পারিবারিক নানা উত্থান-পতনের মধ্যে সুফিয়া কামাল স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছেন।
গঠনরীতির দিক থেকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি সংলাপনির্ভর হওয়ায় কবিতাটিকে নাটকীয় গুণসম্পন্ন কবিতা বলা হয়।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটিতে মূলত কবি ও কবিভক্তের মাঝে সংলাপের মধ্য দিয়ে নাটকীয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এ নাটকীয়তাই কবিতাটির লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য। উল্লিখিত চরিত্র দুটির কথোপকথনের মাধ্যমে কবিতাটির বিষয়বস্তুর বিস্তৃতি ও ক্রমবিকাশ ঘটেছে। এর মধ্য দিয়ে কবি হৃদয়ের নিগূঢ় ভাব এখানে নাটকীয়ভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এজন্য কবিতাটিকে নাটকীয় গুণসম্পন্ন বলা হয়।
উদ্দীপকের জয়নব 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির প্রতিনিধিত্ব করে।
'তাহারেই পড়ে মনে' করিতায় কবির স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে কবি ভেঙে পড়েন। তিনি কোনোভাবেই তাঁর স্বামীর কথা ভুলতে পারেন না। প্রকৃতির সৌন্দর্যও কবিমনে কোনো ছাপ ফেলতে পারে না। কবি সব সময় বেদনাতুর থাকেন বিরহে। বসন্ত প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য কবিমনকে আচ্ছন্ন করতে পারে না। কবির ব্যক্তিজীবনের দুঃখময় ছায়াপাত ঘটে কবিতায়।
উদ্দীপকে জয়নব চার বছর ধরে তার স্বামীর বাড়ি'ফিরে আসার প্রতীক্ষায় দিন গুণছে। বার্মার সামরিক জান্তা যখন তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয় তখন প্রাণভয়ে জয়নব ও তার পরিবারের বারোজন সদস্য বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করে। বছর চারেক আগে তার স্বামী অবৈধ পথে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমায়। অনেকে বলে সমুদ্রে ডুবে মরেছে কিন্তু জয়নব বিশ্বাস করে তার স্বামী ঠিকই ফিরে আসবে। অর্থাৎ জয়নব তার স্বামীকে কোনোভাবেই ভুলতে পারে না। যেটা 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির প্রতিনিধিত্ব করে। কারণ, কবিও তাঁর স্বামীকে ভুলতে পারেন না কোনোভাবেই।'
উদ্দীপকে ও 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতা উভয় ক্ষেত্রে তীব্র বিরহ বেদনা থাকলেও পটভূমি ভিন্ন বিধায় আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির ব্যক্তিজীবনের দুঃখময় ঘটনার ছায়াপাত ঘটেছে। যেখানে কবির সাহিত্য সাধনার প্রধান সহায়ক ও উৎসাহদাতা স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে কবির জীবনে প্রচন্ড রিক্ততা নেমে আসে। কবিমন আচ্ছন্ন হয়ে থাকে রিস্ততার হাহাকারে। কোনোভাবেই কবি কাব্যসাধনায় মনোযোগ দিতে পারে না। সব সময় শুধু স্বামীর কথা মনে পড়ে।
উদ্দীপকে দেখা যায় গৃহবধূ জয়নব দীর্ঘ চার বছর ধরে তার স্বামীর প্রতীক্ষায় বসে থাকে। চার বছর আগে তার স্বামী অবৈধ পথে মালয়েশিয়া পড়ি জমায়। অনেকে বলে তার স্বামী সাগরে ডুবে মরেছে, কেউ বলে জঙ্গলে পথ হারিয়েছে। জয়নব কোনো কথাই বিশ্বাস করে না। তার বিশ্বাস একদিন তার স্বামী ঠিকই ফিরে আসবে। এখানে জয়নবের স্বামীর প্রতি অসীম ভালোবাসা এবং একইসাথে তীব্র বিরহ বেদনা ফুটে উঠেছে।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবি তাঁর প্রিয়জনকে হারিয়ে কাতর হয়ে পড়েছেন। কোনো কিছুতেই তিনি কাব্যসাধনায় মনোনিবেশ করতে পারছেন না। কোনোভাবেই তাকে ভুলে থাকতে পারছেন না। রিক্ততার হাহাকারে তিনি তীব্র কষ্ট অনুভব করছেন। এমনকি কবি বসন্তবন্দন করবেন সেটাও বিরহ বেদনায় করতে পারছেন না। উদ্দীপকেও জয়নবের বিরহ বেদনা প্রকাশ পেয়েছে যা থেকে স্পষ্ট বলা যায়, প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার অন্তরালে রয়েছে তীব্র বিরহ বেদনা।
Related Question
View Allকবি শীতকে মাঘের সন্ন্যাসীরূপে কল্পনা করেছেন
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!