বর্ণনামূলক প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও

Updated: 1 day ago
উত্তরঃ

মন্দির ও তীর্থক্ষেত্রের চারটি করে বৈশিষ্ট্য নিচে লেখা হলো-
মন্দিরের বৈশিষ্ট্য:
১. মন্দির হলো দেবালয়, যেখানে দেবতার পূজা হয়।
২. এটি আধ্যাত্মিক স্থান, যেখানে গেলে দেহ-মন পবিত্র হয়।
৩. মন্দিরের নাম দেবতার নাম বা স্থানের নাম অনুযায়ী হয়।
৪. ভক্তরা এখানে দেবতার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা ও ভক্তি নিবেদন করে।

তীর্থক্ষেত্রের বৈশিষ্ট্য:
১. তীর্থক্ষেত্র হলো পুণ্যস্থান, যা দেব-দেবী বা ঋষির স্মৃতিবিজড়িত।
২. এখানে গেলে ধর্মভাব জাগে, পাপ নাশ হয়।
৩. তীর্থক্ষেত্রে যাত্রা স্বর্গলাভের সমতুল্য পুণ্য দেয়।
৪. মানুষ এখানে যজ্ঞ, দান ও পূজা করে শান্তি পায়।

উত্তরঃ

পুরীর জগন্নাথ মন্দির সম্পর্কে আমার ধারণা নিচে দশটি বাক্যে লেখা হলো-
১. ভারতের উড়িষ্যার পুরীতে জগন্নাথ মন্দির অবস্থিত।
২. রাজা অনন্তবর্মণ দ্বাদশ শতাব্দীতে এটি নির্মাণ করেছিলেন।
৩. এই মন্দিরের প্রাচীরে চারটি দরজা রয়েছে।
৪. ভক্তদের জন্য মন্দিরের দরজা ভোর পাঁচটায় খোলা হয়।
৫. মন্দিরটি হিন্দুধর্মের প্রধান চারটি ধামের একটি।
৬. মন্দিরের দেয়ালের গায়ে খোদাই করা রয়েছে সুন্দর সুন্দর ভাস্কর্য।
৭. জগন্নাথ মন্দিরের মহাপ্রসাদ সকলকে প্রদান করা হয়।
৮. প্রধান মন্দিরের চার দিকে ছোটো-বড়ো আরও ৩০টি মন্দির রয়েছে।
৯. জগন্নাথ দেবের মন্দিরে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় ১২টি পার্বন।
১০. মন্দিরের আরাধ্য দেবতা হলেন তিনজন। যথা- জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রা।

উত্তরঃ

লাঙ্গলবন্দ নারায়ণগঞ্জ জেলার ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত একটি বিখ্যাত তীর্থস্থান। হিন্দুদের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই স্থানের পবিত্র জলে স্নান করলে পাপমোচন হয় এবং পুণ্যলাভ হয়। কিংবদন্তি আছে যে, পরশুরাম এই নদীতে স্নান করে পাপমুক্ত হয়েছিলেন, স্মরণে ভক্তরা চৈত্র মাসের অষ্টমী তিথিতে এখানে অষ্টমীর স্নান করেন। অসংখ্যা পুণ্যার্থী ধান, বেলপাতা, দূর্বাসহ পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ করেন এবং দেবতাদের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা জানান। দেশি-বিদেশি ভক্তদের আগমনে এটি এক মহান ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই তীর্থস্থানে ভক্তদের বিশ্বাস, ব্রহ্মার সন্তুষ্টি অর্জিত হয় এবং মুক্তিলাভসম্ভব। এজন্যই লাঙ্গলবন্দকে পবিত্র তীর্থক্ষেত্র বলা হয়।

উত্তরঃ

মথুরা হিন্দুদের কাছে কেন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ তা পাঁচটি 'বাক্যে লেখা হলো-
১. 'মথুরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান বলে হিন্দুদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র।
২. এটি শ্রীকৃষ্ণের লীলাক্ষেত্র, যেখানে তাঁর জীবনের বহু ঘটনা ঘটেছিল।
৩. রামায়ণ, মহাভারত ও পুরাণে মথুরার প্রসিদ্ধির কথা উল্লেখ রয়েছে।
৪. এখানে দ্বারকাধীশ মন্দির, শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি মন্দির, গীতা মন্দির, গোকুলনাথ মন্দিরসহ অনেক পবিত্র স্থান আছে।
৫. ভক্তরা মথুরায় তীর্থযাত্রা ও স্নান করে পুণ্যলাভ করে।

উত্তরঃ

তীর্থস্থান ভক্তদের জীবনে গভীর আধ্যাত্মিক ও নৈতিক প্রভাব ফেলে। তীর্থদর্শনে মানুষের মনে পবিত্র ভাব, শান্তি ও ভক্তি জন্মায়।
দেহ-মন পবিত্র হয় এবং পাপমোচন হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, লাঙ্গলবন্দে অষ্টমীর স্নান করতে এসে ভক্তরা মনে করেন যে, এই স্নানের মাধ্যমে পূর্বজ পাপ দূর হয়ে পুণ্য অর্জিত হয়। আবার পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে ভক্তরা দেবতার মহাপ্রসাদ গ্রহণ করে
সৌভাগ্য ও আশীর্বাদ লাভের আশা করেন। তীর্থযাত্রার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা, সম্প্রীতি ও ধর্মীয় ভ্রাতৃত্ববোধও বৃদ্ধি পায়, যা সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ তৈরি করে।

উত্তরঃ

মন্দির হলো দেবালয় বা আধ্যাত্মিক সাধনার পবিত্র স্থান,
যেখানে বিভিন্ন দেব-দেবীর বিগ্রহ বা মূর্তি থাকে।
মন্দিরে গেলে কী হয় সে সম্পর্কে নিচে চারটি বাক্য লেখা হলো-
১. ভক্তদের দেহ-মন পবিত্র হয়।
২. ভক্তদের মনে ভক্তিভাবের সৃষ্টি হয়।
৩. পুণ্যলাভ হয়।
৪. বিভিন্ন দেব-দেবীর দর্শন হয়।

উত্তরঃ

দিনাজপুরের কান্তজী মন্দির মধ্যযুগের একটি অপূর্ব স্থাপত্য নিদর্শন, যা ১৭৫২ খ্রিষ্টাব্দে রাজা রামনাথ রায় সম্পন্ন করেন। বর্গাকৃতির এই মন্দিরের মূল বিশেষত্ব হলো এর দেয়ালে খোদাই করা চমৎকার সব টেরাকোটা বা পোড়ামাটির ফলক। এই ফলকগুলোতে রামায়ণ-মহাভারতের কাহিনি ও সমসাময়িক সমাজজীবনের চিত্র ফুটে উঠেছে। আদিতে এর উচ্চতা ৭০ ফুট থাকলেও বর্তমানে এর উচ্চতা ৫০ফুট। এ মন্দির নয়টি শিখর বা চূড়াবিশিষ্ট হওয়ায় একে নবরত্ন মন্দিরও বলা হয়। বর্তমানে এটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ ও ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃত।

উত্তরঃ

কান্তজী মন্দিরে শীতকালের শুরুতে মাসব্যাপী যে রাসমেলা অনুষ্ঠিত হয়, তা কেবল হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উৎসব নয়। মহারাজ রামনাথ রায়ের সময় থেকে চলে আসা এই মেলায় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমাগম ঘটে। তাঁরা দেবতার প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে। মেলার আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে মানুষে মানুষে পারস্পরিক মেলামেশা ও কুশল বিনিময় হয়। এতে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও সৌহার্দ বৃদ্ধি পায়। মূলত উৎসবের এই মিলনমেলাই বিভিন্ন ধর্ম ও শ্রেণির মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।

উত্তরঃ

পৃথিবীতে প্রচলিত প্রতিটি ধর্মের নিজস্ব আচার-অনুষ্ঠান ও পথ আলাদা হলেও উদ্দেশ্য অভিন্ন। ধর্ম আমাদের শেখায় কীভাবে একজন ভালো মানুষ হওয়া যায় এবং সমাজের কল্যাণ করা যায়। হিন্দুধর্মের 'যত মত তত পথ' বাণীটি মূলত পরমত সহিষ্ণুতা ও পরমত শ্রদ্ধার কথাই বলে। যখন মানুষ অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয় এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করে, তখনই ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা অর্থাৎ 'মনুষ্যত্ব' অর্জিত হয়। তাই উগ্রতা পরিহার করে মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করাই সকল ধর্মের পরম লক্ষ্য।

2
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews