উদ্দীপক এবং 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় শোকানুভূতি প্রকাশের দিক থেকে ঐক্য থাকলেও কবিতার সবটা উদ্দীপকে আসেনি বলেই প্রতীয়মান হয়।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবি সুফিয়া কামালের ব্যক্তিজীবনের দুঃখময় ঘটনার ছায়াপাত ঘটেছে। কবির স্বামী এবং সাহিত্য সাধনার প্রধান উৎসাহদাতা সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যু কবিকে দুঃসহ বেদনায় ভারাক্রান্ত করে তোলে। প্রিয়জন হারানোর বিরহ-বেদনায় জগৎ ও জীবনের প্রতি নির্মোহ হয়ে পড়েন কবি।
উদ্দীপকে মলি রানির শোকানুভূতির কথা বর্ণিত হয়েছে। যখন তিনি সব আশা ত্যাগ করেছিলেন, তখন পলান সরকারের কথাগুলোই তাঁকে পথ দেখিয়েছিল। তাঁর অনুপ্রেরণাই মলি রানিকে পড়াশোনায় আগ্রহী করে তুলেছিল। আর তাই পলান সরকারের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু তাঁকে ভারাক্রান্ত করে তুলেছে। আলোচ্য উদ্দীপকে মলি রানির মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠা এই শোকানুভূতির দিকটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় আরও গভীর ভাবব্যঞ্জনা নিয়ে ধরা দিয়েছে।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির স্বামী ছিলেন তাঁর সাহিত্য সাধনার প্রধান সহায়ক ও উৎসাহদাতা। প্রাণপ্রিয় স্বামীর মৃত্যুতে তাঁর সুখময় জীবনের ছন্দপতন ঘটে। সংগত কারণেই তাঁর মৃত্যুতে কবি ভেঙে পড়েন। আর তাই বসন্ত এলেও কবিমনে শিহরন জাগে না বরং বিস্ত শীতের করুণ বিদায়ের বেদনাবিধুর প্রকৃতির মতো কবির চেতনাও আচ্ছন্ন হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে, উদ্দীপকের মলি রানির শোকানুভূতির কারণ পড়াশোনার উৎসাহদাতা পলান সরকারের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু। কবির স্বামী জীবন চলার সাথি, কবিতার প্রেরণা। তাই তার অকাল প্রয়াণ কবিকে সীমাহীন বিষণ্ণতায় নিমজ্জিত করেছে, যা মলি রানির শোকের চেয়ে শতগুণে বেদনাদায়ক। অতএব, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটির ব্যাপারে দ্বিমতের অবকাশ নেই।
Related Question
View Allকবি শীতকে মাঘের সন্ন্যাসীরূপে কল্পনা করেছেন
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!