কুহেলি' শব্দের অর্থ কুয়াশা।
প্রিয়জনের শোকে মুহ্যমান কবির নির্মোহ মনোভাব প্রত্যক্ষ করেই কবি-
তেমনি আপনজনের শোকে মুহ্যমান কবির চেতনাও যেন প্রিয়জনের চলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিষণ্ণতার রূপ পরিগ্রহ করেছে। অকালে অপ্রাপ্তি নিয়ে স্বজনের চলে যাওয়ার বিষয়টিকে তিনি যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। তাই সময়ের আবর্তনে ঋতুরাজ বসন্তের আগমন ঘটলেও তা কবিমনে সাড়া জাগাতে পারেনি। বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেই কবিভক্ত আলোচ্য পঙক্তিটির মাধ্যমে প্রিয় কবির প্রতি প্রশ্ন রেখেছেন।
উদ্দীপকে 'তাহারেই পড়ে মনে" কবিতায় প্রকাশিত শোকানুভূতির দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় শীতকালীন প্রকৃতির অনুষঙ্গে ভর করে কবি ব্যক্তিহৃদয়ের বেদনাবোধের অসাধারণ প্রকাশ ঘটিয়েছেন। প্রিয়তম স্বামীর বিরহ-বেদনা কবিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। কবিতাটিকে অবলম্বন করে কবি তাঁর সে যাতনাকে রূপায়িত করেছেন।
উদ্দীপকের মলি রানি একজন গৃহবধূ। শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে পলান সরকার ছিলেন তার অনুপ্রেরণা। তাঁর উৎসাহেই মলি রানি পড়াশোনা শেষ করার জন্য মনস্থির করেন। আর তাই উৎসাহদাতা এ প্রিয় মানুষটির মৃত্যু তাকে কাঁদিয়েছে। একইভাবে, সাহিত্য সাধনার প্রধান সহায়ক ও উৎসাহদাতা সৈয়দ নেহাল হোসেনের মৃত্যু আলোচ্য কবিতার কবির জীবনে ছড়িয়ে দিয়ে যায় দুঃসহ বিষণ্ণতা। প্রিয়তম স্বামীকে হারানো শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি তিনি। অর্থাৎ উদ্দীপকের মলি রানি এবং আলোচ্য কবিতার কবি উভয়ের ক্ষেত্রেই শোকানুভূতির প্রকাশ ঘটেছে। সে বিবেচনায় উদ্দীপকটিতে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় প্রকাশিত শোকানুভূতির দিকটিই প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপক এবং 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় শোকানুভূতি প্রকাশের দিক থেকে ঐক্য থাকলেও কবিতার সবটা উদ্দীপকে আসেনি বলেই প্রতীয়মান হয়।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবি সুফিয়া কামালের ব্যক্তিজীবনের দুঃখময় ঘটনার ছায়াপাত ঘটেছে। কবির স্বামী এবং সাহিত্য সাধনার প্রধান উৎসাহদাতা সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যু কবিকে দুঃসহ বেদনায় ভারাক্রান্ত করে তোলে। প্রিয়জন হারানোর বিরহ-বেদনায় জগৎ ও জীবনের প্রতি নির্মোহ হয়ে পড়েন কবি।
উদ্দীপকে মলি রানির শোকানুভূতির কথা বর্ণিত হয়েছে। যখন তিনি সব আশা ত্যাগ করেছিলেন, তখন পলান সরকারের কথাগুলোই তাঁকে পথ দেখিয়েছিল। তাঁর অনুপ্রেরণাই মলি রানিকে পড়াশোনায় আগ্রহী করে তুলেছিল। আর তাই পলান সরকারের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু তাঁকে ভারাক্রান্ত করে তুলেছে। আলোচ্য উদ্দীপকে মলি রানির মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠা এই শোকানুভূতির দিকটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় আরও গভীর ভাবব্যঞ্জনা নিয়ে ধরা দিয়েছে।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির স্বামী ছিলেন তাঁর সাহিত্য সাধনার প্রধান সহায়ক ও উৎসাহদাতা। প্রাণপ্রিয় স্বামীর মৃত্যুতে তাঁর সুখময় জীবনের ছন্দপতন ঘটে। সংগত কারণেই তাঁর মৃত্যুতে কবি ভেঙে পড়েন। আর তাই বসন্ত এলেও কবিমনে শিহরন জাগে না বরং বিস্ত শীতের করুণ বিদায়ের বেদনাবিধুর প্রকৃতির মতো কবির চেতনাও আচ্ছন্ন হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে, উদ্দীপকের মলি রানির শোকানুভূতির কারণ পড়াশোনার উৎসাহদাতা পলান সরকারের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু। কবির স্বামী জীবন চলার সাথি, কবিতার প্রেরণা। তাই তার অকাল প্রয়াণ কবিকে সীমাহীন বিষণ্ণতায় নিমজ্জিত করেছে, যা মলি রানির শোকের চেয়ে শতগুণে বেদনাদায়ক। অতএব, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটির ব্যাপারে দ্বিমতের অবকাশ নেই।
Related Question
View Allকবি শীতকে মাঘের সন্ন্যাসীরূপে কল্পনা করেছেন
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!