যাজ্ঞবল্ক্য গার্গীর প্রশ্ন দুটির উত্তরে বলেছিলেন, "এই জগৎ সংসারের সবকিছুর অন্তরালে রয়েছে এক আদি অক্ষয় পরমব্রহ্ম। তিনি ছায়াহীন, কর্মহীন, চক্ষুহীন, জিহ্বাহীন, মনোহীন, পরিমাণহীন, অন্তহীন, শাশ্বত ও ইন্দ্রিয় জগতের ঊর্ধ্বে।"
গার্গী ব্রহ্মবিদ্যার গভীর অনুশীলন ও অধ্যয়নের মাধ্যমে পরম ব্রহ্মজ্ঞান অর্জন করেছিলেন। তিনি পিতার কাছেই ব্রহ্মবিদ্যার চর্চা শুরু করে কালে কালে সেই জ্ঞানে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। রাজা জনকের যজ্ঞসভায় যজ্ঞবন্ধ্যের সঙ্গে তীক্ষ্ণ বিতর্ক করে সুক্ষ্মতম প্রশ্নোত্তরে তাঁর অসাধারণ জ্ঞানপ্রতিভা প্রমাণিত হয়। উপস্থিত মুনি-ঋষি ও সভাসদবৃন্দ গার্গীর বিচক্ষণতার জন্য তাঁকে শ্রদ্ধাভরে ব্রহ্মবাদিনী বিদুষী বলে স্বীকৃতি দেন।
বশিষ্ঠ মুনির জীবন থেকে আমরা ক্ষমাশীলতা, অহিংসা, সহনশীলতা ও ত্যাগের শিক্ষা 'পাই। যখন রাজা বিশ্বামিত্র পরাজিত হওয়ার পর তাঁর কাছে ক্ষমা চাইলেন, বশিষ্ঠ মুনি তখন তাঁকে শুধু ক্ষমাই করেননি, বরং তাঁকে ভালোভাবে রাজ্য শাসন করতে বলে ব্রহ্মর্ষি হওয়ার আশীর্বাদ করেন, যা তাঁর মহৎ ক্ষমাশীলতার পরিচয়। তিনি আরও বলেন, তপস্যাই শ্রেষ্ঠ শক্তি। যার মাধ্যমে তিনি মানুষকে ত্যাগ ও অহিংসার পথে চলতে উৎসাহিত করেন। তাই তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদেরও হিংসা বর্জন করে মানুষের মঙ্গল ও কল্যাণের জন্য ভাবতে হবে।
রাণী রাসমণি অনেক জনহিতকর কাজ করেছেন। এর মধ্যে দুইটি উল্লেখযোগ্য হলো-
(ক ) পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রাস্তা সংস্কার: রাণী রাসমণি একবার পুরীর জগন্নাথধামে তীর্থযাত্রায় গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখলেন, সেখানকার জরাজীর্ণ রাস্তায় তীর্থযাত্রীরা খুব কষ্টে চলাচল করছে। তাঁদের কষ্ট দেখে রাণী রাসমণি নিজ ব্যয়ে সম্পূর্ণ রাস্তা সংস্কার করেন।
(খ ) দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দির নির্মাণ: রাণী রাসমণির একটি উল্লেখযোগ্য অবদান হলো দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দির নির্মাণ। এখানে তিনি প্রতিদিন পূজা দিতেন। একসময় তিনি দরিদ্র ব্রাহ্মণ গদাধরকে এই মন্দিরের পুরোহিত হিসেবে নিযুক্ত করেন।
১৫৩৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ জুন তারিখে শ্রীচৈতন্য নীলাচলে অবস্থানকালে কৃষ্ণনামে বিভোর হয়ে পুরীর জগন্নাথদেবের মন্দিরে প্রবেশ করেন। তখন হঠাৎ মন্দিরের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। সকল ভক্ত বাইরে তাঁর জন্য উন্মুখ হয়ে বসে থাকেন। তারপর দরজা খুলে তাঁকে আর দেখা যায় না। ভেতরে শুধু জগন্নাথদেবের মূর্তি দেখে ভক্তদের মনে ধারণ্য জন্মে, শ্রীচৈতন্য জগন্নাথদেবের দেহে বিলীন হয়ে গেছেন।
শ্রীচৈতন্যদেব কৃষ্ণনাম প্রচারে নানা বাধার সম্মুখীন হয়েছিলেন। নবদ্বীপে যখন তিনি তাঁর অনুসারীদের নিয়ে বাড়ি-বাড়ি ও পথে-পথে কৃষ্ণনাম প্রচার করতেন, তখন অনেকেই এতে বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হন। অনেকে তাঁর এই কর্মে বাধা দিতে শুরু করেন। এমনকি জগাই-মাধাই নামে মাতাল দুই ভাই একদিন নিমাই ও নিত্যানন্দকে আক্রমণ করেন। ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁরা কলসির কানা ছুঁড়ে মারেন। এতে নিত্যানন্দের কপাল কেটে রক্ত পড়তে থাকে।
রাণী রাসমণির জীবনী থেকে আমরা যে শিক্ষা পাই-
১. যাঁরা মহীয়সী নারী, তাঁরা জাতি-ধর্ম সবকিছুর ঊর্ধ্বে।
২. মানবসেবার জন্য তাঁদের জন্ম।
৩. তাঁরা শুধু দেশের গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ থাকেন না।
৪. গোটা বিশ্বই তাঁদের দেশ।
৫. সকল মানুষ তাঁদের আপন।
৬. মানবসেবাই হচ্ছে তাঁদের মূল লক্ষ্য।
একবার ইংরেজ সরকার গঙ্গায় জেলেদের মাছ ধরার
ওপর জলকর আরোপ করে। কিন্তু জেলেদের কর দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না। তখন জেলেরা রাণী রাসমণির কাছে গেলে রাসমণি নিজের টাকা দিয়ে ইংরেজ সরকারের কাছ থেকে গঙ্গার ইজারা নেন। ফলে ইংরেজরা আপস-মীমাংসা করতে বাধ্য হন। জেলেরাও কর ছাড়া মাছ ধরার অধিকার পেয়ে খুবই আনন্দিত হয়।
শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনাদর্শ থেকে পাঁচটি শিক্ষণীয় বিষয় হলো-
১. মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করা যাবে না।.
২. প্রেমভক্তি দিয়ে সকলকে আপন করে নিতে হবে।
৩. পড়ালেখায় নিষ্ঠাবান হতে হবে।
৪. ভগবানের প্রতি' বিশ্বাস ও ভালোবাসা স্থাপন করতে হবে।
৫. সমাজের উচ্চ-নিচ জাতিগোত্রের বিভেদ করা যাবে না।
রাণী রাসমণির জীবনাদর্শ থেকে পাঁচটি শিক্ষণীয় বিষয়
হলো-
১. গুরুজনকে সম্মান করতে হবে।
২. সকল মানুষকে সমান দৃষ্টিতে দেখতে হবে।
৩. সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে।
৪. একে অপরকে সাহায্য করতে হবে।
৫. উদার ও বিনয়ী হতে হবে।
মুনি-ঋষিদের সম্পর্কে নিচে পাঁচটি বাক্য লেখা হলো-
১. মুনি-ঋষিরা ছিলেন সেকালের গুরু বা শিক্ষক।
২. তাঁরা ছিলেন জ্ঞান বিজ্ঞানের বিভিন্ন দিকের উদ্ভাবক।
৩. তাঁরা অনেক গুণের অধিকারী ছিলেন।
৪. তাঁরা মহান, সবসময় সকলের মঙ্গল কামনা করতেন।
৫. অপরের মঙ্গলের জন্য তাঁরা নিজের প্রাণও ত্যাগ করতে পারতেন।
ব্রহ্মর্ষি যাজ্ঞবন্ধ্য এবং বিদুষী গার্থীর জীবনী থেকে আমরা এই নৈতিক শিক্ষা পাই যে-
১. জ্ঞানই পরম সম্পদ।
২. জ্ঞান অর্জনের জন্য ধৈর্য, সাহস, মনোবল, আত্মবিশ্বাস, শ্রদ্ধা, সততা, নিষ্ঠার প্রয়োজন।
৩. সকল প্রকার বলের চেয়ে জ্ঞানবল শ্রেষ্ঠ।
৪. জ্ঞানের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষে কোনো ভেদাভেদ নেই।
৫. যথার্থ জ্ঞানে জ্ঞানী হলে পরিবার তথা সমাজে নারী-পুরুষ উভয়ই সমাদর লাভ করেন।
ভক্তদের ধারণা অনুসারে, শ্রীচৈতন্যদেবের দেহ বিলীন হয়ে যায়, শ্রীচৈতন্য নীলাচলে অবস্থানকালে প্রায়শই কৃষ্ণনামে বিভোর হয়ে থাকতেন। এমন বিভোর অবস্থায় ১৫৩৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ জুন তারিখে তিনি পুরীর জগন্নাথদেবের মন্দিরে প্রবেশ করেন। হঠাৎ মন্দিরের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। সকল ভক্ত বাইরে তাঁর জন্য উন্মুখ হয়ে বসে থাকেন। তারপর দরজা খুলে তাঁকে আর দেখা যায় না। ভেতরে শুধু জগন্নাথদেবের মূর্তি। ভক্তদের ধারণা, শ্রীচৈতন্য জগন্নাথদেবের দেহে বিলীন হয়ে গেছেন।
রাসমণির জীবনী থেকে আমরা যে শিক্ষা পাই নিচে সে সম্পর্কে পাঁচ বাক্যে লেখা হলো-
১. যাঁরা মহীয়সী নারী, তাঁরা জাতি-ধর্ম সবকিছুর ঊর্ধ্বে।
২. মানবসেবার জন্য তাঁদের জন্ম।
৩. তাঁরা শুধু দেশের গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ থাকেন না, গোটা বিশ্বই তাঁদের দেশ।
৪. সকল মানুষ তাঁদের আপন।
৫. মানবসেবাই হচ্ছে তাঁদের মূল লক্ষ্য।
শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী থেকে আমরা যে শিক্ষা পাই নিচে সে সম্পর্কে পাঁচটি বাক্য লেখা হলো-
১. জ্ঞানের প্রতিটি বিষয়ে পাণ্ডিত্য অর্জন করা।
২. মানুষে মানুষে ভেদাভেদ না করা।
৩. কৃষ্ণপ্রেমে আকুল হওয়া।
৪. পড়ালেখায় নিষ্ঠাবান হওয়া।
৫. ভগবানের প্রতি বিশ্বাস ও ভালোবাসা স্থাপন করা।
একবার রাসমণি পুণ্যভূমি জগন্নাথ-তীর্থে যান। সেখানকার জরাজীর্ণ রাস্তায় তীর্থযাত্রীদের চলাচল করতে খুব কষ্ট হতো। তাঁদের কষ্ট দেখে তিনি সম্পূর্ণ রাস্তা সংস্কার করেন। রাণী রাসমণির জীবনাদর্শ থেকে আমরা যে শিক্ষা পাই তা নিচে লেখা হলো-
১. গুরুজনকে সম্মান করা।
২. সকল মানুষকে সমান দৃষ্টিতে দেখা।
৩. উদার ও বিনয়ী হওয়া।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allবেদের কবিতাগুলোকে বলা হয় মন্ত্র।
মুনি-ঋষিরা ছিলেন অনেক গুণের অধিকারী।
সকল প্রকার বলের চেয়ে জ্ঞানবল শ্রেষ্ঠ।
বশিষ্ঠ একজন পৌরাণিক মুনি।
ছোটবেলায় শ্রীচৈতন্যদেবের নাম ছিল নিমাই।
বালক নিমাই ছিলেন খুব চঞ্চল ও দুরন্ত, তবে খুবই মেধাবী ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!