উত্তরী' শব্দের অর্থ চাদর।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতা থেকে উদ্ধৃত অংশটিতে শোকাচ্ছন্ন কবির জিজ্ঞাসার মধ্য দিয়ে বসন্তের আগমন সম্পর্কে তাঁর উদাসীনতা ব্যক্ত হয়েছে।
প্রকৃতিতে বসন্ত তার রূপসম্ভার নিয়ে হাজির হয়েছে। চারদিকে বসন্তের আগমনী বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। কিন্তু কবি এসব কিছু লক্ষ করেননি। বিদায়ী শীতের করুণ স্মৃতি তাঁর অন্তর জুড়ে আছে। তাই বসন্তের সৌন্দর্য তাঁর মনকে স্পর্শ করেনি। কবিভক্ত তাঁকে বসন্তের আগমনী বার্তা জানালে কবি নানা রকম জিজ্ঞাসার মধ্য দিয়ে এ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চেয়েছেন। প্রশ্নোক্ত চরণটিতে এ বিষয়টিই ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের বিষয়বস্তুর সঙ্গে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার বিষয়বস্তুর সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য উভয়ই রয়েছে।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবিমন প্রিয়জন হারানোর বেদনায় ভারাক্রান্ত। যার ফলে প্রকৃতির ঋতু পরিবর্তনে বসন্তের আগমন কবিমনে কোনো প্রভাব ফেলে না। স্বামীর মৃত্যুতে নেমে আসা শূন্যতার ফলে, কবিমনে শীতের রিক্ততা যেন স্থায়ী রূপ লাভ করেছে। কবি কিছুতেই তাঁর হারানো প্রিয়জনকে ভুলতে পারছেন না।
উদ্দীপকে বাঙালি নারীর আত্মজাগরণে মুখ্য ভূমিকা রাখা বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের প্রসঙ্গ আনা হয়েছে। বিয়ের পর তাঁর স্বামী সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সহযোগিতায় নিজের নিরলস পরিশ্রমে তিনি স্বশিক্ষিত হয়ে উঠেন। এরপর সাহিত্য রচনায় আত্মনিয়োগ করেন, যার মূল বিষয়বস্তু ছিল বাঙালি মুসলমান নারীদের জীবন। হঠাৎ করে তাঁর স্বামী মৃত্যুবরণ করেন, এতে তিনি মর্মাহত হলেও নতুন উদ্যমে নারীমুক্তির জন্য কাজ শুরু করেন। স্বামীর মৃত্যুতে মর্মাহত হওয়ার দিক থেকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবি ও রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের সাদৃশ্য থাকলেও শোক থেকে শক্তির প্রেরণা নিয়ে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করার দিক থেকে দুজনের বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকের স্বামী বিয়োগের হাহাকার ও 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির অন্তরের হাহাকার একসূত্রে গাঁথা হলেও তাঁদের কর্মপন্থায় ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় বসন্তের আগমনে কবির মনে কোনো আনন্দের সঞ্চার হতে দেখা যায় না। স্বাভাবিকভাবে কবি প্রতিবছর বসন্ত বন্দনায় মগ্ন হলেও এবার কবি বসন্তকে নিয়ে কোনো গান বা কবিতা রচনা করতে পারছেন না। স্বামীকে হারানোর শোকে মুহ্যমান কবি তাঁর দৈনন্দিন জীবনের ছন্দ হারিয়ে ফেলেছেন। তাঁর মনে বিরাজমান শূন্যতার কারণে এবার হয়তো তাঁর আর বসন্ত বন্দনা করা হবে না।
দ্দীপকে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জীবনে তাঁর স্বামীর অবদান তুলে ধরা হয়েছে। স্বামীর সহযোগিতা পেয়ে স্বশিক্ষিত হয়ে ারীমুক্তি নিয়ে সাহিত্য রচনায় মনোনিবেশ করার পরে হঠাৎ স্বামীর মৃত্যু তাঁকে মর্মাহত করে। অন্তরে বিষাদ নিয়েও তিনি নারীমুক্তির জন্য এজ করে যান।
দ্দীপকে বর্ণিত স্বামী বিয়োগের হাহাকার ও 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় বর্ণিত কবির স্বামী বিয়োগের হাহাকার মূলত একই। প্রিয়জনকে এরিয়ে ফেললে মানুষ সহজাতভাবেই দুঃখে নিমজ্জিত হয় এবং সেই দুঃখ কাটিয়ে উঠে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। কিন্তু গহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবি কীভাবে সেই দুঃখকে জয় করেন তার বর্ণনা নেই। উদ্দীপকে শোকে নিমজ্জিত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হাসেন কীভাবে আপন কর্ম সম্পাদনে প্রত্যয়ী হয়েছেন তার বর্ণনা রয়েছে। সেদিক বিবেচনায়, উভয়ের হাহাকারের উৎস এক হলেও তাঁদের থাক কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়া ভিন্ন।
Related Question
View Allকবি শীতকে মাঘের সন্ন্যাসীরূপে কল্পনা করেছেন
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!