অলখ' শব্দের অর্থ অলক্ষ বা দৃষ্টির অগোচরে।
আলোচ্য পঙক্তিটিতে কবি শীতকে কুয়াশার চাদর পরিহিত মাঘের সন্ন্যাসীরূপে কল্পনা করেছেন।
শীত প্রকৃতিকে দেয় রিস্ততার রূপ। আলোচ্য কবিতাটিতে শীতের এ নিঃস্ব ও রিক্ত রূপকে বসন্তের বিপরীতে স্থাপন করা হয়েছে। প্রকৃতি বসন্তের আগমনে ফুলের সাজে সাজলেও বিরহকাতর কবির মনজুড়ে রয়েছে শীতের রিক্ততার ছবি। শীত যেন সর্বরিক্ত সন্ন্যাসীর মতোই * কুয়াশার চাদর গায়ে পত্রপুষ্পহীন দিগন্তের পথে চলে গেছে। প্রশ্নোক্ত পত্তিটিতে সর্বগ্রাসী শীতের এ নিষ্প্রাণ রূপটিই তুলে ধরা হয়েছে।
প্রিয়জনের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় যে হাহাকার প্রকাশ পেয়েছে তা উদ্দীপকের বক্তব্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটিতে কবির ব্যক্তিজীবনের দুঃখময় ঘটনার ছায়াপাত ঘটেছে। কবির স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে কবির জীবনে প্রচন্ড শূন্যতা নেমে আসে। দুঃসহ বিষণ্ণতায় ভরে ওঠে তাঁর জীবন।
উদ্দীপকে প্রিয়জন হারানোর দিকটি ফুটে উঠেছে। প্রিয়জন দূরে চলে গেলেও হৃদয়ে তার স্মৃতিগুলোই আনাগোনা করতে থাকে। বারে বারে কেবল তার কথাই মনে পড়ে। ভুলতে চাইলেও ভুলে যাওয়া যায় না। 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির স্বামী মারা যাওয়ায় কবিমন শোকাচ্ছন্ন হয়েছে। ফলে বসন্তের সৌন্দর্য তাঁর হৃদয় স্পর্শ করে না। তাঁর ব্যক্তিজীবন ও কাব্যসাধনার ক্ষেত্রে নামে বিষাদের সুর। প্রিয়জনকে হারালে হৃদয়ের যে করুণ অবস্থা হয় তা উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতা উভয় ক্ষেত্রেই ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির মনোবেদনার ভাব প্রকাশ পেলেও প্রকৃতিঘনিষ্ঠ বর্ণনা অনুপস্থিত।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটিতে প্রকৃতি ও মানবমনের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ পেয়েছে। শীতের শেষে প্রকৃতিতে বসন্ত নেমে আসলেও কবিমন বসন্তের সেই আগমন টেরই পাননি। কারণ তাঁর প্রিয় স্বামীর মৃত্যু কবিকে নীরব করে দিয়েছে। কবিতায় প্রকৃতির সাথে মানবমনের ঘনিষ্ঠতা দারুণভাবে ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, প্রিয়জন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও তার স্মৃতি কখনো ভোলা যায় না। তার স্মৃতি বারে বারে ফিরে আসে। তার জন্য অন্ধকারে চোখ জলে ভিজে যায়।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবি স্বামীর মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন বলে বসন্ত তার সমস্ত সৌন্দর্য নিয়ে হাজির হওয়া সত্ত্বেও কবির অন্তর স্পর্শ করতে পারেনি। তাই বসন্তের মাঝেও উদাসীন কবির অন্তরজুড়ে থাকে রিক্ত শীতের করুণ বিদায়ের বেদনা। কবির জীবনের দুঃসহ বিষণ্ণতা প্রকৃতির সাথে তাঁর মনের সংযোগ ছিন্ন করেছে। এই যে কবির মনোবেদনার প্রকৃতি ঘনিষ্ঠরূপ তা উদ্দীপকে নেই। উদ্দীপকে রয়েছে বিরহবেদনার এক আবেগি বহিঃপ্রকাশ যেখানে প্রকৃতিঘনিষ্ঠতার দিকটি অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটির বিরহবেদনার ভাব অনেকাংশে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় প্রকাশ পেলেও কবির মনোবেদনার প্রকৃতিঘনিষ্ঠ ভাব সেখানে অনুপস্থিত।
Related Question
View Allকবি শীতকে মাঘের সন্ন্যাসীরূপে কল্পনা করেছেন
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!