তিতুমীরের মনে ইংরেজদের হাত থেকে এদেশকে মুক্ত করার চিন্তা এসেছিল ইংরেজ শাসকদের অন্যায় ও অত্যাচারের কারণে। তারা বিভিন্নভাবে এদেশের সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের শোষণ করত। জমিদাররাও ইংরেজদের সমর্থন করত। তিতুমীর চেয়েছিলেন এদেশের মানুষ যেন নিজের অধিকার ও সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারে। তাই তিনি জনগণকে সংগঠিত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের পথ বেছে নেন। গরিব কৃষকদের খাজনার জন্য অত্যাচার, চাষিদের নীলচাষে বাধ্য করা ইত্যাদি অন্যায় কর্মকাণ্ড, শোষণ, ও অত্যাচারের কারণে তিতুমীরের মনে এদেশকে ইংরেজদের শাসন থেকে মুক্ত করার চিন্তা এসেছিল।
দেশের কল্যাণের জন্য আমি এমন কিছু করতে চাই, যাতে আমার দেশ আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ হয়। আমি ভালোভাবে পড়াশোনা করে সৎ ও যোগ্য নাগরিক হয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখব। আমি সততা, পরিশ্রম ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করতে চাই। আমি গাছ লাগিয়ে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করতে চাই। কারণ- আমি পরিবেশকে সুস্থ রাখতে চাই। আমি দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে সাহায্য করতে চাই। এ কাজে দেশের নিয়ম মেনে চলব এবং সবাইকে সচেতন হতে উৎসাহ দেব। দেশের সম্পদ নষ্ট না করে সংরক্ষণ করব এবং তা কীভাবে বৃদ্ধি করা যায় সেই চেষ্টা করব। এভাবে আমার জ্ঞান, শ্রম ও ভালোবাসা দিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করতে চাই।
তিতুমীর ছিলেন ইংরেজদের অন্যায়-অত্যাচারের তীব্র বিরোধী। তিনি ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন। তিনি নিজে ডন-কুস্তি করতেন। তির ছোড়া শিখেছেন। তরবারি চালনা শিখেছেন। লাঠিখেলা করতেন। নিজেকে প্রস্তুত করার পর তিতুমীর তরুণ সমাজকে উদ্বুদ্ধ করে প্রশিক্ষণ দিতে আরম্ভকরেন। ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে তরুণদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্যই তিতুমীর বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেছিলেন।
তিতুমীরের সংগ্রাম ছিল ইংরেজদের, অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনগুলোর মধ্যে অন্যতম। ইংরেজদের অত্যাচার থেকে এদেশকে মুক্ত করার জন্য তিতুমীর নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি এদেশের সাধারণ মানুষ, কৃষক, তরুণদের উজ্জীবিত করেছিলেন। বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে সেখানে তিনি তরুণদের প্রশিক্ষণ দিতেন। তাঁর সংগ্রাম মানুষকে সাহস ও আত্মত্যাগের শিক্ষা দেয়। তাঁর নাম আজও বীরত্বের প্রতীক হয়েই আছে। তাই তিতুমীরের সংগ্রাম' বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি।
তিতুমীর ছোটোবেলা থেকেই দেশের মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলতেন। তিনি অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি দেখেন এ দেশের কৃষকদের ওপর ইংরেজরা ও জমিদাররা অন্যায় শোষণ করছে। কৃষকদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে খাজনা নেওয়া হচ্ছে। তখন তিনি কৃষকদের একত্র করেন এবং প্রতিবাদের ডাক দেন। তিনি খাজনা দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি কৃষকদের বলেন যে, সর জমি আমাদের। তাই লড়াই করে ইংরেজদের দেশ থেকে তাড়ানোর কথা বলেন। তিনি নীল চাষের বিরুদ্ধে কথা বলেন। কয়েকটি নীলকুঠি দখল করে নেন। কৃষকরা তাঁর নেতৃত্বে ইংরেজদের। বরুদ্ধে যুদ্ধ করে। তিনি শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছেন কৃষকদের অধিকারগ করার জন্য।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allতিতুমীরের জন্ম ১৭৮২ সালে।
তিতুমীর গ্রামের মাদ্রাসায় পড়াশোনা শুরু করেন। তিনি ডন-কুস্তি করতেন, লাঠিখেলা করতেন, তির ছোড়া শিখতেন, তরবারি চালনা শিখতেন। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতেন, ইংরেজদের হাত থেকে স্বাধীন হওয়ার কথা বলতেন। এজন্য তিতুমীর বাঁশের কেল্লা বানিয়ে তরুণদের সেখানে প্রশিক্ষণ দিতে লাগলেন। একপর্যায়ে তিতুমীর কয়েকটা নীলকুঠি দখল করে নিলেন। মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তিতুমীর বলেন- লড়ে যাও! দেশের জন্য লড়ে যাও!
ম্যাজিস্ট্রেট আলেকজান্ডারকে পাঠানো হয়েছিল তিতুমীরকে দমন করার জন্য।
নীলচাষিরা বিভিন্ন উপায়ে তাদের উপর অত্যাচারের প্রতিবাদ করেছিলেন। প্রথমত তারা দাবি তুলেছিলেন চাষিদের নীলচাষে বাধ্য করা যাবে না। এরপর তারা নীলচাষ করতে অস্বীকৃতি জানান। তারা জমিদার ও ইংরেজ নীলকরদের বিরুদ্ধে এক হয়ে আন্দোলন শুরু করেন। অনেক গ্রামে চাষিদের বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তারা বেশকিছু নীলকুঠি দখল করে নেন।
তিতুমীর হায়দারপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সৈয়দ বংশের সন্তান।
ছোটোবেলায় তিতুমীরের একবার কঠিন অসুখ করেছিল। তখন তাকে তেতো ওষুধ খেতে দেওয়া হয়। তার বাবা-মা ভেবেছিলেন সে তেতো ওষুধ খাবে না। কিন্তু সে তেতো ওষুধ সবই খায়। তেতো ওষুধ তার প্রিয় বলে বাবা তার নাম দেন তিতু বা তিতুমীর।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!