ্ধি করা একান্ত প্রয়োজন। 

৫. শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পখাতে নিয়োজিত শ্রমিক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের দক্ষতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে। প্রয়োজনে বিদেশে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রেরণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

উপসংহার: পরিশেষে বলা যায় যে, দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে তৈরি পোশাক শিল্পের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এ শিল্প খাত থেকে রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই অর্জিত হয়। জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন, অধিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্বের চাপ রোধ এবং অধিক বৈষষিক সমৃদ্ধি লাভের মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ঘটাতে তৈরি পোশাক শিল্পের অবদান অনস্বীকার্য। এদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মতৎপরতার মেরুদণ্ড এ পোশাক শিল্প আজ নানামুখী সমস্যার জর্জরিত। কর্তামান প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। আর এর জন্য অবশ্যই সুষ্ঠু পরিকল্পনা, নীতিমালা এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অতি জরুরি।

উত্তরঃ

মেট্রোরেল: নগরজীবনের নতুন দিগন্ত

মেট্রোরেল কী:

মেট্রোপলিটন রেল-এর সংক্ষিপ্ত রূপ হলো মেট্রোরেল। মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো স্পর্শ করে গণপরিবহনের জন্য প্রতিষ্ঠিত রেলব্যবস্থাই মেট্রোরেল। এটি একটি বিদ্যুৎচালিত পরিবহন। ঢাকা মেট্রোরেল ব্যবস্থার প্রকল্পটির নাম 'ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট'। এটি একটি দ্রুতগামী, স্বাচ্ছান্দময়, সুবিধাজনক ও নিরাপদ নগরকেন্দ্রিক রেলব্যবস্থা।

মেট্রোরেলের গুরুত্ব:

জনবহুল রাজধানী শহর ঢাকা যানজটের শহর হিসেবেই বিশেষভাবে পরিচিত। এই শহরে সকাল-দুপুর-বিকেল-রাত সবসময়ই যানজট লেগে থাকে। এখানে বাস, ট্রাক, কার, অটোরিকশা, বাইক আর রিকশা মিলিয়ে কয়েক লাখ যান প্রতিদিন চলাচল করে। দুতিন ঘণ্টা আগে রওয়ানা হয়েও সঠিক সময়ে কখনো গন্তব্যে পৌঁছানো যায় না। রাস্তায় যানজটে রীতিমতো নাকানি-চুবানি খেতে হয় যাত্রীদের। ইতোমধ্যে সরকার বেশ কয়েকটি উড়াল সেতু, ওভারব্রিজ, আন্ডারপাস, লিংকরোড ইত্যাদি নির্মাণ করেছে। কিন্তু যানজট খুব একটা নিরসন হয়নি। এ কারণে যাত্রীদের সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় বাসের অপেক্ষায়। সিএনজি বা রিকশা চালকদের হাতেও জিম্মি হতে হয় কখনো কখনো। ঝড়, বৃষ্টি বা হরতালের সময় মানুষের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। এমতাবস্থায় মেট্রোরেল চালু হলে সময়ের অপচয় যেমন হ্রাস পাবে তেমনই নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সহজ হয়ে যাবে।

মেট্রোরেলের সুযোগ-সুবিধা:

সাধারণ ট্রেন সার্ভিসের চেয়ে মেট্রোরেলের ট্রেনে অধিকতর আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে। এগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো।

  • উড়াল সড়ক:

মূল সড়কের মাঝ বরাবর উড়াল সড়ক নির্মিত হবে। উড়াল সড়কের উপর স্থাপিত রেললাইনের উপর দিয়ে চলবে ট্রেন। যানজট যাতে না হয়, সেভাবেই উড়াল সড়ক তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

 

  • মেট্রোরেলের দৈর্ঘ্য:

রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের দৈর্ঘ্য হবে ২০ দশমিক ০১ কিলোমিটার। এই দীর্ঘ রুটে ১৬টি স্টেশন থাকবে। এগুলোর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত থাকবে ৯টি স্টেশন।

এগুলো হচ্ছে উত্তরা নর্থ, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা সাউথ, পল্লবী, মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া এবং আগারগাঁও। দ্বিতীয় পর্যায়ে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত থাকবে ৭টি স্টেশন। এগুলো হচ্ছে বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ানবাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (টিএসসি), বাংলাদেশ সচিবালয় এবং মতিঝিল শাপলা চত্বর।

  • বগি ও কামরা:

প্রতিটি ট্রেনে ৬টি করে বগি থাকবে। প্রতিটি কামরা হবে সুপরিসর। সেখানে যাত্রীদের জন্য থাকবে আরামদায়ক আসন। এছাড়া প্রতিটি কামরা হবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।

  • ট্রেন সংখ্যা ও সময়:

উত্তরা-মতিঝিল রুটে চলাচল করবে ১৪টি ট্রেন। প্রতিটি ট্রেনে ৯৪২ জন যাত্রী বসে এবং ৭৫৪ জন যাত্রী দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে পারবে। প্রতি ০৪ মিনিট পর পর ট্রেন ছেড়ে যাবে। ট্রেনের গতি হবে ঘণ্টায় ৩২ কিলোমিটার। শেষ গন্তব্যে পৌঁছতে ট্রেনের সময় লাগবে ৩৮ মিনিট। প্রতি স্টেশনে ট্রেন অবস্থান করবে ৪০ সেকেন্ড।উত্তরা-মতিঝিল রুটে চলাচল করবে ১৪টি ট্রেন। প্রতিটি ট্রেনে ৯৪২ জন যাত্রী বসে এবং ৭৫৪ জন যাত্রী দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে পারবে। প্রতি ০৪ মিনিট পর পর ট্রেন ছেড়ে যাবে। ট্রেনের গতি হবে ঘণ্টায় ৩২ কিলোমিটার। শেষ গন্তব্যে পৌঁছতে ট্রেনের সময় লাগবে ৩৮ মিনিট। প্রতি স্টেশনে ট্রেন অবস্থান করবে ৪০ সেকেন্ড।

  • যাত্রী বহন ক্ষমতা ও ভাড়া আদায়:

মেট্রোরেলে ২৪টি ট্রেন প্রতি ঘণ্টায় আপ ও ডাউন রুটে দুই প্রান্তের ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করতে সক্ষম হবে। মেট্রোরেলের ভাড়া জনপ্রতি নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কিলোমিটার ৫টাকা। সর্বনিম্ন ভাড়া হবে ২০ টাকা। মেট্রোরেল ব্যবস্থায় যাত্রীদের সুবিধার্থে স্টেশনে প্রবেশের সময় মেশিনে ভাড়া সংগ্রহ করা হবে। স্বয়ংক্রিয় কার্ডের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধ করবেন যাত্রীরা।

প্রকল্প ব্যয় ও অর্থায়ন:

পুরো ২০ দশমিক ০১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মেট্রোরেল বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে জাইকা প্রকল্পের ৮৫ শতাংশের ব্যয় বাবদ ১৬ হাজার ৫৯৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা দেবে কয়েক ধাপে। বাকি ৫ হাজার ৪ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে।

মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল প্রকল্পের দৈর্ঘ্য ১.১৬ কি.মি. বাড়ানোর কারণে প্রকল্প ব্যয় ১১ হাজার ৪৮৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা বৃদ্ধি হয়েছে। ফলে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।

নির্মাণকাজের অগ্রগতি:

সালের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের পর উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত যাত্রী চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ২০২৩ সালের মধ্যে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত এবং ২০২৪ সালের মধ্যে কমলাপুর পর্যন্ত শেষ করার লক্ষমাত্রা নিয়ে দ্রুত কাজ এগিয়ে চলছে।

গতিশীল অর্থনীতি ও সহজ যাতায়াত:

বিপুল জনসংখ্যার রাজধানী শহরে যানজট নিরসনে কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা তথা স্ট্রাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান নিয়েছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। ডিটিসিএ-এর তত্ত্বাবধানেই বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার অর্থায়নে মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। যথাসময়ে প্রকল্পের সমাপ্তিতে যাত্রী পরিবহন শুরু হলে মেট্রোরেল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। সরকার এ প্রকল্প থেকে প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারবে এবং জিডিপি বৃদ্ধি পাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ অভিমত বাস্তবসম্মত ও তাৎপর্যপূর্ণ। তাছাড়া মেট্রোরেলের স্বস্তিদায়ক সেবার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে ও নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে। বিশেষ করে বৃদ্ধ, শিশু, প্রতিবন্ধী ও নারীরা দুর্বিষহ কষ্ট থেকে মুক্তি পাবে। উল্লেখ্য যে, যাত্রীরা নির্ধারিত স্থান থেকে ওঠানামা করার ফলে গড়ে উঠবে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর ঢাকা মহানগরী।

উপসংহার:

অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জনের প্রথম এবং প্রধান শর্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। মেট্রোরেল উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চালু হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও একধাপ এগিয়ে গেল। ২০২৪ সালের মধ্যে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এটি হবে একটি মাইলফলক। এর মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের অর্থ আর সময়ের অপচয় বন্ধ হবে। যানজটমুক্তভাবে মানুষ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে।

408

পারিভাষিক শব্দ

প্রতিটি শাস্ত্রের নিজস্ব শব্দ আছে যা তার পরিভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বাংলা ভাষায় প্রচলিত বিদেশি শব্দের ভাবানুবাদমূলক প্রতিশব্দকে পারিভাষিক শব্দ বলে।

নিম্নে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা উল্লেখ করা হলো:

বিদেশি শব্দ

বিদেশি শব্দ

বিদেশি শব্দ

বিদেশি শব্দ

বিদেশি শব্দ

বিদেশি শব্দ

AboriginalআদিবাসীA to Zসম্পূর্ণভাবেArmourবর্ম
Abbreviationসংক্ষেপণAnalogyউপমাAssassinationগুপ্তহত্যা
Abstractবিমূর্তAnarchyনৈরাজ্যAutonomousস্বায়ত্তশাসিত
AnonymousঅনামাAnatomyশরীরবিদ্যাAmicus Curiaeআদালতের বন্ধু
AffidavitহলফনামাAnnotationটীকাAutobiographyআত্মজীবনী
Amplitudeবিস্তারAllegoryরূপকArchitectস্থপতি
Amplificationপরিবর্ধনAttestedসত্যায়িতAliasওরফে
ArchetypeআদিরূপAnticipationপ্রাকচিন্তনAmbiguousদ্ব্যর্থক
Agoraমুক্তাঞ্চলBribeউৎকোচ/ঘুষBackgroundপটভূমি
Bondপ্রতিজ্ঞাপত্রBiographyকড়চাBuggerজঘন্য ব্যক্তি
BlockadeঅবরোধBoycottবর্জনBailজামিন
Blue Printপ্রতিচিত্রBarrenঊষরCaretakerতত্ত্বাবধায়ক
Cancerকর্কট রোগCabinetমন্ত্রিপরিষদCoupঅভ্যুত্থান
Curtailসংক্ষিপ্ত করাCoattingআবরণCartoonব্যঙ্গচিত্র
Civil Societyসুশীল সমাজChancellorআচার্যCease Fireঅস্ত্র সংবরণ
Covenantচুক্তিপত্রCircularপ্রচারপত্রConstipationকোষ্ঠকাঠিন্য
Current Accountচলতি হিসাবCurfewসান্ধ্যআইনConsumer goodsভোগ্যপণ্য
Co-optedসহযোজিতCurriculumপাঠ্যক্রমConsumer goodsসহকর্মী
Climaxমহামুহূর্তDilly dallyঅযথা দেরি করাEquationসমীকরণ
Defenceপ্রতিরক্ষাDeadlockঅচলাবস্থাEradicaitonউচ্ছেদ
Divulgeপ্রকাশ করাExecutiveনির্বাহীEpicurismভোগবাদ
Exhibitionপ্রদর্শনীExcise Dutyআবগারী শুল্কExtensionসম্প্রসারণ
EmbassyদূতাবাসEpicমহাকাব্যEditionসংস্করণ
Finalসমাপ্তিFloraউদ্ভিদকুলFor Goodচিরতরে
FileনথিFilingনথিভুক্তিForgeryজালিয়াতি
General Managerমহাব্যবস্থাপকGlossaryটীকাপঞ্জিHydrogenউদ্‌জান
Graduateস্নাতকGenocideগণহত্যাHousingআবাসন
Guidelineনির্দেশনাGazetteঘোষণাপত্রHierarchyআধিপত্য পরম্পরা
Handyব্যবহারে সুবিধাজনকHypothesisঅনুমানHightideজোয়ার
Hybridসঙ্করHomicideনরহত্যাHand billপ্রচারপত্র
HorizontalঅনুভূমিকIndustriousপরিশ্রমীIssueপ্রচার
Intellectualবুদ্ধিজীবীIn abeyanceস্থগিত করাLoggerheadsদা-কুমড়া সম্পর্ক
Indigenousস্বদেশীIndexসূচকLyricগীতিকবিতা
Jerhinআটসাট জামাJobচাকরিLeaseইজারা
Justification forসমর্থনJail codeকারাবিধিLassবালিকা
Key-noteমূলভাবKnaveryপ্রতারণাMinceকিমা করা
Managerব্যবস্থাপকModernismআধুনিকতাবাদMigratory birdঅতিথি পাখি
Microbiologyঅনুজীব বিজ্ঞানMeteorউল্কাPhonologyভাষার ধ্বনিবিজ্ঞান
NebulaনীহারিকাNationalismজাতীয়তাবাদPayerদাতা
Null and voidবাতিলNota Bene (N.B)লক্ষণীয়Pactচুক্তি
Oxygenঅম্লজানOdds and endsএটা সেটাPensiveবিষণ্ণ
Overruleবাতিল করাObligatoryবাধ্যতামূলকPostageডাকমাশুল
Post graduateস্নাতকোত্তরProvokeউস্কানি দেওয়াPolygamyবহুবিবাহ
Post graduateসাময়িকীParoleসাময়িক মুক্তিQuarterlyত্রৈমাসিক
Periodicalপ্রখ্যাতPlay truantস্কুল থেকে পালানোQuorumগণপূর্তি
RadioবেতারRelevantপ্রাসঙ্গিকQuackহাতুড়ে
Reviewপুনঃনিরীক্ষণRangeএলাকাQuotationমূল্যজ্ঞাপন
Study Leaveশিক্ষাবকাশSurgeonশল্য চিকিৎসকsanctionমঞ্জুরি
SecretaryসচিবStigmaলজ্জা বা কলঙ্ক চিহ্নSummitশীর্ষ
Secretariatসচিবালয়Sleeping partnerনিষ্ক্রিয় অংশীদারSatelliteউপগ্রহ
SubjudiceবিচারাধীনSponsorপৃষ্ঠপোষকScriptহস্তলিপি
Scarcityস্বল্পতাSubconsciousঅবচেতনTrainingপ্রশিক্ষণ
Superstitiousকুসংস্কারাচ্ছন্নScrollলিপিTreasurerকোষাধ্যক্ষ
Transparentস্বচ্ছTransliterationপ্রতিবর্ণীকরণTake to taskতিরস্কার করা
Transparencyস্বচ্ছতাTrilogyত্রয়ীTime to againবারবার
United Kingdomযুক্তরাজ্যUnstampedসিলমোহরবিহীনWisdomপ্রজ্ঞা
United Statesযুক্তরাষ্ট্রUltimatumচরমপত্রWorshipপূজা
VirileপুরুষোচিতVerticalউল্লম্বWhirlpoolঘূর্ণি
Vividপ্রাণবন্তVocationবৃত্তিWesternপশ্চিমা
Zenithশীর্ষZoologyপ্রাণিবিদ্যাLegal statementজবানবন্দি
ReferendumগণভোটGratuityপারিতোষিক
সাহিত্য সম্পর্কিত শব্দ:

শব্দ

অর্থ

শব্দ

অর্থ

Alliterationঅনুপ্রাসAntithesisপরস্পরবিরোধী শব্দাবলি ব্যবহার
Allegoryরূপকধর্মী রচনাApostropheসম্বোধন অলঙ্কার
allusionপরোক্ষ উল্লেখ/ইঙ্গিতAssonanceস্বরানুপ্রাস
Blank Verseঅমিত্রাক্ষর ছন্দCoupletদ্বিপদী শ্লোক
BalladলোকগাঁথাChiasmasবাক্যালঙ্কার
Bibliographyগ্রন্থ ও রচনাবলির তালিকাEpistolary novelপত্রোপন্যাস/চিঠির আকারে রচিত উপন্যাস
Hyperboleঅতিশয়োক্তিLimericএক ধরনের ছোট কবিতা
Haikuবিশেষ আঙ্গিকের জাপানি কবিতাLimerickমজাদার ছড়া
Lingua Francaসংযোগ ভাষাLyricগীতি কবিতা
Ironyবিদ্রুপMagnum Opusবড় মাপের সাহিত্যকর্ম
Metaphorরূপকালঙ্কারMelodramaগীতি নাটক / অতিনাটক
Metonymyবাক্যালঙ্কারবিশেষ লক্ষণাParadoxআপাত বিরোধী হলেও সত্য
Onomatopoeiaঅনুকার শব্দPersonificationব্যক্তিরূপ দান
Oxymoronবিপরীতালঙ্কারPunশ্লেষালঙ্কার / দ্ব্যর্থক শব্দ প্রয়োগ
Synecdocheলক্ষণাSimileসুস্পষ্ট তুলনামূলক
Understatementন্যূনোক্তিSatireসুস্পষ্ট তুলনামূলক
Anecdoteকোনো ব্যক্তি বা ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছোট-খাটো আকর্ষণীয় মজার গল্পAnaphoraকোনো বাণী অথবা কোনো বাক্যের মধ্যে একই শব্দ বা শব্দাংশের বারবার উচ্চারণ বা ছন্দ অনুপ্রাস
Epitaphসমাধিফলকে খোদিত করার মতো উপযুক্ত সাহিত্যিক রচনাEuphemismশ্রুতিকটু পদের পরিবর্তে কোমলতর পদের প্রয়োগ
Litotesএক জাতীয় অর্থালঙ্কার যাতে নঞর্থক শব্দের সাহায্যে তার বিপরীত সদর্থক ভাবটিকেই জোরালোভাবে প্রকাশ করা হয়

Related Question

View All
উত্তরঃ

একজন লেখক তিনিই যিনি লেখেন। তবে সব লেখা লিখেই লেখক হওয়া যায় না। লেখক সব ধরনের হতে পারে। তবে সৃজনশীল লেখকই হচ্ছে আমাদের মূল কেন্দ্রবিন্দু। লেখক হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম একটি স্বাধীন সত্ত্বা।

একজন লেখক পুরোপুরি তার নিজের সত্ত্বার ওপরে বেঁচে থাকে। অনেকেই লেখক হবার সহজ উপায় খোঁজ করে। কিন্তু পড়তে পড়তে আর লিখতে লিখতেই শুধুমাত্র লেখক হওয়া যায়। এছাড়া আর কোনো উপায় নেই। লেখক অনেক ধরনের হতে পারে।

একজন সাংবাদিকও একজন লেখক। উপন্যাস, গল্প, কবিতা, ছড়া, সাহিত্য, প্রবন্ধ, রম্য, ব্লগ সব ধরনের লেখা যারা লেখে তারাই লেখক। অনেকেই মস্তিষ্কের মধ্যে ওকটা লেখার শক্তি পেয়ে যায় আর অনেকে হয়ত শিখে শিখে লেখক হয়।

সমাজ সভ্যতা কখনোই পুরোপুরি একজন লেখকের পক্ষে থাকে না। বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিপক্ষে চলে যায়। স্বাভাবিকভাবেই একজন লেখক তার কলমের আঘাতে জর্জরিত করতে চায় সকল অন্যায়, অপবাদ। তাই হয়ত বেঁধে যেতে পারে সংঘাত। কলমই হচ্ছে একজন লেখকের দাঁড়ানোর জায়গা। কলম ছাড়া লেখকের অস্তিত্ব বিলীন। তবে সবাইকে যে প্রতিবাদ লিখতে হবে এমন কোনো কথা। কেউ কেউ মনোরঞ্জনের জন্যও লেখে। অনেকে আবার চাটুকারিতা করতে লেখে। কেউ আবার কীভাবে পুরষ্কার তুলে নেওয়া যায় সেই ধান্দা করার জন্য লেখে।

একজন লেখক হয়ে উঠতে পারে ন্যায় অন্যায়ের পার্থক্যকারী। সে কলমের ছোঁয়ায় প্রতিবাদ করতে অন্যায়ের আর ফুটিয়ে তুলবে ন্যায়ের কথা। লেখকের কলমের কালি প্রেরণার সুর হয়ে গান গাইবে। আর অশ্রুসিক্ত নয়নে হাসির ঝলক আনবে লেখকের কলম। একজন লেখকের প্রাণ তার লেখা, তার লেখার ভঙ্গি। সে তার লেখা দিয়ে বাঁচিয়ে তুলতে পারবে অসুস্থ কোনো সভ্যতাকে। লেখক তার কলম দিয়ে জাগ্রত করতে পারবে মানুষের ভীতরে লুকিয়ে থাকা অদম্য সাহস।

একজন লেখক কল্পনাকে নিয়ে আসতে পারে বাস্তবে। আমাদের নিয়ে যেতে পারে কল্পনার গহীন বনে। লেখক আমাদের সবাক যুগ থেকে অবাক যুগে নিয়ে যেতে পারে মুহূর্তের মাঝেই। লেখক জাগাতে পারে প্রেম, লেখক জাগাতে পারে নতুন কাজের স্পৃহা।

অনেকেই মনে করে লেখকের সকল বিষয়ে দ্বায় আছে। কিন্তু লেখকের মূলত কারো কাছেই কোনো দ্বায় নেই। তার দ্বায় থাকে শুধু নিজের মনের কাছে, নিজের বিবেকের কাছে, নিজের সুপ্ত চেতনার কাছে। সমাজ কি ভাববে তা নিয়ে লেখক মাথা ঘামাবে না। লেখক ভয়ে নাথা নোয়াবে না। লেখক যতদিন বাঁচবে বীরের মতোই বাঁচবে।

সারা বিশ্বেই লেখকরা নির্যাতনের শিকার হয়। অনেকেই বলে থাকে লিখে কিছুই হয় না। তাই যদি হতো তাহলে লেখার জন্য লেখকের শাস্তি হতো না। লেখকের ফাঁসি হতো না।

লেখকের কলমে অনেক জোর। সেই জোর ভেঙে চুরে গুড়িয়ে দিতে পারে যেকোনো কিছু। বিশেষ করে সাংবাদিকরা বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত হয় অনিয়মের বিরুদ্ধে লিখতে গিয়ে। শাস্তি, সাজা বহু কিছু তাদের সহ্য করতে হয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লিখলে হুমকি আসে, হামলা মামলা বহু ঘটনাই ঘটে। কারণ শাসক, শোষক আর অন্যায়কারীদের অনেক ক্ষমতা। লেখকের সমাজের দায়মুক্তির জন্য জীবনও দিতে হয়। তাইতো একজন লেখক সমাজের শক্তি, সমাজের সম্পদ।

3.7k
উত্তরঃ

সাহিত্য হচ্ছে মানুষের চিন্তা-ভাবনা, অনুভূতি তথা মানব-অভিজ্ঞতার কথা বা শব্দের বাঁধনে নির্মিত নান্দনিক বহিঃপ্রকাশ। এই অর্থে গল্প, কবিতা, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ইত্যাদি উচ্চতর গুণাবলি সমন্বিত বিশেষ ধরনের সৃজনশীল মহত্তম শিল্পকর্ম। সাহিত্য-শিল্পীগণ যখন ‘অন্তর হতে বচন আহরণ’ করে আত্মপ্রকাশ কলায় ‘গীতরস ধারা’য় সিঞ্চন করে ‘আনন্দলোকে’ নিজের কথা- পরের কথা- বাইরের জগতের কথা আত্মগত উপলব্ধির রসে প্রকাশ করেন- তখনই তা হয়ে ওঠে সাহিত্য। রবীন্দ্রনাথের কথায় “বহিঃপ্রকৃতি এবং মানব-চরিত্র মানুষের মধ্যে অনুক্ষণ যে আকার ধারণ করিতেছে, যে-সঙ্গীত ধ্বনিত করিয়া তুলিতেছে, ভাষা-রচিত সেই চিত্র এবং সেই গানই সাহিত্য।…সাধারণের জিনিসকে বিশেষভাবে নিজের করিয়া – সেই উপায়ে তাহাকে পুনরায় বিশেষভাবে সাধারণের করিয়া তোলাই হচ্ছে সাহিত্যের কাজ।” [রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সাহিত্য] সাহিত্য সত্য-সুন্দরের প্রকাশ হিসেবে প্রবহমাণ সময়ে যা ঘটে – সে-সবের মধ্য থেকে যা মহৎ, যা বস্তুসীমাকে ছাড়িয়ে বাস্তবাতীত প্রকাশ করে, যা জীবনের জন্য কল্যাণময় এবং মহৎ আদর্শের দ্যোতক তাকেই প্রকাশ করে। আসলে মহৎ সাহিত্য তাই- যা একাধারে সমসাময়িক-শাশ্বত-যুগধর্মী-যুগোপযোগী-যুগোত্তীর্ণ। সাহিত্য কেবল পাঠককে আনন্দ দেয় না- সমানভাবে প্রভাবিত করে পাঠক এবং সমাজকে।

আভিধানিকভাবে ‘সহিতের ভাব’ বা ‘মিলন’ অর্থে ‘সাহিত্য’ হলো কাব্য, নাটক, গল্প, উপন্যাস ইত্যাদি সৃজনশিল্পের মাধ্যমে এক হৃদয়ের সঙ্গে অন্য হৃদয়ের সংযোগ স্থাপন; সাহিত্য¯্রষ্টা-সাহিত্যের সাথে পাঠকের এক সানুরাগ বিনিময়। কিন্তু আভিধানিক অর্থের নির্দিষ্ট সীমায় সাহিত্যের স্বরূপ-গতি-প্রকৃতি-বৈচিত্র্য ও বিস্তৃতির সম্যক ধারণা দেওয়া যেমন অসম্ভব, কোনো বিশেষ সংজ্ঞায় তাকে সুনির্দিষ্ট করে দেওয়াও তেমন দুঃসাধ্য। বাচ্যার্থ ও ব্যঞ্জনার্থর সীমাকে অতিক্রম করে নানা রূপে, রসে, প্রকরণ ও শৈলীতে সাহিত্যের নিরন্তর যাত্রা সীমা থেকে অসীমে। প্রত্যক্ষ সমাজপরিবেশ তথা সমকালীন বাস্তব পারিপার্শ্বিক, নিসর্গপ্রীতি ও মহাবিশ্বলোকের বৃহৎ-উদার পরিসরে ব্যক্তিচৈতন্য ও কল্পনার অন্বেষণ ও মুক্তি- আর এইভাবেই শ্রেণিবিভাজন, নামকরণ ও স্বরূপমীমাংসার প্রচেষ্টাকে ছাপিয়ে উঠে সাহিত্যের যাত্রা সীমাহীনতায়। প্রকৃত সাহিত্য তাই যেমন তার সমসময় যা যুগমুহূর্তের, তেমনই তা সর্বকালের সর্বজনের। মার্কসবাদী সাহিত্যতত্ত্বে বাস্তব সমাজজীবনকে ‘ভিত্তি’ আর শিল্প-সাহিত্যকে সমাজের উপরিকাঠামোর [ঝঁঢ়বৎংঃৎঁপঃঁৎব] অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। সাহিত্যের মৌল উপকরণসামগ্রী আহৃত হয় জীবনের ভা-ার থেকে- সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, প্রেম-বৈরিতার বিচিত্র-অনিঃশেষ ভা-ার থেকে। সাহিত্যসৃষ্টির মূলে সক্রিয় যে সৃজনী-ব্যক্তিত্ব তা নিছক বিমূর্ত কোনো সত্তা নয়; আত্মপ্রকাশ ও মানবিক সংযোগ ও বিনিময়ের বাসনায় অনুপ্রাণিত সে সত্তা তার ভাব-ভাবনা, বোধ ও বিশ্বাসকে এক আশ্চর্য কৌশলে প্রকাশ করে জনসমক্ষে কোনো একটি বিশেষ রূপ-রীতি-নীতির আশ্রয়ে। ব্যক্তিক অনুুভূতি-যাপিতজীবন-মিশ্রকল্পনার জগৎ থেকেই সৃষ্টি হয় সাহিত্যের; যুগান্তরের আলোকবর্তিকা হিসেবে সাহিত্য সত্যের পথে সবসময় মাথা উঁচু করে থেকেছে- সত্যকে সন্ধান করেছে। আসলে সাহিত্য এমনি এক দর্পণ- যাতে প্রতিবিম্বিত হয় মানবজীবন, জীবনের চলচ্ছবি, পরিবেশ-প্রতিবেশ, সমাজজীবনে ঘটমান ইতিহাস- ইতিহাসের চোরাস্রােত নানাবিধ কৌণিক সূক্ষ্মতায়।

সাধারণত আত্মপ্রকাশের বাসনা, সমাজ-সত্তার সঙ্গে সংযোগ কামনা, অভিজ্ঞতার আলোয় কল্পলোক নির্মাণ এবং রূপপ্রিয়তা- এই চতুর্মাত্রিক প্রবণতাই মানুষের সাহিত্য-সাধনার মৌল-উৎস। চতুর্মাত্রিক প্রবণতার [আত্মপ্রকাশের কামনা, পারিপার্শ্বিকের সাথে যোগাযোগ বা মিলনের কামনা, কল্প-জগতের প্রয়োজনীয়তা এবং সৌন্দর্য-সৃষ্টির আকাক্সক্ষা বা রূপমুগ্ধতা] মধ্যে সমাজসত্তার সঙ্গে সংযোগ-কামনা এবং অভিজ্ঞতার আলোয় কল্পলোক নির্মাণ- এই উৎসদ্বয়ের মধ্যে নিহিত রয়েছে সাহিত্য ও সমাজের মধ্যে আন্তর-সম্পর্কের প্রাণ-বীজ। সমাজ শিল্পীকে সাহিত্য-সাধনায় প্রণোদিত করে। ‘সহৃদয়-হৃদয় সংবাদ’এর মাধ্যমে সাহিত্যিকগণ লেখক-পাঠকের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করেন- উভয়ের হৃদয়বীণার তারগুলোকে একই সুতায় গেঁথে দেন। এর কারণে সাহিত্য দেশ-কাল-সমাজের সীমা অতিক্রম করে সর্বসাধারণের হৃদয়কে আকর্ষণ করে। এর ফলে সাহিত্য হয়ে ওঠে সার্বজনীন-সর্বকালের মানুষের হৃদয়ের সামগ্রী এবং সাহিত্য¯্রষ্টাও হয়ে ওঠেন অনেক বড়। কিন্তু বর্তমান বাংলা সাহিত্যচর্চার গতি-প্রকৃতি, সমস্যা-সংকট-সমাধান কোন দিকে? এসব বিষয়ের সন্ধান- এ প্রবন্ধের অন্বিষ্ট।

3.1k
উত্তরঃ

আমাদের লোকশিল্প প্রবন্ধটি আমাদের লোককৃষ্টি গ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে। লেখক এ প্রবন্ধে বাংলাদেশের লোকশিল্প ও লোক-ঐতিহ্যের বর্ণনা দিয়েছেন । এ বর্ণনায় লোকশিল্পের প্রতি তার গভীর মমত্ববোধের পরিচয় রয়েছে।
আমাদের নিত্যব্যবহার্য অধিকাংশ জিনিসই এ কুটিরশিল্পের ওপর নির্ভরশীল ।

শিল্পগুণ বিচারে এ ধরনের শিল্পকে লোকশিল্পের মধ্যে গণ্য করা যেতে পারে । পূর্বে আমাদের দেশে যে সমস্ত লোকশিল্পের দ্রব্য তৈরি হতো তার অনেকগুলোই অত্যন্ত উচ্চমানের ছিল। ঢাকাই মসলিন তার অন্যতম। ঢাকাই মসলিন অধুনা বিলুপ্ত হলেও ঢাকাই জামদানি শাড়ি অনেকাংশে সে স্থান অধিকার করেছে।

বর্তমানে জামদানি শাড়ি দেশে-বিদেশে পরিচিত এবং আমাদের গর্বের বস্তু। নকশি কাথা আমাদের একটি গ্রামীণ লোকশিল্প। এ শিল্প আজ বিলুপ্তপ্রায় হলেও এর কিছু কিছু নমুনা পাওয়া যায়। আপন পরিবেশ থেকেই মেয়েরা তাদের মনের মতো করে কীথা সেলাইয়ের অনুপ্রেরণা পেতেন । কাঁথার প্রতিটি সুচের ফোঁড়ের মধ্যে লুকিয়ে আছে এক-একটি পরিবারের কাহিনী, তাদের পরিবেশ, তাদের জীবনগাঁথা ।

আমাদের দেশের কুমোরপাড়ার শিল্পীরা বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্র ছাড়াও পোড়ামাটি দিয়ে নানা প্রকার শৌখিন দ্রব্য তৈরি করে থাকে। নানা প্রকার পুতুল, মূর্তি ও আধুনিক রুচির ফুলদানি, ছাইদানি, চায়ের সেট ইত্যাদি তারা গড়ে থাকে।
খুলনার মাদুর ও সিলেটের শীতলপাটি সকলের কাছে পরিচিত। আমাদের দেশের এই যে লোকশিল্প তা সংরক্ষণের দায়িত আমাদের সকলের । লোকশিল্পের মাধ্যমে আমরা আমাদের ঐতিহ্যকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারি।

arif
arif
3 years ago
3.7k
উত্তরঃ

আমাদের অর্থনৈতিক সম্পদ

 

বাংলাদেশ, একটি দ্রুত উন্নতি লক্ষ্য নির্ধারণ করা দেশ, যা প্রচুর অর্থনৈতিক সম্পদের বেশিরভাগ সম্পদ নিয়ে এগিয়ে চলেছে। এই দেশের অর্থনৈতিক সম্পদ মৌলিকভাবে চারটি প্রধান উৎস থেকে আসে: জমি, কাজ, উদ্যোগ, এবং মানুষের কাজের দক্ষতা। এই সম্পদের বিকাশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, আর্থিক এবং সামাজিক পরিবর্তনের ভূমিকা রয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদের মূল স্তম্ভ হল কৃষি। দেশটি একটি প্রধানত কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতির মূল হিসেবে প্রধানত শস্য ও ফসল চাষ প্রসঙ্গে বিকাশ হয়েছে। বাংলাদেশে প্রধানত ধান, পাট, মশুর ডাল, আখ, পটল, পেঁপে, তেল সহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয়। অত্যন্ত উচ্চ মানের খাদ্য সামগ্রী উৎপাদনের ফলে এই খাদ্য পণ্য রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক সম্পদের গড়াতে সাহায্য করে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উৎস হল প্রবৃদ্ধি ও শিক্ষাগত উন্নতি। বাংলাদেশে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অভাব কমে আসছে এবং মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি করছে। বিশেষত, প্রযুক্তির আগমন এবং বিনিয়োগে বৃদ্ধি নেওয়া হচ্ছে, যা অর্থনৈতিক সম্পদের উন্নতির পথে সাহায্য করছে।

অন্যান্য উৎস হিসেবে প্রযুক্তিবিদ্যা এবং সেবা অংশ গুলির অগ্রগতি আছে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক সম্পদ হল তার মানুষের চাকরিভার্থী শ্রমিকেরা। তাদের দক্ষতা, উদ্যোগ, ও সামর্থ্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

যদিও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদ উন্নতির পথে অনেক উত্সাহজনক প্রগতি হয়েছে, তবে এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ র

য়েছে। প্রধানতঃ গরিব মানুষের জন্য আর্থিক সম্পদের অগ্রগতি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখনও বেশিরভাগ লোকের মধ্যে বৃদ্ধির অভাব আছে। তাছাড়া, পরিবেশের সম্পদ সংরক্ষণের জন্য সঠিক প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন।

পুনর্নির্মাণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পদের বিস্তার ও উন্নতি নিশ্চিত করতে পারে। সঠিক নীতি নির্ধারণ, উদ্যোগের বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত প্রবর্তন এবং শিক্ষাগত উন্নতি এমন পরিবর্তন নিশ্চিত করতে সাহায্য করতে পারে।

শেষ কথায়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা দেশটির সমৃদ্ধি ও উন্নতির সাথে অবিভাজ্যভাবে সংযোগিত। একটি দ্রুত বৃদ্ধির উপায় হল সঠিক পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা এবং উদ্যোগের বৃদ্ধি করা। এই প্রস্তুতি নেওয়ার মাধ্যমে, বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক সম্পদ উন্নতির পথে আরও এগিয়ে যেতে পারে এবং তার মানুষের জন্য আরো উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।

2.4k
উত্তরঃ

"বিক্ষুব্ধ পূর্ব ইউরোপ" বলতে পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ১৯৮৯ সালের পর সাম্যবাদী শাসনের পতন এবং এর ফলে উদ্ভূত রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতাকে বোঝায়। এই সময়কালে, পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো গণতন্ত্র ও বাজার অর্থনীতির দিকে ধাবিত হয়, যার ফলে নতুন জাতীয়তাবাদ, অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সামাজিক পরিবর্তন দেখা যায়। 

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও কারণ: 

সাম্যবাদের পতন:

১৯৮৯ সালের ঐতিহাসিক বছরটি পূর্ব ইউরোপে সাম্যবাদী ব্যবস্থার পতন ঘটায়, যা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এই পরিবর্তনের ফলে দেশগুলো তাদের সাম্যবাদী অতীত থেকে মুক্তি পেতে শুরু করে।

গণতন্ত্রের পথে যাত্রা:

সাম্যবাদের পতনের পর পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও মুক্ত বাজার অর্থনীতির দিকে ঝুঁকে পড়ে।

বিক্ষোভ ও অস্থিতিশীলতার কারণসমূহ: 

অর্থনৈতিক সংকট:

সাম্যবাদী অর্থনীতি থেকে বাজার অর্থনীতিতে উত্তরণ অনেক দেশে অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করে। বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি, এবং ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য বাড়ে, যা সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করে।

জাতীয়তাবাদের উত্থান:

অনেক দেশে সাম্যবাদী শাসনের অবসানের পর বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে জাতীয়তাবোধ তীব্র হয়, যা নতুন করে জাতিগত সংঘাতের জন্ম দেয়।

রাজনৈতিক অস্থিরতা:

নতুন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো সুসংহত হতে সময় লাগে, ফলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। অনেক দেশে ক্ষমতা ও আদর্শের লড়াইয়ের কারণে সহিংসতাও ঘটে।

সামাজিক পরিবর্তন:

পুরনো সাম্যবাদী নীতি ও ব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন সামাজিক কাঠামো ও মূল্যবোধের জন্ম হতে থাকে, যা সমাজের বিভিন্ন স্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি করে।

গুরুত্বপূর্ণ দিক: 

  • এই বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতি পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে এক নতুন যুগের সূচনা করে, যেখানে তারা তাদের নিজস্ব পথে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ পায়।
  • যদিও এই পরিবর্তন প্রক্রিয়াটি কঠিন ছিল, এটি এই অঞ্চলে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এইভাবে, "বিক্ষুব্ধ পূর্ব ইউরোপ" মূলত সেই সময়ের পরিবর্তন, অস্থিরতা এবং নতুন করে গড়ে ওঠার জটিল প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে, যা সাম্যবাদের পতন ও গণতান্ত্রিক যাত্রার ফলস্বরূপ ঘটেছিল। 

Satt Team 10
Satt Team 10
9 months ago
2.2k
উত্তরঃ

পররাষ্ট্রনীতি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতির সম্প্রসারণ। পররাষ্ট্রনীতি হলো কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের গৃহীত সেসব নীতি যা রাষ্ট্র তার রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে সম্পাদন করে থাকে। অন্য রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতাকে তুলে ধরে।

১৯৭১ সালে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। স্বাধীনতা লাভের পরবর্তী সময়ে ভৌগোলিক অবস্থান, স্বল্প পরিসরের ভূখন্ড এবং সীমিত অর্থনৈতিক সম্পদ ইত্যাদি বিভিন্ন নিয়ামক বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের সুযোগকে সীমাবদ্ধ করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি মূলত বহিঃশক্তির প্রভাব থেকে  দেশের সাবভৌমত্ব ও ভূখন্ডকে রক্ষা করার মতো বিষয়েই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে।

পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কীয় সাংবিধনিক বিধান  বাংলাদেশের সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নির্দেশনা রয়েছে। এই নির্দেশনাসমূহ বাংলাদেশ সংবিধানের ২৫ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে। এগুলি হলো:

জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অপর রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা, এ সকল নীতিই হবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এ সকল নীতির ভিত্তিতে-

১. রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকা এবং সাধারণ ও পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করবে; প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করবে; এবং সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ বা বর্ণ্যবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করবে।

২. রাষ্ট্র ইসলামী সংহতির ভিত্তিতে মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক সংহত, সংরক্ষণ এবং জোরদার করতে সচেষ্ট হবে। সংবিধানের ৬৩ অনুচ্ছেদে যুদ্ধ-ঘোষণা সংক্রান্ত নীতি উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে সংসদের সম্মতি ব্যতিত যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবে না, কিংবা প্রজাতন্ত্র কোনো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে না। অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক)তে বৈদেশিক চুক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে: ‘বিদেশের সাথে সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হবে, এবং রাষ্ট্রপতি তা সংসদে পেশ করার ব্যবস্থা করবেন। তবে শর্ত হচ্ছে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট অনুরূপ কোন চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হবে।’

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতিসমূহ  পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কিছু মূলনীতি অনুসরণ করে থাকে। জাতিসংঘ এবং ন্যামের মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ এসব সংগঠনের মূলনীতিসমূহ মেনে চলে, এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান নীতিসমূহ এসব সংগঠনের নীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান চারটি মূলনীতি হলো:

সকলের প্রতি বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়  একটি দরিদ্র রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীল হবার কারণে বাংলাদেশকে বিভিন্ন মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হতে হয়। এ কারণেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমান পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি হিসেবে বলেছিলেন, ‘আমাদের একটি ক্ষুদ্র দেশ, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়, আমরা চাই সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব’।

অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখন্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন  বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য। জাতিসংঘ সনদের ২(৪) ধারায় বলা হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সকল সদস্য-রাষ্ট্র আঞ্চলিক অখন্ডতার বিরুদ্ধে কিংবা অন্য কোনো রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের ভীতি প্রদর্শন থেকে এবং জাতিসংঘের উদ্দেশ্যের সংঙ্গে সামঞ্জস্যহীন কোনো উপায় গ্রহণ করা থেকে নিবৃত্ত থাকবে’।

অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করা  জাতিসংঘ সনদের ২(৭) ধারায় বলা হয়েছে যে,  ‘বর্তমান সনদ জাতিসংঘকে কোনো রাষ্ট্রের নিছক অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অধিকার দিচ্ছে না বা সেরূপ বিষয়ের নিষ্পত্তির জন্য কোনো সদস্যকে জাতিসংঘের দারস্থ হতে হবে না; কিন্তু সপ্তম অধ্যায় অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে এই নীতি অন্তরায় হবে না’। জাতিসংঘের একটি সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ এই মূলনীতির উপর তার পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করেছে, যা অন্য রাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে প্রকাশিত।

২০০৯ সালে পুনরায় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে, এবং প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনয়নের কথা ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের নিরাপত্তা ধারণা বিবেচনায় রেখে প্রায় তিন দশক পর ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি সরকার রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে রাশিয়ার সাহায্যে দেশে পারমাণবিক প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সময়ের পরিবর্তনের সাথে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যত অর্জনের সম্ভাবনা অনেকটা ক্ষীণ হয়ে পড়ছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ তার প্রতিবেশী এবং আঞ্চলিক রাষ্ট্রসমূহের সাথে এবং বিশ্বের আরো কিছু রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়’ একটি সত্তুরের দশকের ধারণা, যা প্রায় ৪০ বছরের পুরনো। বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্ব প্রেক্ষাপটে পুরনো ধারার পরররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত তার অর্জনের সম্ভাবনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। সুতরাং পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য নিয়ে নতুন কৌশল-পরিকল্পনা করা উচিত, যার মাধ্যমে পরিবর্তিত বিশ্বে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারে।  [ঊর্মি হোসেন]

Md. Aminul Islam
Md. Aminul Islam
2 years ago
4.4k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews