ঘর্ষণ বল: ঘর্ষণ বল হলো এমন একটি বল, যা একটি বস্তুর পৃষ্ঠের উপর দিয়ে অপর একটি বস্তুর পৃষ্ঠকে চলতে বাধা দেয়।
মাধ্যাকর্ষণ বল: পৃথিবী তার কেন্দ্রের দিকে সকল বস্তুকে যে বল দ্বারা আকর্ষণ করে তাই হলো মাধ্যাকর্ষণ বল।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ঘর্ষণ বল: একটি বস্তু যখন আরেকটিবস্তুর উপর দিয়ে গড়িয়ে যায় তখন তার বিপরীত দিকে ঘর্ষণ বল কাজ করে। ফলে বস্তুর গতি কমে যায়। অমসৃণ পৃষ্ঠযুক্ত বস্তু হলে ঘর্ষণ বেড়ে যায়, বস্তু সরাতে বেশি শক্তি লাগে। ঘর্ষণ বলের কারণে আমরা লেখার সময় কলম ধরতে পারি, বোর্ডে লিখতে পারি, দিয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বালাতে পারি, হাঁটার সময় পিছলে যাই না।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে মাধ্যাকর্ষণ বল পৃথিবী সকল বস্তুকে নিজের দিকে টানে। এই টানকে বলা হয় পৃথিবীর আকর্ষণ বল। শুধু বল, পেন্সিল, কাগজ বা পালকই নয় যেকোনো বস্তুকে উপর থেকে ছেড়ে দিলে তা এই পৃথিবীর আকর্ষণ বলের কারণে নিচে পড়বে। এই বলকেই মাধ্যাকর্ষণ বল বলে।
আমরা একটু খেয়াল করলে বুঝতে পারবো আমরা সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠার সময় কষ্ট হয়। কারণ তখন আমরা মাধ্যাকর্ষণ বলের উল্টা দিকে কাজ করি। আবার যখন সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামি তখন্ কষ্ট তুলনামূলক কম হয়। কারণতখন আমরা মাধ্যাকর্ষণ বলের একই দিকে কাজ করি।
যখন কোনো বস্তু অন্য কোনো বস্তুর উপর দিয়ে চলতে থাকে তখন বস্তু দুটির স্পর্শের জায়গায় গতির বিরুদ্ধে বল তৈরি হয়। এ ঘর্ষণকে বল বলা হয়। একটি বস্তু যখন আরেকটি বস্তুর উপর দিয়ে গড়িয়ে যায় তখন একটি বস্তুর পৃষ্ঠ যেদিকে সরে যেতে চায় তার বিপরীত দিকে ঘর্ষণ বল কাজ করে। যার কারণে গড়িয়ে যাওয়া বস্তুটির গতি কমে যায়। যদি কোনো বস্তুর উপরের পৃষ্ঠ মসৃণ হয় তাহলে ঘর্ষণ কম হয়। অমসৃণ পৃষ্ঠযুক্ত বস্তু হলে ঘর্ষণ বেড়ে যায়, বস্তু সরাতে বেশি শক্তি লাগে। এর ফলে মসৃণ পৃষ্ঠে বল গড়িয়ে দিলে তা বেশি' দূরত্ব অতিক্রম করে। আর অমসৃণ পৃষ্ঠে বল গড়িয়ে দিলে ঘর্ষণ বল বেশি হওয়ার কারণে বস্তুটি কম দূরত্ব অতিক্রম করে।
একটি ভারী পাথর উঠাতে বলা হলে আমরা সরল যন্ত্র
হিসেবে লিভার ব্যবহার করবো। কারণ লিভারের সাহায্যে একটি নির্দিষ্ট ভিত্তিবিন্দুর সাহায্যে কম জোর দিয়ে সহজেই ভারী বস্তু তোলা যায়। সরল যন্ত্র আমাদের দৈনন্দিন কাজকে সহজ করে এবং কম পরিশ্রমে বেশি কাজ করতে সাহায্য করে। লিভার হলো এক ধরনের সরল যন্ত্র। লিভারের সাহায্যে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় জোর দিয়ে বস্তু সহজে তোলা বা সরানো যায়। এতে একপাশে চাপ দিলে অন্যপাশে ভার ওঠে বা নড়ে। লিভারের সাহায্যে বেশি ভার তোলার জন্য কম শক্তি লাগে। ভারী পাথর উঠানোর জন্যও আমরা অন্য একটি পাথর বা কাঠের গুড়িকে ভিভিবিন্দু হিসেবে ব্যবহার করে তারপর একটি দৃঢ় শক্ত দণ্ড বা ধাতব পাইপ পাথরাটর নিচে রেখে দণ্ডের অপর প্রান্তে বল প্রয়োগ করে সহজে ভারী পাথর উঠাতে পারবো।
বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান মেলায় 'ঘর্ষণ বল' ও 'মাধ্যাকর্ষণ বল' উপস্থাপনার জন্য সহজ প্রদর্শনী ও স্টলে পোস্টার হিসেবে উপস্থাপনের জন্য কিছু ধারণা দেওয়া হলো-
স্টল: বড়ো পোস্টারে শিরোনাম: "ঘর্ষণ বল বনাম মাধ্যাকর্ষণ বল"
"ঘর্ষণ বল বনাম মাধ্যাকর্ষণ বল"
| ঘর্ষণ ঘল | মাধ্যাকর্ষণ বল |
| একটি বস্তু যখন আরেকটি বস্তুর উপর দিয়ে গড়িয়ে যায় তখন একটি বস্তুর পৃষ্ঠ যেদিকে সরে যেতে চায় তার বিপরীত দিকে যে বল কাজ করে তাকে ঘর্ষণ বল বলে। | পৃথিবী যে বলে সবকিছুকে তার কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে তাকে মাধ্যাকর্ষণ বল বলে। |
| ঘর্ষণ বল দুটি বস্তু সংস্পর্শে আসলে কাজ করে। | মাধ্যাকর্ষণ বল দূর থেকে কোনো কিছুকে কাছে টানতে পারে। |
| ঘর্ষণের জন্য কোনো বস্তুর গতি ধীরে ধীরে কমে যায়।, | মাধ্যাকর্ষণের জন্যই সকল বস্তু ওজন লাভ করে। |
| ঘর্ষণ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। | মাধ্যাকর্ষণের জন্যই সকল বস্তু ওজন লাভ করে। |
| ঘর্ষণ না থাকলে আমাদের হাঁটতে অসুবিধা হবে, গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। | মাধ্যাকর্ষণের জন্য পৃথিবীতে বাতাস আছে, সমুদ্রের পানি আছে, অন্যথায় সবকিছু মহাশূন্যে বিলীন হয়ে যেত। |
টান ও ঠেলা হলো বল প্রয়োগের অনতম প্রধান পদ্ধতি।
কাজ সহজ করার উপায়: দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন কাজে আমরানানাভাবে বিভিন্ন বস্তুর উপর বল প্রয়োগ করে থাকি, এতে অনেক সময় কাজ করতে কষ্ট হয়। কিন্তু কোনো যন্ত্র ব্যবহার করে বল প্রয়োগ করলে যেকোনো কাজ আরও সহজ হয়। প্রাত্যহিক জীবনে আমরা বিভিন্ন কাজকর্ম করার সময় বল প্রয়োগ করি। বল প্রয়োগ করে বস্তু সরানো যায় এবং বস্তুর আকার, আকৃতি ও গতির পরিবর্তন করা যায়। বলের মাত্রা বাড়ালে বস্তু দ্রুত ও বেশি দূর যেতে পারে। তাই বলের কার্যকারিতা নির্ভর করে তার 'পরিমাণ ও প্রয়োগের কৌশলের ওপর।
বল প্রয়োগের শক্তি বা জোরকে বলের মাত্রা বলা হয়। বলের মাত্রা যত বেশি, বস্তুর ওপর প্রভার তত বেশি।
আমরা যখন সাইকেল চালাই তখন সাইকেলের প্যাডেলে বল প্রয়োগ করি। যদি প্যাডেলে কম মাত্রায় বল প্রয়োগ করি তাহলে সাইকেল কম গতিতে চলে। যদি প্যাডেলে বেশি মাত্রায় বল প্রয়োগ করি তাহলে সাইকেল বেশি গতিতে চলে। অর্থাৎ বিভিন্ন মাত্রায় বল প্রয়োগে সাইকেলের গতি কম-বেশি হয়।
আমরা যখন ফুটবল খেলি তখন যে মাত্রায় বল প্রয়োগ করি তার উপর ফুটবলের গতি নির্ভর করে। অর্থাৎ ফুটবলে আস্তে লাথি দিলে কম দূরত্ব এবং জোরে লাথি দিলে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে।
ঘর্ষণ বল হলো এমন একটি বল যা একটি বস্তুর পৃষ্ঠের উপর দিয়ে অপর একটি বস্তুর পৃষ্ঠকে চলতে বাধা দেয়।
কোনো বস্তুকে কোনো কিছুর উপর দিয়ে গড়িয়ে দিলে একটু পরে থেমে যায়। এর কারণ হলো ঘর্ষণ বল।
বল একটি বস্তুর পৃষ্ঠের উপর দিয়ে অপর একটি বস্তুর পৃষ্ঠকে চলতে বাধা দেয়। একটি বস্তু যখন আরেকটি বস্তুর উপর দিয়ে গড়িয়ে যায় তখন একটি বস্তুর পৃষ্ঠ যেদিকে সরে যেতে চায় তার বিপরীত দিকে ষর্ষণ বল কাজ করে। যার কারণে গড়িয়ে যাওয়া বস্তুটির গতি কমে যায়। অর্থাৎ এ থেকে বুঝা যায় ঘর্ষণ বল গতির বিরুদ্ধে কাজ করে।
পৃথিবী সকল বস্তুকে নিজের দিকে টানে, এই টানকে বলা হয় পৃথিবীর আকর্ষণ বল।
পৃথিবীর আকর্ষণ বলের জন্যই বল, পেন্সিল ইত্যাদি হাত থেকে ছেড়ে দিলে নিচে পড়ে।
আমরা যখন সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠি তখন কষ্ট হয়, কারণ হলো পৃথিবীর আকর্ষণ বল। আমরা যখন সিঁড়ি বেয়ে উপর দিকে উঠি তখন পৃথিবীর আকর্ষণ বলের বিরুদ্ধে কাজ করি, তাই বেশি শক্তি লাগে। তাই সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে কষ্ট হয়।
পৃথিবী তার কেন্দ্রের দিকে সকল বন্ধুকে যে বল দ্বারা আকর্ষণ করে তাই হলো মাধ্যাকর্ষণ বল।
বিজ্ঞানী নিউটন একদিন আপেল বাগানে গাছের নিচে বসে চিন্তা করছিলেন। এসময় গাছ থেকে একটি আপেল নিচে পড়তে দেখে তার মাথায় চিন্তা আসে আপেলটি নিচে না পড়ে উপরে বা অন্য কোনো দিকে গেলো না কেন? সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় উপরে উঠার তুলনায় কষ্ট কম হয়। কারণ যখন সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামি তখন পৃথিবীর আকর্ষণ বলের দিকে যাই, তখন মাধ্যাকর্ষণ বল সাহায্য করে। তাই নামার ক্ষেত্রে কষ্ট কম হয় এবং নামা সহজ হয়।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন কাজ করতে গিয়ে আমরা অনেক রকম যন্ত্র ব্যবহার করি। এসব যন্ত্র আমাদের কাজকে সহজ করে দেয়। প্রতিদিন আমরা বিভিন্ন কাজ সহজ করতে যেসকল যন্ত্র ব্যবহার করি সেগুলো হলো সরল যন্ত্র। দৈনন্দিন জীবনে আমরা অনেক সরল যন্ত্র ব্যবহার করি। যেমন-ছুরি, কাঁচি, কুড়াল, পুলি, র্যাম্প, হাতুড়ি, ভু-ড্রাইভার, লিভার, কপিকল ইত্যাদি।
গুদামে ঢালু পথ রাখা হয় যেন ভারী মাল সহজে তোলা যায়। একইভাবে হাসপাতালেও ঢালু র্যাম্প থাকে যেন রোগীর স্ট্রেচার সহজে তোলা যায়। স্ট্রেচার হলো রোগীদেরকে যে চাকাওয়ালা বিছানায় শুইয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় আনা-নেওয়া করা হয়।
হেলানো সমতল হলো একটি ঢালু পথ বা তির্যক পৃষ্ঠ, যার সাহায্যে ভারী বস্তু সহজে উপরে তোলা বা নিচে নামানো যায়।
হেলানো সমতলে বস্তু ঠেলে উঠানো সহজ হয়, কারণ এতে কম বল লাগে। কোনো বস্তুকে উপরের দিকে তুলতে হলে তাকে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির বিরুদ্ধে কাজ করতে হয়। সরাসরি তোলার সময় আমরা বস্তুর ওজনের সমান বা বেশি বল প্রয়োগ করি। কিন্তু হেলানো সমতলে সেই একই কাজ ধীরে ধীরে ও কম বল প্রয়োগে করা যায়।
হেলানো সমতলের তিনটি উদাহরণ হলো-
১. হুইল চেয়ারের র্যাম্প, ২. সিঁড়ি ও ৩. ঢালু রাস্তা।
কপিকল হলো এমন একটি যন্ত্র যা একটি চাকায় 'দড়ি পেঁচিয়ে ভারী বস্তু সহজে উপরে তোলার কাজে ব্যবহার হয়।
পতাকা তোলার জন্য কপিকল ব্যবহার করা হয়। পতাকা তোলার জন্য দড়ি নিচের দিকে টানা হয় আর পতাকা উপরের দিকে উঠে যায়। কপিকল ব্যবহার করে আমরা অল্প বল প্রয়োগ করে ভারী বস্তুকে সহজে উপরে উঠাতে পারি। কপিকলের উদাহরণ হলো-
১. কূপ থেকে পানি তোলার দড়ি-চাকা।
২. নির্মাণ কাজে নির্মাণ সামগ্রী তোলার যন্ত্র।
লিভার হলো এক ধরনের সরল যন্ত্র যার সাহায্যে কম শক্তি দিয়ে বেশি ভার তোলা যায়।
চারটি লিভারের নাম হলো-
১. সি-স্যা, ২. সাড়াশি, ৩. ক্যান ওপেনার ও ৪. গ্লানি সেচের দোন ইত্যাদি।
লিভার হলো এক ধরনের সরল যন্ত্র। লিভারের সাহায্যে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় জোর দিয়ে বস্তু সহজে তোলা বা সরানো যায়।এতে একপাশে চাপ দিলে অন্যপাশে ভার ওঠে বা নড়ে। লিভারের
সাহায্যে বেশি ভার তোলার জন্য কৃম শক্তি লাগে।
Related Question
View Allবল প্রয়োগ করে বস্তু যায় সরানো ।
বলের মাত্রা যত বেশি, বস্তুর ওপর প্রভাব তত বেশি
একটি বস্তুর পৃষ্ঠ যে দিকে সরে যেতে চায় তার বিপরীত দিকে ঘর্ষণ বল কাজ করে।
পৃথিবী সকল বস্তুকে নিজের দিকে টানে।
কাজ সহজ করার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রকে সরল যন্ত্র বলে।
বস্তুর আকার, আকৃতি ও গতি পরিবর্তনে বলের প্রভাব রয়েছে
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!