প্রতিদিন অফিস থেকে ফিরে মাসুদ সাহেব শ্রমিকদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসাথে কাজ করেন। একদিন মাসুদ সাহেবের স্ত্রী খোরশেদা দেখে মাসুদ সাহেব শ্রমিকদের সাথে একত্রে চা-বিস্কুট খাচ্ছেন। আরেকদিন দেখে মাসুদ সাহেব শ্রমিকদের সাথে কাজ করছেন এতে খোরশেদা ক্ষিপ্ত হয়ে বলে 'তুমি পুরো কাজ চুক্তি করে দিয়েও ওদের কাজ করো কেন? তোমার সম্মানবোধ নেই। যার কাজ তাকে করতে দাও।' জবাবে মাসুদ সাহেঘ বলেন, 'ওরাও মানুষ। ওদের সাথে মিশলে, কাজ করলে আমার মর্যাদা কমছে না। বরং তারা আরো আন্তরিকতার সাথে পরিচ্ছন্ন ও নির্ভুলভাবে কাজ করছে।' 

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম সমাজের নিম্নশ্রেণির মানুষের প্রতি প্রচলিত বৈষম্যমূলক মানসিকতার সমালোচনা করেছেন। সমাজে প্রচলিত একটি ভুল ধারণা হলো, শ্রমিকশ্রেণির মানুষ বা যারা কায়িক শ্রম দেন, তারা নিম্ন শ্রেণির এবং তাদের সাথে মেলামেশা করলে বা তাদের প্রতি সম্মান দেখালে নিজের মর্যাদা কমে যায়। এই প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম এই মানসিকতাকে উপেক্ষা করে সকলকে সমান চোখে দেখার এবং তাদের সম্মান করার আহ্বান জানিয়েছেন, কেননা উপেক্ষিত এই শ্রমজীবী মানুষই জাতি গঠনের মূল শক্তি।

উদ্দীপকের খোরশেদার মানসিকতায় এই উপেক্ষিত শক্তির প্রতি অবজ্ঞার দিকটি ফুটে উঠেছে। মাসুদ সাহেব যখন শ্রমিকদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেন বা তাদের সাথে একত্রে চা-বিস্কুট খান, তখন খোরশেদা তা পছন্দ করেন না। তিনি মাসুদ সাহেবকে বলেন যে, "তোমার সম্মানবোধ নেই। যার কাজ তাকে করতে দাও।" খোরশেদার এই উক্তি স্পষ্টত সমাজের সেই সংকীর্ণ মানসিকতারই প্রতিচ্ছবি যেখানে কায়িক শ্রম দেওয়া মানুষকে নিচু চোখে দেখা হয় এবং তাদের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করা হয়।

খোরশেদার এই মনোভাব 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের মূল চেতনার বিপরীত। প্রবন্ধটি সমাজের সকল শ্রেণির মানুষকে, বিশেষ করে যাদের কর্মকে তুচ্ছ মনে করা হয়, তাদের সম্মান ও মর্যাদা দেওয়ার কথা বলে। খোরশেদা শ্রমিকদের মানুষ হিসেবে নয়, বরং চুক্তিবদ্ধ কর্মী হিসেবে দেখে তাদের সাথে মাসুদ সাহেবের মেলামেশাকে অসম্মানজনক মনে করেন, যা শ্রমজীবী মানুষের প্রতি সামাজিক অবহেলা ও বৈষম্যকেই তুলে ধরে। তার এই মানসিকতাই সমাজের এক বিরাট শক্তিকে উপেক্ষা করার নামান্তর, যা প্রবন্ধের উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন ধারণার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধে সমাজের নিম্নশ্রেণির উপেক্ষিত মানুষের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তাঁর মনোবাসনা ছিল, মানুষ যেন সামাজিক ভেদাভেদ ভুলে দেশের উন্নতিতে সবার অবদানকে সমানভাবে স্বীকৃতি দেয়। দেশের প্রকৃত উন্নতি করতে হলে সমাজের তথাকথিত ছোটলোকদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করতে হবে এবং তাদের প্রতি মনুষ্যত্বের আচরণ করতে হবে, কারণ তারাই দেশের মূল চালিকাশক্তি।

উদ্দীপকের মাসুদ সাহেব শ্রমিকদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেন এবং তাদের সঙ্গে চা-বিস্কুট ভাগ করে খান। তাঁর স্ত্রী এতে আপত্তি জানালে মাসুদ সাহেব বলেন, 'ওরাও মানুষ। ওদের সাথে মিশলে, কাজ করলে আমার মর্যাদা কমছে না। বরং তারা আরো আন্তরিকতার সাথে পরিচ্ছন্ন ও নির্ভুলভাবে কাজ করছে।' এই উক্তিটি মাসুদ সাহেবের উদার ও মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে, যা সমাজের উপেক্ষিত শক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

নজরুলের মনোবাসনা ছিল, সমাজে শ্রমিক-মজুর, কৃষক-জেলেদের মতো সাধারণ মানুষদের সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া, যারা নীরবে দেশের উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছে। মাসুদ সাহেবের এই মন্তব্য সরাসরি নজরুলের সেই মনোবাসনার প্রতিফলন। তিনি শ্রমিকদের 'মানুষ' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের প্রতি মানবিক আচরণ করেছেন, যা তাদের মধ্যে কাজের প্রতি আরও আন্তরিকতা সৃষ্টি করেছে। এর মাধ্যমে মাসুদ সাহেব প্রমাণ করেছেন যে, সামাজিক স্তরভেদের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের প্রতি মানবিকতা দেখালে তা সম্মান কমায় না, বরং কাজের মান ও সমাজের সামগ্রিক মঙ্গল বৃদ্ধি করে।

সুতরাং, উদ্দীপকে মাসুদ সাহেবের মন্তব্যটি কাজী নজরুল ইসলামের 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের মূল প্রতিপাদ্যকে যথার্থভাবে সমর্থন করে। সমাজের উপেক্ষিত ও অবহেলিত অংশকে মর্যাদা ও সম্মান প্রদান করে তাদের সুপ্ত শক্তিকে জাগ্রত করার যে মনোবাসনা নজরুল পোষণ করেছিলেন, মাসুদ সাহেবের কার্যকলাপে তার সার্থক প্রকাশ ঘটেছে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
81

Related Question

View All
উত্তরঃ

ঘানিমের মাতা তাহাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক জ্ঞান করিতেন না। বরং তিনি তাহার প্রতিবন্ধী সন্তানকে ভালোবাসা ও সাহস দিয়ে আগলে রেখেছিলেন এবং সমাজে তার সম্মান প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছিলেন।

প্রকৃতপক্ষে, ঘানিম কোমরের নিচের অংশ ছাড়াই জন্মগ্রহণ করলেও তার মা তাকে অভিশাপ বা কলঙ্ক হিসেবে দেখেননি। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ঘানিমের মা একজন সাহসিনী নারী ছিলেন। তিনি স্বামীকে নিয়ে প্রতিবন্ধী পুত্রের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং তাকে সমাজের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে গড়ে তুলতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের ঘানিম চরিত্রের সাথে 'সুভা' গল্পের সুভার প্রধান সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধকতা এবং এর কারণে সমাজে তাদের ভিন্নভাবে মূল্যায়িত হওয়া।

উদ্দীপকে ঘানিম আল মিফতাহ কোমরের নিচের অংশ ছাড়াই জন্মগ্রহণ করে, যা তাকে শারীরিকভাবে অন্যদের থেকে আলাদা করে দেয়। তার এই শারীরিক সীমাবদ্ধতার জন্য স্কুলের সহপাঠীদের দ্বারা তাকে নানা কটু কথার শিকার হতে হয়। তবে ঘানিম তার মায়ের অদম্য সাহস ও অনুপ্রেরণায় এই প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে নিজেকে একজন সফল উদ্যোক্তা ও বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হয়।

অন্যদিকে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সুভা' গল্পের সুভাও জন্মগতভাবে বাকপ্রতিবন্ধী ছিল। তার কথা বলতে না পারার অক্ষমতা তাকে সাধারণ সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং সমাজের চোখে সে একরকম বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। ঘানিম ও সুভা উভয়েই শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে সমাজের চোখে 'ভিন্ন' বা 'অসম্পূর্ণ' হিসেবে গণ্য হয়েছে এবং সামাজিক মেলামেশায় বাধার সম্মুখীন হয়েছে, যা তাদের উভয়ের চরিত্রের একটি গভীর সাদৃশ্যপূর্ণ দিক হিসেবে প্রতীয়মান।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের ঘানিম আল মিফতাহ তার মায়ের অসাধারণ সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণার কারণে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও জীবনে সফল হতে পেরেছে। অপরদিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শুভা’ গল্পের বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী সুভার জীবনে এমন সমর্থন ও মমত্বের অভাবই তার গভীর মর্মবেদনার কারণ। প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সুভার প্রেক্ষাপটে ঘানিমের মায়ের মতো সহযোগিতার গুরুত্বকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে তুলে ধরেছে।

উদ্দীপকে আমরা দেখি, ঘানিম জন্ম থেকেই কোমরের নিচের অংশহীন। কিন্তু তার মা কোনো হতাশার শিকার না হয়ে বরং স্বামীকে নিয়ে পুত্রের ডান ও বাম পা হয়ে ওঠার অঙ্গীকার করেন। মায়ের অদম্য সাহস ও নিবিড় পরিচর্যা ঘানিমকে স্কুলের সহপাঠীদের কটু কথা সত্ত্বেও নিজেকে এক অতুলনীয় ব্যক্তিত্বে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে। এই মায়ের সক্রিয় ও ইতিবাচক মানসিক সমর্থনই ঘানিমকে একজন সফল উদ্যোক্তা ও বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত অনুকরণীয় মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। অন্যদিকে, ‘শুভা’ গল্পের সুভা ছিল বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। তার বাবা-মা তাকে নিয়ে চিন্তিত হলেও, ঘানিমের মায়ের মতো করে তাকে বুঝার, তার ভেতরের জগতকে আবিষ্কার করার বা তাকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার মতো ইতিবাচক পদক্ষেপ নেননি। বরং তারা সুভাকে একপ্রকার বোঝা মনে করতেন, যার ফলে সুভা নিজেকে সমাজের অযোগ্য ও বোঝা মনে করত এবং প্রকৃতির সাথে একাত্ম হয়ে একাকিত্বে ভুগত।

এই দুই চরিত্রের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, ঘানিমের মায়ের মতো প্রজ্ঞা, সাহস, এবং সক্রিয় সহযোগিতা পেলে সুভার জীবন সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারত। ঘানিমের মা যেমন তার পুত্রের শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করার প্রেরণা দিয়েছেন, তেমনি সুভার মা যদি তার নীরবতাকে উপলব্ধি করে তার অনুভূতি প্রকাশের ভিন্ন পথ খুঁজে দিতেন, তাকে সমাজের সামনে সাহসের সাথে তুলে ধরতেন এবং তার ভেতরের সৌন্দর্যকে চিনতে ও প্রকাশ করতে সাহায্য করতেন, তাহলে সুভার হৃদয়ের মর্মবেদনা অনেকটাই লাঘব হতো। সে হয়তো নিজের বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধকতাকে একটি সীমাবদ্ধতা হিসেবে না দেখে, অন্য কোনো উপায়ে নিজের প্রতিভাকে বিকশিত করতে পারত এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে বাঁচতে শিখত। মায়ের এই ধরনের সমর্থন পেলে সুভা নিজেকে বোঝা না ভেবে, নিজের অনন্যতা নিয়ে বাঁচতে পারত এবং সমাজের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার নতুন সূত্র খুঁজে পেত।

অতএব, উদ্দীপকের ঘানিমের মায়ের মতো সহযোগিতা পেলে সুভা তার হৃদয়ের মর্মব্যথা ভুলে নতুনভাবে বাঁচার সূত্র দেখত— মন্তব্যটি যথার্থ। একটি শিশুর জীবনে, বিশেষ করে যে শিশু প্রতিবন্ধকতার শিকার, তার বাবা-মায়ের সক্রিয় সমর্থন, মানসিক জোর ও প্রজ্ঞা তাকে সমাজের সকল বাধা অতিক্রম করে সফল ও আত্মপ্রত্যয়ী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
240
(২)

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া রুমা গ্রীষ্মের ছুটিতে মামাবাড়ি বেড়াতে গেলে তার মামি বাহারি খাবার ও ফলমূল বাঁশ, বেত ও খেজুরপাতার তৈরি পাত্রে পরিবেশন করেন। পাত্রগুলো আবার সুন্দর সুন্দর ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। এগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মামি বললেন, আমরা গ্রামের মানুষ, তোমাদের মতো দামি জিনিস কেনার সামর্থ্য নেই। তাই নিজেরাই অবসরে এগুলো বানিয়ে ব্যবহার করি। গ্রামের মানুষের কাছে এসবের তেমন গুরুত্ব নেই। এ সময় রুমা বলল, গ্রাম বাংলার এসব ঐতিহ্যের মাঝে অসংখ্য নিপুণ কারিগরের মনের মাধুরি মেশানো রয়েছে। আগামী মাসেই আমরা বন্ধুরা মিলে এ গ্রামে একটি কারুশিল্প মেলার আয়োজন করে এগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিব। 

উত্তরঃ

মনসুর বয়াতির মতো কবিরা শহুরে চক্ষুর অগোচরে পল্লিগ্রামের নিভৃত কোণে আত্মগোপন করে আছেন।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের মামির মানসিকতায় 'পল্লি সাহিত্য' প্রবন্ধে বর্ণিত পল্লি প্রকৃতির অনবদ্য সৃষ্টি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে পল্লিবাসীর উদাসীনতা এবং গুরুত্বহীনতার দিকটি ফুটে উঠেছে।

'পল্লি সাহিত্য' প্রবন্ধে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ পল্লি প্রকৃতির মাঝে লুকিয়ে থাকা লোকসাহিত্য ও লোকশিল্পের ঐতিহ্য এবং এর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। এই প্রবন্ধে তিনি পল্লি অঞ্চলের মানুষের তৈরি নানাবিধ শিল্পকর্ম, রূপকথা, ছড়া, প্রবাদ ইত্যাদি শহুরে মানুষের কাছে কীভাবে গুরুত্বহীন হয়ে উঠছে এবং এমনকি গ্রাম্য মানুষের কাছেও এর কদর কমে যাচ্ছে, সেই দিকটি তুলে ধরেছেন।

উদ্দীপকে রুমা গ্রীষ্মের ছুটিতে মামাবাড়ি বেড়াতে গেলে তার মামি বাঁশ, বেত ও খেজুরপাতার তৈরি পাত্রে খাবার পরিবেশন করেন। রুমা এই পাত্রগুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে মামি বলেন যে, গ্রামের মানুষ হওয়ায় তাদের দামি জিনিস কেনার সামর্থ্য নেই, তাই নিজেরাই অবসরে এগুলো তৈরি করে ব্যবহার করেন। তিনি আরও বলেন যে, "গ্রামের মানুষের কাছে এসবের তেমন গুরুত্ব নেই।" মামির এই উক্তি 'পল্লি সাহিত্য' প্রবন্ধে বর্ণিত গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ও শিল্পকর্মের প্রতি গ্রামবাসীরই উদাসীনতা এবং যথাযথ মূল্য না দেওয়ার দিকটি স্পষ্ট করে। রুমা ঐতিহ্য সংরক্ষণের কথা বললেও মামির মানসিকতা গ্রামের মানুষের মধ্যে নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি অবজ্ঞা ও গুরুত্বহীনতাকে ফুটিয়ে তোলে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
179
উত্তরঃ কুলসুম ইবনুল হিদমের গৃহে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের আলোকে 'আজ যাহারা সত্যকে অস্বীকার করিতেছে' বলতে ইসলামের মৌলিক নীতি, আদর্শ ও নৈতিক মূল্যবোধকে অস্বীকার করাকে বোঝানো হয়েছে।

ঘটনা-১ এ হযরত ইউসুফ (আ:)-এর পবিত্রতা ও ঘটনা-২ এ হযরত আলী (রা:)-এর ক্ষমাশীলতার মাধ্যমে ইসলামের যে সুমহান আদর্শ ও নৈতিকতার পরিচয় পাওয়া যায়, তা-ই মূলত 'সত্য'। এই সত্য মানবজীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর একত্ববাদ, ন্যায়বিচার, ক্ষমা, ধৈর্য, ও বিশুদ্ধ জীবনযাপনের পথনির্দেশ করে। যারা এই সত্যকে অস্বীকার করে, তারা মূলত নৈতিক অবক্ষয় ও বিপথে চালিত হয়।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

মানুষ মুহম্মদ (স:) রচনায় মহানবী (স:)-এর আকর্ষণীয় রূপ ও ব্যক্তিত্বের যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, উদ্দীপকের ঘটনা-১ এর সাথে সেই দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে। মহানবী (স:)-এর দৈহিক সৌন্দর্য এবং তাঁর সৌম্য ও মহৎ ব্যক্তিত্ব মানুষকে সহজেই মুগ্ধ করত ও ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করত।

'মানুষ মুহম্মদ (স:)' রচনায় মহানবী (স:)-এর চারিত্রিক মাধুর্য, তাঁর কথা বলার ভঙ্গি, তাঁর শারীরিক গঠন এবং সব মিলিয়ে তাঁর ব্যক্তিত্বের এক অপূর্ব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। লেখক দেখিয়েছেন, শুধু তাঁর নবুওয়াতী মিশনই নয়, বরং তাঁর অসাধারণ সৌন্দর্য, মহিমান্বিত উপস্থিতি এবং হৃদয়গ্রাহী ব্যক্তিত্বও মানুষকে তাঁর প্রতি প্রবলভাবে আকর্ষণ করত। এ কারণেই বহু মানুষ তাঁর সংস্পর্শে এসে মুগ্ধ হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।

উদ্দীপকের ঘটনা-১-এ যেমন হযরত ইউসুফ (আ:)-এর রূপে মুগ্ধ হয়ে তৎকালীন মিশরের সেনাপ্রধানের স্ত্রী জুলেখা তাঁর স্বামীর কাছে বিশদ বর্ণনা করতেন, তেমনি মহানবী হযরত মুহম্মদ (স:)-ও তাঁর অতুলনীয় রূপ ও মহৎ ব্যক্তিত্ব দিয়ে মানুষের মন জয় করতেন। তাঁর সান্নিধ্যে আসা প্রতিটি মানুষ তাঁর রূপ ও গুণে মোহিত হয়ে যেত। তাই হযরত ইউসুফ (আ:)-এর শারীরিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হওয়ার দিকটি মহানবী (স:)-এর আকর্ষণীয় রূপ ও ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে মানুষকে প্রভাবিত করার দিকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
113
(৫)

দেশের প্রলয়ংকারী বন্যায় মাদ্রাসা শিক্ষক কাজল তার মাদ্রাসার ছেলেমেয়েদের নিয়ে বানভাসী মানুষের জন্য ব্যাপক ত্রাণকার্যক্রম পরিচালনা করে। কাজল আরো অর্থ সংগ্রহের জন্য তার ব্যবসায়ী বন্ধু রানার নিকট ই-মেইল পাঠিয়ে টাকা প্রেরণের অনুরোধ জানায়। কাজলের ধারণা ছিল রানা দেশের বড় ব্যবসায়ী-নিশ্চয় সে বড় অংকের টাকা পাঠাবে। রানার ফিরতি ই-মেইল পড়ে কাজল মনঃক্ষুণ্ণ হয়। সে লিখেছে, 'কষ্টার্জিত টাকা থেকে দান করা সম্ভব নয়। জীবনে উন্নতি করতে হলে নীচের দিকে তাকালে চলে না। তুইও ওসব ছাড়, ওদের থেকে দূরে থাক'। কাজল আহত হয়ে রানার সাথে বন্ধুত্বের সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিজেকে যুক্ত করে। 

90
উত্তরঃ উদ্দীপকে পল্টনে আব্দুর রহমানের চার্জ সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের কলিমুদ্দীনের মধ্যে 'প্রবাসবন্ধু' গল্পের আবদুর রহমান চরিত্রের স্বস্তিদায়ক পরিচিত পরিবেশের প্রতি আকাঙ্ক্ষা এবং অপরিচিত, প্রতিকূল পরিবেশে অস্বস্তি বোধ করার দিকটি ফুটে উঠেছে। কলিমুদ্দীন শহরের লবণাক্ত পানি, ঝড়-তুফান, বন্যা, ভূমিকম্প, বায়ু দূষণ ও খাবারের নিম্নমান নিয়ে অসন্তুষ্ট। এর বিপরীতে সে নিজের গ্রামের শান্ত, নির্মল পরিবেশ, সুপেয় পানি, ফরমালিনমুক্ত তাজা ফল, শাক-সবজি এবং ঐতিহ্যবাহী পিঠার কথা উল্লেখ করে স্বস্তিদায়ক জীবনের প্রতি তার গভীর আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে।

'প্রবাসবন্ধু' গল্পের আবদুর রহমান করাচির অপরিচিত পরিবেশ, সেখানকার রুক্ষ জীবনযাত্রা এবং ভাষার পার্থক্যের কারণে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করেছিলেন। লেখক তাকে আতিথেয়তা দিলেও, তিনি যেন নিজের পরিচিত পরিবেশ থেকে দূরে এসে কিছুটা মনমরা হয়ে গিয়েছিলেন। করাচির প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ভিন্ন সংস্কৃতি তার মধ্যে নিজের দেশ ও পরিচিত পরিবেশে ফিরে যাওয়ার একটি প্রচ্ছন্ন ইচ্ছা জাগিয়ে তুলেছিল, যা কলিমুদ্দীনের শহর ছেড়ে গ্রামে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

এক্ষেত্রে, উদ্দীপকের কলিমুদ্দীন শহরের সমস্যাবলীর কথা তুলে ধরে নিজের গ্রামের নির্মল, সহজ ও স্বস্তিদায়ক জীবনযাত্রার প্রতি তার তীব্র মোহ প্রকাশ করেছে। শহরের কৃত্রিমতা ও প্রতিকূলতার বিপরীতে সে গ্রামের সহজলভ্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও আন্তরিকতার বর্ণনা দিয়েছে। এটি 'প্রবাসবন্ধু' গল্পের আবদুর রহমানের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থারই প্রতিচ্ছবি যেখানে তিনি প্রতিকূল ও অপরিচিত পরিবেশে খাপ খাওয়াতে না পেরে নিজের পরিচিত এবং আরামদায়ক পরিবেশের জন্য মন খারাপ করেছিলেন। এভাবেই উভয় চরিত্রের মধ্যে পরিচিত ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশের প্রতি টান এবং অপরিচিত পরিবেশে অস্বস্তি বোধ করার দিকটি অভিন্নভাবে ফুটে উঠেছে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপক এবং 'প্রবাসবন্ধু' গল্পের বিষয়বস্তুতে সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি গল্পের সম্পূর্ণ বিষয় ধারণ করতে পারেনি — এ মন্তব্যটি যথার্থ। 'প্রবাসবন্ধু' গল্পে লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর কলকাতা জীবনের একঘেয়েমি ও কর্মব্যস্ততার মাঝে পিয়নেসের জন্য রান্না করা ডাল-ভাতের প্রতি আকুলতা এবং গ্রামের মায়ের হাতের রান্নার কথা স্মরণ করে এক ভিন্ন জগতের সন্ধান দেন। উদ্দীপকের কলিমুদ্দীনের কথায়ও শহরের প্রতিকূল পরিবেশ ও গ্রামের নির্মল প্রকৃতির এক তুলনামূলক চিত্র ফুটে উঠেছে, যা গল্পের বিষয়বস্তুর একটি দিককে তুলে ধরে।

কলিমুদ্দীন শহরের লবণাক্ত পানি, ঝড়-তুফান, বন্যা, ভূমিকম্প, বায়ু দূষণ এবং খাদ্যের নিম্নমানের কথা বলে শহরের প্রতি তার বিতৃষ্ণার কথা প্রকাশ করে। অন্যদিকে, সে গ্রামের শান্ত-স্নিগ্ধ পরিবেশ, সুপেয় পানি, ফরমালিনমুক্ত ফল-সবজি এবং তাজা দুধের প্রশংসা করে গ্রামের প্রতি তার অনুরাগ ব্যক্ত করে। 'প্রবাসবন্ধু' গল্পেও লেখক কলকাতার যান্ত্রিক জীবনের একঘেয়েমি এবং সামান্য পিয়নেসের বাড়িতে নিমন্ত্রণ পেয়ে যেভাবে আত্মহারা হয়েছিলেন, তা শহরের একাকীত্ব ও গ্রামের উষ্ণ আতিথেয়তার ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। উভয় ক্ষেত্রেই শহর ও গ্রামের জীবনযাত্রার একটি সরল বৈপরীত্য লক্ষণীয়।

তবে, উদ্দীপকটি 'প্রবাসবন্ধু' গল্পের একটি খণ্ডিত অংশকে ধারণ করে মাত্র, সম্পূর্ণ বিষয়বস্তুকে নয়। 'প্রবাসবন্ধু' কেবল শহর ও গ্রামের পরিবেশগত পার্থক্যের গল্প নয়, এটি প্রবাস জীবনে শেকড়হীন মানুষের মানসিকতা, গ্রাম বাংলার আতিথেয়তা, মানুষের সরলতা, বিশেষ করে গ্রামের মায়ের স্নেহ ও ভালোবাসার এক প্রতিচ্ছবি। গল্পে লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, রসাত্মক বর্ণনাভঙ্গি, আবুল নামের পিয়ন ও তার মায়ের সাথে লেখকের গড়ে ওঠা হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক এবং বাঙালি সংস্কৃতির এক অসাধারণ চিত্রায়ন রয়েছে। এই গল্পে যেমন কলকাতার মতো একটি ব্যস্ত শহরের চিত্র আছে, তেমনি একজন বাঙালি নারীর (আবুলের মা) নিছক স্নেহময়ী রূপও আছে, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। উদ্দীপকটি কেবল বাহ্যিক পরিবেশের বর্ণনা দিলেও 'প্রবাসবন্ধু' গল্পের গভীর মানবিক সম্পর্ক, আত্মিক টান এবং সূক্ষ্ম জীবনবোধের দিকগুলো এতে সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত।

অতএব, দেখা যায় যে উদ্দীপকে শহর ও গ্রামের মধ্যকার পরিবেশগত বৈপরীত্য তুলে ধরা হলেও 'প্রবাসবন্ধু' গল্পের মূল আবেদন, যা মানবিক সম্পর্ক, আত্মিক শান্তি এবং গ্রাম বাংলার চিরায়ত সরলতা ও আতিথেয়তার মধ্যে নিহিত, তা এখানে সম্পূর্ণভাবে প্রতিফলিত হয়নি। গল্পের এই গভীরতা ও ব্যঞ্জনা উদ্দীপকে অনুপস্থিত থাকায় মন্তব্যটি যথার্থ বলেই বিবেচিত হয়।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
102
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া রুমা গ্রীষ্মের ছুটিতে মামাবাড়ি বেড়াতে গেলে তার মামি বাহারি খাবার ও ফলমূল বাঁশ, বেত ও খেজুরপাতার তৈরি পাত্রে পরিবেশন করেন। পাত্রগুলো আবার সুন্দর সুন্দর ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। এগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মামি বললেন, আমরা গ্রামের মানুষ, তোমাদের মতো দামি জিনিস কেনার সামর্থ্য নেই। তাই নিজেরাই অবসরে এগুলো বানিয়ে ব্যবহার করি। গ্রামের মানুষের কাছে এসবের তেমন গুরুত্ব নেই। এ সময় রুমা বলল, গ্রাম বাংলার এসব ঐতিহ্যের মাঝে অসংখ্য নিপুণ কারিগরের মনের মাধুরি মেশানো রয়েছে। আগামী মাসেই আমরা বন্ধুরা মিলে এ গ্রামে একটি কারুশিল্প মেলার আয়োজন করে এগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিব। 

দেশের প্রলয়ংকারী বন্যায় মাদ্রাসা শিক্ষক কাজল তার মাদ্রাসার ছেলেমেয়েদের নিয়ে বানভাসী মানুষের জন্য ব্যাপক ত্রাণকার্যক্রম পরিচালনা করে। কাজল আরো অর্থ সংগ্রহের জন্য তার ব্যবসায়ী বন্ধু রানার নিকট ই-মেইল পাঠিয়ে টাকা প্রেরণের অনুরোধ জানায়। কাজলের ধারণা ছিল রানা দেশের বড় ব্যবসায়ী-নিশ্চয় সে বড় অংকের টাকা পাঠাবে। রানার ফিরতি ই-মেইল পড়ে কাজল মনঃক্ষুণ্ণ হয়। সে লিখেছে, 'কষ্টার্জিত টাকা থেকে দান করা সম্ভব নয়। জীবনে উন্নতি করতে হলে নীচের দিকে তাকালে চলে না। তুইও ওসব ছাড়, ওদের থেকে দূরে থাক'। কাজল আহত হয়ে রানার সাথে বন্ধুত্বের সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিজেকে যুক্ত করে। 

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews