বয়ঃসন্ধিকাল হলো একজন শিশুর বড়ো হয়ে উঠার অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। এই সময়ে শরীর ও মনে নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটে। যেমন- শরীর লম্বা হয়, ওজন বাড়ে, ছেলে ও মেয়ের চেহারায় পার্থক্য স্পষ্ট হয়। ছেলেদের দাড়ি, গোঁফ গজাতে থাকে, গলার স্বর মোটা ও ভারী হয়, পেশি সুগঠিত ও কাঁধ চওড়া হতে থাকে। তেমনি মেয়েদের শরীর কিছুটা ভারী হতে থাকে, মেয়েলি বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেতে থাকে, শরীর থেকে প্রতি মাসে অল্প কিছু দিনের জন্য রক্তক্ষরণ হয়ে থাকে। একই সঙ্গে মানসিক ও আবেগজনিত পরিবর্তনও দেখা যায়। যেমন- ভয় ভীতি, কৌতূহল, লজ্জা, আবেগ প্রবণতা, বিষণ্ণতা ও অস্থিরতা এবং স্বাধীন চিন্তার বিকাশ ঘটে। এই পরিবর্তনগুলো একজন শিশুকে ধীরে ধীরে পূর্ণবয়স্ক মানুষে পরিণত হতে সাহায্য করে। তাই বলা যায় বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তন একজন শিশুর বড়ো হয়ে উঠার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
বয়ঃসন্ধিকালে সুষম ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশের সময়। এ সময়ে শারীরিক বৃদ্ধি দ্রুত হয়। এজন্য মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল ইত্যাদি প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খেতে হয়। ভাত ও রুটি ইত্যাদি শর্করা ও চর্বি যেমন- তেল, ঘি দিয়ে তৈরি খাবারও প্রয়োজন। তাছাড়া ছোটো মাছ, রঙিন 'শাকসবজি এবং বিভিন্ন রকমের ফল খেতে হয়। এসব খাদ্য শরীরের বৃদ্ধি, হাড় ও পেশির গঠন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
অপরদিকে, অপুষ্টিকর বা জাঙ্ক ফুড খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যায়, বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয় এবং বিভিন্ন রোগ হতে পারে।
তাই বয়ঃসন্ধিকালে সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ শরীর ও মনের সুষ্ঠু বিকাশের জন্য অপরিহার্য।
জীবনের যে পর্যায়ে একজন মানুষ নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বড়ো হয়ে ওঠে, সে পর্যায় হলো বয়ঃসন্ধিকাল।
মানুষের শারীরিক পরিবর্তনের ধাপসমূহ প্রবাহচিত্রের মাধ্যমে দেখানো হলো-
| শৈশবকাল | বাল্যকাল | কৈশোরকাল | যৌবনকাল | বার্ধক্য |
শারীরিক পরিবর্তনের পাঁচটি ধাপের মধ্যে দুইটি ধাপের শারীরিক বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো-
কৈশোরকাল: উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, ওজন বাড়ে, ছেলেদের দাড়ি, গোঁফ গজায়, গলার স্বর ভারী ও মোটা হয়, মেয়েদের শরীর ভারী হতে থাকে, মেয়েলি বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়। শরীর থেকে প্রতি মাসে অল্প কিছুদিনের জন্য রক্তক্ষরণ হয়। যৌবনকাল: শরীর সম্পূর্ণ পরিপক্ক হয়, পেশি মজবুত ও শক্তি সর্বাধিক থাকে।
মানুষের শৈশবকালীন দুইটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. শরীর ছোট ও নরম থাকে।
২. হাঁটতে ও কথা বলতে শেখে।
বয়ঃসন্ধিকালীন ছেলে ও মেয়েদের শারীরিক পরিবর্তন বর্ণনা করা হলো-
ছেলেদের শারীরিক পরিবর্তন: শরীর দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ফলে ওজন ও উচ্চতা বাড়ে। দাড়ি, গোঁফ গজাতে থাকে, গলার স্বর মোটা ও ভারী হতে থাকে, পেশি সুগঠিত হয় ও কাঁধ চওড়া হয়।
মেয়েদের শারীরিক পরিবর্তন: শরীর দ্রুত বৃদ্ধি পায় ফলে ওজন ও উচ্চতা বাড়ে। শরীর কিছুটা ভারী হতে থাকে এবং মেয়েলি বৈশিষ্ট্যগুলো প্রকাশ পেতে থাকে। শরীর থেকে প্রতি মাসে অল্প দিনের জন্য রক্তক্ষরণ হয়ে থাকে।
খাদ্য হলো এমন বস্তু, যা মানুষ খায় বা পান করে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে। এটি শরীরকে শক্তি দেয়, বৃদ্ধি ঘটায় এবং সুস্থ রাখে।
দুটি শর্করা জাতীয় খাদ্য হলো- ১. ভাত ও ২. রুটি।
বয়ঃসন্ধিকালে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা: বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক বৃদ্ধি দ্রুত হয়। এ সময়ে হাড়, পেশি ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠনের জন্য প্রোটিন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। প্রোটিন শরীরের নতুন কোষ তৈরি করে, ক্ষত সারাতে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাই মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল প্রভৃতি প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাদ্য তালিকায় রাখা প্রয়োজন।
কোমল পানীয় হলো একধরনের মিষ্টি স্বাদের ঠান্ডা পানীয়, যা সাধারণত পানি, চিনি, কৃত্রিম রং, স্বাদ ও কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস মিশিয়ে তৈরি করা হয়।
দুটি কোমল পানীয়ের উদাহরণ- ১. কোকাকোলা ও ২. পেপসি।
কোমল পানীয় গ্রহণে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
১. এতে প্রচুর চিনি থাকে, যা স্থূলতা (মোটা হওয়া) এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
২. নিয়মিত পান করলে হৃদরোগের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
৩. কোমল পানীয়ের কোনো ভিটামিন বা খনিজ পদার্থ নেই, এটি. শরীরে পুষ্টি সরবরাহ করে না।
অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার বলতে সেইসব খাবারকে বোঝায়, যেগুলো তেল বা ঘি-তে অনেকক্ষণ ধরে ভাজা হয় এবং বেশি তেল শোষণ করে। উদাহরণ: সিঙ্গারা, সমুচা, পুরি, চপ, পরোটা, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ফাস্টফুড ইত্যাদি।
অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবারের পাঁচটি ক্ষতিকর দিক উল্লেখ করা হলো-
১. বেশি তেল ও চর্বি থাকায় শরীরে মেদ জমে ওজন বাড়ে।
২. অতিরিক্ত তেল হৃদরোগের কারণ হতে পারে।
৩. এসব খাবার হজম হতে সময় নেয়, ফলে অম্বল ও গ্যাসের সমস্যা হয়।
৪. বেশি ভাজার ফলে খাদ্যের ভিটামিন ও খনিজ নষ্ট হয়ে যায়।
৫. নিয়মিত খেলে ত্বকে সমস্যা হতে পারে।
পরিচ্ছন্নতা হলো নিজের শরীর, পোশাক, বসবাসের স্থান এবং পরিবেশকে ময়লা, জীবাণু ও দুর্গন্ধমুক্ত রাখা।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার তিনটি উপায় লেখা হলো-
১. ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমানোর পূর্বে দাঁত ব্রাশ করা।
২. প্রতিদিন গোসল করা।
৩. বাথরুম ব্যবহারের পর এবং খাওয়ার পূর্বে নিয়মিত সাবান বা ছাই দিয়ে হাত ধোয়া।
দৈনন্দিন জীবনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব বর্ণনা করা হলো-
১. পরিচ্ছন্নতা শরীরকে আরাম দেয় এবং মন ভালো রাখে।
২. প্রতিদিন ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখলে পরিবেশ সুন্দর, দুর্গন্ধমুক্ত ও আরামদায়ক হয়।
৩. দৈনন্দিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ভালো অভ্যাস তৈরি করে, যা সারাজীবন স্বাস্থ্য রক্ষায় সাহায্য করে।
চেকলিস্ট হলো এমন একটি তালিকা, যেখানে কোনো কাজ, নিয়ম বা অভ্যাসগুলো ক্রম অনুযায়ী লেখা থাকে। যেন মানুষ সহজে দেখে বুঝতে পারে কোন কাজগুলো সে করেছে আর কোন কাজগুলো-বাকি আছে।
১. স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায় চেকলিস্ট ব্যবহারে নিজের স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে মানুষ আরও সচেতন হয়।
২. ভালো অভ্যাস বজায় রাখতে সাহায্য করে চেকলিস্ট দেখে আমরা প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর কাজগুলো করছি কিনা তা যাচাই করতে পারি।
৩. খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণে রাখা চেকলিস্টে কোন খাবার খাওয়া উচিত বা এড়ানো উচিত তা লেখা থাকলে সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় থাকে।
৪. শরীর ও মন ভালো রাখে: চেকলিস্ট অনুসরণ করলে নিয়মিত বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পানি পান, ব্যায়াম ইত্যাদি নিশ্চিত হয়- যা শরীর ও মন দুটোই সুস্থ রাখে।
৫. ভুলভ্রান্তি কমায়: প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর কাজগুলো চেকলিস্টে টিক চিহ্ন দিয়ে রাখলে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
Related Question
View Allমানুষের জীবনে শারীরিক পরিবর্তনের ধারাবাহিক ধাপ পাঁচটি ।
জীবনের সর্বচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বয়ঃসন্ধিকাল
মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকাল ৮-১৩ বছর।
ছেলেদের বয়ঃসন্ধিকাল ৯-১৫ বছর।
বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেদের গলার স্বর মোটা এবং ভারী হয়।
বয়ঃসন্ধিকালে ছেলে ও মেয়ে উভয়ের মুখে ব্রণ দিতে পারে। দেখা
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!