ই-গভর্ন্যান্স বলতে এমন এক শাসনব্যবস্থাকে বোঝায় যার মাধ্যমে সরকারি সেবা ও প্রশাসনিক তথ্যসমূহ ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
ই-গভর্ন্যান্সের বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
১.-গভর্ন্যান্সে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে সময় বাড়ার সাথে সাথে খরচ কমতে থাকে।
২. ই-গভর্ন্যান্সের কারণে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কাজের ক্ষেত্র ও পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে।
৩.
উন্নত প্রযুক্তির কারণে লেনদেন ও তথ্য যোগাযোগে দ্রুত পরিবর্তন ঘটে।
৪.
তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ই-গভর্ন্যান্সে চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য কাজের গতি বৃদ্ধি করে এবং সহজ করে।
৫.
উৎপাদনের সকল অপচয় রোধ
নিরঞ্জনের কাজের দ্বারা ই-গভর্ন্যান্সের সুবিধা বোঝানো হয়েছে।
ই-গভর্ন্যান্স বলতে মূলত তথ্যপ্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং ইন্টারনেট ও কম্পিউটারভিত্তিক যোগাযোগকে বোঝায়। প্রযুক্তির উপযুক্ত ব্যবহারের মাধ্যমে দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে জনগণের দোরগোড়ায় রাষ্ট্রের যাবতীয় তথ্য পৌঁছে দেওয়ার সরকারি ব্যবস্থাকে
বোঝায়। নিচে ই-গভর্ন্যান্সের সুবিধাগুলো তুলে ধরা হলো-
১. ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে প্রশাসনিক ব্যয় হ্রাস পায়। তথ্যপ্রযুক্তি ও কাজের ক্ষেত্র ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে।
২. জনসেবাগুলোর মান ও ব্যপ্তি উন্নততর হয় এবং একই সঙ্গে জনসেবার খরচও সাশ্রয় হয়।
৩. ই-গভর্ন্যান্সের ফলে প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়।
৪. ই-গভর্ন্যান্সে জনগণ রাষ্ট্রীয় আইন ও সরকারি নিয়মনীতিগুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে খুব সহজেই জানতে পারে।
৫. ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হয় এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
৬. ই-গভর্ন্যান্সের ফলে জনগণের সাথে সরকারের সম্পর্কের দ্রুত উন্নয়ন ঘটে।
৭. তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ ব্যবহার উন্নয়নের ফলে ব্যবসায় বাণিজ্যের দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটে।
নিরঞ্জনের সর্বশেষ মন্তব্যটি হলো- আমাদের দেশে ই-গভর্ন্যান্স চালু হলে সুশাসনসহ, শাসকশ্রেণির জবাবদিহিতা বাড়বে এবং আমরা উন্নত সেবা পাব। আমি এ বক্তব্যটিকে খুবই যথার্থ মনে করি। কেননা সুশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো অংশগ্রহণভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা। এ ব্যাপারে ই-গভর্ন্যান্স অনবদ্য ভূমিকা পালন করে। ই-গভর্ন্যান্সের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি জনগণকে রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে উৎসাহিত করে এবং জনগণের অংশগ্রহণের মাত্রাকে বৃদ্ধি করে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সুশাসনের প্রাণশক্তি। সরকারের এবং সরকারে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অর্জনের ব্যাপারে ই-গভর্ন্যান্স অনবদ্য ভূমিকা পালন করে।
ই-গভর্ন্যান্স অবাধ তথ্য প্রবাহ হতে তথ্য সংগ্রহপূর্বক ক্রয়-বিক্রয় ও দায়িত্ব পালনের চিত্র জনসম্মুখে তুলে ধরে জবাবদিহিতা অর্জনে সাহায্য করে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনে বাধ্য হয়। এতে করে দুর্নীতি করার কোনো সুযোগই থাকে না। ফলে জনগণের চাহিদা মোতাবেক তারা কাজ করতে পারে। এতে করে দেশের উন্নয়ন সাধিত হয়। তাছাড়া ই-গভর্ন্যান্সে তথ্যের অবাধ প্রবাহ ঘটে। তথ্য সরবরাহের জন্য জনগণকে আর অফিস বা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দৌড়াতে হয় না। যখন ইচ্ছা তখন ইন্টারনেট থেকে তথ্য সরবরাহ করা যায় বলে সময়ের সাশ্রয় ঘটে। তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে সরকার খুব দ্রুত জনগণের সমস্যাবলি। সম্পর্কে অবহিত হতে পারে এবং উন্নততর সেবা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। এভাবে জনগণ ই-গভর্ন্যান্সের কল্যাণে উন্নত সেবা পেতে পারে। সুতরাং বলা যায় যে, নিরঞ্জনের মন্তব্যটি খুবই যথার্থ ।
Related Question
View All"ই-গভর্ন্যান্স হচ্ছে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার" - সংজ্ঞাটি জাতিসংঘ (২০০৬) প্রদত্ত।
ই-গভর্ন্যান্সের প্রধান উদ্দেশ্য হলো জনগণকে তথ্যসেবা দেওয়া। আর এর মাধ্যমে সরকারি কাজের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা যায়। সরকারি কাজের গতিশীলতা আনয়ন, ব্যয় হ্রাস করা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ই-গভর্ন্যান্স বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রশাসনিক ব্যবস্থার উন্নয়নে ই-গভর্ন্যান্স পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকরী ও ফলপ্রসূ একটি পদ্ধতি।
সুমনের বাবা অবাক হয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে মনে হচ্ছে তিনি আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে পর্যাপ্ত জানেন না। তিনি হয়তবা বয়োজ্যেষ্ঠ লোক যারা আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারে অভ্যস্ত নন। তিনি এমন এক ব্যবস্থায় অভ্যস্ত যেখানে সরকারি-বেসরকারি যোগাযোগ সবসময় সাধারণভাবে সম্পন্ন হয়। চিঠি, সরাসরি খবর সরবরাহ কিংবা বড়জোর টেলিফোনের মাধ্যমে তথ্য যোগাযোগে যারা পারদর্শী ছিলেন, তাদের নিকট ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আশ্চর্য হওয়ার মতোই ব্যাপার। আধুনিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো জনমত গঠনের ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছে। ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমেই ঘরে বসেই সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করা যায়। সুমন এভাবেই সন্ত্রাসীকে ধরে দিতে সহায়তা করেছে। কিন্তু এ বিষয়ে যার কোনো ধারণা নেই, তিনি এতে আশ্চান্বিত হতেই পারেন। এজন্যই সুমনের বাবা অবাক হয়েছিলেন।
সুমন রাষ্ট্র পরিচালনায় সুশিক্ষিত ও সচেতন জনগণের কথা উল্লেখ করেছে, যারা বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আধুনিককালে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় সরকার ও জনগণের সহঅংশীদারিত্বের মাধ্যমে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করে। কিন্তু গণতন্ত্রের নির্বাচন ব্যবস্থায় সমাজে শিক্ষিত ও সচেতন জনগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সমাজের সচেতন নাগরিকেরা সরকারের বিভিন্ন দিক নিয়ে পত্রপত্রিকা এবং অনলাইনভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থার নানাবিধ আলোচনা সমালোচনায় অংশ নেয়। ফেসবুক, টুইটার, ব্লগ ইত্যাদিকে এখন বলা হয় নাগরিক সাংবাদিকতার প্লাটফর্ম। এ প্লাটফর্মে জনগণ একত্রিত হয়ে সরকারের প্রশংসা বা সমালোচনা করে সরকারকে সঠিক পথ নির্দেশনা দেয়। এরূপ আন্দোলনের দাবি অনেক সময়ই সরকার অনিচ্ছা সত্ত্বেও মানতে বাধ্য হয়। আর এ কাজটি করে মূলত দেশের সচেতন ও শিক্ষিত জনসাধারণ। গণতন্ত্র এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এ পক্ষের ভূমিকা অনস্বীকার্য। জনসাধারণের এ অংশ যত সক্রিয় ও কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে, গণতন্ত্র তত সংহত হবে। শাসকগোষ্ঠীর জবাবদিহিতা তত বৃদ্ধি পাবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। চূড়ান্ত বিচারে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। এভাবেই জনসাধারণের সচেতন ও সুশিক্ষিত অংশ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রভাব বিস্তার করে থাকেন।
ফেসবুক ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগের একটি মাধ্যম যার মাধ্যমে বিভিন্ন লোকের সাথে যোগাযোগ করা যায় এবং ছবি, তথ্য শেয়ার করা যায়। (www.facebook.com)
ই-গভর্ন্যান্স একটি উত্তম পদ্ধতি হলেও এর নানাবিধ অসুবিধা রয়েছে। এটি প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি পদ্ধতি, আবার এজন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাসম্পন্ন জনবলও অপ্রতুল। এছাড়াও রক্ষণাবেক্ষণ, নিয়মিত হালনাগাদ করার বিদ্যুৎ সমস্যা, ইন্টারনেটের ধীরগতি এবং দুর্নীতিবাজদের প্রভাব এক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করে। যেখানে' দেশের সিংহভাগ জনগণের ন্যূনতম ICT জ্ঞান এবং ইন্টারনেট অ্যাকসেস নেই, সেখানে এটি অপ্রয়োজনীয় অপচয়ও বটে
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!