রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা।
কবিতাটিতে 'নাহি ভরসা' বলতে ধান নিয়ে অপেক্ষমাণ, কৃষকের আশঙ্কার কথা বোঝানো হয়েছে।
ক্ষুরধারা বর্ষায় ভরা নদীর স্রোত দ্বীপসদৃশ ছোটো ধানখেতটির চারপাশে খেলা করছে, যেন মুহূর্তের মধ্যেই খেতটি ভাসিয়ে নেবে। এমনই স্তে পরিস্থিতিতে সেখানে রাশি রাশি সোনার ধান কেটে অপেক্ষা করছেন নিঃসঙ্গ কৃষক। মেঘাচ্ছন্ন দিনে সোনার ধানগুলো নিরাপদে পার করতে পারবেন কি না, সে আশঙ্কায় উদ্বেল হয়ে পড়েছিলেন কৃষক। 'নাহি ভরসা' উক্তিটির মাধ্যমে তাঁর সে আশঙ্কার কথাই ব্যক্ত হয়েছে।
উদ্দীপকের বিদ্যানন্দ 'সোনার তরী' কবিতার কৃষকের সঙ্গে সোনার তরীতে স্থান না পাওয়ার দিক থেকে সম্পর্কিত।
'সোনার তরী' কবিতায় দেখা যায়, চারপাশের প্রবল স্রোতের মধ্যে জেগে থাকা দ্বীপের মতো ছোটো একটি ধানখেতে উৎপন্ন সোনার ধানের সম্ভার নিয়ে অপেক্ষারত এক কৃষক। খরস্রোতা নদীতে ভরাপাল সোনার নৌকা যেতে দেখে কৃষক মাঝিকে আহ্বান করে তাঁর সোনার ফসল নেওয়ার জন্য। নৌকায় ধান ভরা হয় বটে, তবে সেখানে কৃষকের ঠাঁই হয় না।
উদ্দীপকে নানা ও নাতির কথোপকথনে জনৈক বিদ্যানন্দের মহতী কর্মের পরিচয় ফুটে উঠেছে। বিদ্যানন্দ নিজের এলাকায় একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। সমাজের মানুষের বাধা সত্ত্বেও তিনি হতোদ্যম হননি। তিনি চলে গেছেন পরপারে, তাঁর প্রতিষ্ঠা করা বিদ্যালয় রয়ে গেছে। তেমনি 'সোনার তরী' কবিতায় সোনার ধান ফলানো কৃষকের ফসলের জায়গা হলেও কৃষকের জায়গা হয়নি পৃথিবীরূপী সোনার তরীতে।
কর্মই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে 'সোনার তরী' কবিতার এই মূলভাবের সঙ্গে উদ্দীপকের বিদ্যানন্দের কর্মের মাধ্যমে বেঁচে থাকার বিষয়টি সংগতিপূর্ণ বিধায় আলোচ্য উক্তিটি যথার্থ।
'সোনার তরী' একটি রূপক কবিতা। এখানে কৃষক, ধান, সোনার তরী প্রভৃতি রূপকের অন্তরালে মানবজীবনের এক শাশ্বত সত্য প্রকাশিত হয়েছে। সোনার ধান ফলানো কৃষকের উৎপাদিত ফসল সোনার তরী গ্রহণ করলেও তাঁর জায়গা হয় না সেখানে। মানুষের জীবনও এমনিভাবে প্রবাহিত। সে এ পৃথিবী নামক সোনার তরীতে স্থান পায় না; হারিয়ে যায় মহাকালের অতল গর্ভে। তবে তার কর্মময় জীবন মানুষের হৃদয়ে স্থান পায়।
উদ্দীপকে নানা ও নাতির কথোপকথনে জনৈক বিদ্যানন্দের কীর্তিমান হয়ে ওঠার কথা বর্ণিত হয়েছে। সমাজের বাধা সত্ত্বেও তিনি গ্রামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি চলে গেলেও তাঁর গড়ে তোলা বিদ্যালয়টি তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছে।
উদ্দীপক ও 'সোনার তরী' কবিতায় যুগপৎভাবে মানুষের দৈহিক নশ্বরতার বিপরীতে কর্মে মহীয়ান হয়ে ওঠার কথা বর্ণিত হয়েছে। কবিতার কৃষক আর উদ্দীপকের বিদ্যানন্দ যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। উভয়ের কর্মই বিবেচ্য, দৈহিক উপস্থিতি নয়। তাই উদ্দীপকে নানার 'তাঁর কর্ম পথ পেয়েছে, তাঁরই অবর্তমানে আমাদের মাঝে।'- উক্তিটি 'সোনার তরী' কবিতার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত যুক্তিসংগত।
Related Question
View Allচিকনাই শব্দের অর্থ কী
ব্যান্জনার্থে
উত্তর চাই
একজন কৃষক দ্বীপসদৃশ ধানখেতে তার সােনার ফসল নিয়ে অপেক্ষা করছে। ঘন বর্ষা আর তীব্র সােতের কারণে তীরে যাওয়ারও কোনাে ভরসা নেই— এ কথা বােঝাতেই উক্তিটি করা হয়েছে। ‘সােনার তরী’ কবিতায় কবির জীবনদর্শন চিত্রায়িত হয়েছে।
কবিতায় একজন কৃষক তার ধান নিয়ে ক্ষুরের মতাে ধারালাে বর্ষার স্রোতে ঘেরা দ্বীপসদৃশ ধানখেতে নানা আশঙ্কা নিয়ে অপেক্ষা করছে। সে সেখানে নিঃসঙ্গ, কারও কোনাে দেখা নেই। আকাশে ঘন ঘন মেঘ গর্জন করছে। এমন বৈরী পরিবেশে কৃষকরূপী কবি নিজের নিঃসঙ্গতা ও ভরসাহীনতাকে বােঝাতে গিয়ে কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা’ কথাটি বলেছেন। সারকথা : প্রশ্নোক্ত লাইনের মধ্য দিয়ে বৈরী পরিবেশে নিঃসঙ্গ এক কৃষকের ভরসাহীন অবস্থার কথা প্রকাশ পেয়েছে।
'কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা'—কবির এমন অনুভূতির কারণ কী?
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!