সুমনের অসুস্থতার কারণ হলো বাইরের নোংরা খাবার গ্রহণ। ডায়রিয়া একটি পানি বাহিত রোগ। এরোগে শরীর থেকে পানির পরিমান কমে গিয়ে শরীরে পানির স্বল্পতা তৈরি করে। তাই পানির ঘাটতি পূরণে স্যালাইনের পাশাপাশি পানীয় খাবার এ সময় বেশি পান করা প্রয়োজন।
সুমন বাড়ির তৈরি খাবার বা পানি কোনটিই গ্রহণ করতে চায় না। বাইরের খাবারে অভ্যস্ততা তাকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত করে তুলেছে। তার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার প্রধান কারণ হল সে দূষিত খাবার বাইরে থেকে গ্রহণ করেছিল। অথবা যে হাতে সে খাবার খেয়েছে তা সঠিক উপায়ে পরিষ্কার করা ছিল না। তাকে এ রোগ হতে পরিত্রান পেতে হলে পূর্বেই সচেতন হতে হবে। রোগজীবাণু সংক্রমন প্রতিরোধের জন্য কাঁচা খাদ্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন জায়গায় সংরক্ষন করতে হবে। কাঁচা ও রান্না করা খাবার এক সাথে রাখা যাবে না, তৈজসপত্র, রান্নার অন্যান্য সামগ্রি পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, কাঁচা ফল ও সবজি ভাল করে ধুতে হবে। অপরিচ্ছন্ন হাতে খাদ্য দ্রব্য ধরা যাবে না। পায়খানা ব্যবহারের পর হাত ভাল করে ধুয়ে ফেলতে হবে। প্রচুর তরল ও বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। সংক্রামক রোগীর কাপড় পরিষ্কার ভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। রোগীর ঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। খাদ্য সংরক্ষণের স্থান পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এসকল উপায় অবলম্বন করলে সুমন তার এ অবস্থা হতে পূর্বেই রক্ষা পেতে পারত।
Related Question
View Allসিগেলা ব্যাকটেরিয়া ব্যাসিলারি ডিসেন্ট্রি নামক রোগের সৃষ্টি করে।
কাঁচা মাংস, ডিম, দুধ, মাছ ইত্যাদি খাদ্যদ্রব্যগুলো দ্বারা তৈরি খাদ্যে স্যালমোনেলোসিস রোগের জীবাণু বিস্তার লাভ করে। স্যালমোনেলোসিস প্রতিরোধের উপায় হলো-
i. পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে খাদ্যদ্রব্য নাড়াচাড়া করা।
ii. যথাযথ পদ্ধতিতে খাদ্যদ্রব্য রান্না ও সংরক্ষণ করা।
সেমিনারে অংশগ্রহণ করে শরিফ খাদ্যে ভেজালের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানতে পেরেছিল।
খাদ্যে ভেজাল আমাদের জাতীয় সমস্যা। এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। বর্তমানে আমাদের দেশে ভেজাল খাদ্যের ব্যাপকতা মহামারী আকার ধারণ করেছে এবং জনগণের স্বাস্থ্য সমস্যাও প্রকট আকারে দেখা দিয়েছে।
বেশি দামের খাদ্যপণ্যের সাথে কম দামের খাদ্যপণ্য অথবা খাবারের সাথে খাবার অযোগ্য বস্তুর মিশ্রণই হলো খাদ্যে ভেজাল। বিভিন্ন গুঁড়া মসলায় ব্যবহৃত ভেজালের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ডায়রিয়া, পেপটিক আলসার, লিভারের ক্ষতি, কিডনির অসুখ ইত্যাদি। দুধ ও ভোজ্য তেলের ভেজাল শিশুদের কিডনি, লিভার, স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করে, গর্ভস্থ শিশুর বিকলাঙ্গতা ঘটায়। মেয়াদোত্তীর্ণ, পচা ও কৃত্রিম উপাদান সমৃদ্ধ বেকারি পণ্য পেটের পীড়া, বদহজম, কিডনি, পাকস্থলি ও হৃদপিণ্ডের সমস্যা, চর্মরোগ ও অ্যালার্জির কারণ। এছাড়াও দেখা দিচ্ছে ডায়রিয়া, জন্ডিস ও লিভারের অসুখ। এভাবে ভেজাল খাবার সাধারণ লোকের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে, কর্মক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।
সেমিনারের আলোচিত বিষয় ছিল খাদ্যে ভেজালের ক্ষতিকর দিক। ভেজাল খাদ্যের ক্ষতিকর প্রভাবে সৃষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যা আমাদের জাতীয় সমস্যার অন্যতম। উদ্দেশ্যমূলকভাবে উৎকৃষ্ট খাদ্যসামগ্রীর সাথে নিম্নমানের সস্তা, খাওয়ার অযোগ্য অথবা বিষাক্ত পদার্থের মিশ্রণকে ভেজাল বলে।
এই সমস্যা সমাধানে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা অতীব জরুরি। যেমন-
i. খাদ্যে ভেজাল ও রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে পত্রপত্রিকা, রেডিও, টেলিভিশনে প্রচারণা চালাতে হবে।
ii. দেশের সকল পর্যায়ে সকল খাদ্য বিপণিবিতানে ও বাজারে ভেজাল শনাক্তকরণ যন্ত্র স্থাপন করা, যাতে ক্রেতা পণ্য যাচাই করে নিতে পারে।
iii. খাদ্যপণ্য ক্রয়ে সচেতন হতে হবে। যেমন- বেশি সাদা চিনি, সেমাই, মুড়ি কেনা পরিহার করা উচিত।
iv. খাদ্যে ভেজাল ও ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও ভেজাল প্রদানকারীর শাস্তির ব্যবস্থা করা।
v. এছাড়া ফল খাওয়ার পূর্বে ৩০ মিনিট লবণ মিশ্রিত বিশুদ্ধ পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে অথবা লেবুর রস ও গরম পানিতে ফল ধৌত করতে হবে।
এসকল পদক্ষেপ ভেজাল সমস্যা দূরীকরণে ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।
দুর্বল স্যানিটেশনের জন্য প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার শিশু ডায়রিয়ায় মারা যায়।
ইউনিয়ন পরিষদ হতে প্রাপ্ত স্যানিটেশন সেবাগুলো হলো- স্যানিটারি পায়খানা তৈরি ও ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহ প্রদান ও স্থাপনে সহায়তা প্রদান। খাবারের পানির উৎসগুলো দূষণমুক্ত করা, দূষিত পানি ব্যবহার না করার জন্য জনগণকে সচেতন করা। খাবার পানির জন্য সংরক্ষিত স্থানে গোসল, কাপড় কাচা, গবাদি পশুর গোসল ও পাট পচানো নিষিদ্ধ করা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!