বীজের বৈশিষ্ট্য: বীজের বৈশিষ্ট্য নিচে তুলে ধরা হলো-
১. কাঙ্ক্ষিত ফসলের বীজের সাথে অন্য ফসলের বীজ কিংবা কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বস্তুকণা মিশ্রিত থাকবে না।
২. একই ফসলের অন্য জাতের বীজের মিশ্রণ থাকবে না, অর্থাৎ জাত বিশুদ্ধতা বজায় থাকবে।
৩. ভালো বীজের কমপক্ষে ৭০ ৮০% গজানোর ক্ষমতা থাকবে।
৪. বীজ তেজস্বী হবে এবং প্রতিকূল পরিবেশে ও তাড়াতাড়ি বেড়ে উঠতে পারবে।
৫. পরিমিত আর্দ্রতা ও নির্দিষ্ট সুপ্তকাল বজায় থাকবে।
৬. পরিপক্ক এবং পোকা ও রোগ মুক্ত হবে।
৭. আকার-আকৃতি স্বাভাবিক হবে ও সমআকৃতি বজায় থাকবে।
৮. বীজের স্বতন্ত্র রং ও স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় থাকবে।
বীজের প্রকারভেদ: বীজের প্রকারভেদ নিচে বর্ণনা করা হলো-
১. ব্যবহারের ভিত্তিতে বীজকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
ক. উদ্ভিদতাত্ত্বিক বীজ: নিষিক্ত ও পরিপক্ক ডিম্বককে উদ্ভিদতাত্ত্বিক বীজ বলে। যেমন- ধান, পাট, গম বীজ ইত্যাদি।
খ. কৃষিতাত্ত্বিক বীজ: উদ্ভিদের যেকোনো অংশ যা উপযুক্ত পরিবেশে আপন জাতের নতুন উদ্ভিদের জন্ম দিতে পারে, তাকে কৃষিতাত্ত্বিক বীজ বলে। যেমন- আদা ও হলুদের কন্দ।
২. বীজাবরণের উপস্থিতির ভিত্তিতে বীজকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
ক. অনাবৃত বীজ: এসব বীজে কোনো আবরণ থাকে না। যেমন- গম, ভুট্টা ইত্যাদি।
খ. আবৃত বীজ: এসব বীজের আবরণ থাকে। যেমন- ধান, সরিষা ইত্যাদি।
৩. বীজপত্রের সংখ্যা ভিত্তিতে বীজকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- ক. একবীজপত্রী বীজ: এসব বীজে একটি মাত্র বীজপত্র থাকে। যেমন- ধান, গম, ভুট্টা ইত্যাদি।
খ. দ্বিবীজপত্রী বীজ: এসব বীজে দুটি বীজপত্র থাকে। যেমন-ছোলা, আম, কাঁঠাল ইত্যাদি।
গ. বহুবীজপত্রী বীজ: এসব বীজে দুইয়ের অধিক বীজপত্র থাকে। যেমন- পাইন।
Related Question
View Allজীবজন্তুর মৃতদেহ, বাড়ির গাছপালা, শাকসবজির অবশিষ্টাংশ, লতাপাতা, খড়কুটা, প্রাণীর মলমূত্র প্রভৃতি মাটিতে পচে যে পদার্থের সৃষ্টি হয় তাকে জৈব পদার্থ বলে।
মাটির বুনট যদি বেলে প্রকৃতির হয় তবে চীনা, কাউন, ফুটি, আলু, তরমুজ ভালো হবে। মাটির বুনটের অর্ধেক যদি বালিকণা এবং বাকি অর্ধেক পলি ও কর্দম কণার হয় তবে সে মাটিতে সব ধরনের ফসল ভালো জন্মাবে। আবার যে মাটিতে কর্দম কণা বেশি থাকে সে মাটিতে ধান, পাট, আখ ও শাকসবজি ভালো জন্মাবে। সুতরাং জমিতে ফসল উৎপাদন বুনটের উপর নির্ভরশীল।
মজিদের বাড়ির আবর্জনাগুলোকে সদ্ব্যবহারের সর্বোত্তম উপায় হলো এগুলো দিয়ে জৈব সার তৈরি করে জমিতে প্রয়োগ করা। জৈব সার তৈরির জন্য তাকে এমন একটি উঁচু জায়গা নির্বাচন করতে হবে যেখানে পানি জমে না। এরপর উক্ত স্থানে আবর্জনাগুলো নিয়মিত জমাতে হবে। মাঝে মাঝে জমানো স্তরগুলো ওলটপালট করে দিতে। হবে। এতে করে অণুজীবের ক্রিয়ায় আবর্জনাগুলো পচে জৈব সার তৈরি হবে। তৈরিকৃত এ জৈব সার সে প্রয়োজনানুযায়ী তার ফসলের জমিতে প্রয়োগ করবে।
কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শক্রমে মজিদ বাড়ির আঙিনার আবর্জনাগুলোকে জৈব সারে রূপান্তরের 'সিদ্ধান্ত নেয়। এ সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের ফলে মজিদ যেসব সুবিধা পাবে তা হলো—
১. জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পাবে।
২. রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমে যাবে। ফলে উৎপাদন খরচ কমে যাবে। ফলে উৎপাদন
৩. জমির পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেচ কম লাগবে।
৪. ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
৫. বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে।
এসব সুবিধা প্রাপ্তির কারণে মজিদের কৃষি কাজ অনেক সহজ ও লাভজনক হবে। সহজেই সে তার উৎপাদনকালীন কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারবে।
পৃথিবীর নরম উপরিভাগকে সাধারণভাবে মাটি বলে। কিন্তু মৃত্তিকা বিজ্ঞানীদের মতে ভূপৃষ্ঠের যে নরম স্তরে গাছপালা জন্মে ও গাছ পুষ্টি শোষণ করে বড় হয় তাকে মাটি বলে।
জৈব পদার্থকে মাটির জীবন বলার কারণসমূহ নিচে বর্ণনা করা হলো ;
১. জৈব পদার্থের উপস্থিতি মাটিস্থ অণুজীবগুলোকে ক্রিয়াশীল করে। ফলে মাটিস্থ খাদ্য উপাদান গাছের গ্রহণ উপযোগী হয়।
২. জৈব পদার্থ মাটিতে হিউমাস সৃষ্টি করে, যা মাটির উর্বরতার জন্য খুবই দরকারী।
৩. জৈব পদার্থ মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়।
৪. জৈব পদার্থ মাটির গঠনকে উন্নত করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
