মাইশা প্রাথমিক শৈশবকালে এবং সাইকা প্রাক শৈশবকালে অবস্থান করছে।
প্রাথমিক শৈশবকালের সময়সীমা ২ থেকে ৬ বছর। আর প্রাক শৈশবকালের সময়সীমা ২ সপ্তাহের পর থেকে ২ বছর পর্যন্ত। যেহেতু মাইশা এ বছরই স্কুলে ভর্তি হয়েছে তাই তার বয়স ৪ থেকে ৬ বছরের মধ্যে হবে। সেক্ষেত্রে সে প্রাথমিক শৈশবকালে অবস্থান করছে। আর সাইকা যেহেতু হামাগুড়ি দিতে শিখেছে তাহলে তার বয়স ২ বছরের মধ্যে হবে। সেক্ষেত্রে বলা যায় সাইকা প্রাক শৈশবকালে অবস্থান করছে।
মাইশা ও সাইকার বয়সের তুলনামূলক চিত্র নিয়ে দেওয়া হলো- এই সময়ে মাইশার বিকাশ ধীরগতিতে হবে। তার দেহ লম্বা, বুক ও কাঁধ চওড়া হবে। হাত ও পা লম্বা হবে। অস্থি, পেশি ও স্নায়ুতন্ত্র মবজুত হবে। অস্থি ও পেশি মজবুত হওয়ায় মাইশা হাঁটা, চলা, দৌড়ঝাঁপ, সাঁতার কাটা, খেলাধুলায় কৌশলী হবে। তার কৌতূহল ও অনুকরণ করার ইচ্ছা বৃদ্ধি পাবে। ভাষার ক্ষেত্রে দক্ষতা আসবে। অন্যদিকে সাইকা এ সময়ে দ্রুত বেড়ে উঠবে, ওজন বৃদ্ধি পাবে, হাড়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। এ সময় সাইকার দাঁতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। তার হাতের ব্যবহারে নিপুনতা আসবে। পা দিয়ে লাথি দিতে পারবে। আস্তে আস্তে কথা বলার চেষ্টা করবে। শক্ত খাবার খেতে শিখবে। সাইকা এই বয়সে স্নেহ মমতা প্রকাশ করা ছাড়াও হিংসা ও রাগ প্রকাশ করবে।
Related Question
View Allবর্ধন হচ্ছে দৈহিক কাঠামোগত পরিবর্তন, যা দৃশ্যমান এবং পরিমাপ করা যায়।
শিক্ষণ হচ্ছে আচরণের পরিবর্তন। পরিপক্বতা বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে এলেও এর সুষ্ঠু বিকাশের জন্য দরকার শিক্ষণ। তিনটি পদ্ধতির মাধ্যমে শিশুরা শিক্ষণ গ্রহণ করে। যথা- অনুকরণ, সনাক্তকরণ ও প্রশিক্ষণ।
বর্ধন বলতে দৈহিক আকার-আয়তনের পরিবর্তনকে বোঝায়। বিকাশ হলো দৈহিক আকার-আয়তনসহ পরিবর্তনশীল আচরণ, দক্ষতা, কার্যক্ষমতার পরিবর্তন। পরিমাণগত পরিবর্তন হলো বর্ধন আর গুণগত পরিবর্তন হলো বিকাশ। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বর্ধন চলে, আর বিকাশ জন্ম হতে মৃত্যু পর্যন্ত চলমান।
বর্ধনের পর্যায় ঊর্ধ্বমুখী। বিকাশ জীবনের এক এক পর্যায়ে এক এক রকমের হয়ে থাকে। বর্ধনের সীমারেখা থাকলেও বিকাশের নির্দিষ্ট সীমারেখা নেই। এ সকল আলোচনা হতে ছাত্ররা বুঝতে পারে যে বিকাশ ও বর্ধন একই ধরনের পরিবর্তন নয়। ক্লাসের শিক্ষকের আলোচনার পূর্বে ছাত্রদের ধারণা ছিল বর্ধন ও বিকাশ দুটি একই বিষয়। কিন্তু শিক্ষকের আলোচনা থেকে তারা বুঝতে পেরেছে দুটি ভিন্ন ধরনের পরিবর্তন।
বিকাশ একটি চলমান প্রক্রিয়া যা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত চলমান। নবজাতকের বয়স বাড়ার সাথে সাথে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এটি হলো তার গুণগত পরিবর্তন। বিকাশ একটি জটিল প্রক্রিয়া। পরিপক্বতা ও অভিজ্ঞতার ফলে বিকাশজনিত পরিবর্তন হয়।
বর্ধন ও বিকাশ পরস্পর সম্পর্কিত। জন্মের পর শিশু হাত-পা নিয়ে খেলে। পাঁচ বছরে সেই হাত দিয়ে ছবি আঁকে। দশ বছরে দক্ষতার সাথে হাত দিয়ে ক্রিকেট খেলে। এ গুণগত পরিবর্তন শিশুর বয়সের সাথে সাথে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পায়।
জীবনের প্রতিটি স্তরে বিকাশের ধারা নির্দিষ্ট হয়ে থাকে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট বয়সে কিছু নির্দিষ্ট বিকাশমূলক কার্যক্রম থাকে। যা কোনো মানুষের আচরণের স্বাভাবিকতা নির্দেশ করে। জীবনের শুরুতে বর্ধনের পাশাপাশি শারীরিক বিকাশ, বুদ্ধিবৃত্তীয় বিকাশ, সামাজিক ও সঞ্চালনমূলক বিকাশ, নৈতিক ও আবেগীয় বিকাশ চলতে থাকে। এই বিকাশগুলো জন্ম হতে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের মধ্যে চলমান। যার কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখা থাকে না। তাই শিক্ষকের উক্তিটি আমি যথার্থ বলে মনে করি।
শিশুদের মধ্যে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের কারণ বংশগতি ও পরিবেশ।
ব্যাবলিং বলতে অর্থহীন শব্দের পুনরাবৃত্তিকে বোঝায়। ২/৩ মাস বয়সে ব্যাবলিং জাতীয় শব্দের উৎপত্তি হয়। ৭/৮ মাস বয়সে শিশু কলকূজন, উদ্দেশ্যহীনভাবে শব্দ উচ্চারণ করে ও তা পুনরাবৃত্তি করে। যেমন- বা-বা, না-না ইত্যাদি শব্দ উচ্চারণ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!