সোনার তরী' কবিতায় উল্লিখিত মাঝি মহাকালের প্রতীক।
ঢেউগুলো নিরুপায়, ভাঙে দু ধারে'- চরণটির মাধ্যমে মহাকালের কালস্রোতের আপন গতিতে সবকিছুকে নস্যাৎ করার কথা বোঝানো হয়েছে।
মহাকাল তার আপন নিয়মে নিরন্তর বয়ে চলছে। কেনো কিছুই তার এই গতিকে স্তব্ধ করতে পারে না। ফলে এই স্রোতে মানুষ তার অনিবার্য পরিণতি মৃত্যুকে এড়াতে পারে না। নির্দয়ের মতো ছুটে চলা এই কালস্রোত কেবল মানুষের সুকৃতিময় কর্মফলকেই গ্রহণ করে, ব্যক্তিমানুষকে নয়। সংগত কারণেই অপূর্ণতার বেদনা নিয়ে মানুষকে অপেক্ষা করতে হয় মহাকালের কালস্রোতে বিলীন হওয়ার জন্য। প্রশ্নোক্ত চরণটিতে ঢেউগুলোর নিরুপায় ভেঙে পড়ার মধ্য দিয়ে এ বিষয়টিই ইঙ্গিতময় হয়ে ধরা দিয়েছে।
সোনার তরী' কবিতায় আপাতদৃষ্ট ভাবটি হলো- বর্ষাকালীন বৈরী পরিবেশে নিঃসঙ্গ ও বিপন্ন এক কৃষকের অসহায়ত্ব।
'সোনার তরী' একটি রূপক কবিতা। কবি গ্রামীণ পটভূমিতে এক কৃষকের দুরবস্থার মধ্য দিয়ে কবিতাটির ভাবসত্যকে উপস্থাপন করেছেন। সংগত কারণেই কবিতাটি দুই রকম ভাবের দ্যোতনা দেয়। উদ্দীপকের বক্তব্য অনুযায়ী এর একটি সাধারণ ভাব বা আপাতদৃষ্ট ভাব; অন্যটি কবিতাটির গূঢ়ার্থ।
উদ্দীপকে রূপক বা প্রতীকধর্মী কবিতার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। সেখানে বর্ণিত রূপক কবিতার দুই ধরনের ভাবের মধ্যে আপাতদৃষ্ট ভাব একটি। আলোচ্য কবিতাটিকে সাধারণভাবে চিন্তা করলে এখানে একটি সরল কাহিনি বিধৃত হয়েছে। যেখানে বর্ষাকালীন পরিবেশে এক কৃষক তাঁর ছোটো খেতের রাশি রাশি ধান কেটে বসে আছেন। কাটা ধান ঘরে তোলাই কৃষকের লক্ষ্য। এমন সময় তাঁর প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এক অচেনা মাঝির আগমন ঘটে। কৃষকের অনুনয়ে তাঁর সমস্ত ধান সে নৌকায় তুলে নেয়। কিন্তু ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের সেখানে স্থান হয় না। ফলে মনঃকষ্ট নিয়ে তাঁকে শূন্য নদীর তীরেই গড়ে থাকতে হয়। এভাবে বর্ষার চিত্রকল্পের মধ্য দিয়ে উদ্দীপকে te উল্লিখিত আপাতদৃষ্ট ভাবটি আলোচ্য কবিতায় রূপায়িত হয়েছে।
আপাতদৃষ্ট ভাবের আড়ালে অন্তর্নিহিত ভাব হিসেবে একটি গভীর জীবনদর্শনকে তুলে ধরার পরিপ্রেক্ষিতে 'সোনার তরী' একটি সার্থক রূপক কবিতা।
'সোনার তরী' কবিতায় কবি গ্রামীণ পটভূমিতে এক কৃষকের দুরবস্থাকে কেন্দ্র করে কবিতাটির ভাবসত্যকে উন্মোচন করেছেন। এই ভাবসত্যটি হলো- মহাকালের চিরন্তন স্রোতে মানুষ তার অনিবার্য পরিণতি মৃত্যুকে এড়াতে পারে না, কেবল টিকে থাকে তার সৃষ্ট সোনার ফসল তথা কর্মফল। কবিতাটিতে মহাকালস্বরূপ মাঝি কর্তৃক কৃষকের সোনার ধান গ্রহণ করা এবং পরিশেষে কৃষকের নদীতীরে বসে থাকা এই অন্তলীন ভাবকেই প্রকাশ করে।
উদ্দীপকে রূপক কবিতার বৈশিষ্ট্য উপস্থাপিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে রূপক কবিতায় ভাববস্তুর দুটো দিক থাকে। একটি বাইরের অর্থ অর্থাৎ বাচ্যার্থ, আর অন্যটি অন্তনির্হিত অর্থ অর্থাৎ নিহিতার্থ। অর্থাৎ রূপক কবিতা হলো বাইরের রূপের আড়ালে ভিতরের রূপের আভাসদানকারী কবিতা। বাহ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে 'সোনার তরী' কবিতাটি প্রতিকূল পরিবেশে এক কৃষকের দুরবস্থা ও অসহায়ত্বকে প্রকাশ করলেও এর গূঢ়ার্থ কবির ব্যক্তিগত জীবনদর্শনে নিবন্ধ।
'সোনার তরী' কবিতায় আপাতদৃষ্ট ভাবের সাথে অন্তলীন হয়ে আছে একটি জীবনদর্শন, যা কবিতাটির নিহিতার্থ। এ কবিতায় কৃষক কবির রূপক। কৃষকের ফসল যেমন মাঝি এসে নিয়ে যায়, তেমনি কবির সৃষ্টিকর্ম মহাকালের সোনার তরী এসে নিয়ে যায়, কিন্তু ব্যক্তি কবির সেখানে স্থান হয় না। এভাবে রূপকের আড়ালে কবিতাটিতে মানবজীবনের অনিবার্য সত্য মৃত্যুর অনিবার্যতা এবং কর্মফলের গুরুত্বের দিকটি উন্মোচিত হয়েছে। অর্থাৎ উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে রূপক কবিতার বৈশিষ্ট্য, যার সাপেক্ষে 'সোনার তরী' কবিতায় বাইরের রূপের আড়ালে ভিতরের রূপ তথা অন্তর্নিহিত ভাবের আভাস পাওয়া যায়। সে বিবেচনায় 'সোনার তরী' একটি সার্থক রূপক কবিতা।
Related Question
View Allএকজন কৃষক দ্বীপসদৃশ ধানখেতে তার সােনার ফসল নিয়ে অপেক্ষা করছে। ঘন বর্ষা আর তীব্র সােতের কারণে তীরে যাওয়ারও কোনাে ভরসা নেই— এ কথা বােঝাতেই উক্তিটি করা হয়েছে। ‘সােনার তরী’ কবিতায় কবির জীবনদর্শন চিত্রায়িত হয়েছে।
কবিতায় একজন কৃষক তার ধান নিয়ে ক্ষুরের মতাে ধারালাে বর্ষার স্রোতে ঘেরা দ্বীপসদৃশ ধানখেতে নানা আশঙ্কা নিয়ে অপেক্ষা করছে। সে সেখানে নিঃসঙ্গ, কারও কোনাে দেখা নেই। আকাশে ঘন ঘন মেঘ গর্জন করছে। এমন বৈরী পরিবেশে কৃষকরূপী কবি নিজের নিঃসঙ্গতা ও ভরসাহীনতাকে বােঝাতে গিয়ে কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা’ কথাটি বলেছেন। সারকথা : প্রশ্নোক্ত লাইনের মধ্য দিয়ে বৈরী পরিবেশে নিঃসঙ্গ এক কৃষকের ভরসাহীন অবস্থার কথা প্রকাশ পেয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!