বর্ণনামূলক প্রশ্ন

Updated: 8 months ago
উত্তরঃ

প্রমোশনের জন্য গুরুতর পড়াশোনা করায় আদুভাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। শয্যাশায়ী হয়েও পড়াশোনা চালিয়ে গেলে তাঁর অসুস্থতা আরও ভয়ানক হয়ে ওঠে এবং পরিণতিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

'আদুভাই' গল্পে আদুভাইয়ের একই শ্রেণিতে যুগ যুগ ধরে আটকে থাকার গতানুগতিক ধারায় ছেদ পড়ে, যেবার তাঁর ছেলে ক্লাস সেভেনে প্রমোশন পায়। স্ত্রী ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে প্রমোশন না নিলে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার শর্ত দেন। ছেলে তাঁকে ছাপিয়ে যাওয়ায় তাঁর কোনো আপত্তি ছিল না, কিন্তু স্ত্রীর ক্রোধে প্রমোশনের জন্য শিক্ষকদের অনুরোধ জানান। পরীক্ষার উত্তরপত্রে মনগড়া উত্তর লেখায় শিক্ষকগণ তাঁকে প্রমোশন দিতে অপারগ হলে জিদে আদুভাই পড়াশোনার মাত্রা বাড়িয়ে দেন। প্রমোশনের জন্য কঠোরভাবে পরিশ্রম করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পৃথিবী থেকেই চলে যান।

আদুভাই শেষমেশ প্রমোশন পেয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু নতুন ক্লাসে আর যেতে পারেননি। প্রমোশনের আনন্দ উদ্যাপনের দিনই অসুস্থতার জন্য তাঁর নিশ্বাস থেমে যায়।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

আদুভাইয়ের বড়ো ছেলে সেভেনে প্রমোশন পেলে তিনি প্রমোশন প্রাপ্তির জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। নিজের ছেলে তাঁকে ছাপিয়ে যাওয়ায় তাঁর আপত্তি না থাকলেও স্ত্রীর আপত্তিতে প্রমোশনের জন্য তাঁকে ব্যস্ত হয়ে উঠতে হয়।

'আদুভাই' গল্পে আদুভাই ভাই যথাসময়ের পূর্বে প্রমোশন এগিয়ে আনার বিপক্ষে ছিলেন। সব সাবজেক্টে পাকা হয়েই তিনি প্রমোশন নিতে চাইতেন। ফলে ক্লাস সেভেনেই তাঁকে আটকে থাকতে হয় যুগ যুগ ধরে। এর মধ্যে আদুভাইয়ের ছেলে সেবার ক্লাস সেভেনে প্রমোশন পায়। নিজের ছেলের প্রতি তাঁর কোনো ঈর্ষা নেই। ছেলের সঙ্গে একই শ্রেণিতে পড়ায় তাঁর কোনো আপত্তি ছিল না। কিন্তু আদুভাইয়ের স্ত্রীর তাতে ঘোরতর আপত্তি। ছেলে বাবাকে ছাড়িয়ে যাবে, তা তিনি মেনে নিতে পারেননি। ছেলে উপরের শ্রেণিতে উঠে যাবে, পিতা তখনো সেভেনে আটকে থাকবে, এতে তাঁর স্ত্রী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি আদুভাইকে এক কঠিন শর্তের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেন। হয় আদুভাইকে প্রমোশন নিয়ে উপরের শ্রেণিতে যেতে হবে, না হয় পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হবে। স্ত্রীর এমন কঠোর শর্তে আদুভাই ভেঙে পড়েন। পড়াশোনা ছাড়া তিনি বাঁচতে পারবেন না। পড়াশোনা ছাড়া তাঁর পক্ষে অসম্ভব। তিনি তাঁর দীর্ঘ জীবনে প্রমোশনের জন্য সুপারিশ করাকে অপছন্দ করলেও বাধ্য হয়ে এবার তাঁকে প্রমোশনের জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠতে হয়।

ফলে দেখা যায়, কখনো প্রমোশন নিয়ে চিন্তা না করা আদুভাই প্রমোশন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন পড়াশোনা ছাড়ার ভয়ে। নিজের ছেলে সেভেনে প্রমোশন পেলে স্ত্রীর কঠিন শর্তই তাঁকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

শিক্ষকদের কাছে প্রমোশনের জন্য অনুরোধ জানিয়ে ব্যর্থ হলে আদুভাই তার প্রতিবাদে স্কুলগেটে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করছিলেন।

'আদুভাই' গল্পে আদুভাইয়ের ছেলে ক্লাস সেভেন প্রমোশন পেলে আদুভাইকেও সেভেন থেকে উত্তীর্ণের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়তে হয়। নিজের আপত্তি না থাকলেও স্ত্রীর হুমকিতেই তিনি শিক্ষকদের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছিলেন। পরীক্ষার খাতায় তাঁর মনগড়া উত্তরের জন্য শিক্ষকরা প্রমোশন আটকে দিলে তিনি বিশেষ বিবেচনার দ্বারস্থ হন। তাতেও প্রমোশন না মিললে ক্ষোভে স্কুলগেটে দাঁড়িয়ে বক্তৃতার মাধ্যমে তার প্রতিবাদ জানান।

আদুভাইয়ের অসহায় মুহূর্তে প্রমোশনের জন্য সুপারিশ না করায় তিনি শিক্ষকদের বিবেচনাবোধের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে স্কুলগেটে বক্তৃতা করেন।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

পরীক্ষার খাতায় মনগড়া উত্তর লেখায় আদুভাই পাশ নম্বর পেতেন না। পাশ নম্বর না পেয়ে কখনো প্রমোশনের জন্য আবেদনও করতেন না। এভাবেই তিনি ক্লাস সেভেনে আটকে থাকতেন।

'আদুভাই' গল্পে আদুভাই ক্লাস সেভেনে আটকে পড়া একজন শিক্ষার্থী। তিনি কখন থেকে ক্লাস সেভেনে পড়েন তা কেউ জানে না। তাঁর সহপাঠীরা অনেকে একই স্কুলে শিক্ষকতাও করেন। তাতে তাঁর কোনো ভাবান্তর হয় না। তিনি নিয়মিত স্কুলে আসতেন, প্রথম বেঞ্চে বসতেন, মন দিয়ে ক্লাস করতেন, নোট করতেন। কিন্তু পরীক্ষার খাতায় উত্তর দিতেন মনগড়া। প্রশ্নের সঙ্গে সাযুজ্য না রেখে উত্তর লেখায় শিক্ষকরা তাঁকে নম্বর দিতেন না। তাঁর প্রমোশন আটকে যেত। তাঁর বন্ধুরা তাঁকে প্রমোশনের জন্য নানাবিধ পদ্ধতি অনুসরণ করার কথা বললে তিনি ক্ষেপে যেতেন। জ্ঞানলাভের জন্য পড়াশোনা, প্রমোশনের জন্য নয়, এমন বক্তব্য দিয়ে তিনি পালটা যুক্তি দিতেন। যথাসময়ের পূর্বে প্রমোশন নেওয়া তাঁর পছন্দ ছিল না। সব সাবজেক্টে পাকা হয়েই তিনি প্রমোশনের পক্ষপাতী ছিলেন। কিন্তু তাঁর পাকা হওয়া আর হয়ে উঠত না। এভাবেই প্রমোশন না পেয়ে এবং তাঁর জন্য অতিরিক্ত কোনো প্রচেষ্টা না চালিয়ে যুগ যুগ ধরে তিনি ক্লাস সেভেনের স্থায়ী শিক্ষার্থী হয়ে উঠেছিলেন।

আদুভাই সব সাবজেক্টে পাকা হয়েই প্রমোশনে বিশ্বাস করতেন। কিন্তু তাঁর পরীক্ষার খাতায় দেখা যেত ভিন্ন চিত্রের প্রতিফলন। পরীক্ষার খাতায় তাঁর মনগড়া উত্তর দেখে শিক্ষকরা তাঁকে নম্বর দিতে পারতেন না। তাই আদুভাই ক্লাস সেভেনে আটকে যান।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

লেখক ও আদুভাইয়ের মধ্যে একধরনের স্নেহ, ভালোবাসা ও সহানুভূতির সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। উভয়ই একে অন্যের প্রতি ছিলেন শ্রদ্ধাশীল।

'আদুভাই' গল্পে ক্লাস সেভেনে আদুভাইয়ের সঙ্গে লেখকের দেখা। আদুভাই লেখককে নিতান্ত আপনার লোক বলে ধরে নেন। লেখকের উপর যেন তাঁর কতকালের দাবি। লেখক প্রমোশন পেয়ে অন্য ক্লাসে চলে গেলে আদু ভায়ের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। প্রমোশনের জন্যও তিনি লেখকেরই শরণাপন্ন হন। প্রমোশন প্রাপ্তির উৎসবে দীর্ঘদিনে যোগাযোগহীনতায়ও তিনি লেখককে নিমন্ত্রণ করেন। লেখকও আদুভাইকে সম্মান ও সহানুভূতির চোখে দেখেন। তাঁর প্রমোশনের জন্য শিক্ষকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ান। যদিও যোগাযোগ নেই, তবুও তিনি আদুভাইকে স্মরণ করেন বিশেষ শ্রদ্ধায়। এভাবেই লেখক ও আদুভাইয়ের মধ্যে এক আত্মিক বন্ধন গড়ে ওঠে।
লেখক ও আদুভাই পরস্পরকে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার চোখে দেখতে গিয়ে যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে, আদুভাইয়ের মৃত্যু পর্যন্ত তা অটুট ছিল।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

একই ক্লাসে যুগ যুগ ধরে আটকে থাকতে থাকতে আদুভাই হয়ে উঠেছেন ক্লাসের স্থায়ী অংশ। লেখক তাঁকে ক্লাসের পুরাতন টেবিল ব্ল‍্যাকবোর্ডের মতোই নিতান্ত অবিচ্ছেদ্য ও অত্যন্ত স্বাভাবিক অঙ্গ হিসেবেই বিবেচিত করেছেন।

'আদুভাই' গল্পে স্কুলে আদুভাইয়ের সময়কাল সম্পর্কে কেউই জানে না। তিনি কবে থেকে স্কুলে আছেন, সেভেন ভিন্ন অন্য কোনো ক্লাসে কখনো পড়েছেন কি না এসব ব্যাপারে বলতে পারে না। এমনকি শিক্ষকগণও জানেন না। স্কুলে এমন অনেক শিক্ষক আছেন, যাঁরা আদুভাইয়ের সাথেই ক্লাস সেভেনে পড়েছেন। আদুভাইয়ের প্রাচীনত্ব ও স্থায়িত্ব স্কুলের অবকাঠামোর মতো। বছর বছর নতুন শিক্ষার্থী আসে-যায়, অবকাঠামো থেকে যায়। স্কুলের দালান, ক্লাসরুম, চেয়ার-টেবিল, ব্ল‍্যাকবোর্ড এসব স্থায়ী বস্তুর মতো আদুভাইকেও লেখক স্কুল বা ক্লাসের স্থায়ী অঙ্গ হিসেবেই বিবেচনা করেছেন। আদুভাইয়ের এ নিয়ে কোনো বিকার নেই। তিনি প্রমোশনের জন্য ব্যাকুল নন। সব সাবজেক্টে পাকা হয়ে উঠেই তিনি প্রমোশনে বিশ্বাসী ।

প্রমোশনের জন্য নয়, জ্ঞানার্জনের জন্যই তাঁর বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া। তাঁর বিশ্বাস, একদিন তিনি ঠিকই সব সাবজেক্টে পাকা হয়ে উঠবেন ও প্রমোশন পাবেন। সেই বিশ্বাসেই তিনি শিক্ষকদের কাছে অনুরোধ কিংবা অন্য কোনো উপায়ে প্রমোশনের চিন্তা করেন না। ফলে তাঁকে আটকে থাকতে হয় ক্লাস সেভেনেই। এভাবে একই ক্লাসে আটকে থাকতে থাকতে তিনি সেই ক্লাসের পুরাতন টেবিল ব্ল্যাকবোর্ডের মতোই অবিচ্ছেদ্য অঙ্গে পরিণত হন।

আদুভাই প্রমোশনে নয়, জ্ঞানার্জনে বিশ্বাসী। প্রমোশন তাঁকে টানেনি। সব সাবজেক্টে পাকা হয়ে ওঠাই তাঁর জীবনের লক্ষ্য। এভাবেই তিনি প্রমোশন না পেয়ে একই ক্লাসে আটকে যেতে গিয়ে সেই ক্লাসেরই অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে ওঠেন।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

'আদুভাই' গল্পে লেখকের সাথে আদুভাইয়ের দীর্ঘদিন যোগাযোগ না হওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।

লেখক ও আদুভাই একই স্কুলে পড়তেন। তিনি ক্লাস সেভেনে আদুভাইয়ের সহপাঠী ছিলেন। লেখক স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজে উন্নীত হলেও আদুভাই ক্লাস সেভেনেই পড়ে থাকেন। ফলে আদুভাইয়ের সাথে লেখকের যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। জীবনের প্রয়োজনে অবিরাম ছুটে চলতে গিয়ে উভয়ের পক্ষে আর সেভাবে যোগাযোগ রাখা সম্ভব হয় না।

মূলত, আদুভাইয়ের সাথে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার বিষয়টি বোঝানোর জন্যই লেখক আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

আবুল মনসুর আহমদ রচিত 'আদুভাই' গল্পে আদু মিয়া ওরফে আদুভাই একইসাথে সহজসরল, সৎ, নিয়মনিষ্ঠ ও দুর্ভাগা একটি চরিত্র। তিনি প্রতিদিন স্কুলে যান, ক্লাসে মনোযোগ দিয়ে শিক্ষকের কথা শোনেন, সকলের সাথে সৌহার্দপূর্ণ আচরণ করেন, পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করেন না কিন্তু ভাগ্যের ফোরে কখনো ক্লাস সেভেন পাশ করতে পারেন না।

'আদুভাই' গল্পে আদুভাইকে অত্যন্ত নিরীহ একটি চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি প্রমোশন না পেলেও কখনো অন্যকে হিংসা করেন না। নিজের ব্যর্থতা নিয়ে তার মধ্যে কোনো হতাশা বা বিষণ্ণতাও পরিলক্ষিত হয় না। তিনি কখনো নকল করে পাশ করার চেষ্টা করেননি। এমনকি নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য তিনি কখনো কোনো শিক্ষককে অনুরোধ করেননি। তিনি সবসময় নিজের যোগ্যতায় ক্লাস এইটে উন্নীত হতে চেয়েছেন।
আদুভাই তার প্রমোশন পাওয়ার ব্যাপারে নিঃসন্দেহ ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন সব সাবজেক্টে পাকা হয়ে উঠলে তার প্রমোশন কেউ আটকে রাখতে পারবে না। পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনকে তিনি ঘৃণা করতেন। তবে তিনি তাকে নিয়ে অন্যদের তামাশা ঠিকমতো বুঝতে পারতেন না। কারণ তার মনে কোনো জটিলতা ছিল না।

আদুভাইয়ের মনে তার স্কুলের শিক্ষকদের প্রতি চাপা ক্ষোভ ছিল। কারণ, শিক্ষকেরা চাইলেই তাকে প্রমোশন দিতে পারতেন। কিন্তু তারা তা করেননি। অবশেষে আদুভাই প্রবীণ বয়সে কঠোর পরিশ্রম করে ক্লাস সেভেন পাশ করেন।

উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায় যে, আদু মিয়া ওরফে আদুভাই ছিলেন অত্যন্ত সৎ, নিরীহ, পরিশ্রমী, বিনয়ী, দুঃখী ও দুর্ভাগা একটি চরিত্র।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

শিক্ষকদের অনেকে একসময় আদুভাইয়ের সহপাঠী ছিলেন বলে তারা তাকে 'আদুভাই' বলে ডাকতেন।

'আদুভাই' গল্পের প্রধান চরিত্র আদুভাই, তিনি বছরের পর বছর ধরে ক্লাস | সেভেনে আটকে থাকেন। তার সহপাঠীরা যথাসময়ে প্রমোশন পেয়ে উপরের ক্লাসে উঠে যায়। এমনকি অনেকে একই স্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগদানও করেন। তাই তারা আদুভাইকে যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা দিয়ে 'আদুভাই' বলে সম্বোধন করতেন। ছাত্র-শিক্ষক সকলের কাছেই তিনি 'আদুভাই' নামেই পরিচিত ছিলেন। অর্থাৎ, স্কুলের অনেক শিক্ষক এককালে আদুভাইয়ের সাথে পড়াশোনা করায় তারা তাকে সম্মান করে 'আদুভাই' বলে ডাকতেন।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

'আদুভাই' গল্পে আব্দু মিয়া ওরফে আদুভাইয়ের শিক্ষাজীবনের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। লেখক আবুল মনসুর আহমদ আদুভাইয়ের মাধ্যমে হাস্যরসাত্মক ভঙ্গিতে পাঠকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছেন। আর তা হলো জ্ঞানার্জনের পথে বয়স যেমন কোনো বাধা নয়, তেমনি কোনো বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে নির্দিষ্ট স্তরে স্থির থাকাও যুক্তিযুক্ত নয়। জীবনে সবকিছুর ভারসাম্য থাকা জরুরি।

'আদুভাই' গল্পে আদুভাই পরীক্ষার উত্তরপত্রে নিজের মতো করে উত্তর করতেন, আবার কখনো প্রশ্নও জুড়ে দিতেন। ফলে তার প্রমোশন আটকে যেত। কিন্তু এজন্য তিনি হতাশ হতেন না। তিনি সব বিষয়ে 'পাকা' হয়ে তবেই পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হতে চাইতেন। ফলে বারবার ব্যর্থ হওয়ার পরেও তিনি চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন।

আদুভাই একসময় তার ছেলের বয়সিদের সাথে একই ক্লাসে পড়তেন। এ নিয়ে তার মধ্যে তেমন কোনো আফসোস ছিল না। এ বিষয়টি থেকে শেখা যায় যে, জ্ঞানার্জনের পথে বয়স কোনো বাধা নয়। কিন্তু আদুভাই যেভাবে নির্বিকার ভঙ্গিতে ক্লাস সেভেনে সারা জীবন আটকে থেকেছেন, জীবন সম্পর্কে এমন নির্লিপ্ততাও কাম্য নয়। কারণ, তিনি সব বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞানলাভের অপেক্ষায় থেকে গিয়েছেন। অথচ তিনি চাইলেই শিক্ষকদের অনুরোধ করে বিশেষ বিবেচনায় প্রমোশন নিয়ে নিজের দুর্ভাগ্যের দুষ্টচক্র থেকে বের হতে পারতেন। এ বিষয়টি আমাদের শেখায় যে, কোনো কিছু নিয়ে দীর্ঘ সময় পড়ে না থেকে লক্ষ্য পূরণে নানানভাবে চেষ্টা করা উচিত।
সুতরাং, উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায় যে, 'আদুভাই' গল্প থেকে যেকোনো বয়সে জ্ঞানার্জন এবং কোনো বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন একই অবস্থানে স্থির না থাকার শিক্ষা পাওয়া যায়।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
652

এক.
আদুভাই ক্লাস সেভেনে পড়তেন। ঠিক পড়তেন না বলে পড়ে থাকতেন বলাই ভালো। কারণ, ওই বিশেষ শ্রেণি ব্যতীত আর কোনো শ্রেণিতে তিনি কখনো পড়েছেন কি না, পড়ে থাকলে ঠিক কবে পড়েছেন, সেকথা ছাত্ররা কেউ জানত না। অনেক শিক্ষকও জানতেন না বলেই বোধ হতো।
শিক্ষকের অনেকে তাঁকে 'আদুভাই' বলে ডাকতেন। কারণ নাকি এই যে, তাঁরাও এককালে আদুভাইয়ের সমপাঠী ছিলেন এবং সবাই নাকি ওই ক্লাস-সেভেনেই আদুভাইয়ের সঙ্গে পড়েছেন।
আমি যখন ক্লাস সেভেনে আদুভাইয়ের সমপাঠী হলাম, ততদিনে আদুভাই ওই শ্রেণির পুরাতন টেবিল ব্ল‍্যাকবোর্ডের মতোই নিতান্ত অবিচ্ছেদ্য এবং অত্যন্ত স্বাভাবিক অঙ্গে পরিণত হয়ে গিয়েছেন।
আদুভাইয়ের এই অসাফল্যে আর যে-ই যত হতাশ হোক, আদুভাইকে কেউ কখনো বিষণ্ণ দেখেনি। কিংবা নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য তিনি কখনো কোনো শিক্ষক বা পরীক্ষককে অনুরোধ করেননি। যদি কখনো কোনো বন্ধু বলেছে, 'যান না আদুভাই, যে কয় সাবজেক্টে শর্ট আছে, শিক্ষকদের বলে কয়ে নম্বরটা নিন না বাড়িয়ে।' তখন গম্ভীরভাবে আদুভাই জবাব দিয়েছেন, 'সব সাবজেক্টে পাকা হয়ে ওঠাই ভালো।'

কোন কোন সাবজেক্টে শর্ট, সুতরাং পাকা হওয়ার প্রয়োজন আছে, তা কেউ জানত না। আদুভাইও জানতেন না। জানবার কোনো চেষ্টাও করেননি। জানবার আগ্রহও যে তাঁর আছে, তা-ও বোঝবার উপায় ছিল না। বরঞ্চ তিনি যেন মনে করতেন, ও-রকম আগ্রহ প্রকাশ করাই অন্যায় ও অসংগত। তিনি বলতেন, যেদিন তিনি সব সাবজেক্টে পাকা হবেন, প্রমোশন সেদিন তাঁর কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। সে শুভদিন যে একদিন আসবেই, সে বিষয়ে আদুভাইয়ের এতটুকু সন্দেহ কেউ কখনো দেখেনি।

কত খারাপ ছাত্র প্রশ্নপত্র চুরি করে, অপরের খাতা নকল করে, আদুভাইয়ের ঘাড়ের ওপর দিয়ে প্রমোশন নিয়ে চলে গিয়েছে- এ ধরনের ইংগিত আদুভাইয়ের কাছে কেউ করলে, তিনি গর্জে উঠে বলতেন, 'জ্ঞানলাভের জন্যই আমরা স্কুলে পড়ি, প্রমোশন লাভের জন্য পড়ি না।'
সেজন্য অনেক সন্দেহবাদী বন্ধু আদুভাইকে জিজ্ঞেস করেছে, 'আদুভাই, আপনার কি সত্যই প্রমোশনের আশা আছে?'

নিশ্চিত বিজয়-গৌরবে আদুভাইয়ের মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। তিনি তাচ্ছিল্যভরে বলেছেন, 'আজ হোক, কাল হোক, প্রমোশন আমাকে দিতেই হবে। তবে হ্যাঁ, উন্নতি আস্তে আস্তে হওয়াই ভালো। যে গাছ লকলক করে বেড়েছে, সামান্য বাতাসেই তার ডগা ভেঙেছে।'
সেজন্য আদুভাইকে কেউ কখনো পিছনের বেঞ্চিতে বসতে দেখেনি। সামনের বেঞ্চিতে বসে তিনি শিক্ষকের প্রতিটি কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন, হাঁ করে গিলতেন, মাথা নাড়তেন ও প্রয়োজনমতো নোট করতেন। খাতার সংখ্যা ও সাইজে আদুভাই ছিলেন ক্লাসের অন্যতম ভালো ছাত্র।
শুধু ক্লাসের নয়, স্কুলের মধ্যে তিনি সবার আগে পৌঁছুতেন। এ ব্যাপারে শিক্ষক কি ছাত্র কেউ তাঁকে কোনোদিন হারাতে পেরেছে বলে শোনা যায়নি।

স্কুলের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী সভায় আদুভাইকে আমরা বরাবর দুটো পুরস্কার পেতে দেখেছি। আমরা শুনেছি, আদুভাই কোন অনাদিকাল থেকে ওই দুটো পুরস্কার পেয়ে আসছেন। তার একটি, স্কুল কামাই না করার জন্য; অপরটি সচ্চরিত্রের জন্য। শহরতলির পাড়া-গাঁ থেকে রোজ-রোজ পাঁচ মাইল রাস্তা তিনি হেঁটে আসতেন বটে; কিন্তু ঝড়-তুফান, অসুখ-বিসুখ কিছুই তাঁর এ কাজে অসুবিধা সৃষ্টি করে উঠতে পারেনি। চৈত্রের কাল-বৈাশেখি বা শ্রাবণের ঝড়-কাঞ্চায় যেদিন পশুপক্ষীও ঘর থেকে বেরোয়নি, সেদিন ছাতার নিচে নুড়িমুড়ি হয়ে, বাতাসের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে, আদুভাইকে স্কুলের পথে এগোতে দেখা গিয়েছে। মাইনের মমতায় শিক্ষকেরা অবশ্য স্কুলে আসতেন। তেমন দুর্যোগে ছাত্ররা কেউ আসেনি নিশ্চিত জেনেও নিয়ম রক্ষার জন্য তারা স্কুলে একটি উঁকি মারতেন। কিন্তু তেমন দিনেও অন্ধকার কোণ থেকে 'আদাব, স্যার' বলে যে-একটি ছাত্র শিক্ষকদের চমকে দিতেন, তিনি ছিলেন আদুভাই। আর চরিত্র? আদুভাইকে কেউ কখনো রাগ কিংবা অভদ্রতা করতে কিংবা মিছে কথা বলতে দেখেনি।

স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর প্রথম পরীক্ষাতেই আমি ফার্স্ট হলাম। সুতরাং আইনত আমি ক্লাসের মধ্যে সবচাইতে ভালো ছাত্র এবং আদুভাই সবার চাইতে খারাপ ছাত্র ছিলেন। কিন্তু কী জানি কেন, আমাদের দুজনার মধ্যে একটা বন্ধন সৃষ্টি হলো। আদুভাই প্রথম থেকে আমাকে যেন নিতান্ত আপনার লোক বলে ধরে নিলেন। আমার ওপর যেন তাঁর কতকালের দাবি।

আদুভাই মনে করতেন, তিনি কবি ও বক্তা। স্কুলের সাপ্তাহিক সভায় তিনি বক্তৃতা ও স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন। তাঁর কবিতা শুনে সবাই হাসত। সে হাসিতে আদুভাই লজ্জাবোধ করতেন না, নিরুৎসাহও হতেন না। বরঞ্চ তাকে তিনি প্রশংসাসূচক হাসিই মনে করতেন। তাঁর উৎসাহ দ্বিগুণ বেড়ে যেত।

অন্যসব ব্যাপারে আদুভাইকে বুদ্ধিমান বলেই মনে হতো। কিন্তু এই একটি ব্যাপারে তাঁর নির্বুদ্ধিতা দেখে আমি দুঃখিত হতাম। তাঁর নির্বুদ্ধিতা নিয়ে ছাত্র-শিক্ষক সবাই তামাশা করছেন, অথচ তিনি তা বুঝতে পারছেন না দেখে আমার মন আদুভাইয়ের পক্ষপাতী হয়ে উঠত।
গেল এইভাবে চার বছর। আমি ম্যাট্রিকের জন্য টেস্ট পরীক্ষা দিলাম। আদুভাই কিন্তু সেবারও যথারীতি ক্লাস সেভেনেই অবস্থান করছিলেন।

দুই.
ডিসেম্বর মাস।
সব ক্লাসের পরীক্ষা ও প্রমোশন হয়ে গিয়েছে। প্রথম বিবেচনা, দ্বিতীয় বিবেচনা, তৃতীয় বিবেচনা ও বিশেষ বিবেচনা ইত্যাদি সকল প্রকারের 'বিবেচনা' হয়ে গিয়েছে। 'বিবেচিত' প্রমোশন-প্রাপ্তের সংখ্যা অন্যান্য বারের ন্যায় সেবারও পাশ করা প্রমোশন-প্রাপ্তের সংখ্যার দ্বিগুণেরও উর্ধ্বে উঠেছে।
কিন্তু আদুভাই এসব বিবেচনার বাইরে। কাজেই তাঁর কথা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। টেস্ট পরীক্ষা দিয়ে আমরা টিউটোরিয়েল ক্লাস করছিলাম। ছাত্ররা শুধু শুধু স্কুল-প্রাঙ্গণে জটলা করছিল- প্রমোশন পাওয়া ছেলেরা নিজেদের কীর্তি-উজ্জ্বল চেহারা দেখাবার জন্য, না-পাওয়া ছেলেরা প্রমোশনের কোনো প্রকার অতিরিক্ত বিশেষ বিবেচনায় দাবি জানাবার জন্য। এমনি দিনে একটু নিরালা জায়গায় পেয়ে হঠাৎ আদুভাই আমার পা জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললেন। আমি চমকে উঠলাম। আদুভাইকে আমরা সবাই মুরুব্বি মানতাম। তাই তাঁকে ক্ষিপ্রহন্তে টেনে তুলে প্রতিদানে তার পা ছুঁয়ে বললাম, 'কী হয়েছে আদুভাই? অমন পাগলামি করলেন কেন?'
আদুভাই আমার মুখের দিকে তাকালেন। তাঁকে অমন বিচলিত জীবনে আর কখনো দেখিনি। তাঁর মুখের সর্বত্র অসহায়ের ভাব! তাঁর কাঁধে সজোরে ঝাঁকি দিয়ে বললাম, 'বলুন, কী হয়েছে?' আদুভাই কম্পিত কণ্ঠে বললেন : 'প্রমোশন।'
আমি বিস্মিত হলাম, বললাম, 'প্রমোশন? প্রমোশন কী? আপনি প্রমোশন পেয়েছেন?'
: না, আমি প্রমোশন পেতে চাই।
: ও, পেতে চান? সে তো সবাই চায়।

আদুভাই অপরাধীর ন্যায় উদ্বেগ-কম্পিত ও সংকোচ-জড়িত প্যাঁচ-মোচড় দিয়ে যা বললেন, তার মর্ম এই যে, প্রমোশনের জন্য এতদিন তিনি কারো কাছে কিছু বলেননি; কারণ, প্রমোশন জিনিসটাকে যথাসময়ের পূর্বে এগিয়ে আনাটা তিনি পছন্দ করেন না। কিন্তু একটা বিশেষ কারণে এবার তাঁকে প্রমোশন পেতেই হবে। সে নির্জনতায়ও তিনি আমার কানের কাছে মুখ এনে সেই কারণটি বললেন। তা এই যে, আদুভাইয়ের ছেলে সেবার ক্লাস সেভেনে প্রমোশন পেয়েছে। নিজের ছেলের প্রতি আদুভাইয়ের কোনো ঈর্ষা নেই। কাজেই ছেলের সঙ্গে এক শ্রেণিতে পড়ায় তাঁর আপত্তি ছিল না; কিন্তু আদুভাইয়ের স্ত্রীর তাতে ঘোরতর আপত্তি আছে। ফলে, হয় আদুভাইকে এবার প্রমোশন পেতে হবে, নয় তো পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হবে। পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে আদুভাই বাঁচবেন কী নিয়ে? আমি আদুভাইয়ের বিপদের গুরুত্ব বুঝতে পারলাম। তাঁর অনুরোধে আমি শিক্ষকদের কাছে সুপারিশ করতে যেতে রাজি হলাম।
প্রথমে ফারসি শিক্ষকের কাছে যাওয়া স্থির করলাম। কারণ, তিনি একদা আমাকে মোট এক শত নম্বরের মধ্যে একশ পাঁচ নম্বর দিয়েছিলেন। বিস্মিত হেডমাস্টার তার কারণ জিজ্ঞেস করায় মৌলবি সাব বলেছিলেন, 'ছেলে সমস্ত প্রশ্নের শুদ্ধ উত্তর দেওয়ায় সে পূর্ণ নম্বর পেয়েছে। পূর্ণ নম্বর পাওয়ার পুরস্কারস্বরূপ আমি খুশি হয়ে তাকে পাঁচ নম্বর বখশিশ দিয়েছি।' অনেক তর্ক করেও হেডমাস্টার মৌলবি সাবকে এই কার্যের অসংগতি বুঝাতে পারেননি।

মৌলবি সাব আদুভাইয়ের নাম শুনে জ্বলে উঠলেন। অমন বেতমিজ ও খোদার না-ফরমান বান্দা তিনি কখনো দেখেননি, বলে আস্ফালন করলেন এবং অবশেষে টিনের বাক্স থেকে অনেক খুঁজে আদুভাইয়ের খাতা বের করে আমার সামনে ফেলে দিয়ে বললেন, 'দেখ।'
আমি দেখলাম, আদুভাই মোট তিন নম্বর পেয়েছেন। তবু হতাশ হলাম না। পাশের নম্বর দেওয়ার জন্য তাঁকে চেপে ধরলাম।
বড়ো দেরি হয়ে গিয়েছে, নম্বর সাবমিট করে ফেলেছেন, বিবেচনা স্তর পার হয়ে গিয়েছে ইত্যাদি সমস্ত যুক্তির আমি সন্তোষজনক জবাব দিলাম। তিনি বললেন, 'তুমি কার জন্য কী অন্যায় অনুরোধ করছ, খাতাটা খুলেই একবার দেখ না।'
আমি মৌলবি সাবকে খুশি করবার জন্য অনিচ্ছা সত্ত্বেও এবং অনাবশ্যকবোধেও খাতাটা খুললাম। দেখলাম, ফারসি পরীক্ষা বটে, কিন্তু খাতার কোথাও একটি ফারসি হরফ নেই। তার বদলে ঠাস-বুনানো বাংলা হরফে অনেক কিছু লেখা আছে। পড়া শেষ করে মৌলবি সাবের মুখের দিকে চাইতেই বিজয়ের ভঙ্গিতে বললেন, 'দেখেছ বাবা, বেতমিজের কাজ? আমি নিতান্ত ভালো মানুষ বলেই তিনটে নম্বর দিয়েছি, অন্য কেউ হলে রাসটিকেটের সুপারিশ করত।'
যা হোক, শেষ পর্যন্ত মৌলবি সাব আমার অনুরোধ এড়াতে পারলেন না। খাতার ওপর ৩-এর পৃষ্ঠে ৩ বসিয়ে ৩৩ করে দিলেন।
আমি বিপুল আনন্দে অঙ্কের পরীক্ষকের বাড়ি ছুটলাম।

সেখানে দেখলাম, আদুভাইয়ের খাতার ওপর লাল পেনসি লের একটি প্রকাণ্ড ভূমণ্ডল আঁকা রয়েছে। ব্যাপারের গুরুত্ব বুঝেও আমার উদ্দেশ্য বললাম। অঙ্কের মাস্টার তো হেসেই খুন। হাসতে হাসতে তিনি আদুভাইয়ের খাতা বের করে আমাকে অংশবিশেষ পড়ে শোনালেন। তাতে আদুভাই লিখেছেন যে, প্রশ্নকর্তা ভালো-ভালো অঙ্কের প্রশ্ন ফেলে কতগুলো বাজে ও অনাবশ্যক প্রশ্ন করেছেন। সেজন্য এবং প্রশ্নকর্তার ত্রুটি-সংশোধনের উদ্দেশ্যে আদুভাই নিজেই কতিপয় উৎকৃষ্ট প্রশ্ন লিখে তার বিশুদ্ধ উত্তর দিচ্ছে- এইরূপ ভূমিকা করে আদুভাই যে সমস্ত অঙ্কর করেছেন, শিক্ষক মহাশয় প্রশ্নপত্র ও খাতা মিলিয়ে আমাকে দেখালেন যে, প্রশ্নের সঙ্গে আদুভাইয়ের উত্তরের সত্যিই কোনো সংস্রব নেই।

প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিল থাক আর না-ই থাক, খাতায় লেখা অংক শুদ্ধ হলেই নম্বর পাওয়া উচিত বলে আমি শিক্ষকের সঙ্গে অনেক ধস্তাধস্তি করলাম। শিক্ষক-মশায়, যাহোক, প্রমাণ করে দিলেন যে, তা-ও শুদ্ধ হয়নি। সুতরাং পাশের নম্বর দিতে তিনি রাজি হলেন না। তবে তিনি আমাকে এই আশ্বাস দিলেন যে, অন্যসব সাবজেক্টের শিক্ষকদের রাজি করাতে পারলে তিনি আদুভাইয়ের প্রমোশনে সুপারিশ করতে প্রস্তুত আছেন।
নিতান্ত বিষণ্নমনে অন্যান্য পরীক্ষকের নিকটে গেলাম। সর্বত্র অবস্থা প্রায় একরূপ। ভূগোলের খাতায় তিনি লিখেছেন যে, পৃথিবী গোলাকার এবং সূর্যের চারদিকে ঘুরছে, এমন গল্প তিনি বিশ্বাস করেন না। ইতিহাসের খাতায় তিনি লিখেছেন যে, কোন রাজা কোন সম্রাটের পুত্র এসব কথার কোনো প্রমাণ নেই। ইংরেজির খাতায় তিনি নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও লর্ড ক্লাইভের ছবি পাশাপাশি আঁকবার চেষ্টা করেছেন- অবশ্য কে যে সিরাজ, কে যে ক্লাইভ, নিচে লেখা না থাকলে তা বোঝা যেত না।

হতাশ হয়ে হোস্টেলে ফিরে এলাম। আদুভাই আগ্রহ-ব্যাকুল চোখে আমার পথপানে চেয়ে অপেক্ষা করছিলেন।
আমি ফিরে এসে নিষ্ফলতার খবর দিতেই তাঁর মুখটি ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
: তবে আমার কী হবে ভাই? বলে তিনি মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন।
কিছু একটা করবার জন্য আমার প্রাণও ব্যাকুল হয়ে উঠল। বললাম, 'তবে কি আদুভাই, আমি হেডমাস্টারের কাছে যাব?'

আদুভাই ক্ষণিক আমার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে বললেন, 'তুমি আমার জন্য যা করেছ, সেজন্য ধন্যবাদ।
হেডমাস্টারের কাছে তোমার গিয়ে কাজ নেই। সেখানে যেতে হয় আমিই যাব। হেডমাস্টারের কাছে জীবনে আমি কিছু চাইনি। এই প্রার্থনা তিনি আমার ফেলতে পারবেন না।'
বলেই তিনি হনহন করে বেরিয়ে গেলেন। আমি একদৃষ্টে দ্রুত গমনশীল আদুভাইয়ের দিকে চেয়ে রইলাম। তিনি দৃষ্টির আড়াল হলে একটি দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে নিজের কাজে মন দিলাম।

তিন.
সেদিন বড়োদিনের ছুটি আরম্ভ। শুধু হাজিরা লিখেই স্কুল ছুটি দেওয়া হলো।
আমি বাইরে এসে দেখলাম, স্কুলের গেটের সামনে একটি উঁচু টুল চেপে তার ওপর দাঁড়িয়ে আদুভাই হাত-পা নেড়ে বক্তৃতা করছেন। ছাত্ররা ভিড় করে তাঁর বক্তৃতা শুনছে, মাঝে মাঝে করতালি দিচ্ছে।
আমি শ্রোতৃমণ্ডলীর ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়লাম।

আদুভাই বলছিলেন, 'হ্যাঁ, প্রমোশন আমি মুখ ফুটে কখনো চাইনি। কিন্তু সেজন্যই কি আমাকে প্রমোশন না-দেওয়া এঁদের উচিত হয়েছে? মুখ ফুটে না-চেয়ে এতদিন আমি এঁদের আক্কেল পরীক্ষা করলাম। দেখলাম, বিবেচনা বলে কোনো জিনিস এঁদের মধ্যে নেই। এঁরা নির্মম, হৃদয়হীন। একটা মানুষ যে চোখ বুজে এঁদের বিবেচনার ওপর নিজের জীবন ছেড়ে দিয়ে আছে, এঁদের প্রাণ বলে কোনো জিনিস থাকলে সে কথা কি এঁরা এতদিন ভুলে থাকতে পারতেন?'

আদুভাইয়ের চোখ ছলছল করে উঠল। তিনি বাম হাতের পিঠ দিয়ে চোখ মুছে আবার বলতে লাগলেন, 'আমি এঁদের কাছে কী আর বিশেষ চেয়েছিলাম? শুধু একটি প্রমোশন। তা দিলে এঁদের কী এমন লোকসান হতো? মনে করবেন না, প্রমোশন না দেওয়ায় আমি রেগে গেছি। রাগ আমি করিনি। আমি শুধু ভাবছি, যাঁদের বুদ্ধি-বিবেচনার ওপর হাজার হাজার ছেলের বাপ-মা ছেলেদের জীবনের ভার ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিত থাকেন, তাঁদের আক্কেল কত কম। তাঁদের প্রাণের পরিসর কত অল্প!'

একটু দম নিয়ে আদুভাই আরম্ভ করলেন, "আমি বহুকাল এই স্কুলে পড়ছি। একদিন এক পয়সা মাইনে কম দেইনি। বছর-বছর নতুন-নতুন পুস্তক ও খাতা কিনতে আপত্তি করিনি। ভাবুন, আমার কতগুলো টাকা গিয়েছে। আমি যদি প্রমোশনের এতই অযোগ্য ছিলাম, তবে এই দীর্ঘ দিনের মধ্যে একজন শিক্ষকও আমায় কেন বললেন না, 'আদুমিঞা তোমার প্রমোশনের কোনো চান্স নেই, তোমার মাইনেটা আমরা নেব না।' মাইনে দেওয়ার সময় কেউ বারণ করলেন না, পুস্তক কিনবার সময় কেউ নিষেধ করলেন না। শুধু প্রমোশনের বেলাতেই তাঁদের যত নিয়ম-কানুনে এসে বাঁধল? আমি ক্লাস সেভেন পাস করতে পারলাম না বলে ক্লাস এইটেও পাশ করতে পারতাম না, এ কথা এঁদের কে বলেছে? অনেকে ম্যাট্রিক-আইএ-তে কোনোমতে পাশ করে বিএ-এমএ-তে ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছে, এমন দৃষ্টান্ত আমি অনেক দেখাতে পারি। কোনো কুগ্রহের ফেরেই আমি ক্লাস সেভেনে আটকে পড়েছি। একবার কোনোমতে এই ক্লাসটা ডিঙোতে পারলেই আমি ভালো করতে পারতাম, এটা বোঝা মাস্টারবাবুদের উচিত ছিল। আমাকে একবার ক্লাস এইটে প্রমোশন দিয়ে আমার লাইফের একটা চান্স এঁরা দিলেন না।"

আদুভাইর কণ্ঠরোধ হয়ে এল। তিনি খানিক থেমে ধুতির খুঁটে নাক-চোখ মুছে নিলেন। দেখলাম, শ্রোতৃগণের অনেকের গাল বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে।

গলা পরিষ্কার করে আদুভাই আবার শুরু করলেন, 'আমি কখনো এতসব কথা বলিনি, আজও বলতাম না। বললাম শুধু এই জন্য যে, আমার বড়ো ছেলে এবার ক্লাস সেভেনে প্রমোশন পেয়েছে। সে-ও এই স্কুলেই পড়ত। এই স্কুলের শিক্ষকদের বিবেচনায় আমার আস্থা নেই বলেই আমি গতবারই আমার ছেলেকে অন্য স্কুলে ট্রান্সফার করে দিয়েছিলাম। যথাসময়ে, এই সতর্কতা অবলম্বন না করলে, আজ আমাকে কী অপমানের মুখে পড়তে হতো, তা আপনারাই বিচার করুন।'

আদুভাইয়ের শরীরে কাঁটা দিয়ে উঠল। তিনি গলায় দৃঢ়তা এনে আবার বলতে শুরু করলেন, 'কিন্তু আমি সত্যকে জয়যুক্ত করবই। আমি একদিন ক্লাস এইটে-'

এই সময় স্কুলের দারোয়ান এসে সভা ভেঙে দিল। আমি আদুভাইয়ের দৃষ্টি এড়িয়ে চুপে-চুপে সরে পড়লাম।
তারপর যেমন হয়ে থাকে- সংসার-সাগরের প্রবল স্রোতে কে কোথায় ভেসে গেলাম, জানলাম না।

চার.
আমি সেবার বিএ পরীক্ষা দেব। খুব মন দিয়ে পড়ছিলাম। হঠাৎ লাল লেফাফার এক পত্র পেলাম। কারো বিয়ের নিমন্ত্রণপত্র হবে মনে করে খুললাম। ঝরঝরে তকতকে সোনালি হরফে ছাপা পত্র। পত্রলেখক আদুভাই। তিনি লিখেছেন, তিনি সেবার ক্লাস সেভেন থেকে ক্লাস এইটে প্রমোশন পেয়েছেন বলে বন্ধু বান্ধবের জন্য কিছু ডাল-ভাতের ব্যবস্থা করেছেন।

দেখলাম, তারিখ অনেক আগেই চলে গিয়েছে। বাড়ি ঘুরে এসেছে বলে পত্র দেরিতে পেয়েছি। ছাপাচিঠির সঙ্গে হাতের লেখা একটি পত্র। আদুভাইয়ের পুত্র লিখেছে- বাবার অসুখ, আপনাকে দেখবেন তাঁর শেষ সাধ।
পড়াশোনা ফেলে ছুটে গেলাম আদুভাইকে দেখতে। এই চার বছর তাঁর কোনো খবর নিইনি বলে লজ্জা-অনুতাপে ছোটো হয়ে যাচ্ছিলাম।
ছেলে কেঁদে বলল, "বাবা মারা গিয়েছেন। প্রমোশনের জন্য তিনি এবার দিনভর এমন পড়াশোনা শুরু করেছিলেন যে শয্যা নিলেন, তবু পড়া ছাড়লেন না। আমরা সবাই তার জীবন সম্বন্ধে ভয় পেলাম। পাড়াসুদ্ধ লোক গিয়ে হেডমাস্টারকে ধরায় তিনি স্বয়ং এসে বাবাকে প্রমোশনের আশ্বাস দিলেন। বাবা অসুখ নিয়েই পাল্কি চড়ে স্কুলে গিয়ে শুয়ে-শুয়ে পরীক্ষা দিলেন। আগের কথামতো তাঁকে প্রমোশন দেওয়া হলো। তিনি তাঁর 'প্রমোশন-উৎসব' উদ্যাপন করবার জন্য আমাকে হুকুম দিলেন। কাকে কাকে নিমন্ত্রণ করতে হবে, তার লিস্টও তিনি নিজহাতে করে দিলেন। কিন্তু সেই উৎসবে যাঁরা যোগ দিতে এলেন তাঁরা সবাই জানাজা পড়ে বাড়ি ফিরলেন।"

আমি চোখের পানি মুছে কবরের কাছে যেতে চাইলাম।
ছেলে আমাকে গোরস্তানে নিয়ে গেল। দেখলাম, আদুভাইয়ের কবরে খোদাই করা মার্কেল-পাথরের ট্যাবলেটে লেখা হয়েছে-

Here sleeps Adu Mia who was promoted

from Class VII to Class VIII.

ছেলে বলল, 'বাবার শেষ ইচ্ছামতোই ও-ব্যবস্থা করা হয়েছে।'

Related Question

View All
102
উত্তরঃ

প্রমোশন পাওয়া প্রসঙ্গে আদুভাই আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।

আদুভাই ঠিক কত দিন ধরে ক্লাস সেভেনে পড়ছেন তা সঠিক কেউ বলতে পারে না। এত দিনে অনেক খারাপ ছাত্র প্রশ্নপত্র চুরি করে, আবার অন্যের খাতা নকল করে আদুভাইয়ের ঘাড়ের উপর দিয়ে প্রমোশন নিয়ে চলে গেছে। চাইলে আদুভাইও এমন করতে পারতেন, কিন্তু তিনি কখনই তা করেননি। বরং তাকে এ ধরনের কোনো কথা বললে বা ইঙ্গিত কেউ দিলেও তিনি প্রচন্ডভাবে তার প্রতিবাদ করতেন। সেই প্রতিবাদস্বরূপই আদুভাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন।

149
উত্তরঃ

উদ্দীপকটি 'আদুভাই' গল্পের আদুভাই চরিত্রকে ইঙ্গিত করে।

চেষ্টা মানুষকে সফলতার খুব কাছাকাছি নিয়ে যায়। তাই কখনই চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখতে হয় না। যেকোনো পরিস্থিতেই হোক না কেন, চেষ্টাই পারে মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।

উদ্দীপকটিতে একবারে না পারলে অনেকবার চেষ্টা করে সফল হওয়ার কথা বলা হয়েছে। সবাই যা পারে, তা তুমিও পারবে। শুধু চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। 'আদুভাই' গল্পে আদুভাই একই শ্রেণিতে অনেক দিন পড়ালেখা করেছেন। তিনি প্রমোশন পেতেন না, কিন্তু তার কোনো চেষ্টাও করতেন না। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে মনে হতো তিনি তার প্রমোশনের জন্য কিংবা পড়ালেখা করার জন্য অনেক চেষ্টা করছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'আদুভাই' গল্পের আদুভাই চরিত্রকে ইঙ্গিত করে।

104
উত্তরঃ

উদ্দীপকটি 'আদুভাই' গল্পের আদুভাইয়ের মনোভাবের প্রতীক, কিন্তু বাস্তবায়িত রূপ নয়- মন্তব্যটি যথার্থ।

যেকোনো কাজের জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা উচিত। পরিকল্পনামাফিক কাজ শুরু করলে কাজটি নির্দিষ্ট সময়ে সম্পন্ন করা যায়।

উদ্দীপকে একবার না পারলে অনেকবার চেষ্টা করে নিজের সফলতা অর্জনের জন্য কাজ করার কথা বলা হয়েছে। 'আদুভাই' গল্পে আদুভাইও এক ক্লাসে বারবার পড়েছেন। কিন্তু তিনি প্রমোশন পাননি। প্রমোশন না পেলেও তিনি পিছিয়ে যাননি। বরং নিজেকে একইভাবে চালিয়ে গেছেন। কিন্তু আদুভাই যখন সত্যিকার অর্থেই প্রমোশনের জন্য চেষ্টা করেছেন তখন তিনি তা পেরেছেন।

উদ্দীপকটিতে একটি কাজে সফলতা অর্জন করার জন্য শতবার চেষ্টা করতে বলা হয়েছে। 'আদুভাই' গল্পে আদুভাইও অনেক চেষ্টার পরে সার্থক হয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু এই মনোভাব তিনি যদি প্রথম থেকে পোষণ করতেন তাহলে অবশ্যই তিনি অনেক আগেই সফল হতে পারতেন। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

99
উত্তরঃ

আদুভাই স্কুল কামাই না করার জন্য এবং সচ্চরিত্রের জন্য দুটি পুরষ্কার বরাবরই পেয়ে আসছেন।

আদুভাই অনেকদিন ধরে একই ক্লাসে পড়ে আসছেন। কিন্তু এরপরও স্কুলের বার্ষিক পুরস্কার-বিতরণী সভায় আদুভাই বরাবর দুটি পুরস্কার পেয়ে আসছেন। সেগুলো হলো স্কুল কামাই না করার জন্য এবং সচ্চরিত্রের জন্য। আদুভাই রোজ পাঁচ মাইল রাস্তা হেঁটে' আসতেন। এমনকি ঝড়-বৃষ্টিও তার পথকে কখনো রোধ করতে পারেনি। আর এত দিন আদুভাই স্কুলে যাওয়া-আসা করলেও কেউ কখনো তাকে রাগ করতে, অভদ্র আচরণ করতে কিংবা মিথ্যা কথা বলতে শোনেনি। আর এ কারণেই বরাবর এই দুটি পুরস্কারই আদুভাই পেয়ে আসছিলেন।

351
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews