'অলখ' শব্দের অর্থ অলক্ষ বা দৃষ্টির অগোচরে।
ব্যক্তি মানুষের সুখ-দুঃখ প্রকৃতির সহজাত নিয়মে, ব্যত্যয় ঘটাতে পারে না- প্রশ্নোক্ত পঙ্ক্তিটির মাধ্যমে এ কথাই প্রকাশ পেয়েছে।
প্রকৃতি তার আপন নিয়মে সদা পরিবর্তনশীল। মানুষের সুখ-দুঃখ প্রকৃতিকে প্রভাবিত করতে পারে না। আর তাই প্রিয়জনের শোকে মুহ্যমান প্রকৃতি কবি বসন্তবরণের জন্য প্রস্তুত না হলেও ফাল্গুন মাস শুরু হওয়ার সাথে সাথেই প্রকৃতিতে বসন্তের আগমন ঘটেছে। প্রশ্নোক্ত পদ্ধত্তিটির মধ্য - দিয়ে এ বিষয়টিই মূর্ত হয়ে উঠেছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত বসন্তের রূপচিত্রের সঙ্গে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় বসন্ত ঋতুর আগমনে মানবমনের অনুভূতির দিকটির সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় স্মৃতিকাতর ব্যক্তিমনের বেদনার আবেগঘন প্রকাশ ঘটেছে। এ কবিতায় কবি বসন্ত প্রকৃতির অনুষঙ্গে ভর করে ব্যক্তিহৃদয়ের বেদনাবোধের অসাধারণ অভিব্যক্তি ঘটিয়েছেন। এছাড়া আলোচ্য কবিতাটিতে তিনি বসন্ত ও শীত ঋতুর প্রতীকে জীবনের রুদ্ররূপকে উন্মোচন করেছেন।
উদ্দীপকের কবিতাংশে পৃথিবীতে ফাল্গুন বা বসন্তের আবির্ভাবের কথা বলা হয়েছে। প্রকৃতিতে বসন্ত এলেও উদ্দীপকের কবিতাংশে বসন্তের রূপবৈচিত্র্য যেন ম্লান হয়ে গিয়েছে। প্রিয়জনকে হারানো দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ের মর্মবেদনা ফুটে উঠেছে উদ্দীপকের কবিতাংশে। একইভাবে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায়ও কবির প্রিয়জনের বিচ্ছেদজনিত বেদনা ভারাক্রান্ত মনে বসন্ত রঙিন পরশ বোলাতে পারছে না। কেননা, কবির মন জুড়ে আছে শীতের রিস্ত ও বিষণ্ণ ছবি। অর্থাৎ উভয় কবির দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ের পরিচয় মেলে উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতায়। এদিক থেকে উদ্দীপক ও 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
বসন্তের আগমনে উভয় কবির বসন্ত ঋতুর সৌন্দর্য অবলোকনের দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে উদ্দীপক ও 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবিদ্বয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় প্রকৃতি ও মানবমনের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তাৎপর্যময় হয়ে উঠেছে। সাধারণভাবে বসন্তপ্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য যে কবিমনে আনন্দের শিহরন জাগাবে এবং তিনি তাঁকে ভাবে-ছন্দে-সুরে ফুটিয়ে তুলবেন সেটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু কবিমন বেদনা-ভারাতুর থাকায় বসন্তের সৌন্দর্য কবির হৃদয়কে স্পর্শ করতে পারেনি।
উদ্দীপকে কবি অশোকে কিংশুকে অলক্ষ্য রং লাগার কথা বলেছেন। বাতাসে ঝাউয়ের দুলে ওঠার সাথে সাথে যেন কবির অন্তরও দুলে ওঠে। প্রিয়জন হারানোর বেদনার কথা মনে পড়ে এবং কবিহৃদয় দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়।
উদ্দীপকে ও 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতা উভয় ক্ষেত্রে মানবমনে প্রকৃতির প্রভাব পরিলক্ষিত হলেও তাদের উভয়ের মধ্যে চেতনাগত ভিন্নতা দেখা যায়। 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবি প্রিয়জন হারিয়েছেন বলে বসন্তের রূপ মাধুর্যের প্রতি তিনি ছিলেন উদাসীন। অন্যদিকে, উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি বসন্তের প্রতি উদাসীন নন বরং বসন্তের আগমনে তার হৃদয় দুঃখ ভারাক্রান্ত। উদ্দীপকে কবি বসন্তের সৌন্দর্য অবলোকন করেছেন এবং তাঁর হৃদয়ে অতীত স্মৃতি জেগে উঠেছে। কিন্তু, 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবি বসন্তের সৌন্দর্যের প্রতি উদাসীনতা দেখিয়েছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপক ও 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবিদ্বয়ের মধ্যে ঋতুর দৃষ্টিভঙ্গিজনিত l
Related Question
View Allকবি শীতকে মাঘের সন্ন্যাসীরূপে কল্পনা করেছেন
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!