তরঙ্গ সঞ্চালনকারী কোনো কণা কোনো বিন্দু থেকে যাত্রা আরম্ভ করে আবার একই দিক থেকে সেই বিন্দুতে ফিরে এলে তাকে পূর্ণ স্পন্দন বলে
তরঙ্গের উপরস্থ কোনো কণার পর্যায়কাল বেশি হলে কম্পাঙ্কের কমে যাবে
হুকের সূত্রের কারণে সরল স্পন্দন গতি সৃষ্টি হয়
স্প্রিং-এর গতি স্পন্দন গতি
স্প্রিং ধ্রুবককে k দিয়ে প্রকাশ করা হয়
স্প্রিং এর উপর, প্রযুক্ত বল তার অবস্থানের সরণের সাথে সামানুপাতিক
বস্তুর ভর m, স্প্রিং ধ্রুবক k এবং অবস্থান x হলে আরোপিত বল F=-kx
স্প্রিং এর দোলনকালের গাণিতিক রূপ
দোলন কাল ও সুতার দৈর্ঘ্যের সম্পর্ক
দোলন কাল ও অভিকর্ষজ ত্বরণের সম্পর্ক
1 m লম্বা সুতা দিয়ে 10g ভরের পাথর ঝুলানো হলে দোলন কাল 2.0 s
প্রতিসেকেন্ডে পূর্ণ স্পন্দন সংখ্যাকে কম্পাঙ্ক বলে
কম্পাঙ্ক এবং দোলনকালের সম্পর্ক কম্পাঙ্ক= 1/দোলনকাল
সাম্যাবস্থা হতে উপরে বা নিচের সর্বোচ্চ দূরত্বকে বিস্তার বলে
যে কোনো মুহূর্তে বস্তুর সম্যক অবস্থানকে দশা বলে
সরল ছন্দিত তরঙ্গ দুই প্রকার
পানির কণার আন্দোলনের ফলে পানির কণাসমূহে যান্ত্রিক শক্তির সৃষ্টি হয়
একটা মাধ্যমের ভেতর দিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় শক্তি পাঠায় তরঙ্গ
তরঙ্গ সাধারণত দুই প্রকার
যান্ত্রিক তরঙ্গ চলাচলের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন
তরঙ্গ প্রকৃতপক্ষে শক্তি স্থানান্তর করে
স্প্রিং এ অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ উৎপন্ন হয়
তরঙ্গ পর্যাবৃত্ত আন্দোলন
প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও উপরিপাতন ঘটে তরঙ্গের
তরঙ্গের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য উপরিপাতন
অনুপ্রস্থ তরঙ্গের সর্বোচ্চ বিন্দুকে তরঙ্গ শীর্ষ বলে
শব্দ অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ
পুকুরের ঢেউ অনুপ্রস্থ তরঙ্গ
তরঙ্গ শীর্ষ এবং তরঙ্গ পাদ সৃষ্টি করে চলাচল করে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ
সংকোচন, প্রসারণের মাধ্যমে চলাচল করে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ
তরঙ্গের বিস্তার দ্বিগুণ করলে তীব্রতা চারগুণ
আলো বিদ্যুৎ চৌম্বক তরণ
তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের উপর নির্ভরশীল
বাতাসে শব্দের বেগ 330 ms-1
পানিতে শব্দের বেগ 1493 ms-1
তরঙ্গের শক্তি, বিস্তারের সাথে বর্গের সমানুপাতিক
তরঙ্গ দ্রুতি, কম্পাঙ্ক ও তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের সম্পর্ক
1 হার্জ সমান 1s-1
একই তরঙ্গ এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে গেলে কম্পাঙ্কের পরিবর্তন ঘটে না
তরঙ্গ একক সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গ বেগ বলে
পর পর দুটি সমদশার রৈখিক দূরত্বকে তরঙ্গদৈর্ঘ্য বলে
কম্পাঙ্ক এবং তরঙ্গদৈর্ঘ্যের গুণফল তরঙ্গ বেগ হবে
তরঙ্গদৈর্ঘ্যের গাণিতিক রূপ
তরঙ্গ বেগের একক ms -1
নির্দিষ্ট দিকে তরঙ্গের 5s এ 50m সরণ হলে বেগ 10 ms -1
একটি পূর্ণ স্পন্দনের সময়কে পর্যায়কাল বলে
পর্যায়কালের একক সেকেন্ড
একটি তরঙ্গ 5 সেকেন্ডে 50টি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করলে পর্যায়কাল 0.1 s
কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো স্পন্দন সম্পূর্ণ করে তাকে কম্পাঙ্ক বলে
কম্পাঙ্কের একক হার্জ (Hz)
5 s এ 100 টি স্পন্দন সম্পন্ন করলে কম্পাঙ্ক 20 Hz
তরঙ্গদৈর্ঘ্যের একক মিটার
তরঙ্গ এক মিনিটে 1200টি স্পন্দন সম্পূর্ণ করলে কম্পাঙ্ক 20 Hz
তরঙ্গের পর্যায়কাল 5 s হলে কম্পাঙ্ক 0.2 Hz
50 Hz কম্পাঙ্কের পর্যায়কাল 0.02 s
বায়ুতে শব্দের বেগ 335 ms -1 এবং কম্পাঙ্ক 100 Hz হলে তরঙ্গদৈর্ঘ্য 3.35 m
কোনো নির্দিষ্ট মাধ্যমে তরঙ্গের বেগ বাড়লে তরঙ্গদৈর্ঘ্যের হ্রাস পাবে
দুটি সুরশলাকার কম্পাঙ্কের অনুপাত 2 : 3। প্রথমটির কম্পাঙ্ক 80 Hz. হলে দ্বিতীয়টির কম্পাঙ্ক 120 Hz
1m তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট তরঙ্গের বেগ কম্পাঙ্কের সমান
300 Hz. কম্পাঙ্কের তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বায়ুতে 1.13 m হলে বেগ 339 ms-1
শব্দেতর কম্পনের সীমা 20 Hz থেকে কম
বায়ু মাধ্যমে শব্দ উৎস থেকে চারদিকে সঞ্চালিত হয়
শব্দ তৈরির জন্য উৎস প্রয়োজন
শব্দ চলাচলের জন্য মাধ্যম প্রয়োজন
শব্দ গ্রহণের জন্য রিসিভার দরকার
শব্দ এক প্রকার শক্তি
ভোকাল কর্ডের কম্পনের ফলে শব্দ তৈরি হয়
পুরুষের গলার স্বর মোটা
নারী এবং শিশুদের গলার স্বর তীক্ষ্ণ
মানুষের গলায় শব্দ তৈরির জন্য স্বরযন্ত্র রয়েছে
স্পীকারে শব্দ তৈরির জন্য ডায়াফ্রাম রয়েছে
ল্যাবরেটরিতে সুরশলাকা মাধ্যমে নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি হয়
শ্রাব্যতার সীমা 20 Hz হতে 20,000 Hz
20 Hz অপেক্ষা কম কম্পাঙ্কের শব্দকে ইনফ্রাসাউন্ড বলে
20 kHz এর বেশি কম্পাঙ্কের শব্দকে আলট্রাসাউন্ড বলে
শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য
শব্দের বেগ কঠিন মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি
শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপর নির্ভর করে
আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে শব্দকে আলোক শক্তিতে রূপান্তর করা হয়
প্রতিধ্বনি সৃষ্টির কারণ প্রতিফলন
শব্দানুভূতির স্থায়িত্ব কাল 0.1 s
প্রতিধ্বনি শোনার জন্য উৎস এবং প্রতিফলনের ন্যূনতম দূরত্ব 16.5 m
শব্দের প্রয়োগে অন্ধকারে চলে বাদুড়
বাদুড়ের শ্রাব্যতার ঊর্ধ্বসীমা প্রায় 100 kHz
100 kHz সমান 100000 Hz
0° C তাপমাত্রায় 0.1 সেকেন্ডে বাতাসে শব্দ 33 m দূরত্ব অতিক্রম করে
বাতাসে প্রতিধ্বনি শুনতে হলে শব্দকে ন্যূনতম 33.0 m অতিক্রম করতে হয়
লোহাতে শব্দের দ্রুতি পানিতে শব্দের দ্রুতির 3.6 গুণ
প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য বায়ুতে শব্দের বেগ প্রায় 0.6 ms-1 বৃদ্ধি পায়
পারদে শব্দের বেগ 1450ms-1
পানিতে শব্দের বেগ পারদে শব্দের বেগ অপেক্ষা 43 ms-1 বেশি
হীরা এবং বাতাসে শব্দের বেগের অনুপাত 400 : 11
বাতাসে শব্দের বেগ তাপমাত্রার সাথে বর্গমূলের সমানুপাতিক
বাতাসে শব্দের বেগ ঘনত্বের সাথে বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক
শব্দের বেগের সাথে বাতাসের চাপের সম্পর্ক নেই
শব্দ যান্ত্রিক তরঙ্গ
শূন্য মাধ্যমে 100° C তাপমাত্রায় শব্দের বেগ 0 ms-1
শীতকাল অপেক্ষা গ্রীষ্মকালে শব্দের বেগে বৃদ্ধি পায়
30° তাপমাত্রায় বায়ুতে শব্দের বেগ 347.65 ms-1
শব্দের বেগ 350.516 ms-1 হলে ঐ দিনের তাপমাত্রা 35° C
মাটির নিচে বিস্ফোরণের প্রতিফলিত শব্দের তরঙ্গ জিওফোন দ্বারা নির্ণয় করা হয়
মায়ের গর্ভের সন্তান দেখার জন্য আলট্রাসনোগ্রাফি ব্যবহৃত হয়
গ্যাস এবং তেল অনুসন্ধানে সিসমিক সার্ভে ব্যবহৃত হয়
ভূগর্ভের খনিজ পদার্থের সন্ধানে প্রতিধ্বনি ব্যবহৃত হয়
সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি পরিষ্কারে আলট্রাসাউন্ড ক্লিনার ব্যবহৃত হয়
একটি সুরেলা শব্দ কতটা জোরে হচ্ছে তা তীব্রতা থেকে বোঝা যায়
খাদের সুর ও চড়া সুরের মধ্যে পার্থক্য বোঝা যায় তীক্ষ্মতা দ্বারা
শব্দের তীব্রতার একক Wm-2
শব্দের তীক্ষ্ণতার একক Hz
একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে যে পরিমাণ শব্দশক্তি যায় তাকে শব্দের তীব্রতা বলে
ভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের দুটি শব্দের পার্থক্য টিম্বার
একতারা তার দিয়ে তৈরি বাদ্যযন্ত্র
আঘাত দিয়ে শব্দ তৈরির বাদ্যযন্ত্রের উদাহরণ তবলা
হারমোনিয়ামে বাতাসের প্রবাহ দিয়ে শব্দ তৈরি হয়
ট্রাফিক শব্দের পরিমাণ 80-90 ডেসিবেল
নিঃশ্বাসের শব্দের পরিমাণ 10 dB
শব্দ সহনীয় মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে শব্দ দূষণ হয়
মশার পাখার শব্দের পরিমাণ 0 dB
আমরা জানি, শব্দ এক প্রকার তরঙ্গ। যদি এটা দেখানো যায় যে, শব্দ শক্তিকে স্থানান্তরিত করতে পারে তবেই দেখানো হবে যে, তরঙ্গ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় শক্তিকে নিতে-পারে-
রেলগাড়ির হর্ন বাজলে আমরা আশেপাশের স্থাপনাকে প্রকম্পিত হতে দেখি। শব্দ তৈরির জন্য হর্নের কম্পন বাতাসের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে স্থাপনায় গিয়ে ধাক্কা দেয় ফলে তা প্রকম্পিত হয়। এই প্রকম্পনের জন্য যেহেতু শক্তির প্রয়োজন সেহেতু বলা যায় শক্তি হর্ন থেকে স্থাপনা পর্যন্ত শব্দ তরঙ্গের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়েছে। অন্যান্য অগ্রগামী তরঙ্গের ক্ষেত্রেও অনুরূপ ঘটনা ঘটে।
আমরা জানি, কম্পনের ফলে শব্দ তৈরি হয়। শিস দিলে মুখছিদ্রের অগ্রভাগে বাতাসের জোরালো কম্পন সৃষ্টি হয়। এ সময় বাতাস বিভিন্ন জায়গায় বাধা প্রাপ্ত হয়ে শব্দ তরঙ্গ আকারে ছড়িয়ে পড়ে যা আমাদের কানে আসার ফলে শব্দ হয়।
সত্য। তরঙ্গ প্রবাহিত হওয়ার সময় মাধ্যমের কণাগুলো এদের নিজ নিজ অবস্থানে থেকে সরল ছন্দিত স্পন্দনে স্পন্দিত হয়ে। এক কণা তার পাশের কণায় শক্তি সঞ্চালিত করে।
বজ্রপাতের সময় বায়ুর হঠাৎ প্রসারণে জোরালো প্রকম্পন সৃষ্টি হয় বলে তখন শব্দ সৃষ্টি হয়। তাছাড়া যখন বজ্রপাত হয় তখন সেখানে হঠাৎ করে তাপমাত্রা ও চাপ বেড়ে যায় এবং সেখানে বায়ু হঠাৎ দ্রুত প্রসারিত হয়ে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি করে এবং জোড়ালো শব্দ শোনা যায়।
আমরা জানি, বাদুড় প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে পথ চলে। শব্দের তীব্রতা যত বেশি হয় তার প্রতিধ্বনি তত স্পষ্ট হয়। আল্ট্রাসাউন্ড এর কম্পাঙ্ক অনেক বেশি বলে এর তীব্রতা অনেক বেশি ফলে আলট্রাসাউন্ড তৈরি করে বাদুড়ের পথ চলা সহজ। কিন্তু ইনফ্রা সাউন্ড এর কম্পাঙ্ক অনেক কম তাই তীব্রতাও অনেক কম ফলে প্রতিধ্বনি স্পষ্ট নয়। অতএব ওড়ার সময় বাদুড় আল্ট্রাসাউন্ড তৈরি না করে ইনফ্রা সাউন্ড তৈরি করলে প্রতিধ্বনি স্পষ্ট হতো না বলে বাদুড়ের পথ চলতে সমস্যা হতো।
যদি কোনো বস্তুকণা পর্যায়কালের অর্ধেক সময় নির্দিষ্ট দিকে এবং বাকি অর্ধেক সময় বিপরীত দিকে চলে তবে তার গতিকে স্পন্দন গতি বলে। হুকের সূত্রের কারণে যে স্পন্দন গতি হয় তাকে সরল স্পন্দন গতি বলে। সরল স্পন্দন পতিতে গতিশীল কণার শক্তি গতিশক্তি ও স্থিতিশক্তির মাঝে আদান-প্রদান হয়।
কোনো স্প্রিংয়ের স্প্রিং বল, স্প্রিংয়ের মুক্ত প্রান্তের সরণের সমানুপাতিক ও বিপরীত হয়। যদি স্প্রিং বল F ও স্প্রিংয়ের মুক্ত প্রান্তের সরণ x হয় তবে,
এখানে, k হলো স্প্রিং ধ্রুবক।
কোনো স্প্রিংয়ের মুক্ত প্রান্তের একক সরণের জন্য স্প্রিংয়ের উপর যে পরিমাণ বল প্রয়োগ করতে হয় তাকে ঐ স্প্রিংয়ের স্প্রিং ধ্রুবক বলে। একে k দ্বারা প্রকাশ করা হয়। স্প্রিং ধ্রুবক এর একক Nm-1
কোনো স্প্রিংয়ের মুক্ত প্রান্তের একক সরণের জন্য স্প্রিংয়ের উপর যে পরিমাণ বল প্রয়োগ করতে হয় তাকে ঐ স্প্রিংয়ের স্প্রিং ধ্রুবক বলে। কোনো স্প্রিংয়ের স্প্রিং ধ্রুবক 500 Nm-1 বলতে বুঝায় ঐ স্প্রিংয়ের মুক্ত প্রান্তকে। প্রসারিত বা সংকুচিত করতে 500 N বলের প্রয়োজন হয়।
এখানে,
পেন্ডুলামের কার্যকরী দৈর্ঘ্য, l= 1 m
পেন্ডুলামের দোলনকাল, T = ?
অভিকর্ষজ ত্বরণ, g = 9.8 ms-2
আমরা জানি,
আমরা জানি, সরলদোলকের দোলনকাল তার কার্যকরী দৈর্ঘ্যের বর্গমূলের সমানুপাতিক। সুতরাং সরলদোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য 4 গুণ করলে তার দোলনকাল দ্বিগুণ হবে।
আমরা জানি, স্প্রিংয়ের পর্যায়কাল, স্প্রিংয়ে সংযুক্ত ভরের বর্গমূলের সমানুপাতিক। সুতরাং স্প্রিংয়ে পূর্বের তুলনায় 9 গুণ ভর সংযুক্ত করলে তার পর্যায়কাল পূর্বের তুলনায় ও গুণ হবে।
আমরা জানি, সরলদোলকের দোলনকাল,
এখানে, । হলো সরলদোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য ও ৪ হলো অভিকর্ষজ ত্বরণ। অতএব, সরলদোলকের দোলনকাল ঝুলন্ত বস্তুর ভরের উপর নির্ভর করে না বলে ঝুলন্ত বস্তুর ভর পরিবর্তন করলেও দোলনকাল একই থাকে।
টিউনিং ফর্কের স্পন্দন গতিসম্পন্ন কণার গতিপথ সরলরৈখিক হয় এবং এর ত্বরণ সাম্য অবস্থান হতে এর সরণের সমানুপাতিক হয়। এছাড়া এর দিক সর্বদা সাম্যাবস্থান অভিমুখী হয় বলে একে ছন্দিত গতি বলা হয়।
ঘড়ির কাঁটা গতিপথের নির্দিষ্ট কোনো বিন্দুকে নির্দিষ্ট সময় পরপর (60 s, 1 hours, 12 hour) একই দিক থেকে অতিক্রম করে। তাই ঘড়ির কাঁটার গতি পর্যাবৃত্ত গতি। স্পন্দন গতির ক্ষেত্রে বস্তু পর্যায়কালের অর্ধেক সময় এক দিকে এবং বাকি অর্ধেক সময় পূর্বগতির বিপরীত দিকে চলে। যেহেতু ঘড়ির কাঁটা এর পর্যায়কালের পুরো সময় একই কৌণিক দিকে ঘোরে, সেহেতু এর গতি স্পন্দন গতি নয়। স্পন্দন গতি সম্পন্ন কণার গতিপথ খোলা সরল বা বক্ররেখা হয়, কিন্তু ঘড়ির কাঁটার গতিপথ বৃত্তাকার যা বন্ধ বক্ররেখা। অতএব, বলা যায় যে, ঘড়ির কাঁটার গতি পর্যাবৃত্ত গতি হলেও স্পন্দন গতি নয়।
কোনো স্প্রিংয়ের নিচে একটা ভর ঝুলিয়ে দিলে ভরটা স্প্রিংটাকে টেনে একটু লম্বা করে সেই অবস্থানে স্থির হয়ে থাকে। স্প্রিংয়ের এই অবস্থাটাকে বলা যায় সাম্যাবস্থা।
সরল স্পন্দিত গতিতে সাম্যাবস্থা থেকে উপরে বা নিচের দিকে সর্বোচ্চ যে সরণ হয় তাকে বিস্তার বলে। স্প্রিংয়ের ক্ষেত্রে স্প্রিংকে তার সাম্যাবস্থা হতে যতটুকু সংকুচিত বা প্রসারিত করে ছেড়ে দেওয়া হয় সেটিই স্প্রিংয়ের বিস্তার।
সরল স্পন্দন গতিসম্পন্ন কণার গতির অবস্থাকে দশা বলে। স্প্রিংয়ে লাগানো ভরটি যখন ওঠানামা করে তখন কোনো এক মুহূর্তে ভরটি সাম্যাবস্থা থেকে কোনো একটি দূরত্বে কোনো এক দিকে ধাবমান হয়, সেই অবস্থাটি হচ্ছে তার দশা।
কোনো একটি রাশির মানের বিচ্যুতি বা আন্দোলন যদি সময়ের সাথে স্থানান্তরিত হয়, তবে সেই বিচ্যুতি বা আন্দোলনকে বলা হয় তরঙ্গ। একটি একক আন্দোলন একটি তরঙ্গ তৈরি করতে পারে। আবার পরপর আন্দোলনের পুনরাবৃত্তিতেও তরঙ্গ তৈরি হতে পারে; সেক্ষেত্রে একে বলা হয় তরঙ্গদল।
যেসব তরঙ্গ প্রবাহের জন্য বায়বীয়, তরল বা কঠিন কোনো মাধ্যমের প্রয়োজন হয়, তাদের বলা হয় যান্ত্রিক তরঙ্গ। এসব তরঙ্গের ক্ষেত্রে মাধ্যমের কণাগুলো তরঙ্গ প্রবাহে অংশগ্রহণ করে। শব্দ, পানির ঢেউ এগুলো হলো যান্ত্রিক তরঙ্গের উদাহরণ।
যেসব তরঙ্গ প্রবাহের জন্য কোনো মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না তাদের বলা হয় তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র ও চৌম্বকক্ষেত্রের পর্যায়বৃত্ত আন্দোলনই হলো তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। আলো, গামা রশ্মি, মাইক্রোওয়েভ এগুলো তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গের উদাহরণ।
যেসব তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয় তাদেরকে যান্ত্রিক তরঙ্গ বলে। পানির ঢেউ সঞ্চালনের জন্য তরল মাধ্যমের প্রয়োজন হয় বলে পানির ঢেউ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ।
যেসব তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য কোনো মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না তাদেরকে তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ বলা হয়। আলো হলো বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র ও চৌম্বকক্ষেত্রের পর্যাবৃত্ত আন্দোলন। তাই আলো সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না। এজন্য আলো তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ।
যেসব তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয় তাদেরকে যান্ত্রিক তরঙ্গ বলে। মাধ্যমের কণাগুলোর সরল স্পন্দন গতিতে কম্পনের কারণে শব্দ সঞ্চালিত হয়। শব্দ সঞ্চালিত হওয়ার জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয় বলে শব্দকে একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ বলা হয়।
তরঙ্গের বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
১. মাধ্যমের কণাগুলোর সরল স্পন্দন গতির কারণে তরঙ্গ মাধ্যমের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
২. তরঙ্গ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চালিত করে।
৩. তরঙ্গের বেগ আছে।
৪. তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ, উপরিপাতন ঘটে।
আমরা জানি তরঙ্গের মাধ্যমে প্রবাহিত শক্তি তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। সুতরাং, তরঙ্গের বিস্তার দ্বিগুণ করা হলে তার মাধ্যমে প্রবাহিত শক্তি চারগুণ হবে।
এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে যাওয়ার সময় তরঙ্গের খানিকটা বা সবটা প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসার ঘটনাকে বলে প্রতিফলন। আবার, তরঙ্গ প্রথম মাধ্যম থেকে দ্বিতীয় মাধ্যমে প্রবেশ করার ঘটনাকে বলে প্রতিসরণ।
যে তরঙ্গ কম্পনের দিকের সাথে সমান্তরালে অগ্রসর হয় তাকে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলে। স্প্রিংয়ের সংকোচন-প্রসারণ একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।

যে তরঙ্গে মাধ্যমের কণাগুলো তরঙ্গ সঞ্চালনের সমান্তরালে কাঁপতে থাকে তাকে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলে। স্প্রিংয়ের ক্ষেত্রে তরঙ্গ স্প্রিংয়ের দৈর্ঘ্য বরাবর সঞ্চালিত হয়, স্প্রিংটিও এর দৈর্ঘ্য বরাবর কাঁপতে থাকে। অতএব, সংজ্ঞানুসারে স্প্রিংয়ের তরঙ্গ অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।
যে তরঙ্গ কম্পনের দিকের সাথে সমান্তরালে অগ্রসর হয় তাকে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলে। শব্দ যখন মাধ্যমের ভেতর দিয়ে অগ্রসর হয় তখন সেটি মাধ্যমের কণাগুলোকে সংকুচিত ও প্রসারিত করে অগ্রসর হয়। এজন্য শব্দ সঞ্চালনের দিক ও কম্পনের দিক সমান্তরাল হয়। তাই শব্দ একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।
অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গের দুটি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
১. কম্পনের দিক ও তরঙ্গ সঞ্চালনের দিক সমান্তরাল হয়।
২. সংকোচন ও প্রসারণ সৃষ্টি হয়।
বাঁশি থেকে শব্দ উৎপন্ন হয়ে মাধ্যমের কণাগুলোর সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে গতির অভিমুখে সমান্তরালে অগ্রসর হয়। এখানে কোনো তরঙ্গ শীর্ষ বা তরঙ্গ পাদ উৎপন্ন হয় না। সংকোচনের স্থানগুলোতে মাধ্যমের ঘনত্ব ও চাপ বেশি থাকে এবং প্রসারণগুলোতে চাপ ও ঘনত্ব কম থাকে।
তাই বাঁশির শব্দ তরঙ্গ অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।
যে তরঙ্গ কম্পনের দিকের সাথে লম্বভাবে অগ্রসর হয় তাকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে। পানির ঢেউ একটি অনুপ্রস্থ তরঙ্গ।
অনুপ্রস্থ তরঙ্গের দুটি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
১. কম্পনের দিক ও তরঙ্গ সঞ্চালনের দিক পরস্পর লম্ব।
২. তরঙ্গশীর্ষ ও তরঙ্গ পাদের সৃষ্টি হয়।
যে তরঙ্গ কম্পনের দিকের সাথে লম্বভাবে অগ্রসর হয় তাকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে। পানির ঢেউ যখন সামনের দিকে অগ্রসর হয় তখন পানির কণাগুলো নিজ স্থান থেকে উপর-নিচ হতে থাকে।
মাধ্যমের কণাগুলো তরঙ্গ গতির অভিমুখের সমকোণে কম্পিত হতে থাকলে সেই তরঙ্গকে আড় তরঙ্গ বা অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে। আলোর কণার কম্পনের দিক তরঙ্গের গতির দিকের সাথে আড়াআড়ি বা প্রস্থ বরাবর। অর্থাৎ আলোর তরঙ্গ কম্পনের দিকের সাথে লম্বভাবে অগ্রসর হয়। এজন্য আলো একটি অনুপ্রস্থ তরঙ্গ।
অনুপ্রস্থ ও অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গের মধ্যে দুটি পার্থক্য নিম্নরূপ:
| অনুপ্রস্থ তরঙ্গ | অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ |
| ১. কম্পনের দিক ও তরঙ্গ সঞ্চালনের দিক পরস্পর লম্ব | ১. কম্পনের দিক ও তরঙ্গ সঞ্চালনের দিক পরস্পর সমান্তরাল। |
| ২. তরঙ্গশীর্ষ ও তরঙ্গ পাদের সৃষ্টি হয়। | ২. . সংকোচন ও প্রসারণ সৃষ্টি হয়। |
তরঙ্গের উপরিপাতন ব্যবহার করে নয়েস ক্যান্সেলিং হেডফোন কাজ করে। নয়েস ক্যান্সেলিং হেডফোনের কাছে বাইরের নয়েস পৌছালে এটি ঠিক বিপরীত ধর্মী তরঙ্গ উৎপন্ন করে ছড়িয়ে দেয়। ফলে এই পরস্পর বিপরীতধর্মী তরঙ্গের উপরিপাতনের ফলে সে' নয়েস আর হেডফোনের ভিতরে পৌছায় না, আগেই নিঃশেষ হয়ে যায়। এভাবে নয়েস-ক্যান্সেলিং হেডফোন কাজ করে।
তরঙ্গের যেকোনো একটি দশা থেকে তার পরবর্তী একই দশার মাঝে দূরত্ব হচ্ছে তার তরঙ্গদৈর্ঘ্য। অর্থাৎ এক পর্যায়কালে একটি তরঙ্গ যেটুকু দূরত্ব অতিক্রম করে সেটাই হচ্ছে তরঙ্গদৈর্ঘ্য। একে ল্যামডা () দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
কোনো তরঙ্গস্থিত কণা একক সময়ে যতগুলো পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করে সেই সংখ্যাকে তরঙ্গের কম্পাঙ্ক বলে। একে f দ্বারা প্রকাশ করা হয়। কম্পাঙ্কের একক হার্টজ (Hz) বা s-1
কোনো তরঙ্গস্থিত কণা একক সময়ে যতটুকু দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে ঐ তরঙ্গের বেগ বলে। যদি কোনো তরঙ্গের কম্পাঙ্ক f এবং তরঙ্গদৈর্ঘ্য হয় তবে ঐ তরঙ্গের বেগ হবে: v=
তরঙ্গ যখন এক মাধ্যম হতে অন্য মাধ্যমে প্রবেশ করে তখন তার কম্পাঙ্ক অপরিবর্তিত থাকে। কিন্তু তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের উপর নির্ভর করে। আমরা জানি, । তাই তরঙ্গ এক মাধ্যম হতে অন্য মাধ্যমে প্রবেশ করলে f স্থির ও v পরিবর্তিত হওয়ার কারণে তরঙ্গদৈর্ঘ্য পরিবর্তিত হয়।
শব্দ এক প্রকার তরঙ্গ। কারণ- তরঙ্গের বৈশিষ্ট্যগুলো শব্দের মধ্যে রয়েছে। মাধ্যমের কণাগুলোর পর্যাবৃত্ত কম্পনের ফলে শব্দ সঞ্চালিত হয়। শব্দ একস্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চালিত করে।
পদার্থের কণাসমূহের কম্পনের কারণেই শব্দ উৎপন্ন হয়। তাই কোনো পদার্থকে আঘাত করলে শব্দ উৎপন্ন হয়। আমাদের ভোকাল কর্ডের কম্পনের কারণেই আমরা শব্দ সৃষ্টি করতে পারি।
আমরা জানি, মানুষ ভোকাল কর্ডকে কাঁপিয়ে শব্দ তৈরি করে। বয়সের সাথে সাথে পুরুষের ভোকাল কর্ড শক্ত হয়ে যায়, নারীদেরটি কোমল থাকে। সেজন্য পুরুষেরা কম কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি করে মেয়েরা বেশি কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি করে। সে কারণে পুরুষের গলার স্বর মোটা, নারীর স্বর তীক্ষ্ণ।
শিস দিলে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয় বলে শব্দ হয়। শিস দেওয়ার সময় মুখকে গোল করে বাতাস বাইরের থেকে ভেতরের দিকে প্রবাহিত করতে বা ভেতর থেকে বাইরে প্রবাহিত করতে ব্যয়িত যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এ কারণে শিস দিলে শব্দ হয়।
টিনের বাটি মেঝেতে আঘাত করলে এর অণুগুলো কম্পিত হয়ে শব্দ সৃষ্টি করে। এই শব্দ কম্পন এর চারপাশের বায়ুস্তন্ডকে সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে আন্দোলিত করে। এই আন্দোলন আমাদের কানে এসে পৌছলে আমরা শব্দ শুনতে পাই।
শব্দ হলো এক ধরনের তরঙ্গ। এটি সঞ্চালণের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। মাধ্যমের কণাগুলোর সরল স্পন্দন গতিতে কম্পনের কারণে শব্দ একস্থান হতে অন্যস্থানে সঞ্চালিত হয়।
শব্দ তৈরির কয়েকটি উপায় নিম্নরূপ:
১. কোনো কিছুকে আঘাত করে।
২. টানটান তারে টোকা দিয়ে।
৩. বাঁশিতে ফুঁ দিয়ে।
৪. ভোকাল কর্ড কাপিয়ে।
আমরা মানুষ সকল কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পাই না। আমরা 20 Hz থেকে 20000 Hz কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পাই। শব্দের এই সীমাকে শ্রাব্যতার সীমা বলে।
যদি কোনো উৎপন্ন শব্দের কম্পাঙ্ক 20 Hz থেকে কম হয় তবে তাকে শব্দেতর শব্দ বা ইনফ্রাসাউন্ড বলে। এই শব্দকে আমরা শুনতে পাই না। কিছু পশু-পাখি সেই শব্দেতর শব্দ শুনতে পায়। যেমন- হাতি।
যে সকল শব্দের কম্পাঙ্ক 20000 Hz থেকে বেশি সে সকল শব্দকে শব্দোত্তর শব্দ বলে। এই শব্দোত্তর শব্দ আমরা শুনতে পাই না। কিন্তু কিছু পশু-পাশি আছে যারা এই শব্দ শুনতে পায়। যেমন-বাদুড়।
মানুষের শ্রাব্যতার সীমা 20 Hz থেকে 20000 Hz। অর্থাৎ কোনো শব্দ শুনতে হলে তার কম্পাঙ্ক 20 Hz থেকে 20000 Hz এর মধ্যে হতে হবে। তাই কম্পন হলেও কম্পাঙ্ক যদি 20 Hz এর কম বা 20000 Hz এর বেশি হয় তাহলে সেই শব্দ মানুষ শুনতে পায় না।
আমরা জানি, আমাদের শ্রাব্যতার সীমা 20 Hz থেকে 20000 Hz। সে কারণে আমরা 20 Hz থেকে 20000 Hz কম্পাঙ্কের শব্দকে শুনতে পাই। 20 Hz থেকে কম বা 20000 Hz থেকে বেশি কম্পাঙ্কের শব্দ আমরা শুনতে পাই না। তাই আমরা সকল শব্দ শুনতে পাই না।
বায়ুস্তরের সংকোচন ও প্রসারণের ফলে শব্দ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয়। আমরা যখন কথা বলতে শুরু করি তখন এর আন্দোলনের ফলে সামনের বায়ুস্তরের উপর চাপ পড়ে এবং বায়ুস্তর সংকুচিত হয়। আবার যখন শব্দ থামিয়ে দেই তখন বায়ুস্তরের উপর চাপ কমে যাওয়ায় স্তরগুলো মুখের দিকে ফিরে আসে, এভাবে সংকোচন ও প্রসারণ দ্বারা সৃষ্ট অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বায়ু মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়ে আমাদের শব্দ অন্যের কাছে পৌঁছায়।
5 Hz এবং 50 Hz এর কম্পাঙ্কের দুইটি শব্দের মধ্যে 50 Hz দ্বারা শব্দ দূষণ হওয়া সম্ভব। মানুষের শ্রাবতার পাল্লা হলো 20 Hz থেকে 20000 Hz: 20 Hz এর কম হওয়ায় 5 Hz এর শব্দ মানুষ শুনতে পারে না। অন্যদিকে 50 Hz, 20 Hz থেকে বেশি হওয়ায় শব্দ দূষণ হওয়া সম্ভব।
শব্দের প্রতিধ্বনির মাধ্যমে বাদুর পথ চলে। বাদুড় শব্দোত্তর কম্পাঙ্কের শব্দ উৎপন্ন করে এবং তা শুনতেও পায়। শিকার অনুসন্ধান করার সময় বাদুর শব্দোত্তর কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি করে যা শিকারের শরীরে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে আবার বাদুড়ের কাছে প্রতিধ্বনি হিসেবে ফিরে আসে। ফলে বাদুড় শিকারের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। এভাবে বাদুড় শিকারটির অনুসন্ধান করে।
যেসব শব্দের কম্পাঙ্ক 20,000 Hz এর বেশি হয় তাকে শব্দোত্তর কম্পন বলে। এর তিনটি ব্যবহার নিম্নে উল্লেখ করা হলো-
i. শব্দোত্তর কম্পাঙ্কের শব্দ ব্যবহার করে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা যায়।
ii. আলট্রাসনোগ্রাফিতে শব্দোত্তর কম্পন ব্যবহার করে রোগ নির্ণয় করা যায়।
iii. দাঁতের স্কেলিং এর জন্য শব্দোত্তর কম্পন ব্যবহার করা হয়।
আমরা জানি, শব্দের তীব্রতা, তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। সুতরাং শব্দের বিস্তার দ্বিগুণ করলে তার তীব্রতা চারগুণ হবে।
শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
১. শব্দ একটি যান্ত্রিক ও অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।
২. শব্দের বেগ মাধ্যমের উপর নির্ভর করে।
৩. শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে।
৪. শব্দের প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও উপরিপাতন হতে পারে।
আমরা জানি, শব্দ এক ধরনের তরঙ্গ। তাই শব্দের প্রতিফলন হতে পারে। শব্দ যখন কোনো প্রতিবন্ধকে বাধা পেয়ে পুনরায় ফিরে আসে তখন তাকে প্রতিধ্বনি বলে।
আমরা যখন কোনো শব্দ শুনি সেই শব্দ আমাদের মস্তিষ্কে 0.1 sec যাবৎ থেকে যায়। এই সময়ের মধ্যে অন্য কোনো শব্দ আমাদের কানে আসলে আমরা শুনতে পাই না। তাই এই 0.1 sec সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়ীত্বকাল বলা হয়।
আমরা জানি, আমাদরে শব্দানুভূতির স্থায়ীত্বকাল 0.1 sec। সে কারণে দুটি শব্দ কানে আসার মধ্যবর্তী ব্যবধান 0.1 sec এর থেকে কম হলে আমরা দ্বিতীয় শব্দ শুনতে পাব না। যদি উৎপন্ন শব্দ শোনায় 0.1 sec এর চেয়ে কম সময়ে প্রতিফলিত শব্দ কানে আসে তাহলে সেটি শোনা যাবে না। তাই আমরা সবসময় প্রতিধ্বনি শুনতে পাই না।
প্রতিধ্বনি শোনার শর্ত:
১. মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনিত শব্দের মধ্যবর্তী সময় ব্যবধান নূন্যতম 0.1 s হতে হবে।
২. শব্দের উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যবর্তী দূদ্রত্ব নূন্যতম 0°C তাপমাত্রায় 16.5 m হতে হবে।
বাদুড় ওড়ার সময় তার কণ্ঠ থেকে শব্দ তৈরি করে, সামনে কোনো কিছু থাকলে শব্দটি সেখানে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসে, কতক্ষণ পর শব্দটি ফিরে এসেছে সেখান থেকে বাদুড় দূরত্বটা অনুমান করতে পারে। এ জন্য অন্ধকারেও বাদুড় কোথাও ধাক্কা না খেয়ে উড়ে যেতে পারে।
ছোট কক্ষে শব্দ এর উৎস হতে উৎপন্ন হয়ে অপর প্রান্তে প্রতিফলিত হয়ে পুনরায় ফিরে আসতে 0.1 ও এর চেয়ে কম সময় লাগে বলে ছোট কক্ষে প্রতিধ্বনি শোনা যায় না। কারণ একটি শব্দ শোনার পর 0.1$ বা শব্দানুভূতির, স্থায়িত্বকালের চেয়ে কম সময়ে অন্য শব্দ আসলে মস্তিষ্ক আলাদা করতে পারে না।
বাদুড় যে শব্দ উৎপন্ন করে চলাচল করে সে শব্দ হলো শব্দোত্তর শব্দ। সেই শব্দের কম্পাঙ্ক প্রায় 1000 kHz। আমরা 20 Hz থেকে 200 kHz কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পাই। এজন্য বাদুড় যে শব্দ. উৎপন্ন করে চলাচল করে সে শব্দ আমরা শুনতে পাই না।
আমরা জানি, বাতাসে শব্দের বেগ, কেলভিন তাপমাত্রার বর্গমূলের সমানুপাতিক। সুতরাং বায়ু তাপমাত্রা কেলভিন স্কেলে 4 গুণ হলে বায়ুতে শব্দের বেগ দ্বিগুণ হবে এবং বায়ু তাপমাত্রা কেলভিন স্কেলে গুণ হলে বায়ুতে শব্দের বেগ গুণ হবে।
তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে মাধ্যমের অণুর গতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। ফলে মাধ্যমের অণুগুলো সহজেই কম্পিত হতে পারে। তখন শব্দ তরঙ্গ দ্রুত অগ্রসর হয়। অর্থাৎ শব্দের বেগ বৃদ্ধি পায়।
শব্দ নামক যান্ত্রিক তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের স্থিতিস্থাপকতার ওপর নির্ভর করে। তরল এবং কঠিন পদার্থের প্রকৃতি বাতাস থেকে ভিন্ন এবং স্বাভাবিক কারণেই শব্দের বেগ সেখানে ভিন্ন। তরলে শব্দের বেগ বাতাসে বেগের থেকে বেশি এবং কঠিন পদার্থে শব্দের বেগ তার থেকেও বেশি।
শব্দের বেগ বাতাসের ঘনত্বের বর্গমূলের ওপর ব্যস্তানুপাতিকভাবে নির্ভর করে। তাই বাতাসে জলীয়বাষ্প থাকলে বাতাসের ঘনত্ব কমে যায়, সে জন্য শব্দের বেগ বেড়ে যায়।
তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে বায়ু মাধ্যমে অবস্থিত অণুগুলোর গতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। ফলে বায়ুর অণুগুলো সহজেই কম্পিত হতে পারে। এতে শব্দ দ্রুত অগ্রসর হতে পারে। অর্থাৎ শব্দের বেগ বৃদ্ধি পায়। অতএব বলা যায় যে, বায়ুতে শব্দের বেগ তাপমাত্রার উপর নির্ভরশীল।
কোনো মাধ্যমে শব্দের বেগ ঐ মাধ্যমের ঘনত্বের উপর নির্ভর করে। যে মাধ্যমের ঘনত্ব যত বেশি ঐ মাধ্যমে শব্দের বেগ তত বেশি হয়। বায়ু অপেক্ষা পানি মাধ্যমের ঘনত্ব বেশি। তাই বায়ু অপেক্ষা পানিতে শব্দের বেগ বেশি।'
বায়ুর আর্দ্রতা বৃদ্ধি পেলে শব্দের বেগ বৃদ্ধি পায়। এজন্য শুষ্ক বায়ুর চেয়ে ভেজা বায়ুতে শব্দের বেগ বেশি। আর্দ্র বায়ুর ঘনত্ব শুষ্ক বায়ুর ঘনত্বের তুলনায় কম বলে এরূপ ঘটে।
দিনের বেলা অপেক্ষা রাতের বেলায় শব্দের বেগ' কম থাকে। শব্দের বেগ 'নির্ভর করে তাপমাত্রার উপর। দিন অপেক্ষা রাতে তাপমাত্রা কম থাকে ফলে শব্দের বেগ কম হবে। তবে রাতে কোলাহল না থাকায় শব্দ অনেক দূর পর্যন্ত শোনা যায়।
শীতকাল অপেক্ষা গ্রীষ্মকালে শব্দের বেগ বেশি থাকে। কারণ বায়ুর তাপমাত্রা যত বাড়ে শব্দের বেগও তত বাড়ে। যেহেতু গ্রীষ্মকালে বায়ুর তাপমাত্রা শীতকাল অপেক্ষা বেশি থাকে তাই শব্দের বেগও শীতকাল অপেক্ষা গ্রীষ্মকালে বেশি থাকে।
শব্দের দ্রুতি মাধ্যমের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে। যার কারণে কঠিন মাধ্যমে শব্দ সবচেয়ে দ্রুত চলে, তরল মাধ্যমে তার চেয়ে ধীরে চলে, বায়বীয় মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম। পরীক্ষা করে দেখা গেছে 0 °C বা 273 K তাপমাত্রায় ও স্বাভাবিক চাপে শুষ্ক বায়ুতে শব্দের দ্রুতি 330 ms-1 এবং পানিতে শব্দের দ্রুতি প্রায় 1450 ms-1
কোনো মাধ্যমে শব্দের বেগ মাধ্যমের ঘনত্ব এবং স্থিতিস্থাপক গুণাঙ্কের উপর নির্ভর করে। বিশুদ্ধ পানির ঘনত্ব সমুদ্রের পানির ঘনত্বের চেয়ে কম। এজন্য বিশুদ্ধ পানি অপেক্ষা সমুদ্রের পানিতে শব্দের বেগ বেশি হয়।
শীতকাল অপেক্ষা বর্ষাকালে শব্দ দ্রুত শুনা যায়। শব্দের বেগ বায়ুর তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার উপর নির্ভর করে। বায়ুর তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা যত বাড়ে বায়ুতে শব্দের বেগও তত বাড়ে। শীতকালে বায়ুর তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা কম থাকে অন্যদিকে বর্ষাকালে বায়ুর তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বেশি থাকে। এজন্য শীতকাল অপেক্ষা বর্ষাকালে শব্দ দ্রুত শুনা যায়।
বজ্র পড়ার অর্থাৎ বজ্রপাতের আলো দেখার কয়েক সেকেন্ড পর শব্দ শোনা যায়। আলো দেখার সময় এবং শব্দ শোনার সময় ব্যবধান জেনে সময় ব্যবধানকে ঐ দিনের শব্দের বেগ দিয়ে গুণ করলেই পাওয়া যায় বজ্রটি পড়ার স্থান হতে দূরত্ব।
শব্দের ব্যবহারসমূহ নিম্নরূপ:
১. ত্রিমাত্রিক সিসমিক সার্ভেতে
২. আলট্রাসাউন্ড ক্লিনারে
৩. আলট্রাসনোগ্রাফিতে
৪. কথা বলা ও শুনাতে
৫. বাদ্যযন্ত্র তৈরিতে
৬. সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ে।
ত্রিমাত্রিক সিসমিক সার্ভে করার জন্য মাটির খানিকটা নিচে ছোট বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, বিস্ফোরণের শব্দ মাটির নিচের বিভিন্ন স্তরে প্রতিফলিত হয়ে উপরে ফিরে আসে। রিসিভারে সেই প্রতিফলিত তরঙ্গকে বিশ্লেষণ করে মাটির নিচের নিখুঁত ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরি করা হয়।
ল্যাবরেটরিতে যখন ছোটখাটো যন্ত্রপাতি নিখুঁতভাবে পরিষ্কার করতে হয়, তখন আলট্রাসাউন্ড ক্লিনার ব্যবহার করা হয়। এখানে কোনো একটি তরলে ছোটখাটো যন্ত্রপাতি ডুবিয়ে রেখে তার ভেতর আলট্রাসাউন্ড প্রবাহিত করা হয় এবং তার কম্পনে যন্ত্রপাতির সব ময়লা বের হয়ে আসে।
আমাদের চারপাশে নানা ধরনের শব্দ রয়েছে। তার মধ্যে কিছু কিছু শব্দ শুনতে আমাদের ভালো লাগে। এই, শুনতে ভালো লাগা শব্দগুলোই হলো সুরযুক্ত শব্দ। সুরযুক্ত শব্দের মাঝে সবচেয়ে প্রধান হচ্ছে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের শব্দ।
সুরযুক্ত শব্দের যে বৈশিষ্ট্য দিয়ে একই প্রাবল্যের খাদের সুর ও চড়া সুরের মধ্যে পার্থক্য বুঝা যায় তাকে তীক্ষ্ণতা বা পীচ বলে। তীক্ষ্ণতা উৎসের কম্পাঙ্কের সমানুপাতে পরিবর্তিত হয়। আবার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি হলে কম্পাঙ্ক কমে ফলে তীক্ষ্ণতা কমে। অতএব তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বাড়লে তীক্ষ্ণতা কমবে এবং তরঙ্গদৈর্ঘ্য কমলে তীক্ষ্ণতা বাড়বে।
বাদ্যযন্ত্রসমূহ মোটামুটি তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. তার দিয়ে তৈরি বাদ্যযন্ত্র একতারা, বেহালা, সেতার।
২. বাতাসের প্রবাহ দিয়ে তৈরি বাদ্যযন্ত্র বাঁশি, হারমোনিয়াম
৩. আঘাত দিয়ে শব্দ তৈরি করার বাদ্যযন্ত্র: ঢোল, তবলা।
গীটার বাদক গীটার বাজানোর পূর্বে গীটারের তারগুলোকে টেনে ঠিক করে নেন শব্দ তরঙ্গের সংকোচন ও প্রসারণ ঠিক রাখার জন্যে। তাছাড়া টান বাড়লে কম্পাঙ্ক বাড়ে এবং টান কমলে কম্পাঙ্ক কমে। সুরযুক্ত শব্দের জন্য শব্দের প্রাবল্য ও তীক্ষ্মতা ঠিক রাখতে হয় যা তারের টান নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এ কারণে গীটার বাদক গীটারের তারগুলো টেনে ঠিক করেন।
তবলা সাধারণত ফাঁপা এবং গোলাকৃতির কাঠ নির্মিত একটি বাদ্যযন্ত্র। এর উপরিভাগ গরুর চামড়া দ্বারা বেষ্টিত। তবলার উপরিভাগে আঘাত করে কম্পন সৃষ্ট করা হয়। বিভিন্ন কৌশলে আঘাত করে বিভিন্ন কম্পাঙ্কের শব্দ সৃষ্টি করা হয়। একাধিক কম্পাঙ্কের তরঙ্গ পরস্পরের ওপর উপরিপাতিত হয়ে সুরযুক্ত শব্দ তৈরি করে।
শব্দ দূষণ রক্তচাপ বৃদ্ধি, হৃৎপিন্ড ও মস্তিষ্কের বিভিন্ন রোগ, অনিদ্রাজনিত অসুস্থতা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস প্রভৃতি ক্ষতিকারক প্রভাব সৃষ্টি - করে। শব্দ দূষণের কারণে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। হঠাৎ তীব্র শব্দ মানুষের শ্রবণশক্তিকে নষ্ট করতে পারে।
শব্দদূষণ কমানোর জন্য প্রথম প্রয়োজন দেশে এর বিরুদ্ধে আইন তৈরি করা যেন কেউ শব্দ দূষণ সৃষ্টি করতে না পারে এবং করা হলে যেন তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এরপর প্রয়োজন জনসচেতনতা।
কোনো গতিশীল বস্তুকণার গতি যদি এমন হয় যে, এটি গতিপথের কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুকে নির্দিষ্ট সময় পরপর একই দিক থেকে অতিক্রম করে, তবে সেই গতিকে পর্যাবৃত্ত বা ছন্দিত গতি বলে।
যে পর্যাবৃত্ত আন্দোলন কোনো জড় মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চালিত করে কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলোকে স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত করে না তাকে তরঙ্গ বলে।
যে তরঙ্গ কম্পনের দিকের সাথে সমান্তরালে অগ্রসর হয় তাকে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলে।
যে তরঙ্গ কম্পনের দিকের সাথে লম্বভাবে অগ্রসর হয় তাকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে।
তরঙ্গের উপরস্থ কোনো কণার একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় প্রয়োজন সেই সময়ই পর্যায়কাল।
কম্পমান বস্তুর একটি পূর্ণ কম্পনে যে সময় লাগে সেই সময়ে তরঙ্গ যতটুকু দূরত্ব অতিক্রম করে তাই তরঙ্গদৈর্ঘ্য।
সাম্যাবস্থান থেকে যেকোনো একদিকে তরঙ্গস্থিত কোনো কণার সর্বাধিক সরণকে বিস্তার বলে।
তরঙ্গের উপরস্থ কোনো কণার একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় প্রয়োজন সেই সময়ই পর্যায়কাল।
নির্দিষ্ট দিকে তরঙ্গ একক সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গ বেগ বলে।
প্রতি সেকেন্ডে যতগুলো পূর্ণতরঙ্গ সৃষ্টি হয় তাকে তরঙ্গের কম্পাঙ্ক বলে।
কোনো একটি তরঙ্গায়িত কণার যেকোনো মুহূর্তের গতির সামগ্রিক অবস্থা প্রকাশক রাশিই হলো দশা।
তরঙ্গের উপরিস্থিত কোনো কণা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে যাত্রা শুরু করে আবার একই দিক থেকে সেই বিন্দুতে ফিরে এলে সেটি একটি পূর্ণ স্পন্দন।
পর্যায়কালের একক সেকেন্ড (s)।
পর্যায়কালের একক সেকেন্ড (s)।
যে তরঙ্গের কম্পাঙ্ক 20 Hz এর কম তাকে শব্দেতর তরঙ্গ বলে।
20 Hz থেকে 20000 Hz পর্যন্ত কম্পাঙ্কের পাল্লাকে শ্রাব্যতার সীমা বলে।
শব্দানুভূতির স্থায়ীত্বকাল 0.18
পারমাণবিক বিস্ফোরণের সময় শব্দেতর কম্পনের সৃষ্টি হয়।
শব্দ এক প্রকার শক্তি, যা একটি কম্পনশীল বস্তু হতে উৎপন্ন হয়ে ঐ বস্তুসংলগ্ন জড় মাধ্যমের সাহায্যে আমাদের কানে পৌঁছে শ্রুতির অনুভূতি জাগায়।
যে তরঙ্গের কম্পাঙ্ক 20,000 Hz এর চেয়ে বেশি তাই শব্দোত্তর তরঙ্গ।
যখন কোনো শব্দ মূল শব্দ থেকে আলাদা হয়ে মূল শব্দের পুনরাবৃত্তি করে, তখন ঐ প্রতিফলিত শব্দকে প্রতিধ্বনি বলে।
SONAR এর পুরো নাম Sound Navigation and Ranging |
SONAR নামক যন্ত্রে শব্দোত্তর শব্দ ব্যবহৃত হয়।
শব্দ বিস্তারের অভিমুখে লম্বভাবে রাখা একক ক্ষেত্রফলের মধ্যদিয়ে প্রতিসেকেন্ডে যে পরিমাণ শব্দশক্তি প্রবাহিত হয় তাকে শব্দের তীব্রতা বা প্রাবল্য বলে।
সুরযুক্ত শব্দের যে বৈশিষ্ট্য দিয়ে একই প্রাবল্যের খাদের সুর এবং চড়া সুরের মধ্যে পার্থক্য বুঝা যায় তাকে শব্দের পিচ বা তীক্ষ্ণতা বলে।
শব্দ উৎসের নিয়মিত ও পর্যাবৃত্ত কম্পনের ফলে যে শব্দ উৎপন্ন হয় এবং যা আমাদের কানে শ্রুতিমধুর বলে মনে হয় তাকে সুরযুক্ত শব্দ বলে।
বিভিন্ন উৎস থেকে উৎপন্ন জোরালো এবং অপ্রয়োজনীয় শব্দ মানুষের সহনশীলতার মাত্রা ছাড়িয়ে বিরক্তি ঘটানো এবং স্বাস্থ্যের ক্ষতিসাধন করাই হলো শব্দ দূষণ।
মানুষের গলার স্বরযন্ত্রে দু'টো পর্দা আছে এদেরকে বলে স্বরতন্ত্রী।
ভিন্ন ভিন্ন বাদ্যযন্ত্র থেকে আসা শব্দের পার্থক্য যে বৈশিষ্ট্য দিয়ে বোঝা যায় তাকে টিম্বার বলে।
শব্দের তীক্ষ্ণতা উৎসের কম্পাঙ্কের উপর নির্ভর করে।
পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন কণা বা বস্তু এর গতিকালের অর্ধেক সময় একটি নির্দিষ্ট দিকে এবং বাকি অর্ধেক সময় তার বিপরীত দিকে গতিশীল হলে বস্তুর ঐ গতি স্পন্দন গতি। এখন দেখা যায়, সুরশলাকার কম্পমান বাহু এর গতিকালের অর্ধেক সময় এক দিকে এবং বাকি অর্ধেক সময় তার পূর্বের গতির বিপরীত দিকে গতিশীল থাকে। সুতরাং সংজ্ঞানুসারে সুরশলাকার গতি একটি স্পন্দন গতি।
কোনো গতিশীল বস্তুকণার গতি যদি এমন হয় যে, এটি এর গতিপথের কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুকে নির্দিষ্ট সময় পরপর একই দিক থেকে অতিক্রম করে তবে সেই গতিকে পর্যাবৃত্ত গতি বলে। এ গতি বৃত্তাকার, উপবৃত্তাকার বা সরলরৈখিক হতে পারে।
শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ। কারণ- মাধ্যমের কণাগুলোর পর্যাবৃত্ত কম্পনের ফলে শব্দ সঞ্চালিত হয় অর্থাৎ মাধ্যম ছাড়া শব্দ চলাচল করতে পারে না। এছাড়াও শব্দ একস্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চালিত করে। অর্থাৎ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্যগুলো শব্দের মধ্যে রয়েছে এবং 'শব্দ মাধ্যমের মধ্য দিয়েই চলে। তাই বলা যায় শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ।
যে তরঙ্গ, কম্পনের দিকের সাথে লম্বভাবে অগ্রসর হয় তাকে আড় তরঙ্গ বলে। পানির ঢেউয়ের ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটে। এখানে কণাগুলোর কম্পনের দিক, তরঙ্গ গতির সাথে লম্ব। তাই বলা যায় তরঙ্গশীর্ষ এবং তরঙ্গপাদ উৎপন্নকারী পানির ঢেউ আড় তরঙ্গ।
যে তরঙ্গে মাধ্যমের কণাগুলো তরঙ্গ সঞ্চালনের সমান্তরালে কাঁপতে থাকে তাকে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলে। স্প্রিংয়ের ক্ষেত্রে তরঙ্গ স্প্রিংয়ের দৈর্ঘ্য বরাবর সঞ্চালিত হয়, স্প্রিংটিও এর দৈর্ঘ্য বরাবর কাঁপতে থাকে। অতএব, সংজ্ঞানুসারে স্প্রিংয়ের তরঙ্গ অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।
যে তরঙ্গে মাধ্যমের কণাগুলো তরঙ্গ সঞ্চালনের সমান্তরালে কাঁপতে থাকে তাকে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলে। স্প্রিংয়ের ক্ষেত্রে তরঙ্গ স্প্রিংয়ের দৈর্ঘ্য বরাবর সঞ্চালিত হয়, স্প্রিংটিও এর দৈর্ঘ্য বরাবর কাঁপতে থাকে। অতএব, সংজ্ঞানুসারে স্প্রিংয়ের তরঙ্গ অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।
শব্দ উৎসের কম্পন সংখ্যা প্রতি সেকেন্ডে 20 বার অর্থাৎ 20 Hz এর কম হলে উৎপন্ন শব্দ আমরা শুনতে পাই না। এটি শব্দেত্তর তরঙ্গ। অন্যকথায়, যে তরঙ্গের কম্পাঙ্ক 20 Hz এর চেয়ে কম অর্থাৎ 20 Hz থেকে 0.001 Hz পর্যন্ত তাকে শব্দেতর তরঙ্গ বলে। সাধারণত, ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ, ভূপৃষ্ঠের নিচে পেট্রোলিয়াম ও শিলাস্তরের অবস্থান নিরূপণ এবং | হৃৎপিন্ডের কর্মকৌশল সম্পর্কে ধারণা পেতে শব্দেত্তর তরঙ্গ ব্যবহার হয়।
অনুপ্রস্থ ও অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গের মধ্যে পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো:
| অনুপ্রস্থ তরঙ্গ | অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ |
| ১. যে তরঙ্গের ক্ষেত্রে জড় মাধ্যমের কণাগুলোর কম্পনের দিক তরঙ্গ প্রবাহের দিকের সাথে সমকোণী হয়, তাকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বা আড়তরঙ্গ বলে। | ১. যে তরঙ্গের ক্ষেত্রে অড় মাধ্যমের কণাগুলোর কম্পনের দিক তরঙ্গ প্রবাহের দিকের সমান্তরাল হয় তাকে অনুদৈর্ঘ্য বা লম্বিক তরঙ্গ বলে। |
| ২. তরঙ্গ প্রবাহে মাধ্যমের তরঙ্গ শীর্ষ বা তরঙ্গ পাদের সৃষ্টি হয়। | ২. তরঙ্গ প্রবাহে মাধ্যমের সংকোচন ও প্রসারণ সৃষ্টি হয়। |
| ৩. পর পর দুটি তরঙ্গ শীর্ষ বা পর পর দুটি তরঙ্গ পাদের মধ্যবর্তী দূরত্বকে তরঙ্গদৈর্ঘ্য বলে। | ৩. একটি সংকোচন ও একটি প্রসারণের মিলিত দৈর্ঘ্যকে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বলে। |
অনুপ্রস্থ তরঙ্গ স্পন্দনের দিকের সাথে সমকোণে অগ্রসর হয় এবং তরঙ্গে পর্যায়ক্রমে তরঙ্গশীর্ষ ও তরঙ্গপাদ থাকে। অনুপ্রস্থ তরঙ্গ পর্যায়কালের অর্ধেক সময় কোনো নির্দিষ্ট দিকে তরঙ্গশীর্ষ সৃষ্টি করে চলে এবং বাকি অর্ধেক সময় তার বিপরীত দিকে তরঙ্গপাদ সৃষ্টি করে। এজন্য তরঙ্গশীর্ষ ও তরঙ্গপাদ সমদশা সম্পন্ন হয় না বিপরীত দশা সম্পন্ন হয়।
শব্দের বেগ বায়ুর তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার উপর নির্ভর করে। বায়ুর তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা যত বাড়ে বায়ুতে শব্দের বেগও তত বাড়ে। শীতকালে বায়ুর তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা কম থাকে অন্যদিকে বর্ষাকালে বায়ুর তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বেশি থাকে। এজন্য শীতকাল অপেক্ষা বর্ষাকালে শব্দ দ্রুত শুনা যায়।
বস্তু কম্পিত হলে এটি এর সংস্পর্শের বায়ুকে আন্দোলিত করে, সেই আন্দোলন বায়ুর মধ্য দিয়ে আমাদের কানে প্রবেশ করলে আমরা শব্দ শুনতে পাই। উদাহরণস্বরূপ একটি টিউনিং ফর্ককে রাবারের তৈরি হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে টিউনিং ফর্কটি কম্পিত হয় এবং শব্দ উৎপন্ন হয়। এই অবস্থায় টিউনিং ফর্কটি হাত দিয়ে ধরলে এর কম্পন বন্ধ হয়ে যায়, শব্দও সাথে সাথে থেমে যায়। এ থেকে সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায় বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়।
আমরা যখন কোনো একটা শব্দ করি তখন আমাদের ফুসফুস থেকে বাতাস গলা দিয়ে বের হয়ে আসে। আমাদের গলায়, ফুসফুসে বাতাস ঢোকার জন্য এবং বের হওয়ার জন্য রয়েছে wind pipe, এর উপরে শব্দ সৃষ্টি করার জন্য রয়েছে স্বরযন্ত্র। সেখানে দুটি পর্দা ভালবের মতো কাজ করে। এই পর্দা দুটির নাম ভোকাল কর্ড। বাতাস বের করার সময় এগুলো কাঁপতে পারে এবং শব্দ তৈরি হয়। এই ভোকাল কর্ড সবার একই রকম নয়। কারো শক্ত, কারো নরম ফলে কম্পনের ধরন ভিন্ন হওয়ার জন্য কম্পাঙ্ক ভিন্ন হয়। এরপর বাতাস মাধ্যমের মধ্যদিয়ে যাওয়ার সময় সূত্রানুসারে তরঙ্গ দৈর্ঘ্যও ভিন্ন ভিন্ন হয়ে যায়।
শব্দ এক প্রকার তরঙ্গ। কারণ- তরঙ্গের বৈশিষ্ট্যগুলো শব্দের মধ্যে রয়েছে। মাধ্যমের কণাগুলোর পর্যাবৃত্ত কম্পনের ফলে শব্দ সঞ্চালিত হয়। শব্দ একস্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চালিত করে।
কোনো মাধ্যমে শব্দের বেগ মাধ্যমের ঘনত্বের উপর নির্ভর করে। কঠিন মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি। যেহেতু তামা কঠিন পদার্থ এবং পানি তরল পদার্থ সেহেতু তামার ঘনত্ব পানির ঘনত্ব অপেক্ষা নিশ্চিতভাবে বেশি। এ কারণে তামায় শব্দের বেগ পানি অপেক্ষা বেশি। অর্থাৎ পানি ও তামায় শব্দের বেগ ভিন্ন।
বায়ুর আর্দ্রতা বৃদ্ধি পেলে শব্দের বেগ বৃদ্ধি পায়। এজন্য শুষ্ক বায়ুর চেয়ে ভেজা বায়ুতে শব্দের বেগ বেশি। আর্দ্র বায়ুর ঘনত্ব শুষ্ক বায়ুর ঘনত্বের তুলনায় কম বলে এরূপ ঘটে।
আমরা জানি, শব্দ একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। এটি মাধ্যমের কণাগুলোকে এটির গতির দিকের সাথে সমান্তরালে আন্দোলিত করে। মাধ্যমের ঘনত্ব যত বেশি হয় এর কণাগুলো তত কাছাকাছি সন্নিবিষ্ট হয় ফলে শব্দ তরঙ্গের মাধ্যমের কণাগুলোকে আন্দোলিত করে এক কণা থেকে পরের কণায় সঞ্চালন দ্রুততর হয়। এ কারণে যে মাধ্যমের ঘনত্ব যত বেশি সেই মাধ্যমে শব্দের বেগ তত বেশি হয়।
কোনো ক্ষণস্থায়ী শব্দ বা ধ্বনি কানে শোনার পর সেই শব্দের রেশ প্রায় 0.1 s যাবৎ আমাদের মস্তিষ্কে থেকে যায়। একে শব্দানুভূতির স্থায়ীত্বকাল বলে। এ 0.1s এর মধ্যে অন্য শব্দ কানে এসে পৌছালে তা আমরা আলাদা শুনতে পাই না। সুতরাং কোনো ক্ষণস্থায়ী শব্দের প্রতিধ্বনি শুনতে প্রতিফলক উৎস এমন হবে যাতে মূল শব্দ প্রতিফলিত হয়ে কানে ফিরে আসতে অন্তত 0.1 s সময় নেয়। তাই যদি 0 °C তাপমাত্রায় বায়ুতে শব্দের বেগ 330 ms ধরা হয় তাহলে 0.1 s এ শব্দ 33 m দূরত্ব যায়। সুতরাং প্রতিফলককে শ্রোতা থেকে কমপক্ষে (332) m বা 16.5m দূরত্বে রাখতে হবে।
আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে বায়ু মাধ্যমে শব্দের বেগের তারতম্য হয়। আর্দ্রতা বাড়লে বায়ুতে শব্দের বেগ বাড়ে কারণ বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বাড়লে বাতাসের ঘনত্ব কমে। শব্দের বেগ বাতাসের ঘনত্বের বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক ফলে- আর্দ্রতা কমলে শব্দের বেগ কমে। আবার বায়ু মাধ্যমের তাপমাত্রা বাড়লে মাধ্যমে শব্দের বেগ এর পরম তাপমাত্রার বর্গমূলের সমানুপাতে বাড়ে। অনুরূপভাবে মাধ্যমের তাপমাত্রা কমলে শব্দের বেগও কমে।
ট্রাকের উচ্চ হর্ণ যখন মানুষের সহনশীলতার মাত্রা ছাড়িয়ে যায় তখন স্বাস্থ্যের ক্ষতি সাধন করে। মানসিক উত্তেজনা বাড়ায় ও মেজাজ খিটখিটে করে। উচ্চ হর্ণের কারণে বমি বমি ভাব, ক্ষুধা মন্দা, রক্তচাপ বৃদ্ধি, হৃদপিন্ড ও মস্তিষ্কের জটিল রোগ, অনিদ্রাজনিত অসুস্থতা, ক্লান্তি ও অবসাদ হয়ে পড়া, কর্মদক্ষতা হ্রাস, স্মৃতি শক্তি হ্রাস, মাথা ঘোরা প্রভৃতি সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া মানুষের শ্রবণ শক্তি নষ্ট হতে পারে।
মাটির নিচে গ্যাস বা তেল আছে কিনা তা দেখার জন্য সিসমিক সার্ভে করা হয়। এটি করার জন্য মাটির খানিকটা নিচে ছোট বিস্ফোরণ করা হয়, বিস্ফোরণের শব্দ মাটির নিচে বিভিন্ন স্তরে আঘাত করে প্রতিফলিত হয়ে উপরে ফিরে আসে। জিওফোন নামে বিশেষ এক ধরনের রিসিভারে সেই প্রতিফলিত তরঙ্গকে ধারণ করা হয়। সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে মাটির নিচের নিখুঁত ত্রিমাত্রিক ছবি বের করে কোথায় গ্যাস বা কোথায় তেল আছে তা বের করে নেওয়া হয়। শব্দের উৎসটি কোথায় আছে এবং জিওফোন কোথায় আছে দুটিই জানা থাকার কারণে উৎস থেকে জিওফোণে শব্দ আসতে কতটুকু সময় লেগেছে তা জানতে পারলেই বিভিন্ন স্তরের দূরত্ব নিখুঁতভাবে বের করা যায়।
বাদুর পথ চলার জন্য শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করে। বাদুর চলার সময় ক্রমাগত বিভিন্ন কম্পাঙ্কের শব্দোত্তর তরঙ্গ সৃষ্টি করে। এ তরঙ্গ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সামনে যদি প্রতিবন্ধক থাকে তাহলে তাতে বাধা পেয়ে এ তরুণ প্রতিফলিত হয়ে বাদুরের কানে ফিরে আসে। বাদুর তার সৃষ্ট শব্দ তরঙ্গ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যকার সময় ব্যবধান ও প্রতিফলিত শব্দের প্রকৃড়ি থেকে প্রতিবন্ধকের অবস্থান এবং আকৃতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করে এবং পথ চলার সময় সেই প্রতিবন্ধক পরিহার করে। মানুষের শ্রাব্যতার সীমা 20 Hz থেকে 20 kHz পর্যন্ত। কিন্তু বাদুর প্রায় 100 kHz কম্পনের শব্দ তৈরি করতে পারে যা মানুষের শ্রাব্যতার সীমার বাইরে। ফলে বাদুর কর্তৃক সৃষ্ট শব্দ রাদুর শুনলেও মানুষ শুনতে পায় না।
পদার্থবিজ্ঞান ঠিকভাবে বোঝার জন্য যে কয়েকটি বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা থাকতে হয় তার একটি হচ্ছে তরঙ্গ। এই অধ্যায়ে আমরা আমাদের পরিচিত যান্ত্রিক কয়েক ধরনের তরঙ্গের মাঝেই আমাদের আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখব।
শব্দ এক ধরনের তরল। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে শব্দের খুব বড় একটা ভূমিকা রয়েছে, তাই আমরা এই অধ্যায়ে শব্দ, শব্দের বেগ, শব্দের প্রতিধ্বনি এবং তার দূষণ নিয়েও আলোচনা করব।
Related Question
View Allতরঙ্গ সঞ্চালনকারী কোনো কণা কোনো বিন্দু থেকে যাত্রা আরম্ভ করে আবার একই দিক থেকে সেই বিন্দুতে ফিরে এলে তাকে পূর্ণ স্পন্দন বলে
তরঙ্গের উপরস্থ কোনো কণার পর্যায়কাল বেশি হলে কম্পাঙ্কের কমে যাবে
হুকের সূত্রের কারণে সরল স্পন্দন গতি সৃষ্টি হয়
স্প্রিং-এর গতি স্পন্দন গতি
স্প্রিং ধ্রুবককে k দিয়ে প্রকাশ করা হয়
স্প্রিং এর উপর, প্রযুক্ত বল তার অবস্থানের সরণের সাথে সামানুপাতিক
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!